📄 অবৈধ ব্যবহারের বিপদ (Danger of Improper use)
অভিজ্ঞ মহল এ ব্যাপারে চিন্তিত যে, লোভী কুচক্রী এবং স্বল্প-জ্ঞানের অধিকারী লোকজন গবেষণালব্ধ এইসব তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবে। সে সব লোক মানসিক ও স্নায়ুবিক শক্তি দ্বারা চিকিৎসা করার প্রহসন করে, তাদের পক্ষ থেকে কিছু ভিত্তিহীন বই-পুস্তক ইতিমধ্যে বাজারে ছাড়া হয়েছে। সুতরাং তাদের থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। পি.এন.আই এর বিজ্ঞানীরা বারবার এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যে, শরীরের উপর স্নায়ু এবং মানসিক আবেগের প্রভাব সংক্রান্ত মতবাদ এখান পর্যন্ত গবেষণাধীন বিষয়। এ মুহূর্তে তার কোন নিশ্চিত রূপ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, টিউমারের কারণ হিসেবে এখনো শরীরকে গণ্য করা হয়। আমরা মূলত এ সম্পর্কে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি যে, কোন কার্যপ্রক্রিয়া অথবা কোন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা এ টিউমার উপশমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? আমরা বর্তমানে যা ধারণা করছি, বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে তার থেকে যথাসম্ভব সাহায্য নেয়া চাই।
যাই হোক সব গবেষকের কাছে যে বিষয়টি স্বীকৃত তা হলো চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক স্নায়ুবিক ও মানসিক অবস্থা নিঃসন্দেহে সুফল বয়ে আনে। কিন্তু তা ঔষধের বিকল্প হতে পারে না। হ্যাঁ, কেবল চিকিৎসার জন্য সহায়ক হিসেবে তা অনুমোদন করা যায়।
📄 মানসিক উপসর্গের গুরুত্ব (Importance of Mental Symptom)
মন এবং শরীরের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি একটা বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। শুরুতে শুধু হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররাই মানসিক উপসর্গগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন। কিন্তু এখন এলোপ্যাথিক ডাক্তাররাও সব ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে তাদের রিপোর্ট লেখার (Case History) সময় মানসিক উপসর্গও লিপিবদ্ধ করা শুরু করেছেন। তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এখন থেকে শরীর এবং মনকে একক বস্তু বলে স্বীকার করে নিতে হবে।
📄 এ সমস্ত গবেষণার সারমর্ম (Conclusion of these Researches)
কল্যাণকর এবং গঠনমূলক চিন্তা যে কোন শারীরিক রোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ঔষধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এতে করে রোগী খুব দ্রুত সুস্থতা লাভ করতে পারে। পক্ষান্তরে রুগ্ন চিন্তার লোক নিজের সুস্থ শরীরকেও নিঃশেষ করে। (প্রফেসর থটের চিন্তাধারা)
📄 গবেষণার ফলাফল (Result of the Researches)
ঈমানদার ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক চিন্তা-চেতনার মূর্ত প্রতীক। রুগ্ন ব্যক্তির সেবা শুশ্রূষা করা পরোপকার। অপরের ক্ষতির প্রতি লক্ষ্য রাখা, প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের আবেগের মূল্যায়ন করা ইত্যাদি গুণাবলি ইসলামী জীবনাদর্শের অংশ। কু-ধারণা থেকে বেঁচে থাকা, শুভেচ্ছার মনোভাব পোষণ করা, কাউকে খাট ও হীন না করা এবং সে মানসিকতাও না রাখা ইত্যাদি এমন কিছু আবেগ এবং মানবীয় বৈশিষ্ট্য যেগুলো মুসলমানদেরকে এক সময় বিশ্বের পথ প্রদর্শক এবং বিশ্বজয়ী বানিয়েছিল। বর্তমানেও মুসলমানদের এসব হাতিয়ারের প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি।