📄 লিপস্টিকের ক্ষতি (Disadvantages of Lip-Stick)
মাত্রাতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা কিছু খেয়ে বা পান করলে ঠোঁটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য লোপ পায়। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে হৃত-সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা না করলে সারা জীবনেও এই সৌন্দর্য আপনা-আপনি ফিরে আসে না। একটি বিদেশী পত্রিকায় সৌন্দর্য বিষয়ক এক রিপোর্টে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী মেয়েরা নয় বছর বয়সের পর থেকেই মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডা কিংবা গরম জিনিস খেতে ভালবাসে। এতে করে ঠোঁটে খারাপ প্রভাব পড়ে। কোন কোন সময় ঠোঁটের নরম কোষগুলো মরে যায় এবং জীবনাবধি মৃতই থাকে। স্বাভাবিক খোদা প্রদত্ত সৌন্দর্য নিঃশেষ হয়ে যায়।
বিশেষত পরিবেশ দূষণ খুব বেড়ে গেলে ঠোঁটে এমন সব ভাইরাস জন্ম যা শুধু ঠোঁটের সুস্থতাকেই নষ্ট করে না; বরং দাঁত এবং কোন কোন সময় মুখের স্বাভাবিক কাজ-কর্মেও ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। উপযুক্ত চিকিৎসা না করালে এ থেকে ক্যান্সারও হতে পারে। অভিজ্ঞগণ বলেন, লিপষ্টিক ব্যবহারের পর ছয় ঘন্টা পর্যন্ত খাদ্য-পানীয়, ধুলো-বালি ও অপরিচ্ছন্ন যে কোন জিনিসের সংস্পর্শ থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করা উচিৎ। নতুবা ঠোঁটে ছত্রাক জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মহিলাদের জন্য লিপষ্টিক খুবই ক্ষতিকর।- (উইকলি সান)
তাই ইসলাম অধিক গরম কিংবা অধিক ঠাণ্ডা কোন কিছু খেতে বা পান করতে নিষেধ করে।
📄 নেইল পালিশের ব্যবহার (Use of Nail Polish)
প্রতিটি সুস্থ মানুষের আঙ্গুলের নখ প্রতি মাসে এক ইঞ্চির এক অষ্টমাংশ বৃদ্ধি পায়। একজন সাধারণ মানুষের আঙ্গুলে ৫০ বছরে ৬ ফুট নখ সৃষ্টি হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের এক সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী আজ থেকে দুই হাজার বছর আগে ডাক্তারগণ আঙ্গুলের নখ এবং স্বাস্থ্যের সম্পর্ক বুঝতে পেরেছিলেন। বর্তমানে ডাক্তারদের দৃষ্টি সর্ব প্রথম রোগীর নখের উপর পড়ে। নখের সাদা থাকলে তা রক্তে লোহিত কণিকার স্বল্পতার ইঙ্গিতবাহী। রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাচীনকালেও মিশরের মহিলারা নখের উপর রঙ ও তেল লাগাত। 'নেইল পালিশ' এর ব্যবহার ঐ ফেরাউনি যুগেরই স্মৃতি। তৎকালীন আমলে তেল দিয়ে রঙ উঠিয়ে ফেলা যেত। কিন্তু বর্তমান যুগের মহিলারা নেইল বার্নিশ ব্যবহার করে। এটা নখের জন্য খুবই ক্ষতিকর। সস্তা নেইল পালিশ রিমোভার নখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা শোষণ করে। ফলে নখ বিবর্ণ হয়ে যায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে নখ বেশি লম্বা করা উচিৎ নয়। এটা দুর্বলতা এবং অসুস্থতার কারণ হতে পারে। মুখে নখ কাটা শিশুদের তুলনায় বড়দের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এটা স্নায়ুবিক রোগের চিহ্ন। এতে বুঝা যায় শারীরিক কোন রোগ না থাকা সত্ত্বেও সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। শিশুদের মধ্যে মুখে নখ কাটার অভ্যাস ততটা মারাত্মক নয়। কিন্তু অভ্যাস ছাড়ানোর চেষ্টা করা দরকার। প্রয়োজন হলে পুরষ্কারের ওয়াদা করবে। কারণ দীর্ঘদিন মুখে নখ কাটার দ্বারা বিভিন্ন প্রকার স্থায়ী মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। (ফিল্ড ইন প্যারাসাইকোলজি অবলম্বনে)
📄 সুগন্ধি ও তার ক্ষতিসমূহ
নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'পুরুষরা এমন সুগন্ধি ব্যবহার করবে যাতে সুবাস থাকবে কিন্তু কোন রঙ ফুটে উঠবে না। আর নারীরা এমন সুগন্ধি ব্যবহার করবে যার রঙ পরিদৃষ্ট হবে কিন্তু কোন সুবাস থাকবে না।' (তিরমিযী শরীফ) নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে মানুষের পাশ দিয়ে চলাচল করে, সে ব্যভিচারিণী মহিলার ন্যায়।' (তিরমিযী শরীফ)
সুগন্ধ মূলত এক দুষ্ট আত্মার বার্তা অন্য এক আত্মায় পৌঁছায়। বার্তা পৌঁছানোর কাজে এটা অত্যন্ত নিপুণ, কার্যকরী এবং উদ্দীপক মাধ্যম। সাধারণ মানুষ এটাকে তুচ্ছ মনে করলেও ইসলামের স্বচ্ছ ও পবিত্র অনুভূতি এটা সহ্য করতে পারে না। ইসলাম নারীকে সুগন্ধিযুক্ত কাপড় পরিধান করে রাস্তায় চলাচল বা কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয় না। কারণ তা মানবীয় কুপ্রবৃত্তিতে ইন্ধন যোগায়। অতএব এমন জঘন্য কাজ থেকে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত জরুরি।
ইদানিং নারীরা এ সব জেনেও সেন্ট, সুগন্ধি ব্যবহার করে বিভিন্ন মার্কেট, অনুষ্ঠান ও রাস্তাঘাটে চলাফেরা করছে। কোন দোকানে পৌঁছার পূর্বেই তার ব্যবহৃত সুগন্ধি তার আগমনি বার্তা পৌছে দেয়। কোন কোন নারীরা এমন ব্যতিক্রম ধর্মী সুগন্ধি লাগিয়ে বের হয় যা তাদের উপস্থিতি বা আসা যাওয়ার সংবাদ বহন করে থাকে। এ সবকিছুর মূল কারণ হল এই মনোভাব যে, আশ-পাশের মানুষেরা তার দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শুধু ঈষান্বিত হবে না; বরং তাকে অভিনন্দনও জানাবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সব নারীদেরকেই অসৎ ও ব্যাভিচারিণী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এই ধরনের জঘন্য কর্মকান্ড থেকে নিজেকে ও অন্যকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাহলেই আমরা আল্লাহ্ ও তার রাসূলের অসন্তুষ্টি ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে পরিত্রাণ পাব।
📄 ঘরের পাত্রসমূহের বিভিন্ন ধরণ-প্রকরণ (Division of Home Utensils)
অযুর পাত্র ঢেকে রাখ। (মেশকাত) পানি পান করা, অযু করা এবং এস্তেঞ্জার জন্য পৃথক পৃথক পাত্র ব্যবহার করবে। এ সব পাত্র ঢেকে রাখবে। (হাকিম, মিশকাত)
ইসলামের রুচি কত মননশীল! কত সুন্দর তার নিয়ম। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা তো ইসলামের বৈশিষ্ট্য। পূর্বোক্ত হাদীস সম্পর্কে চিন্তা করলেই এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। অযুর পাত্রের আলাদা একটি মর্যাদা রয়েছে। তার সঙ্গে পান করার অথবা খানা খাওয়ার পাত্র মিলতে পারে না। পান করার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হওয়া দরকার। এস্তেঞ্জার পাত্রের জন্য এগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিভিন্ন ধরনের পাত্র ঢেকে রাখবে যাতে কোন বিষাক্ত প্রাণী, বিষাক্ত জিনিষ তাতে পড়ার সম্ভাবনা না থাকে। মোটকথা ইসলামী শিক্ষা অগণিত হেকমত, অপরূপ সৌন্দর্য, অকল্পনীয় পরিচ্ছন্নতার সমষ্টি।