📄 হৃদয়ের সাথে ভালবাসার সম্পর্ক
ইসলাম আন্তরিক মুহাব্বত ও ভালবাসা শিক্ষা দেয়। 'মাতা-পিতাকে মুহাব্বতের দৃষ্টিতে দেখলে হজ্জ্ব ও ওমরার সমান সওয়াব পাওয়া যায়' — ইসলাম এ ঘোষণা দিয়েছে।
আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণার সূত্র উল্লেখ করে আমেরিকার মেডিকেল এসোসিয়েশন এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, হৃদয় ও ভালবাসা এ দুয়ের মাঝে স্পষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান। হৃদ রোগে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে তারাই সংখ্যায় অধিক, যাদের কোন বন্ধু-বান্ধব কিংবা জীবন-সঙ্গিনী নেই এবং যারা একাকী জীবন যাপন করে। এ জাতীয় হৃদরোগীর মৃত্যুহার ঐ সব রোগীর চেয়ে পাঁচগুণ বেশি যাদের বন্ধু অথবা আপনজন আছে।
সম্পদশালীদের তুলনায় দরিদ্র লোকেরা হৃদ-রোগে মৃত্যুবরণ করে বেশি। ভয়েস অফ আমেরিকার পরিবেশিত তথ্যানুযায়ী আমেরিকায় ১৩০০ (তেরশত) হার্টের রোগীর উপর প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ জরিপ চালানোর পর এ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাছাড়াও আধুনিক পদ্ধতিতে গবেষণার পর হৃদরোগে আক্রান্ত যুবক রোগীদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যদি দীর্ঘ দিন জীবিত থাকতে চায়, তবে বিবাহ করতে যেন দেরি না করে। (মডার্ন কে নফসিয়াতি তাজরেবাত)
📄 সাহসিকতা ও রবার্ট রাথার এর মত
যে সকল মানবীয় বৃত্তি মানুষের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ করে, সেগুলোরই সামগ্রিক রূপ হলো ব্যক্তি। কোন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব নেই বলে আমরা বুঝাতে চাই তার মানবীয় বৃত্তিসমূহের বিশেষ কোন স্বাতন্ত্র্য নেই। পারিপার্শ্বিক অবস্থা তার মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। পক্ষান্তরে ব্যক্তিত্বশীল ব্যক্তির চাল-চলন ও আচার-আচরণ বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। সে ইতিবাচক পদ্ধতিতে নিজের দায়িত্ব পালন করে ও পরিবেশকে নিজের অনুকূলে আনতে সক্ষম। কিন্তু যদি ক্ষমতাবান ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিণতিতে কঠোরতা, লাঞ্ছনা, ঘৃণা, শক্তির অপব্যবহার ইত্যাদি প্রবণতাসমূহ জন্ম নেয়। এই সব প্রবণতা সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রূপে দেখা যায়। যেমন- বর্তমানে মানুষ অনর্থক কলহ বিবাদে লিপ্ত হচ্ছে। কর্মজীবনে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। নানা রকম সামাজিক সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।
📄 সফল ব্যক্তিত্বের গুণাবলী
সফল ব্যক্তি মানসিক শক্তি অর্জন করার পাশাপাশি নিজেকে সমাজ ও পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ায়। সফল লোক সৃষ্টি করেন, ধ্বংস করেন না। অর্থাৎ তারা আত্মসাৎ না করে দেশ ও জাতিকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা খুবই পরিশ্রমী ও উদ্যোগী এবং তাদের সেই কর্মোদ্দীপনা গঠনমূলক কাজে নিবেদিত। তাদের সৃজনশীল শক্তি মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সুখময় করে তোলে। সৃজনশীলতা বলতে শুধু সাহিত্য, বিজ্ঞান ও নতুন নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বিরাট কোন কৃতিত্ব প্রদর্শন করা বুঝায় না। বরং এর অর্থ হলো পারিবারিক জীবনকে সুখময় করা, সন্তান-সন্ততির সঙ্গে আনন্দময় সম্পর্ক সৃষ্টি করা, সুন্দর ও মনোরম আবাস গড়ে তোলা ইত্যাদি।
মানুষের ব্যক্তিত্ব সফল ও কার্যকর হয় অসংখ্য গুণাবলীর সমন্বিত রূপ দ্বারা। এক্ষেত্রে বিজ্ঞ জনেরা যে সব গুণাবলীর কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর মাঝে অন্যতম হলো দৈহিক শক্তির অধিকারী হওয়া। কিন্তু এর অর্থ শারীরিক শক্তি ও মজবুত পেশীবহুল দেহধারী হওয়া নয়। বস্তুত দৈহিক শক্তি হলো একটি মনস্তাত্বিক বিষয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, সব সময় শক্তির এক অমূল্য ভাণ্ডার অনুসন্ধান করে-এগুলোই হলো দৈহিক শক্তির মূল উৎস। কিন্তু পরিবেশ যার মনোপুত হয় না সে বড় কোন কাজ করা দূরের কথা নিজের পারিবারকেও সামাল দিতে পারে না।
📄 উদ্যম ও সাহসিকতা
কোন ব্যক্তি যদি অধিক শক্তির অধিকারী হয়, তাহলে তা তার ব্যক্তিত্বকে সফল করার একটি উপাদান হিসেবে কাজ করে। শক্তির অধিকারী হওয়ার শর্ত হল উদ্যম ও সাহসিকতা থাকা। অর্থাৎ সফল ও সার্থক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ার জন্য সাহসিকতার গুণ পরিপূর্ণ মাত্রায় থাকা অপরিহার্য। স্বাভাবিক অবস্থা ও ঘটনাবলীর সম্মুখীন হলেও সে পরীক্ষা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। যেমন- নতুন ধরনের খাবার রান্না করা, নিত্য নতুন বিনোদনের সুযোগ অন্বেষণ করা, কাজের নিয়ম-প্রণালী সুন্দর করার চেষ্টা করা, কঠিন কঠিন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা। কোন সমস্যাকে দূর করার আগ্রহ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সে সমস্যা অত্যন্ত কঠিন অনুভূত হয়। কিন্তু সাহস করে অগ্রসর হলে অনেক কঠিন সমস্যাও সহজে সমাধান হয়ে যায়। অতএব যারা এ ধরনের সমস্যাবলীর সমাধান পেশ করতে পারে, তারা অত্যন্ত সফলকাম।