📄 বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
প্রসঙ্গক্রমে তিমি মাছের আরেকটি বিশেষ আচরণের কথাও উল্লেখ করা যেতে পারে। বার্ধক্য উপনীত হওয়ায় অথবা দল থেকে ছুটে যাওয়ার ফলে কখনো কখনো এরা সমূদ্রের তীরে, মাটিতে উঠে পড়ে। কখনো কখনো বেশ কয়েকটি মাছ এক সাথে তীরে এসে প্রাণ ত্যাগ করে। তিমির এই স্বভাব বুখারী শরীফের হাদীসে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। কারণ মুসলিম সৈন্যদলের কোন রকম চেষ্টা তদবির ব্যতীতই সেই আম্বর তাদের হস্তগত হয়। নিঃসন্দেহে এটা প্রমাণ করে যে, মাছটি এ রকমই কোন কারণে সমুদ্রের তীরে এসেছিল। (তবে এটা আল্লাহ্ তা'আলার গায়েবী সাহায্য বৈ কিছু নয়)
হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী আম্বর মাছের পাঁজরের হাড় এতটুকু দীর্ঘ ছিল যে, খাড়াভাবে যে হাড় দাঁড় করানো হলে এবং হাড়ের পাশে একজন অশ্বারোহী দাঁড়ালে হাড়ই বেশি উঁচু হয়। ইউরোপের বিভিন্ন মিউজিয়ামগুলোতে যারা তিমি দেখেছেন, তারা সহজেই এই বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারবেন। ৬০ ফুট লম্বা পাঁজর ও ৮ টন (প্রায় ৯ হাজার কিলোগ্রাম) ওজন বিশিষ্ট মাছটি কত বড় হবে তা সহজেই অনুমেয়।
📄 তিমি মাছের ঐতিহাসিক দলিল
তিমি সমুদ্রেই বাস করে। তাই একে মাছ বলা হয়ে থাকে। তবে মাছের সাথে তার প্রকৃতিগত কোন মিল নেই। মূলত তিমিকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে গণ্য করা যায়। প্রাণীবিদ্যার পরিভাষায় এগুলো ম্যামালিয়া (Mammalia) শ্রেণিভুক্ত। কয়েক লাখ বছর পূর্বে তিমির পক্ষে ভূপৃষ্ঠের চেয়ে সমুদ্রে বিচরণ করা সহজ হলে সমুদ্রকেই তারা বাসস্থান বানিয়ে নেয়। তবে ম্যামালিয়া হওয়ার কারণে তার শ্বাস নিতে হয়। এ জন্য বিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিটের ব্যবধানে তিমি সমুদ্র পৃষ্ঠে ভেসে উঠে।
বহুল প্রচলিত এক ফার্সি অভিধানে "আম্বর" এর অর্থ করা হয়েছে 'কাহরিয়া' শব্দের মাধ্যমে। অর্থাৎ যা তৃণলতাকে নিজের দিকে টেনে আনে। আরবি অভিধানে মাছ ছাড়াও আম্বরের অর্থ 'সমুদ্রের উপকণ্ঠ' এবং মেছবাহুর রূম (রোমীয় প্রদীপ) বলা হয়েছে। আরবিতে এর অপর নাম 'আল কাতাবিষ্যুন'। আরবি, ফার্সি ও উর্দু অভিধানে আম্বরকে কালো রঙের এক খুশবু বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ইংরেজি অভিধানে আম্বরকে সোনালী রঙের কঠিন মৌলিক পদার্থ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাইবেলের ইস্কাইল অধ্যায়ের তিনটি অনুচ্ছেদ দ্বারা শেষোক্ত অর্থটিই বোঝা যায়।