📄 কাটা চামচ নয়, হাত দিয়ে খানা খাওয়া
খাদ্য দ্রব্য হাত দিয়ে উঠিয়ে খাওয়া সুন্নত। বর্তমান যুগে ছুরি ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাস্তবতা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। স্যার মোহাম্মদ আলী ভারতের একটি বড় মাদ্রাসায় সাহায্য দেওয়ার জন্য গেলে প্রিন্সিপ্যাল সাহেব তা নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। যেহেতু খাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছিল তাই প্রিন্সিপাল সাহেব তাকে দাওয়াত দিলেন। তিনিও কবুল করলেন। খাওয়ার মাঝে স্যার সফী ছুরি ব্যবহার করতে লাগলেন। প্রিন্সিপাল সাহেব তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি হাত কেন ব্যবহার করছেন না? এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে, যেমন- চামচের উপর যতটা ভরসা করা যায়, হাতের উপর তার চেয়ে বেশি ভরসা করা যায়। চামচ এই কথা বলে দিবে না যে, খানা গরম না ঠাণ্ডা। হাত ব্যবহার করলে প্রত্যেক লোকমায়/গ্রাসে যতটুকু খানা আছে তা বুঝা যায়। কিন্তু চামচের দ্বারা এ সুবিধা পাওয়া যায় না। হাতের মাধ্যমে খাবারের নানা ভৌত অবস্থা যথা- খাবার শক্ত, না নরম এক কথায় খাওয়ার যোগ্য কি না তা জানা সম্ভব হয়।'
📄 জাপানে কেমিক্যাল ও সার ব্যতীত উৎপাদিত কমলার চাহিদা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আসল এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রাপ্ত খাদ্য খাওয়া হত। আর আমরা কৃত্রিমভাবে তৈরি খাদ্য গ্রহণ করি। কিন্তু জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ইউরোপ পুনরায় আসল খাদ্যের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
সে দেশের এক নামকরা জমিদারে কমলালেবুর বাগান ছিল। তিনি বললেন: জাপানের একটি বড় ফার্ম তাদের চাহিদা জানিয়ে বলেছে, তাদের এরূপ কমলার প্রয়োজন, যেগুলো চাষের সময় কেমিক্যাল স্প্রে ও সার ব্যবহার করা হয়নি। কেবল প্রাকৃতিক সার (অর্থাৎ প্রাণির বর্জ্য সার) ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ কৃত্রিম সার এবং কেমিক্যাল স্প্রে করে ফসল উৎপাদন করলে খাদ্যমান ও ভিটামিন শেষ হয়ে যায়। অথচ প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করলে ভিটামিন পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান থাকে। ঐ জমিদার আরো বলেন: আমাদের কাছে একটি মেশিন রয়েছে, যাতে নির্দোষ পচনরোধী (Antiseptic) পাউডার রয়েছে। এই পাউডার স্প্রে করে আমরা ফল সংরক্ষণ করতে পারি।
📄 আঁশের গুণাবলী (Qualities of Fibre)
আঁশ বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে এবং এই কারণে এদের প্রত্যেকের গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ফলে খাদ্যস্থিত এক জাতীয় আঁশ থেকে সব ধরনের উপকার পাওয়া যায় না।
📄 কোষ্ঠ কাঠিন্য (Constipation)
শতাব্দীর পর শতাব্দীর অভিজ্ঞতায় এটা সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আঁশের কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করার কার্যকর শক্তি রয়েছে। আঁশ অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে অন্ত্রের কার্য প্রণালী সচল রাখে। এটা বারবার পানি শোষণ করে ভিজা কাপড়ের ন্যায় পরিপাকের পর থেকে যাওয়া অপাচ্য অংশকে নরম ও আর্দ্র রাখে। এতে করে খাদ্যের এই অপাচ্য অংশ (যা মল আকারে দেহ থেকে মুক্ত হয়) শক্ত হয়ে জমাট বাঁধতে পারে না এবং সহজেই দেহ থেকে নিষ্কাষিত হয়। আবার আঁশের কারণে ভুক্ত বস্তুর অন্ত্রে/পাকস্থলীতে অবস্থানের সময়ও কম লাগে তথা হজমে কম সময় লাগে। কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করতে অমসৃণ আটার (চালুনি দিয়ে মিহি অংশকে পৃথক করা হয়নি এমন আটা) রুটি এবং ফল ও পাতা আছে এমন শাক-সব্জীর আঁশ বেশ ভালো কাজ করে।