📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ফলে বিদ্যমান দ্রবণীয় আঁশ এর বিশেষত্ব

📄 ফলে বিদ্যমান দ্রবণীয় আঁশ এর বিশেষত্ব


ফলে বিদ্যমান পানিতে দ্রবীভূত হয় এমন আঁশ লিভারের নানা রোগ- ব্যাধি এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় উপকারী। এছাড়া এ সব আঁশ রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে এবং পরিপাক ক্রিয়ার ফলে উদ্ভূত নানা রকম বিষাক্ত ও দূষিত উপাদানের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়াকেও দুর্বল করে। তাছাড়া মৌসুমী জ্বর (যে জ্বর সাধারণত ঋতু পরিবর্তন জনিত কারণে প্রায় ঘরে ঘরে হয়ে থাকে) প্রতিরোধ কল্পে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সাধারণ দৈহিক ব্যবস্থাপনা- এ দুই ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। মৌসুমী রোগ-ব্যাধি সংশ্লিষ্ট এক গ্রন্থে উল্লেখিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী ঠাণ্ডা মৌসুমে খোদায়ী কুদরতে মালটা, নারেঙ্গি (কমলালেবু জাতীয় ফল যা দিয়ে শরবত তৈরি করে পান করা হয়), কমলালেবু, ডালিম, আপেল ইত্যাকার যে সব ফল জন্মে- সে সব ফলেই দৈহিক অবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি বিদ্যমান থাকে। এছাড়া এসব ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিনও থাকে।

শীত মৌসুমের এই ফল সমূহে কেবল শর্করা ও ভিটামিনই থাকে না; বরং এ সব ফলমূল খাদ্যোপযোগী আঁশের উপস্থিতির দিক দিয়েও সমৃদ্ধ। এই আঁশসমূহ দুই ধরনের : দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়। দ্রবণীয় আঁশ সাধারণত রসালো ফলে বিদ্যমান থাকে এবং এগুলো দৈহিক অবস্থা নির্বিশেষে সবার জন্যই প্রয়োজনীয়। তবে উল্লেখ্য যে, বহুমূত্রে আক্রান্ত রোগীদের রসালো ফলের খোসা ছড়ানোর পর সাদা যে আঁশালো অংশ পাওয়া যায়, তা সহ ভক্ষণ করা উচিত। এতে করে সেই ফলে বিদ্যমান শর্করা অতি দ্রুত দেহে শোষিত হতে পারে না। ফলে দেহে শর্করার মাত্রা অতটা বৃদ্ধি পায় না। তাছাড়া অপেক্ষাকৃত যে অল্প পরিমাণ শর্করা বৃদ্ধি পায়, তাও অল্পমাত্রায় বারে বারে শোষিত হয়। এছাড়া ফলে বিদ্যমান দ্রবণীয় আঁশ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। খাদ্য গ্রহণকালে যে সব অনিষ্টকর ও বিষাক্ত উপাদান পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছে, সে সব অনিষ্টকর ও বিষাক্ত পদার্থের ক্ষতিকর প্রভাব দূর করতেও সহায়তা করে। তাছাড়া এ ধরনের আঁশ ক্যান্সার এবং লিভারের রোগ-ব্যাধির সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। (মেডিক্যাল টাইমস)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মূল কথা

📄 মূল কথা


নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাদ্য তালিকায় খেজুরের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। খোসাসহই ডুমুর খাওয়া হত। আতাফল নামের আপেল সদৃশ এক জাতীয় ফলও খোসা না ছড়িয়েই খাওয়া হত। এছাড়া কালোজিরা, রসুন, পিয়াজ, মেথি, পীলু, কুল, কমলালেবু, বীট (গাজর জাতীয় শাক), খিরা, কদু ইত্যাদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাদ্য তালিকায় ছিল। আর এদের প্রত্যেকটি এমন খাদ্য যাদের খাদ্যোপযোগী আঁশ বিদ্যমান। আর ঐ যুগের মুসলমানদের পরিপূর্ণ সুস্থতার চাবিকাঠি ছিল এই জিনিসগুলোই।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গোস্ত চর্বণ করা (To Cut Meat with Teeth)

📄 গোস্ত চর্বণ করা (To Cut Meat with Teeth)


হযরত আবু হুরায়রা রাযি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কোন এক স্থান থেকে গোস্ত আসল। সেই গোস্ত থেকে শুধু কাঁধের অংশ তাঁর খেদমতে পেশ করা হল। তিনি কাঁধের গোস্ত খুব পছন্দ করতেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই গোস্ত দাঁত দিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে আহার করেন।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিবিয়ে খাবার খাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করতেন। হাদীসে এসেছে, তোমরা গোস্ত চিবিয়ে খাও। এটা পরিপাকে সহায়তা করে এবং শরীরের জন্য বেশি উপকারী। এর হিকমত বা রহস্য হল, গোস্ত বেশি চর্বণ করা হলে মুখের লালাও বেশি মিশ্রিত হবে। ফলে পাকস্থলিতে সেই খাদ্য দ্রুত হজম হয়। আর যদি ঠিকমত চাবানো না হয় তাহলে লালার স্বল্পতার কারণে পরিপাকে বিঘ্ন ঘটে।

আসল কথা হল, গোস্ত অধিক পরিমাণ চিবানো হলে স্যালিভারি গ্রন্থির ক্ষরণও বেশি হয়। ফলে মানুষ অনেক রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে পারে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আম্বর (Aumber)

📄 আম্বর (Aumber)


একটা আশ্চর্যজনক বিষয় হলো অনেক উদ্ভিদ অথবা উদ্ভিদ জাতীয় জিনিষ অনেক কাল পূর্ব থেকেই সাধারণভাবে মানুষের পরিচিত। কিন্তু তাদের সবগুলোর বিশুদ্ধতা ও ব্যবহার সংক্রান্ত বিস্তারিত জ্ঞান ছিল খুবই কম। আজকের এ উন্নত যুগেও অনেক কিছুই হেঁয়ালি রয়ে গেছে এবং এসবের বৈজ্ঞানিক পরিচয় সম্পর্কে আজও অধিকাংশ মানুষ অজ্ঞ। এ জাতীয় একটি জিনিষ হল আম্বর। আম্বর সম্পর্কে পুরাতন চিকিৎসা বিজ্ঞানের বইপত্রে পরস্পর বিরোধী বিভিন্ন রকমের বক্তব্য পাওয়া যায়।

কোন কোন বইতে আম্বরকে উদ্ভিদ গোত্রীয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে বলা হয়েছে এটি উদ্ভিদ নয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো ইতিহাস, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ধর্মীয় কিতাবের অনেক জায়গায় আম্বরের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এর পরিচিতি সম্পর্কে আলোচনা খুবই কম আছে। আর যে আলোচনা করা হয়েছে তাতেও পারস্পরিক বৈপরীত্য রয়েছে। এ কারণেই বর্তমান যুগের ইংরেজি, আরবি, পার্সি ও উর্দু অভিধানে আম্বরের একাধিক অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে।

আম্বর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার পূর্বে দ্বীনী কিতাবসমূহে এ বিষয়ে যে আলোচনা করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা দরকার।

সুনানে নাসায়ীর এক হাদীসে হযরত সাদ ইবনে আলী হতে রেওয়ায়েত আছে যে, আমি হযরত আয়েশা রাযি.কে জিজ্ঞেস করেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সুগন্ধি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। পুরুষালী সুগন্ধি 'মেশক এবং আম্বর'।

মুসলিম এবং বুখারী শরীফেও 'আম্বার' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু কিছু ওলামায়ে কেরাম এর অনুবাদও করেছেন আম্বর শব্দ দিয়ে। এ অনুবাদটি ঠিক নয়। যেমন কিতাবুস সিয়ামে হযরত হুমাইদ রাযি. হতে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, কোন রেশম হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালু থেকে মসৃণ ছিল না এবং কোন মেশক আম্বরের খুশবু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুশবু থেকে বেশি ছিল না। বুখারী শরীফের কিতাবুল মাগাযী এবং কিতাবুষ যাবায়েহ-তে তিনটি হাদীসে (যেগুলি বারবার উল্লেখ হয়েছে) আম্বরকে মাছ নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। কিতাবুল মাগযীর বাব নং ৫৩৩ (হাদীস নং ১৪৪৯) এ উল্লেখ করা হয়েছে, আমর ইবনে দীনার বর্ণনা করেন যে, আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি.-কে বলতে শুনেছি, নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন শত সাহাবার এক বাহিনী প্রেরণ করেন। আবু উবাইদা রাযি. ছিলেন আমাদের আমীর। কুরাইশের কাফেলাকে ধাওয়া করার জন্য আমরা রওয়ানা হয়েছিলাম। সমুদ্রের তীরে দীর্ঘ ছয় মাস অবস্থানের পর খাদ্য সামগ্রীর প্রচণ্ড অভাব দেখা দিলে লতা-পাতা খেয়ে আমাদেরকে দিনাতিপাত করতে হয়। এ কারণেই আমাদের এই বাহিনীকে বলা হয় 'যাতুর রিকাল" বা পত্র-পল্লব বিশিষ্ট ফৌজ। এরপর সমুদ্র থেকে 'আম্বর' নামীয় এক প্রকার মাছ উপকূলে উঠল। পরবর্তী পনের দিন যাবৎ আমরা তা খেয়ে জীবনধারণ করলাম। তার চর্বিও আমরা ব্যবহার করলাম। এতে করে আমরা শারীরিকভাবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছি। হযরত আবু উবাইদা রাযি. মাছের পাঁজরের একটি হাড় দাঁড় করালেন। উটের উপর আরোহী ব্যক্তি অনায়াসেই সেই দাঁড় করানো হাড়ের পাশ দিয়ে আসা যাওয়া করতে পেরেছে।

উর্দু, পার্সি ও ইংরেজি প্রসিদ্ধ অভিধানগুলোতে আম্বরকে একটি সুগন্ধি জিনিস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিচয় দেয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে। কিন্তু আরবি ভাষার নির্ভরযোগ্য অভিধান 'আল মুনজিদ' এ আম্বর শব্দকে সুগন্ধি জিনিষ ছাড়াও এক ধরনের মাছ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। উপরোক্ত হাদীস ও অভিধানের আলোকে প্রথমে মাছ অর্থে 'আম্বর' এর একটি পর্যালোচনা পেশ করা ভালো হবে। এরপর সুগন্ধিযুক্ত জিনিষ হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00