📄 সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Accurate Decision)
সমাধান সঠিক হবে না-কি ভুল হবে তা নির্ভর করে মানুষের শক্তি, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সুবিবেচনার উপর। যে কোন বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করার জন্যে খুঁটি-নাটি অধ্যয়ন ও অবিরাম জ্ঞান চর্চা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ দৈনন্দিন জীবনে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়ায়। এসব পরিস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক সবকিছু গভীরভাবে অনুধাবন করেই তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা অথবা কোন সমস্যায় সমাধান বাতলে দেয়া যথার্থ হতে পারে। যুৎসই সমাধান বাতলে দেয়া ও সঠিক বিষয়টি বিবেচনা করার যোগ্যতা মানুষ অর্জন করে নির্ভুল ও পরিপক্ক জ্ঞান অর্জনের পর। জ্ঞান বিস্তৃত ও পরিপক্ক হলে সমাধানও সেরূপ নির্ভুল ও কল্যাণকর হয়। আপনি সফল ব্যক্তি হতে চান, যে কাজেই হাত বাড়ান না কেন, সে বিষয়ে আগাম পূর্ণ যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করুন। সে কাজের যাবতীয় জটিলতা প্রথমে জেনে নিন। এর পরেই সে কাজ সম্পর্কে মন্তব্য করা ও সমাধান পেশ করার জন্য আপনি যোগ্য বিবেচিত হবেন। বলা বাহুল্য, যে কোন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট দিকগুলো সম্পর্কে যত বেশি জ্ঞান অর্জন করা যাবে, সমাধানও তত নির্ভুল হবে। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তা জানতে, শিখতে ও সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লজ্জাবোধ করবেন না। কেননা এ ধরনের লজ্জাবোধ আপনাকে জ্ঞান আহরণ থেকে বঞ্চিত করবে।
📄 আকর্ষণীয় হওয়া (To be attractive)
সফল ব্যক্তির জন্য অন্য মানুষের অন্তরে আকর্ষণ ও ভালোবাসা থাকে। মানুষের অন্তরে নিজের আসন তৈরি করার জন্যে অপরকে ভালোবাসা ও অপরকে নিজের উপর প্রাধান্য দেওয়া অপরিহার্য। যে ব্যক্তি মানুষকে ভালোবাসে, আনন্দ দেয়, নিজের জাগতিক উন্নতি ও সফলতার পরিবর্তে অন্যের উপকার করতে পেরে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে, সেই মানুষের কাছে প্রিয়। তদ্রূপ যে ব্যক্তি বিবাদের মুহূর্তে সহনশীল হয়, মনোবেদনা ভুলে মানুষকে ক্ষমা করে এবং অন্যের সফলতা ও উন্নতির সংবাদ শুনে হিংসায় জ্বলে না; বরং আনন্দে পুলকিত হয়, সে জীবনে সফলকাম। অন্যের মনোরঞ্জন ও চিত্তাকর্ষক কথা বলাও সফলতার একটি প্রকৃষ্ট মাপকাঠি। অন্যের আবেগ-অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য রাখা নিজেকে অন্যের অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা অন্যকে নিজের করে নেওয়ার নামান্তর।
📄 পরোপকারের আগ্রহ ও মানসিকতার শক্তি
আবেগ ও কল্পনা মানব মনের দুই বৃত্তি এবং এরা অনেক শক্তিশালী। এই শক্তির সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত বদরের প্রান্তরে স্থাপিত হয়েছে। সেখানে আল্লাহ্ তা'আলার দ্বীনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙ্গুলি নির্দেশে আত্ম-ত্যাগ করার যে ব্যাকুলতা দেখা গিয়েছিল, তার পিছনে একটিই ইচ্ছা ও আশা ক্রিয়াশীল ছিল। তা হলো আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং আল্লাহ্ তা'আলা যেন দুনিয়াতেও তাদেরকে সম্মান ও শান্তি, আখেরাতে সফলতা এবং জান্নাতের নেয়ামতে পূর্ণ সুন্দর জীবন দান করেন।
সাহাবাগণ প্রতিটি কাজই আবেগের সাথে এবং পরিকল্পনা মাফিক সম্পন্ন করতেন। সে কাজ আনন্দজনক হোক বা দুঃখজনক। মানবতা ঐ যুবক সাহাবীর আবেগ ও ত্যাগ দেখে বাকরুদ্ধ ও ধন্য যিনি নিজের কর্তিত বাহু নিয়ে সারাদিন তলোয়ার চালিয়েছেন (বাহু কেটে গিয়ে একপ্রান্তে চামড়ার সাথে আটকে ছিল)। লড়াই করতে সে হাত বাধা হয়ে দাঁড়ালে হাতটি 'পা দিয়ে আটকে' টেনে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একদিকে ছুঁড়ে মারেন। মানব ইতিহাস এত আবেগপ্রবণ মানুষ আর কখনো দেখেনি।
জীবনেও তারা তাঁরা আনন্দবোধ করতেন। মরণে তাদের আত্মাও তৃপ্ত ছিল। মানুষের শরীরের উপর আত্মার বিশেষ প্রভাব আছে। আত্মা প্রফুল্ল ও শান্ত থাকলে শরীর সুস্থ থাকে। আত্মা দুর্বল হলে শরীরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের আবেগ এবং ইচ্ছার প্রতিও খেয়াল রাখতেন। সাহাবাদের এ বন্ধনহীন উদ্দীপনাই তাদের জীবন থেকে ব্যর্থতা ও দুঃখকে 'ভুল' শব্দের ন্যায় মুছে দিয়েছে।
📄 সুধারণা
ইসলাম মানুষকে মানবতার কল্যাণ এবং সফলতা লাভের উপায় শিক্ষা দেয়। ইসলাম সম্মান, শিষ্টাচার ও সুধারণার সমন্বিত রূপ। সাহাবাগণ একে-অপরের আমলের প্রতি সুধারণা পোষণ করতেন। তাদের পুরো জীবনই এ সাক্ষ্য দেয় যে কোন সাহাবীর কথা ও কাজের ব্যাপারে অন্য সাহাবীরা খারাপ ধারণা করতেন না।
শান্তিপূর্ণ সমাজের জন্য প্রথম শর্ত হল শুভেচ্ছার মনোভাব। হযরত আবু জরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'হে আবু জর! সুধারণার চেয়ে বড় বিচক্ষণতা অন্য কিছু হতে পারে না।' এ জন্যই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবাগণ এবং আউলিয়াগণের জীবন সুধারণা পোষণ করার ঘটনালিতে ভরপুর।
নিম্নে আবেগ ও স্পৃহা মানব জীবনে কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।