📄 ডা. হ্যানিম্যান এর চিন্তাধারা
অন্তত একশ বছর পূর্বে প্রসিদ্ধ জার্মান ডাক্তার হ্যানিম্যান চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি চমক সৃষ্টিকারী চিন্তাধারা পেশ করেন। তিনি বিভিন্ন ঔষধের ন্যূনতম পরিমাণকে বিশেষ একটি পদ্ধতিতে এতই সূক্ষ্মভাবে বিশ্লিষ্ট করেন যে, সেগুলোর বস্তুগত বৈশিষ্ট্য শেষ হয়ে যায় এবং এক অদৃশ্য শক্তিতে (আত্মায়) পরিণত হয়। যখন এ ঔষধ সুস্থ লোকের উপর প্রয়োগ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ডাক্তার হ্যানিম্যান এ সব অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, মানুষ শুধু ঐ সময়ই রোগাক্রান্ত হয়, যখন রোগের কারণগুলো জীবনী শক্তি বা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। অতঃপর আত্মার এই অসুস্থতা শারীরিক লক্ষণাদি দ্বারা রোগ হিসাবে প্রকাশিত হয়। এই মতবাদ অনুযায়ী শারীরিক অবস্থা একটি বৃত্তের মত যার কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে জীবনী শক্তি বা আত্মা। রোগ সব সময় বৃত্তের কেন্দ্র তথা আত্মা থেকে শুরু হয় এবং বৃত্তের বাইরের কিনারা বা পরিধি তথা শরীরে পৌঁছে। ডাক্তার হ্যানিম্যান আত্মাকে প্রধান ব্যবস্থাপক হিসেবে গণ্য করেছেন। পুরো শরীর তার ব্যবস্থাপনার অধীনে কর্মরত রয়েছে।
📄 এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের গবেষণা
এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের গবেষণায়ও জানা যায়, চিকিৎসার অযোগ্য রোগীদেরকে যদি শুধু পরিষ্কার চিনির পাউডার দ্বারা তৈরি পুড়িয়া দেয়া হয়, তবে তাদের মধ্যে অনেকেই তাকে ঔষধ দেয়া হয়েছে এমন ধারণা করে সুস্থ হয়ে যেতে পারে। এভাবে আত্মিক ও স্নায়ুবিক শক্তি পারস্পরিক ধারণা বিনিময় করে নিজেদেরকে রোগমুক্ত করে তোলে এবং এ অবস্থায় রোগী দ্রুত রোগমুক্তির দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
📄 আমেরিকান চিকিৎসা ব্যবস্থা
এ মতবাদটি আমেরিকান চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্রমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে গবেষণা চলছে যে, যখন নিরাশা, বিষন্নতা অথবা ক্রোধ আমাদেরকে পেয়ে বসে, তখন কোন কোন রোগ আমাদেরকে দ্রুত আক্রান্ত করতে পারে অথবা আমরা যখন আশান্বিত, আনন্দিত ও আশ্বস্ত থাকি, তখন কোন কোন রোগ থেকে রক্ষা পাই।
শরীরের উপর মনের প্রভাব সম্পর্কীয় এ জাতীয় গবেষণা একেবারে নতুন একটি বিজ্ঞানের জন্ম দিয়েছে। এর নাম রাখা হয়েছে 'সাইকো-নিউরো ইমিউনোলোজি'। এ নতুন বিজ্ঞানটি সমাজবিজ্ঞানী ও প্রকৃতি-বিজ্ঞানীদেরকে পরস্পরের কাছাকাছি এনেছে। অথচ ইতিপূর্বে তারা একে অপরের সাথে কথা বলতেও রাজী ছিলেন না।
📄 গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি
কয়েকজন পরীক্ষাধীন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রবেশ করানো হয়। ভাইরাস প্রবেশ করানোর পূর্ব মুহূর্তে তাদের মানসিক অবস্থাও নিরীক্ষণ করা হয়। এরপর এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়া অথবা জীবাণু প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত মানসিক অবস্থার ভূমিকা কি (?) এবং এ জীবাণুর প্রভাব কাটিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে কার কত সময় লাগে (?) সেটি-ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া অবলম্বন করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা হলো শরীর ও মন পরস্পরকে একটা নির্দিষ্ট পরিসর পর্যন্ত প্রভাবিত করে।
আমাদের মানসিক অবস্থা শরীরের গ্রন্থি এবং অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের উপর জটিল এবং গভীর প্রভাব ফেলে। এই প্রভাব থেকে আমাদের জীবনী শক্তি ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক শক্তি লাভ করে।