📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দায়িত্ব গ্রহণ করা

📄 দায়িত্ব গ্রহণ করা


ব্যক্তিত্বকে সফল করতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রেরণাও যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। দায়িত্ব গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ দুর্বলতা ও হতাশ চিত্তের লক্ষণ। তাই বেশি বেশি দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করবে। অনেককে দেখা যায় দায়িত্ব পাওয়ার পর নেতৃসুলভ আচরণের পরিবর্তে দাসসুলভ আচরণ করে। এতে নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। এ জাতীয় আচরণে অভ্যস্ত ব্যক্তি জানে না পলায়নপর মনোবৃত্তিকে প্রশ্রয় না দিলে সেও সফল হতে পারত। দায়িত্ব গ্রহণের ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা সৃষ্টি হয়। আর হতাশাকে কোন অবস্থায়ই প্রশ্রয় দিবে না। কারণ হতাশ হওয়ার সবেচেয়ে বড় ক্ষতি হলো হতাশ ব্যক্তি সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। এ ধরনের লোক সাধারণত সমাধানে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়। অথবা সমাধানের পরও অনিশ্চয়তায় ভুগতে থাকে। তার সমাধান পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হতে পারে এ আশঙ্কায় তারা সর্বদা শঙ্কিত থাকে। দায়িত্ব এড়িয়ে চলে। মনে রাখবে, কোন সমস্যা সমাধানের জন্য সাহসিকতার প্রয়োজন। সাহসী হওয়া ছাড়া সফল সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। বলা বাহুল্য, সাহসিকতা থাকলে এক সময় সফলতা ধরা দেয়ই। যেমন ছোট শিশু হাঁটার সূচনাতে বারবার পড়ে যায়। আবার উঠে হাঁটার চেষ্টা করে। এক সময় সে হাঁটতে সফল হয়। কিন্তু যদি পড়ে যাওয়ার ভয়ে কোন শিশুকে হাঁটা থেকে নিবৃত্ত রাখা হয়, তাহলে সে শিশু কি কখনও হাঁটা শিখবে? ঠিক তদ্রুপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রথম প্রথম ভুল হলেও পরবর্তীতে তা ঠিক হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য, ভুল করে করে এক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযুক্ত হওয়া ভুল হওয়ার আশঙ্কায় ফয়সালা করা থেকে বিরত থাকা চেয়ে বহু গুণ শ্রেয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Accurate Decision)

📄 সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Accurate Decision)


সমাধান সঠিক হবে না-কি ভুল হবে তা নির্ভর করে মানুষের শক্তি, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সুবিবেচনার উপর। যে কোন বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করার জন্যে খুঁটি-নাটি অধ্যয়ন ও অবিরাম জ্ঞান চর্চা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ দৈনন্দিন জীবনে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়ায়। এসব পরিস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক সবকিছু গভীরভাবে অনুধাবন করেই তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা অথবা কোন সমস্যায় সমাধান বাতলে দেয়া যথার্থ হতে পারে। যুৎসই সমাধান বাতলে দেয়া ও সঠিক বিষয়টি বিবেচনা করার যোগ্যতা মানুষ অর্জন করে নির্ভুল ও পরিপক্ক জ্ঞান অর্জনের পর। জ্ঞান বিস্তৃত ও পরিপক্ক হলে সমাধানও সেরূপ নির্ভুল ও কল্যাণকর হয়। আপনি সফল ব্যক্তি হতে চান, যে কাজেই হাত বাড়ান না কেন, সে বিষয়ে আগাম পূর্ণ যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করুন। সে কাজের যাবতীয় জটিলতা প্রথমে জেনে নিন। এর পরেই সে কাজ সম্পর্কে মন্তব্য করা ও সমাধান পেশ করার জন্য আপনি যোগ্য বিবেচিত হবেন। বলা বাহুল্য, যে কোন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট দিকগুলো সম্পর্কে যত বেশি জ্ঞান অর্জন করা যাবে, সমাধানও তত নির্ভুল হবে। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তা জানতে, শিখতে ও সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লজ্জাবোধ করবেন না। কেননা এ ধরনের লজ্জাবোধ আপনাকে জ্ঞান আহরণ থেকে বঞ্চিত করবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আকর্ষণীয় হওয়া (To be attractive)

📄 আকর্ষণীয় হওয়া (To be attractive)


সফল ব্যক্তির জন্য অন্য মানুষের অন্তরে আকর্ষণ ও ভালোবাসা থাকে। মানুষের অন্তরে নিজের আসন তৈরি করার জন্যে অপরকে ভালোবাসা ও অপরকে নিজের উপর প্রাধান্য দেওয়া অপরিহার্য। যে ব্যক্তি মানুষকে ভালোবাসে, আনন্দ দেয়, নিজের জাগতিক উন্নতি ও সফলতার পরিবর্তে অন্যের উপকার করতে পেরে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে, সেই মানুষের কাছে প্রিয়। তদ্রূপ যে ব্যক্তি বিবাদের মুহূর্তে সহনশীল হয়, মনোবেদনা ভুলে মানুষকে ক্ষমা করে এবং অন্যের সফলতা ও উন্নতির সংবাদ শুনে হিংসায় জ্বলে না; বরং আনন্দে পুলকিত হয়, সে জীবনে সফলকাম। অন্যের মনোরঞ্জন ও চিত্তাকর্ষক কথা বলাও সফলতার একটি প্রকৃষ্ট মাপকাঠি। অন্যের আবেগ-অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য রাখা নিজেকে অন্যের অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা অন্যকে নিজের করে নেওয়ার নামান্তর।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পরোপকারের আগ্রহ ও মানসিকতার শক্তি

📄 পরোপকারের আগ্রহ ও মানসিকতার শক্তি


আবেগ ও কল্পনা মানব মনের দুই বৃত্তি এবং এরা অনেক শক্তিশালী। এই শক্তির সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত বদরের প্রান্তরে স্থাপিত হয়েছে। সেখানে আল্লাহ্ তা'আলার দ্বীনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙ্গুলি নির্দেশে আত্ম-ত্যাগ করার যে ব্যাকুলতা দেখা গিয়েছিল, তার পিছনে একটিই ইচ্ছা ও আশা ক্রিয়াশীল ছিল। তা হলো আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং আল্লাহ্ তা'আলা যেন দুনিয়াতেও তাদেরকে সম্মান ও শান্তি, আখেরাতে সফলতা এবং জান্নাতের নেয়ামতে পূর্ণ সুন্দর জীবন দান করেন।

সাহাবাগণ প্রতিটি কাজই আবেগের সাথে এবং পরিকল্পনা মাফিক সম্পন্ন করতেন। সে কাজ আনন্দজনক হোক বা দুঃখজনক। মানবতা ঐ যুবক সাহাবীর আবেগ ও ত্যাগ দেখে বাকরুদ্ধ ও ধন্য যিনি নিজের কর্তিত বাহু নিয়ে সারাদিন তলোয়ার চালিয়েছেন (বাহু কেটে গিয়ে একপ্রান্তে চামড়ার সাথে আটকে ছিল)। লড়াই করতে সে হাত বাধা হয়ে দাঁড়ালে হাতটি 'পা দিয়ে আটকে' টেনে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একদিকে ছুঁড়ে মারেন। মানব ইতিহাস এত আবেগপ্রবণ মানুষ আর কখনো দেখেনি।

জীবনেও তারা তাঁরা আনন্দবোধ করতেন। মরণে তাদের আত্মাও তৃপ্ত ছিল। মানুষের শরীরের উপর আত্মার বিশেষ প্রভাব আছে। আত্মা প্রফুল্ল ও শান্ত থাকলে শরীর সুস্থ থাকে। আত্মা দুর্বল হলে শরীরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের আবেগ এবং ইচ্ছার প্রতিও খেয়াল রাখতেন। সাহাবাদের এ বন্ধনহীন উদ্দীপনাই তাদের জীবন থেকে ব্যর্থতা ও দুঃখকে 'ভুল' শব্দের ন্যায় মুছে দিয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00