📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান 📄 অন্ত্রের রোগ ব্যাধি (Diseases of Intestine)

📄 অন্ত্রের রোগ ব্যাধি (Diseases of Intestine)


অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে প্রতীয়মান হয় আমরা খাদ্য বস্তু হিসেবে অন্ত্রে যা প্রবেশ করাই তার ফলেই অন্ত্রের কতিপয় রোগ ও অসুস্থতা দেখা দেয়। খাদ্যের অভুক্ত অংশ মল আকারে ঘন ঘন নিষ্কাশন করতে অন্ত্রকে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার বেশি কাজ করতে হয়। এর ফলে অন্ত্রে মোচড় লাগা, বক্র হয়ে যাওয়া, প্যাঁচ লাগা ইত্যাকার সমস্যা দেখা দেয় এবং অবশেষে এটা অর্শ রোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আঁশ/আঁশ জাতীয় খাদ্যের আরেকটা কল্যাণকর দিক হলো আঁশের কারণে বৃহদান্ত্রে ক্যান্সার কিংবা ক্ষত সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে না। কেননা আঁশের উপস্থিতিতে খাদ্যের অপাচ্য অংশ পরিপাকতন্ত্রের এই অংশে বেশি সময় আটকে থাকে না। এতে করে দূষিত অপাচ্য অংশও তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান 📄 শরীরের ওজনের উপর প্রভাব (Effect on Weight)

📄 শরীরের ওজনের উপর প্রভাব (Effect on Weight)


খাদ্যে আঁশ যুক্ত অংশ যত বেশি থাকে, ঐ খাদ্যে উষ্ণ উপাদান তত কম থাকে। আঁশ যুক্ত অংশ নিজে উষ্ণ নয়। ফলে আঁশা যুক্ত খাদ্যে উষ্ণ উপাদানের পরিমাণ কম থাকে। এছাড়া খাদ্যে আঁশের উপস্থিতির কারণে অল্প খাদ্য গ্রহণেই পেট পূর্ণ হয়েছে বলে অনুভূত হয়। আঁশ বেশি পানি শোষণ করে সহজে এবং অল্প সময়ে পাকস্থলি অতিক্রম করে। তাছাড়া আঁশা যুক্ত খাদ্য চর্বণ করতে অধিক সময় লাগে। এতে করে মস্তিষ্ক তাড়াতাড়িই পেট পূর্ণ হয়েছে এমন বার্তা প্রেরণ করে এবং ফলশ্রুতিতে কিছুটা কম খাবার খাওয়া হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান 📄 হৃদরোগ (Heart Problem)

📄 হৃদরোগ (Heart Problem)


আঁশা যুক্ত খাদ্য থেকে রক্তে খুব স্বল্প পরিমাণে কোলেস্টেরল যুক্ত হয়। ফলে রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রাও কম থাকে। এতে হৃদরোগে ক্ষতির আশঙ্কাও কমে যায়। তবে এক্ষেত্রে আঁশের প্রকারভেদের গুরুত্ব খুব বেশি। যে সব আঁশের সেলুলোজে কোলেস্টেরল এর মাত্রা ৯০ শতাংশ এর উপরে থাকে সেগুলো কোন কল্যাণকর ফল দেয় না। পক্ষান্তরে পানিতে দ্রবণীয় আঁশ (যেগুলো সাধারণত ফলে পাওয়া যায়) এবং গাজর ও বার্লিতে বিদ্যমান আঁশেও কোলেস্টেরল এর মাত্রা স্পষ্টতই কম থাকে এবং এ কারণেই প্রাচ্য (পূর্বদেশীয়) চিকিৎসক বৃন্দ শতাব্দীর পর শতাব্দী ব্যাপি হৃদরোগে গাজর ও গাজরের হালুয়া ব্যবহার করে আসছেন। গাজর ও তার হালুয়া ব্যবহারে যে কল্যাণ পাওয়া যায়, তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে, এতে রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা গ্রহণীয় পর্যায়ে থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান 📄 খাদ্যে আঁশের মাত্রা কি ভাবে বৃদ্ধি করা যায়

📄 খাদ্যে আঁশের মাত্রা কি ভাবে বৃদ্ধি করা যায়


আঁশ থেকে উপরোক্ত কল্যাণসমূহ পেতে হলে খাদ্য তালিকা থেকে তেল ও মিষ্টি জাতীয় দ্রব্যাদির পরিমাণ কমিয়ে আঁশাযুক্ত খাদ্যকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। এ জন্য বাজারে নানান নামে শক্ত আঁশযুক্ত যে সব খাদ্য দ্রব্যাদি বিক্রয় হয়ে থাকে সেগুলো খাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া দেখতে আঁশযুক্ত নয় এমন অনেক তরি-তরকারি, শাক-সবজির কোন কোন অংশেও আঁশ বিদ্যমান।

টাটকা ফল এবং কাঁচা ও পাকা শাক-সব্জী খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে আঁশের প্রয়োজনীয়তা মিটানো যেতে পারে। আপেল, জাম ইত্যাদি ফল খোসা সহ খেয়েও খাদ্যে আঁশের মাত্রা বাড়ানো যায়। এভাবে আপনার খাদ্য তালিকায় ক্রমান্বয়ে নিত্য-নতুন আঁশযুক্ত খাদ্যের সমাহার বৃদ্ধি করে সুস্থতার ন্যায় ঐশ্বর্যে আপনি সমৃদ্ধি আনতে পারেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية