📄 আশান্বিত হওয়া ও একনিষ্ঠ মনোযোগ
ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত ডাক্তার হারবার্ট নেশন চিন্তা শক্তি দ্বারা চিকিৎসা করার পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, 'স্থির থাক, নয়তো পালিয়ে যাও।' তিনি রোগীকে পিনপতন নিস্তব্ধ একটি পরিবেশে বসিয়ে দশ অথবা বিশ মিনিট পর্যন্ত আরোগ্য লাভে আশান্বিত করে এমন বাক্যের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করার উপদেশ দেন। এভাবে কয়েক দিনে রোগীদের ক্রোধ কমে যায় এবং বিষন্নতা (Depression) দূর হয়। রোগী উত্তেজিত হয় না এবং অস্থিরতায়ও ভুগে না। তাছাড়া উচ্চ রক্তচাপ নিরাময়ের ক্ষেত্রে এ জাতীয় শান্তিদায়ক বাক্য ছাড়া অন্যান্য ঔষধ ব্যবহার করারও অনুমতি আছে। এরকম দৃষ্টান্ত আছে যে শান্তি দায়ক আত্ম-নির্দেশনা দ্বারা রোগীর রক্ত চাপ কমে গিয়েছে অথবা ঔষধের প্রয়োজনীয়তা কমে গিয়েছে।
📄 ব্যাথা উপশমকারী একনিষ্ঠ মনোযোগ
মাইন্ড এন্ড বডি থেরাপিকে ব্যথা উপশমের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল মনে করা হয়। হিপনোটিজমের মাধ্যমে ব্যথার অনুভূতিকে একেবারে শেষ করে দেওয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে। এমনকি এটাকে অস্ত্রোপচারের জন্যও ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকের প্রভাবে চিকিৎসাধীন রোগী মনে করে যে, ব্যথাযুক্ত অংশকে অবশ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর অপারেশন কার্য সম্পাদন করা হয়। অথবা রোগীকে বলা হয় সে যেন ডাক্তারের অস্ত্রোপচারের অস্ত্রকে এমন মনে করে যেন চামড়ার উপরে পেন্সিল দিয়ে আঁক দেওয়া হচ্ছে। এতে সে কোন কষ্টই অনুভব করে না।
📄 হীনম্মন্যতার কু-প্রভাব (Negative effect of Self-disguise)
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, হীনম্মন্যতায় ভূক্ত এইডস্ রোগী খুব দ্রুত নিজের অবস্থাকে আশঙ্কাজনক করে তোলে। পক্ষান্তরে যে সব রোগী নিজেকে ভালোবাসে এবং জীবনের প্রতি যাদের মায়া রয়েছে তাদের রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা অনেক কম।
এক ৩৮ বছর বয়স্কা মহিলার মেরুদন্ডের একটি কশেরুকা সংকুচিত হয়ে যায়। ডাক্তাররা একে চিকিৎসার অযোগ্য ঘোষনা করেন। কিন্তু 'মাইন্ড এন্ড বডি ক্লিনিকে' শরীরকে বিভিন্নভাবে নড়াচড়া করার কৌশল তাকে শিখানো হয় এবং রোগমুক্তির ব্যাপারে আশান্বিত করা হয়। অবশেষে সে সুস্থতা লাভ করে।
📄 অবৈধ ব্যবহারের বিপদ (Danger of Improper use)
অভিজ্ঞ মহল এ ব্যাপারে চিন্তিত যে, লোভী কুচক্রী এবং স্বল্প-জ্ঞানের অধিকারী লোকজন গবেষণালব্ধ এইসব তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবে। সে সব লোক মানসিক ও স্নায়ুবিক শক্তি দ্বারা চিকিৎসা করার প্রহসন করে, তাদের পক্ষ থেকে কিছু ভিত্তিহীন বই-পুস্তক ইতিমধ্যে বাজারে ছাড়া হয়েছে। সুতরাং তাদের থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। পি.এন.আই এর বিজ্ঞানীরা বারবার এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যে, শরীরের উপর স্নায়ু এবং মানসিক আবেগের প্রভাব সংক্রান্ত মতবাদ এখান পর্যন্ত গবেষণাধীন বিষয়। এ মুহূর্তে তার কোন নিশ্চিত রূপ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, টিউমারের কারণ হিসেবে এখনো শরীরকে গণ্য করা হয়। আমরা মূলত এ সম্পর্কে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি যে, কোন কার্যপ্রক্রিয়া অথবা কোন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা এ টিউমার উপশমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? আমরা বর্তমানে যা ধারণা করছি, বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে তার থেকে যথাসম্ভব সাহায্য নেয়া চাই।
যাই হোক সব গবেষকের কাছে যে বিষয়টি স্বীকৃত তা হলো চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক স্নায়ুবিক ও মানসিক অবস্থা নিঃসন্দেহে সুফল বয়ে আনে। কিন্তু তা ঔষধের বিকল্প হতে পারে না। হ্যাঁ, কেবল চিকিৎসার জন্য সহায়ক হিসেবে তা অনুমোদন করা যায়।