📄 সফল ব্যক্তিত্বের গুণাবলী
সফল ব্যক্তি মানসিক শক্তি অর্জন করার পাশাপাশি নিজেকে সমাজ ও পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ায়। সফল লোক সৃষ্টি করেন, ধ্বংস করেন না। অর্থাৎ তারা আত্মসাৎ না করে দেশ ও জাতিকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা খুবই পরিশ্রমী ও উদ্যোগী এবং তাদের সেই কর্মোদ্দীপনা গঠনমূলক কাজে নিবেদিত। তাদের সৃজনশীল শক্তি মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সুখময় করে তোলে। সৃজনশীলতা বলতে শুধু সাহিত্য, বিজ্ঞান ও নতুন নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বিরাট কোন কৃতিত্ব প্রদর্শন করা বুঝায় না। বরং এর অর্থ হলো পারিবারিক জীবনকে সুখময় করা, সন্তান-সন্ততির সঙ্গে আনন্দময় সম্পর্ক সৃষ্টি করা, সুন্দর ও মনোরম আবাস গড়ে তোলা ইত্যাদি।
মানুষের ব্যক্তিত্ব সফল ও কার্যকর হয় অসংখ্য গুণাবলীর সমন্বিত রূপ দ্বারা। এক্ষেত্রে বিজ্ঞ জনেরা যে সব গুণাবলীর কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর মাঝে অন্যতম হলো দৈহিক শক্তির অধিকারী হওয়া। কিন্তু এর অর্থ শারীরিক শক্তি ও মজবুত পেশীবহুল দেহধারী হওয়া নয়। বস্তুত দৈহিক শক্তি হলো একটি মনস্তাত্বিক বিষয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, সব সময় শক্তির এক অমূল্য ভাণ্ডার অনুসন্ধান করে-এগুলোই হলো দৈহিক শক্তির মূল উৎস। কিন্তু পরিবেশ যার মনোপুত হয় না সে বড় কোন কাজ করা দূরের কথা নিজের পারিবারকেও সামাল দিতে পারে না।
📄 উদ্যম ও সাহসিকতা
কোন ব্যক্তি যদি অধিক শক্তির অধিকারী হয়, তাহলে তা তার ব্যক্তিত্বকে সফল করার একটি উপাদান হিসেবে কাজ করে। শক্তির অধিকারী হওয়ার শর্ত হল উদ্যম ও সাহসিকতা থাকা। অর্থাৎ সফল ও সার্থক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ার জন্য সাহসিকতার গুণ পরিপূর্ণ মাত্রায় থাকা অপরিহার্য। স্বাভাবিক অবস্থা ও ঘটনাবলীর সম্মুখীন হলেও সে পরীক্ষা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। যেমন- নতুন ধরনের খাবার রান্না করা, নিত্য নতুন বিনোদনের সুযোগ অন্বেষণ করা, কাজের নিয়ম-প্রণালী সুন্দর করার চেষ্টা করা, কঠিন কঠিন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা। কোন সমস্যাকে দূর করার আগ্রহ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সে সমস্যা অত্যন্ত কঠিন অনুভূত হয়। কিন্তু সাহস করে অগ্রসর হলে অনেক কঠিন সমস্যাও সহজে সমাধান হয়ে যায়। অতএব যারা এ ধরনের সমস্যাবলীর সমাধান পেশ করতে পারে, তারা অত্যন্ত সফলকাম।
📄 দায়িত্ব গ্রহণ করা
ব্যক্তিত্বকে সফল করতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রেরণাও যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। দায়িত্ব গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ দুর্বলতা ও হতাশ চিত্তের লক্ষণ। তাই বেশি বেশি দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করবে। অনেককে দেখা যায় দায়িত্ব পাওয়ার পর নেতৃসুলভ আচরণের পরিবর্তে দাসসুলভ আচরণ করে। এতে নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। এ জাতীয় আচরণে অভ্যস্ত ব্যক্তি জানে না পলায়নপর মনোবৃত্তিকে প্রশ্রয় না দিলে সেও সফল হতে পারত। দায়িত্ব গ্রহণের ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা সৃষ্টি হয়। আর হতাশাকে কোন অবস্থায়ই প্রশ্রয় দিবে না। কারণ হতাশ হওয়ার সবেচেয়ে বড় ক্ষতি হলো হতাশ ব্যক্তি সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। এ ধরনের লোক সাধারণত সমাধানে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়। অথবা সমাধানের পরও অনিশ্চয়তায় ভুগতে থাকে। তার সমাধান পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হতে পারে এ আশঙ্কায় তারা সর্বদা শঙ্কিত থাকে। দায়িত্ব এড়িয়ে চলে। মনে রাখবে, কোন সমস্যা সমাধানের জন্য সাহসিকতার প্রয়োজন। সাহসী হওয়া ছাড়া সফল সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। বলা বাহুল্য, সাহসিকতা থাকলে এক সময় সফলতা ধরা দেয়ই। যেমন ছোট শিশু হাঁটার সূচনাতে বারবার পড়ে যায়। আবার উঠে হাঁটার চেষ্টা করে। এক সময় সে হাঁটতে সফল হয়। কিন্তু যদি পড়ে যাওয়ার ভয়ে কোন শিশুকে হাঁটা থেকে নিবৃত্ত রাখা হয়, তাহলে সে শিশু কি কখনও হাঁটা শিখবে? ঠিক তদ্রুপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রথম প্রথম ভুল হলেও পরবর্তীতে তা ঠিক হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য, ভুল করে করে এক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযুক্ত হওয়া ভুল হওয়ার আশঙ্কায় ফয়সালা করা থেকে বিরত থাকা চেয়ে বহু গুণ শ্রেয়।
📄 সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Accurate Decision)
সমাধান সঠিক হবে না-কি ভুল হবে তা নির্ভর করে মানুষের শক্তি, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সুবিবেচনার উপর। যে কোন বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করার জন্যে খুঁটি-নাটি অধ্যয়ন ও অবিরাম জ্ঞান চর্চা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ দৈনন্দিন জীবনে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়ায়। এসব পরিস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক সবকিছু গভীরভাবে অনুধাবন করেই তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা অথবা কোন সমস্যায় সমাধান বাতলে দেয়া যথার্থ হতে পারে। যুৎসই সমাধান বাতলে দেয়া ও সঠিক বিষয়টি বিবেচনা করার যোগ্যতা মানুষ অর্জন করে নির্ভুল ও পরিপক্ক জ্ঞান অর্জনের পর। জ্ঞান বিস্তৃত ও পরিপক্ক হলে সমাধানও সেরূপ নির্ভুল ও কল্যাণকর হয়। আপনি সফল ব্যক্তি হতে চান, যে কাজেই হাত বাড়ান না কেন, সে বিষয়ে আগাম পূর্ণ যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করুন। সে কাজের যাবতীয় জটিলতা প্রথমে জেনে নিন। এর পরেই সে কাজ সম্পর্কে মন্তব্য করা ও সমাধান পেশ করার জন্য আপনি যোগ্য বিবেচিত হবেন। বলা বাহুল্য, যে কোন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট দিকগুলো সম্পর্কে যত বেশি জ্ঞান অর্জন করা যাবে, সমাধানও তত নির্ভুল হবে। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তা জানতে, শিখতে ও সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লজ্জাবোধ করবেন না। কেননা এ ধরনের লজ্জাবোধ আপনাকে জ্ঞান আহরণ থেকে বঞ্চিত করবে।