📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আবেগ ও কল্পনার শক্তি

📄 আবেগ ও কল্পনার শক্তি


আত্মিক উদ্দীপনা শরীরের উপর কিভাবে রাজত্ব করে, আবেগজনিত অবস্থা কোন সুস্থ লোককে অসুস্থ কিংবা অসুস্থ লোককে সুস্থ করতে পারে কি না, কল্পনা তথা ইচ্ছা শক্তিকে শারীরিক রোগ নিরাময়ের জন্য ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্রের (Prescription) অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না এ প্রশ্নগুলো খুব কঠিন হলেও অনেক পূর্বেই মানুষ এ প্রশ্নগুলোরই উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। অন্তর আমাদের শরীরের উপর রাজত্ব করে। কোন ধর্মাবলম্বীই মানবীয় শরীরের উপর আত্মার প্রভাবকে অস্বীকার করে না। তবে কিভাবে শরীর আত্মার দ্বারা প্রভাবিত হয় এ বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যাদু, তাবিজ, ঝাড়-ফুঁক, পানি পড়া এবং পাশ্চাত্যের বিশ্বাস মতে অর্থাৎ ঔষধাদির সাহায্য ছাড়া ধর্ম বিশ্বাসের জোরে (যথা-প্রার্থনা, শান্তি-স্বস্ত্যয়ন, দেব মন্দিরাদিতে ধরণা প্রভৃতি দ্বারা) ব্যাধি নিরাময় এ সবগুলোর মূলনীতি হল বিশ্বাস ও কল্পনা শক্তিকে রোগ ব্যাধির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা।

ভারত উপমহাদেশে 'কাল্পনিক শক্তিভিত্তিক' চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে মানসিক শক্তি ব্যবহারের ইতিহাস ৫ হাজার বছরের পুরাতন। বেদ বিহিত চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কীয় এক নিবন্ধে শরীরকে মনের অনুভূতির বাস্তব রূপ বলা হয়েছে।

মূলত আত্মা এবং শরীরকে মানুষ সব সময় এক বস্তু হিসাবে গণ্য করত। প্রাচীন যুগে রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে মানুষের যে ধারণা ছিল তা হলো আসমানী শক্তি অসন্তুষ্ট হলে মানুষের আত্মা ও শরীরে কোন না কোন রোগ দেখা দেয়। গ্রিক চিকিৎসা শাস্ত্রে মানব প্রকৃতি এবং পিত্তাদির মধ্যে ভারসাম্যহীনতাকে রোগের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এভাবেই শরীর ও আত্মার একে-অপরের উপর প্রভাব বিস্তার করা সংক্রান্ত মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দেহ ও মনের ঐক্য স্থাপনকারী এ মতবাদে আনুমানিক ৩০০ বছর পূর্বে ফাটল ধরে যখন ফরাসি দার্শনিক দেকার্ত আত্মা এবং শরীরকে পৃথক দুটি বস্তু গণ্য করে উভয়ের স্বাতন্ত্র্যতা সম্পর্কিত মতবাদ পেশ করেন। আর এই চিন্তাধারার উপরই বর্তমানে এলোপ্যাথি নামে পরিচিত ইউরোপীয় চিকিৎসা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত। এর উপকারিতা তো স্পষ্ট। কিন্তু এই চিকিৎসা পদ্ধতি শরীর এবং আত্মার সম্পর্কের বিষয়টিকে অত্যন্ত রহস্যময় ও অস্পষ্ট করেছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ডা. হ্যানিম্যান এর চিন্তাধারা

📄 ডা. হ্যানিম্যান এর চিন্তাধারা


অন্তত একশ বছর পূর্বে প্রসিদ্ধ জার্মান ডাক্তার হ্যানিম্যান চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি চমক সৃষ্টিকারী চিন্তাধারা পেশ করেন। তিনি বিভিন্ন ঔষধের ন্যূনতম পরিমাণকে বিশেষ একটি পদ্ধতিতে এতই সূক্ষ্মভাবে বিশ্লিষ্ট করেন যে, সেগুলোর বস্তুগত বৈশিষ্ট্য শেষ হয়ে যায় এবং এক অদৃশ্য শক্তিতে (আত্মায়) পরিণত হয়। যখন এ ঔষধ সুস্থ লোকের উপর প্রয়োগ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ডাক্তার হ্যানিম্যান এ সব অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, মানুষ শুধু ঐ সময়ই রোগাক্রান্ত হয়, যখন রোগের কারণগুলো জীবনী শক্তি বা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। অতঃপর আত্মার এই অসুস্থতা শারীরিক লক্ষণাদি দ্বারা রোগ হিসাবে প্রকাশিত হয়। এই মতবাদ অনুযায়ী শারীরিক অবস্থা একটি বৃত্তের মত যার কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে জীবনী শক্তি বা আত্মা। রোগ সব সময় বৃত্তের কেন্দ্র তথা আত্মা থেকে শুরু হয় এবং বৃত্তের বাইরের কিনারা বা পরিধি তথা শরীরে পৌঁছে। ডাক্তার হ্যানিম্যান আত্মাকে প্রধান ব্যবস্থাপক হিসেবে গণ্য করেছেন। পুরো শরীর তার ব্যবস্থাপনার অধীনে কর্মরত রয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের গবেষণা

📄 এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের গবেষণা


এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের গবেষণায়ও জানা যায়, চিকিৎসার অযোগ্য রোগীদেরকে যদি শুধু পরিষ্কার চিনির পাউডার দ্বারা তৈরি পুড়িয়া দেয়া হয়, তবে তাদের মধ্যে অনেকেই তাকে ঔষধ দেয়া হয়েছে এমন ধারণা করে সুস্থ হয়ে যেতে পারে। এভাবে আত্মিক ও স্নায়ুবিক শক্তি পারস্পরিক ধারণা বিনিময় করে নিজেদেরকে রোগমুক্ত করে তোলে এবং এ অবস্থায় রোগী দ্রুত রোগমুক্তির দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আমেরিকান চিকিৎসা ব্যবস্থা

📄 আমেরিকান চিকিৎসা ব্যবস্থা


এ মতবাদটি আমেরিকান চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্রমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে গবেষণা চলছে যে, যখন নিরাশা, বিষন্নতা অথবা ক্রোধ আমাদেরকে পেয়ে বসে, তখন কোন কোন রোগ আমাদেরকে দ্রুত আক্রান্ত করতে পারে অথবা আমরা যখন আশান্বিত, আনন্দিত ও আশ্বস্ত থাকি, তখন কোন কোন রোগ থেকে রক্ষা পাই।

শরীরের উপর মনের প্রভাব সম্পর্কীয় এ জাতীয় গবেষণা একেবারে নতুন একটি বিজ্ঞানের জন্ম দিয়েছে। এর নাম রাখা হয়েছে 'সাইকো-নিউরো ইমিউনোলোজি'। এ নতুন বিজ্ঞানটি সমাজবিজ্ঞানী ও প্রকৃতি-বিজ্ঞানীদেরকে পরস্পরের কাছাকাছি এনেছে। অথচ ইতিপূর্বে তারা একে অপরের সাথে কথা বলতেও রাজী ছিলেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00