📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের গবেষণা

📄 এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের গবেষণা


এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের গবেষণায়ও জানা যায়, চিকিৎসার অযোগ্য রোগীদেরকে যদি শুধু পরিষ্কার চিনির পাউডার দ্বারা তৈরি পুড়িয়া দেয়া হয়, তবে তাদের মধ্যে অনেকেই তাকে ঔষধ দেয়া হয়েছে এমন ধারণা করে সুস্থ হয়ে যেতে পারে। এভাবে আত্মিক ও স্নায়ুবিক শক্তি পারস্পরিক ধারণা বিনিময় করে নিজেদেরকে রোগমুক্ত করে তোলে এবং এ অবস্থায় রোগী দ্রুত রোগমুক্তির দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আমেরিকান চিকিৎসা ব্যবস্থা

📄 আমেরিকান চিকিৎসা ব্যবস্থা


এ মতবাদটি আমেরিকান চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্রমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে গবেষণা চলছে যে, যখন নিরাশা, বিষন্নতা অথবা ক্রোধ আমাদেরকে পেয়ে বসে, তখন কোন কোন রোগ আমাদেরকে দ্রুত আক্রান্ত করতে পারে অথবা আমরা যখন আশান্বিত, আনন্দিত ও আশ্বস্ত থাকি, তখন কোন কোন রোগ থেকে রক্ষা পাই।

শরীরের উপর মনের প্রভাব সম্পর্কীয় এ জাতীয় গবেষণা একেবারে নতুন একটি বিজ্ঞানের জন্ম দিয়েছে। এর নাম রাখা হয়েছে 'সাইকো-নিউরো ইমিউনোলোজি'। এ নতুন বিজ্ঞানটি সমাজবিজ্ঞানী ও প্রকৃতি-বিজ্ঞানীদেরকে পরস্পরের কাছাকাছি এনেছে। অথচ ইতিপূর্বে তারা একে অপরের সাথে কথা বলতেও রাজী ছিলেন না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি

📄 গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি


কয়েকজন পরীক্ষাধীন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রবেশ করানো হয়। ভাইরাস প্রবেশ করানোর পূর্ব মুহূর্তে তাদের মানসিক অবস্থাও নিরীক্ষণ করা হয়। এরপর এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়া অথবা জীবাণু প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত মানসিক অবস্থার ভূমিকা কি (?) এবং এ জীবাণুর প্রভাব কাটিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে কার কত সময় লাগে (?) সেটি-ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া অবলম্বন করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা হলো শরীর ও মন পরস্পরকে একটা নির্দিষ্ট পরিসর পর্যন্ত প্রভাবিত করে।

আমাদের মানসিক অবস্থা শরীরের গ্রন্থি এবং অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের উপর জটিল এবং গভীর প্রভাব ফেলে। এই প্রভাব থেকে আমাদের জীবনী শক্তি ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক শক্তি লাভ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আবেগ এবং শরীর

📄 আবেগ এবং শরীর


গবেষণায় এ কথাও প্রমাণিত হয়, যে ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তরঙ্গ ও সান্ত্বনা দানকারী বন্ধু/সাথী পৃথক হয়ে যায়, ঐ ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মনোবেদনার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। সংসারে যারা একা, যাদের আপন কেউ নেই, এমন লোকদের অবস্থাও এ রকম। একাকিত্বের অনুভূতি তাদেরকে দুর্বল করে দেয়। ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, যে সব নারী অথবা পুরুষের নিকটতম আত্মীয়-স্বজন অথবা ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই, তাদের মৃত্যুর হার যাদের নিকটতম আত্মীয়-স্বজন অথবা ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে তাদের মৃত্যুহারের তুলনায় তিনগুণ বেশি। কেননা নিজেকে রক্ষা করার অনুভূতি হলো একটা নিছক মানসিক অবস্থা এবং এ মানসিক অবস্থা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী একাকিত্বের অনুভূতি জীবনের জন্য ততটা হুমকি স্বরূপ, ধূমপানের নেশা যতটুকু হুমকি স্বরূপ।

আত্মীয়-স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন এমন রোগী যারা আত্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে এমন ক্যান্সারের রোগী এবং অতৃপ্ত বৈবাহিক সম্পর্কের শিকার ব্যক্তির জীবনও মাত্রাধিক ধূমপায়ীদের মত অত্যন্ত আশঙ্কার মধ্যে থাকে। পক্ষান্তরে এসব ব্যাপারে যারা ইতিবাচক মানসিক অবস্থার অধিকারী, তাদের জীবন দীর্ঘতর হয় এবং তাদের চিকিৎসাও দ্রুত ফলপ্রসু হয়।

পেনসেলভিনিয়া ইউনিভার্সিটির প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী মার্টিন সেলগম্যান বিগত দশ বছর সময়কে 'নিরাশা থেকে মুক্তি'র যুগ বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন— এ যুগে শরীর এবং মনের পারস্পরিক ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে বড় বড় বইও লেখা হয়েছে। তাছাড়াও রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি প্রচার মাধ্যমে শরীরে উপর মনের প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপকভাবে লোকদেরকে অবহিত করা হয়েছে。

দীর্ঘদিন রুগ্ন ব্যক্তির সেবা শুশ্রূষাকারী আত্মীয়-স্বজনরা যে ধরনের মানসিক চাপে ভুগে, সেই মানসিক চাপের ফলাফল নিয়ে গবেষণা করেছেন ওহাই ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিন এর বিশেষজ্ঞ মনস্তাত্ত্বিক জনাইস কেকটি গ্লিজার। তিনি বলেন, মন ও শরীরের মধ্যে বিদ্যমান নিবিড় সম্পর্ক শুধু বিশ্বাসের বিষয় নয়; বরং এর পেছনে বিশ্বাসের চেয়ে অধিক শক্তিশালী প্রমাণাদি রয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যেন সব সূক্ষ্ম কোষেরই আলাদা আলাদা চোখ আছে এবং তা সুখ-দুঃখ ও আশা নিরাশার অবস্থাগুলো সঠিকভাবে দেখে, অনুধাবন করে এবং তা দ্বারা প্রভাবিত হয়。

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সানডিয়াগোর 'কিরণ ব্লোজ' নামক এক বৈজ্ঞানিক ১৯৭০ এর দশকে আবিষ্কার করেন যে, রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং মস্তিষ্কের মাঝে স্নায়ুতান্ত্রিক যোগসূত্র আছে। অবশেষে বৈজ্ঞানিকগণ এ ফলাফলে পৌঁছেন যে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও মস্তিষ্ক একটি জটিল দ্বিমুখী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পর্কযুক্ত যার রহস্য এখন পর্যন্ত উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ছাড়াও পি.এন.আই এর বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রম এমন যেন তার স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন একটি মস্তিষ্ক রয়েছে। আর এটাকেই জীবনীশক্তি অথবা আত্মা বলা হয়।

ডাক্তার কেনডিস প্রেট 'আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ'-র একজন বিশিষ্ট গবেষক। তিনি আত্মা ও শরীরের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে বলেন, 'সাধারণ লোকদের মত আমিও প্রথমে মনে করতাম যে প্রতিভা মস্তিষ্কে (Brain) অবস্থান করে এবং মস্তিষ্ক থাকে মাথার খুলিতে (Skull)। আর এটাই আমাদের অনুভূতি ও উপলব্ধির কেন্দ্র। কিন্তু এখন দীর্ঘ গবেষণায় প্রাপ্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে আমি এ কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, 'অনুভূতি ও উপলব্ধির মাধ্যম সমগ্র শরীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং অনেক সময় এই পার্থক্য করা মুশকিল হয়ে পড়ে যে, কোনটি কোনটিকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এ গবেষণায় মানবীয় কার্যক্রম এবং মানুষের নিজস্ব বৈশিষ্ট (অর্থাৎ আমরা কি?) সম্পর্কে কয়েকটি চিত্তাকর্ষক এবং নতুন প্রশ্ন আমাদের সামনে এসেছে।'

আত্মা এবং শরীরকে দুটি পৃথক বস্তু ভেবে আজ থেকে ৩০০ বছর পূর্বে তাদেরকে আলাদা করা হয়েছিল। এখন বৈজ্ঞানিকরা আবার উভয়ের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় রত। এ বিষয়ে কয়েকটি নাটকীয় রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবনী শক্তি ও স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাবাধীন। আর এ দুটো একে অপরের সাথে যৌথভাবে কাজ করে। এ বাস্তবতাকে প্রমাণ করার জন্য ইঁদুরকে স্যাকারিনের শরবত পান করানো হয় এবং এর পরপরই এমন একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় যার কারণে বমির ভাব সৃষ্টি হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। শুধু একবার এ ইঞ্জেকশনটি দেওয়ার ফলেই ইঁদুর স্যাকারিনের স্বাদের সাথে পরিচিত হয় এবং তার প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এরপর যে কোন সময় শুধু স্যাকারিনের শরবত পান করালেই (ইঞ্জেকশন ছাড়াই) ইঁদুরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমনিতেই দুর্বল হয়ে যেত, নেশার সৃষ্টি হত এবং ইঁদুর অসুস্থ হতে শুরু করত। এতে অন্তর এবং শরীরের নিবিড় সম্পর্কের অনস্বীকার্য প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত এই সম্পর্কের রহস্যময় প্রক্রিয়া এবং যে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমের সাহায্যে অন্তর এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরস্পর সম্পৃক্ত তা অনুসন্ধানে ব্যস্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00