📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি

📄 গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি


কয়েকজন পরীক্ষাধীন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রবেশ করানো হয়। ভাইরাস প্রবেশ করানোর পূর্ব মুহূর্তে তাদের মানসিক অবস্থাও নিরীক্ষণ করা হয়। এরপর এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়া অথবা জীবাণু প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত মানসিক অবস্থার ভূমিকা কি (?) এবং এ জীবাণুর প্রভাব কাটিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে কার কত সময় লাগে (?) সেটি-ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া অবলম্বন করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা হলো শরীর ও মন পরস্পরকে একটা নির্দিষ্ট পরিসর পর্যন্ত প্রভাবিত করে।

আমাদের মানসিক অবস্থা শরীরের গ্রন্থি এবং অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের উপর জটিল এবং গভীর প্রভাব ফেলে। এই প্রভাব থেকে আমাদের জীবনী শক্তি ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক শক্তি লাভ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আবেগ এবং শরীর

📄 আবেগ এবং শরীর


গবেষণায় এ কথাও প্রমাণিত হয়, যে ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তরঙ্গ ও সান্ত্বনা দানকারী বন্ধু/সাথী পৃথক হয়ে যায়, ঐ ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মনোবেদনার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। সংসারে যারা একা, যাদের আপন কেউ নেই, এমন লোকদের অবস্থাও এ রকম। একাকিত্বের অনুভূতি তাদেরকে দুর্বল করে দেয়। ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, যে সব নারী অথবা পুরুষের নিকটতম আত্মীয়-স্বজন অথবা ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই, তাদের মৃত্যুর হার যাদের নিকটতম আত্মীয়-স্বজন অথবা ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে তাদের মৃত্যুহারের তুলনায় তিনগুণ বেশি। কেননা নিজেকে রক্ষা করার অনুভূতি হলো একটা নিছক মানসিক অবস্থা এবং এ মানসিক অবস্থা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী একাকিত্বের অনুভূতি জীবনের জন্য ততটা হুমকি স্বরূপ, ধূমপানের নেশা যতটুকু হুমকি স্বরূপ।

আত্মীয়-স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন এমন রোগী যারা আত্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে এমন ক্যান্সারের রোগী এবং অতৃপ্ত বৈবাহিক সম্পর্কের শিকার ব্যক্তির জীবনও মাত্রাধিক ধূমপায়ীদের মত অত্যন্ত আশঙ্কার মধ্যে থাকে। পক্ষান্তরে এসব ব্যাপারে যারা ইতিবাচক মানসিক অবস্থার অধিকারী, তাদের জীবন দীর্ঘতর হয় এবং তাদের চিকিৎসাও দ্রুত ফলপ্রসু হয়।

পেনসেলভিনিয়া ইউনিভার্সিটির প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী মার্টিন সেলগম্যান বিগত দশ বছর সময়কে 'নিরাশা থেকে মুক্তি'র যুগ বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন— এ যুগে শরীর এবং মনের পারস্পরিক ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে বড় বড় বইও লেখা হয়েছে। তাছাড়াও রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি প্রচার মাধ্যমে শরীরে উপর মনের প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপকভাবে লোকদেরকে অবহিত করা হয়েছে。

দীর্ঘদিন রুগ্ন ব্যক্তির সেবা শুশ্রূষাকারী আত্মীয়-স্বজনরা যে ধরনের মানসিক চাপে ভুগে, সেই মানসিক চাপের ফলাফল নিয়ে গবেষণা করেছেন ওহাই ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিন এর বিশেষজ্ঞ মনস্তাত্ত্বিক জনাইস কেকটি গ্লিজার। তিনি বলেন, মন ও শরীরের মধ্যে বিদ্যমান নিবিড় সম্পর্ক শুধু বিশ্বাসের বিষয় নয়; বরং এর পেছনে বিশ্বাসের চেয়ে অধিক শক্তিশালী প্রমাণাদি রয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যেন সব সূক্ষ্ম কোষেরই আলাদা আলাদা চোখ আছে এবং তা সুখ-দুঃখ ও আশা নিরাশার অবস্থাগুলো সঠিকভাবে দেখে, অনুধাবন করে এবং তা দ্বারা প্রভাবিত হয়。

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সানডিয়াগোর 'কিরণ ব্লোজ' নামক এক বৈজ্ঞানিক ১৯৭০ এর দশকে আবিষ্কার করেন যে, রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং মস্তিষ্কের মাঝে স্নায়ুতান্ত্রিক যোগসূত্র আছে। অবশেষে বৈজ্ঞানিকগণ এ ফলাফলে পৌঁছেন যে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও মস্তিষ্ক একটি জটিল দ্বিমুখী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পর্কযুক্ত যার রহস্য এখন পর্যন্ত উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ছাড়াও পি.এন.আই এর বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রম এমন যেন তার স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন একটি মস্তিষ্ক রয়েছে। আর এটাকেই জীবনীশক্তি অথবা আত্মা বলা হয়।

ডাক্তার কেনডিস প্রেট 'আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ'-র একজন বিশিষ্ট গবেষক। তিনি আত্মা ও শরীরের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে বলেন, 'সাধারণ লোকদের মত আমিও প্রথমে মনে করতাম যে প্রতিভা মস্তিষ্কে (Brain) অবস্থান করে এবং মস্তিষ্ক থাকে মাথার খুলিতে (Skull)। আর এটাই আমাদের অনুভূতি ও উপলব্ধির কেন্দ্র। কিন্তু এখন দীর্ঘ গবেষণায় প্রাপ্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে আমি এ কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, 'অনুভূতি ও উপলব্ধির মাধ্যম সমগ্র শরীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং অনেক সময় এই পার্থক্য করা মুশকিল হয়ে পড়ে যে, কোনটি কোনটিকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এ গবেষণায় মানবীয় কার্যক্রম এবং মানুষের নিজস্ব বৈশিষ্ট (অর্থাৎ আমরা কি?) সম্পর্কে কয়েকটি চিত্তাকর্ষক এবং নতুন প্রশ্ন আমাদের সামনে এসেছে।'

আত্মা এবং শরীরকে দুটি পৃথক বস্তু ভেবে আজ থেকে ৩০০ বছর পূর্বে তাদেরকে আলাদা করা হয়েছিল। এখন বৈজ্ঞানিকরা আবার উভয়ের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় রত। এ বিষয়ে কয়েকটি নাটকীয় রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবনী শক্তি ও স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাবাধীন। আর এ দুটো একে অপরের সাথে যৌথভাবে কাজ করে। এ বাস্তবতাকে প্রমাণ করার জন্য ইঁদুরকে স্যাকারিনের শরবত পান করানো হয় এবং এর পরপরই এমন একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় যার কারণে বমির ভাব সৃষ্টি হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। শুধু একবার এ ইঞ্জেকশনটি দেওয়ার ফলেই ইঁদুর স্যাকারিনের স্বাদের সাথে পরিচিত হয় এবং তার প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এরপর যে কোন সময় শুধু স্যাকারিনের শরবত পান করালেই (ইঞ্জেকশন ছাড়াই) ইঁদুরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমনিতেই দুর্বল হয়ে যেত, নেশার সৃষ্টি হত এবং ইঁদুর অসুস্থ হতে শুরু করত। এতে অন্তর এবং শরীরের নিবিড় সম্পর্কের অনস্বীকার্য প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত এই সম্পর্কের রহস্যময় প্রক্রিয়া এবং যে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমের সাহায্যে অন্তর এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরস্পর সম্পৃক্ত তা অনুসন্ধানে ব্যস্ত।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

📄 রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা


দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বয়ং একটি বিস্ময়কর কর্মকৌশল। জটিলতার দিক থেকে এটা মস্তিষ্কের চেয়ে কম নয়। এই ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে বুঝে উঠাও এ পরিমাণই কঠিন। মৌলিকভাবে এটি রক্তের বিভিন্ন প্রকারের শ্বেত কণিকা (WBC) সমূহের সমষ্টি। এ ধরনের কণিকা থাইমাস গ্রন্থি, অস্থিমজ্জা এবং অন্যান্য অস্থিসন্ধিতে তৈরি হয়। এরা রক্ত চলাচলের সময় সঙ্ঘটিত রাসায়নিক পরিবর্তনের প্রতিও অতি সংবেদনশীল। এ কণিকাগুলো রণাঙ্গনের সম্মুখ ভাগে অবস্থানকারী আত্মরক্ষা ব্যুহে লড়াইকারী সিপাহীদের ন্যায়। এরা সবসময় সক্রিয় থাকে এবং এন্টিবডি সৃষ্টি করে শরীরে অনুপ্রবেশকারী জীবাণুকে খুব দ্রুত শেষ করে। অনেক সময় এগুলো এত বেশি সংবেদনশীল হয় যে নির্দোষ অণুজীবের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে। এটাকে আমরা এলার্জি হিসাবে আখ্যা দিয়ে থাকি। এক প্রকারের শ্বেত কণিকা শরীরে সৃষ্ট ক্ষয় পুনর্গঠন কাজে নিয়োজিত। এদেরকে 'মাইক্রোফেগাস' বলা হয়। এছাড়া অন্য আরেক প্রকার শ্বেত কণিকা রয়েছে যাকে ন্যাচারাল কিলার বা সংক্ষেপে এন.কে বলা হয়। এটি ভাইরাস এবং টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গবেষণায় এ কথা জানা গেছে যে, এন.কে বিভিন্ন আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়। মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের উপর এক দীর্ঘ গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে, এন.কে এর (স্বাভাবিকের চেয়ে) কম সক্রিয়তাও এ রোগের একটি বড় কারণ।

"পিটসবার্গ ইনস্টিটিউট" এর মহিলা গবেষক 'লেভী' উদঘাটন করেন যে, মনস্তাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং খিঁচুনি রোগীর N. K এর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের উপর এতটা প্রভাব ফেলে যে, এ সব কণিকার কর্ম শক্তি অর্ধেক হ্রাস অথবা দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে。

পেনসিলভিনিয়া ভার্সিটির গবেষক 'সেলগম্যান' নিজের অসহায় মুহূর্তের উদ্ভূত অনুভূতির উপর গবেষণা চালিয়ে প্রমাণ করেন, যে সব লোক স্বভাবত হতাশাগ্রস্ত হয়, তারা যে কোন বিষয়ে কেবল নেতিবাচক দিককেই বিবেচনা করে এবং নিরাশ থাকে। অন্যভাবে বলা যেতে পারে তারা নিজেদেরকে অক্ষম অনুভব করে এবং অপরকেও তাদের অক্ষমতাকে বোঝাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। জীবনকে পরিবর্তন করার ইচ্ছা তাদের থাকে না। প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে উঠার শক্তিও তাদের ধীরে ধীরে লোপ পায়। পক্ষান্তরে প্রতিকূল অবস্থাকে প্রতিরোধ করার আবেগ যদি কারো মাঝে সক্রিয় থাকে, তখন তার শরীরও রোগ-ব্যাধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে প্রস্তুত হয়。

প্রমাণ হিসাবে সেলগম্যান তার নিজস্ব মূলনীতির আলোকে পরীক্ষা চালান। তিনি কয়েকটি ইঁদুরের উপর হালকাভাবে বিদ্যুতের শকট লাগান। তাদের মধ্যে কয়েকটি ইঁদুরকে শকটের আঘাত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও সুযোগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় যেসব ইঁদুর পালাতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের মধ্যে সহজেই নৈরাশ্য দেখা দেয়। এমনকি কোন বিপদ থেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করে দিলেও তারা সে সুযোগ ব্যবহার করে না; বরং উদাসীন হয়ে বসে থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের পক্ষে নতুন যুক্তি

📄 ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের পক্ষে নতুন যুক্তি


শরীরবৃত্তীয় নতুন চিন্তা-গবেষণার দ্বারা কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা এখনো মেলে নি। স্নায়ুতন্ত্র মস্তিষ্কের কেন্দ্র থেকে শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পুরো শরীরে ছড়িয়ে আছে। স্নায়ুতন্ত্রের এমন বিন্যাস থেকেই মূলত শরীরের প্রতিটি কর্মের উপর এর প্রতিক্রিয়া অনুমান করা যায়। মনে করা হয়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত সূক্ষ্ম সংযোগের মাধ্যমে শ্বসনতন্ত্র, রক্ত সংবহনতন্ত্র ইত্যাদি স্বয়ংক্রিয়তন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্রীয় স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সাথে যুক্ত। এ সম্পর্কের কারণে মনে হতে পারে মস্তিষ্কের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করে। প্রশ্ন হল, যদি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মস্তিষ্ক ছাড়াই সমস্ত কাজ করতে পারে তবে মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয়তা কি? ৭০ দশকে সানডিয়াগোর কিরন রোজ এ ধাঁধার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি ইঁদুরের থাইমাস গ্রন্থিতে একটি রঙ্গীন ধাতব পদার্থ প্রবেশ করান। ঐ রঙ্গীন ধাতুর চলাচল পদ্ধতি থেকে রোজ প্রমাণ করেন যে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাঝে দ্বিমুখী সম্পর্ক রয়েছে。

সম্ভবত ঐ সময়েই আলবামা বার্মিংহাম-এর এডভেন বেলি লক আবিষ্কার করেন যে, দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও পেপটাইড হরমোন সৃষ্টি করতে পারে। অথচ পূর্বে ধারণা করা হত যে, এ হরমোন শুধু মস্তিস্কেরই পাওয়া যায়। এ কারণে এদেরকে নিউরো পেপটাইড বলা হয়। পরে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, মস্তিষ্ক যে সব হরমোন সৃষ্টি করে রোগ প্রতিরোধক কণিকাগুলোও সে সব হরমোনের প্রায় সবগুলোই সৃষ্টি করে থাকে। বেলি লকের গবেষণা দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ এ তথ্যটি উদঘাটিত হয় যে, শরীরে অনুভূতি সৃষ্টিকারী আরো একটি ব্যবস্থা বিদ্যমান যা পরিচিত পঞ্চ ইন্দ্রিয় যথা- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক থেকে পৃথক। আর তার নাম হচ্ছে প্রতিরোধ ব্যবস্থা। প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ শরীরে জালের মত বিস্তৃত এ ব্যবস্থা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী একটি অভ্যন্তরীণ অনুভূতি। যদি এ অনুভূতিটি ঠিক থাকে তবে অন্যান্য ইন্দ্রিয় সমূহের ন্যায় এটিও মস্কিষ্ককে শরীরের ভবিষ্যৎ বিপদ সম্পর্কে অবহিত করে। বাইরের পরিবেশের সাথেও তার সম্পর্ক আছে। বেলি লকের চিন্তাধারা অনুযায়ী মস্তিষ্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কয়েকটি বিষয়ে একে অপরের অনুরূপ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, শ্বেতকণিকা সমূহও মস্তিষ্কের ন্যায় নিউরো পেপটাইড এর প্রতিক্রিয়া গ্রহণে সক্ষম। আর উভয়েই হরমোন সমূহের প্রতি সমানভাবে প্রতিক্রিয়াশীল যদিও সেগুলোর উৎস ভিন্ন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00