📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মসু দেবির ঘটনা (Events of Mosu-Divy)

📄 মসু দেবির ঘটনা (Events of Mosu-Divy)


এই বিষয়কে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটা ঘটনা নিরীক্ষণ করা হয় যা পরবর্তীতে নাম করা মনোবিজ্ঞানী মসু দেবি কর্তৃক 'ইলমে নফসিয়াত' নামক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ঘটনাটি এ রকম:

একবার মসু দেবি ইউরোপের প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের এক সম্মেলন আহ্বান করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ঐ বিজ্ঞানীগণ এক জায়গায় একত্রিত হয়ে তার বিস্ময়কর অতি-প্রাকৃতিক কার্যক্রম (তেলেসমাতি কার্যক্রম) সমূহ পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ে বিজ্ঞানীদের সবাই উপস্থিত হলে মসু দেবি তাদেরকে কিছু জিনিস দিয়ে সেগুলোকে ইচ্ছামত সীলমোহর মেরে দেওয়ার জন্য বললেন। ঐ জিনিসগুলো সীল মোহরকৃত হওয়ার পর তিনি ঐ বিজ্ঞানীদের প্রত্যেকের উপর আত্ম-বিনাশন ও আত্ম-গঠনে প্রচলিত সব কলা-কৌশল প্রয়োগ করে। তার এই সব কার্যক্রম এতই আশ্চর্যজনক ছিল যে, উপস্থিত জ্ঞানীগণ তা প্রত্যক্ষ করেই মসু দেবিকে এই সনদপত্র প্রদান করেন যে, এ কাজগুলোর সবই মানবীয় সামর্থ্য ও শক্তির বহির্ভূত অদৃশ্য জগতের অন্তর্ভুক্ত।

মসু দেবি এই সনদপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিজেই প্রকাশ করে যে এসব কিছুই জাদু। কোন আত্মিক শক্তি, কাশফ অথবা অন্য কোন বাহ্য শক্তির সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এই ঘটনা এখানে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হল মসু দেবির এই বিস্ময়কর ঘটনা থেকে কোনটা বেশি বিস্ময়কর মনে হয়, মসু দেবির দক্ষতা; না-কি এ সব জ্ঞানী ব্যক্তি কিভাবে এই জাদুগুলোকে সত্যায়িত করল সে বিষয়টি- সেটা স্পষ্ট করা।

মসু তার যুক্তিকে আরও দৃঢ় করার জন্য তৃতীয় আরেকটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। প্যারিসের এক স্থানে এক বালকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাক্রমে ঐ লাশের পাশ দিয়ে আরেকটি বালক যাচ্ছিল। সে লাশ দেখেই জানালো যে এ লাশটি তার এক সহপাঠীর। দ্বিতীয় এই বালকের বর্ণনানুযায়ী তার বন্ধুর মাকে ঘটনাস্থলে আনা হলে তিনি লাশ দেখা মাত্রই নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হলেন না। তিনিও জানালেন যে এটা তাঁর ছেলের মৃতদেহ এবং তার এ ছেলেটি বেশ কিছু দিন থেকে নিখোঁজ। এরপর মায়ের বর্ণনা মতে তার চাচাকে এ বিষয়ে অবহিত করানো হলে সেও ঐ লাশ তার ভাতিজার-এ কথাই বলল। এরপর বিচারক সাক্ষ্য প্রমাণাদি মাধ্যমে বালকটির কাঁধে লটকানো পরিচয়সূচক বিশেষ চিহ্ন দেখে সনাক্ত করলেন যে, এটা ঐ মহিলার ছেলেরই মৃতদেহ। এভাবেই সমস্ত নিরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়।

তিন সপ্তাহ পর জানা গেল প্রকৃত পক্ষে ওটা যে ছেলের মৃতদেহ, সে প্যারিসের অধিবাসী নয়; বরং অন্য শহরের। তাকে এক কোম্পানি প্যারিসে এনেছিল। অবশেষে ঐ মা, বন্ধু, চাচা, শিক্ষক-যারা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে সক্ষম হলেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দৃষ্টির প্রতারণা

📄 দৃষ্টির প্রতারণা


দৃষ্টির ধোকা ও প্রতারণার বিষয়ে ডাক্তার লেবান যে উক্তি করেছেন তার গুরুত্ব অনেক বেশি। মানব সমাজে একমাত্র প্রেরিত পুরুষ বা নবী-রাসূল আলাইহি সালাম এবং উম্মতের সংশোধনকারীগণ ব্যতিত অন্য যে কোন ব্যক্তিই মানুষের পারস্পরিক আচার-আচরণের মূলতত্ত্ব অনুধাবনের ক্ষেত্রে দৃষ্টির প্রতারণার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে। দৃষ্টির এই প্রতারণা প্রত্যেক যুগেই মানব সমাজের অপরিসীম ক্ষতির কারণ হয়েছে। ইতিহাস পর্যালোচনায় এই জাতীয় প্রতারণার যত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, তার সংখ্যা কম নয়। এ কথা বললেও হয়তো অত্যুক্তি হবে না যে, মানব ইতিহাসের বৃহত্তম অংশই সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিদের দৃষ্টির প্রতারণা সম্পর্কিত বর্ণনায় ভরপুর। প্রত্যেক যুগে নবী-রাসূলদের আগমন হয়েছে এ কারণেই যে, তাঁরা দৃষ্টিভ্রমে পতিত ব্যক্তিদের ভ্রান্তিসমূহকে প্রকাশ করে দিবেন এবং তাদেরকে জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সোস্যালিজম ও পুঁজিবাদ নামের জীবন ব্যবস্থার যে দুটি রূপ আমাদের সামনে উপস্থিত, এগুলো বর্তমান যুগে যুক্তির/দৃষ্টির প্রতারণারই ভিন্ন নাম। গত ৭০ বছর যাবত সোস্যালিজমের ভক্ত কোটি কোটি বনী আদম সব মানুষের সমস্যাবলীকে এক ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অভিজ্ঞতা সোস্যালিজম সম্পর্কে এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে এটা শুধু যুক্তি/দৃষ্টির ভ্রষ্টতা। সমগ্র মানব জাতির সমস্যা দূর করা তো সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়, কিন্তু এ মতবাদ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখারও উপযুক্ত নয়।

পুঁজিবাদের অবস্থাও এ থেকে ভিন্ন নয়। সমগ্র পশ্চিমা দুনিয়া আজ এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে সর্বোত্তম, সাফল্যমণ্ডিত ও প্রগতিপন্থী বলে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে। কিন্তু পুঁজিবাদী মতবাদ সমগ্র দুনিয়াতে অর্থনৈতিক জীবনে যে দুরারোগ্য ব্যাধি সৃষ্টি করেছে তার নজির ইতিহাসে বিরল। তার এ ব্যাধিকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে আশি বছরের বৃদ্ধের বার্ধক্যের সাথে তুলনা করে। বার্ধক্য এমন একটা অবস্থা যখন এক রোগের উপশম হতে না হতেই আরো এক বা একাধিক রোগ তাকে আক্রান্ত করে। অনুরূপ অবস্থার শিকার আজকের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা. দুনিয়ার সমগ্র সম্পদের ৮০ শতাংশ বিশ্বের মুষ্টিমেয় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের হাতে আবর্তিত হচ্ছে। পক্ষান্তরে কোটি কোটি বনী আদম ন্যূনতম মৌলিক ও মানবীয় প্রয়োজনগুলো পূরণের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা রাখে না। এতদসত্ত্বেও পুঁজিবাদী বিশ্ব তাদের অতৃপ্ত আত্মাকে তৃপ্তকরণার্থে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ কুক্ষিগত করতে উন্মত্ত। এতে করে সমগ্র দুনিয়ার মানব সন্তানেরা আজ নানারূপ নির্যাতন ও দুর্দশার শিকার। তাদের সামনে এমন কোন নিয়ম-নীতিও নেই যা তাদেরকে পুঁজিবাদের পূজা ও অতৃপ্ত লোভ থেকে বিরত রাখতে পারে। আল্লাহ চাহে তো অতি শীঘ্রই দুনিয়া এর তাণ্ডবলীলা থেকেও মুক্ত হয়ে শান্তির নিশ্বাস ফেলবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলামের মূলনীতি (Basic Principle of Islam)

📄 ইসলামের মূলনীতি (Basic Principle of Islam)


ইসলাম মুসলমানকে ব্যক্তি বিশেষের ভ্রান্ত মতবাদ থেকে রক্ষা করার জন্যে একটা মৌলিক নীতিমালা দান করেছে। এই নীতি হলো শুধু রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের যে রূপরেখা রেখে গেছেন এবং অতীতের নেককার মু'মিন মুসলমানেরা সে রূপরেখায় যেভাবে নিজেদের জীবনকে প্রস্ফুটিত করেছেন তার অনুকরণ, অনুসরণ করা। অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের পথ ব্যতীত কেউ যদি নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা দ্বারা ভিন্ন কোন মতবাদ ও পদ্ধতি অবলম্বন করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন 'যে ব্যক্তি হেদায়াতের রাস্তা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের মত ও পথ ভিন্ন অন্য মত ও পথ অবলম্বন করে, আমি তাকে এ জন্য সুযোগ দেই। অবশেষে তাকে আমি জাহান্নামে প্রবেশ করাবো।' আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুমিনগণ যে জীবন পরিক্রমা অবলম্বন করেছেন, তাই স্বভাবসম্মত, ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা, উদারতা, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির পথ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00