📄 এক আমেরিকান ডাক্তারের উদ্ধৃতি
এখানে একজন আমেরিকান ডাক্তার Paul Ernes Adolph এর একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করছি। এ উদ্ধৃতি মনে ধরার মত, সাক্ষীর কাজ করবে।
'আমি মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকাকালে শরীরের ক্ষতস্থানের কলার (Body Tissues) বিকৃতি সম্পর্কে অবগত হই। অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে টিস্যুগুলো পর্যবেক্ষণ কালে দেখলাম যে, টিস্যুগুলোর নিজস্ব ইতিবাচক প্রভাবে ক্ষতস্থান আশাতীতভাবে পূরণ হয়ে যায়। এরপর শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশকালে আমার খুব আত্মবিশ্বাস ছিল যে, আমি ক্ষত এবং তা সেরে উঠার বিষয়ে যতটা অবগত, তাতে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে চিকিৎসার এ শাখায় সফলতা লাভ করবো। কিন্তু খুব দ্রুতই আমার এ আত্মবিশ্বাসে ফাটল দেখা দিল। বুঝতে পারলাম যে, আমি মেডিকেল সায়েন্সে এমন একটি অপরিহার্য বিষয়কে শুধু অনুমান মনে করেছিলাম যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো আল্লাহ তা'আলা।
📄 ৭০ বছর বয়স্কা রোগিণীর ঘটনা (Story of a 70 Years Old Patient)
হাসপাতালে আমার চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে ৭০ বছর বয়স্কা এক রোগিণীও ছিল। তার কটি দেশে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। এক্স-রে ফিল্ম দেখে মনে হল তার ক্ষতের টিস্যুর পূর্ণগঠনের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে। এরূপ দ্রুত সুস্থতার জন্য তাকে আমি শুভেচ্ছা জানালাম। ইনচার্জ সার্জন আমাকে সে মহিলাকে চব্বিশ ঘন্টার ভিতরে ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। কারণ সে এখন অন্যের সাহায্য ছাড়াই চলাফেরা করতে সক্ষম। সেদিনটি ছিল রোববার।
তার মেয়ে সাক্ষাতের নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহান্তে তাকে ঐ দিন দেখতে আসল। আমি তাকে জানালাম যে তার মা এখন সম্পূর্ণরূপে সুস্থ এবং আগামীকাল তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। অতএব সে যেন তার মাকে বাড়ি নিয়ে যায়। মেয়েটি জবাবে কিছু না বলে সোজা তার মায়ের কাছে চলে গেল। সে তার মাকে বলল যে, সে তার স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে আর বাড়িতে নিয়ে যাবে না। বরং তার জন্য ভাল ব্যবস্থা হিসেবে কোন বয়স্ক নিবাসে (Old Peoples Home) পৌছে দিবে।
কয়েক ঘন্টা পর আমি ঐ বৃদ্ধার নিকট গিয়ে দেখলাম, তার শরীরের অবস্থা খুব দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই সে বৃদ্ধা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার মৃত্যুর কারণ ভাঙ্গা কোমর নয়; বরং তার ভাঙ্গা হৃদয়— Not of her broken hip, but of a broken heart |
আমরা তার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলাম। কিন্তু কোন কাজ হল না। তার কটিদেশের ভাঙ্গা হাড়টি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল ঠিকই; কিন্তু আর ভগ্ন হৃদয়ের কোন চিকিৎসা ছিল না। ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ভাঙ্গা হাড়টি স্বস্থানে আনার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও সে সুস্থ হল না। সুতরাং নিশ্চয়ই তার হাড় জোড়া লেগেছিল এবং তার কোমরও শক্তিশালী হয়েছিল। কিন্তু সে বাঁচল না। কিন্তু কেন? তার সুস্থতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস তার মধ্যে ছিল না। সেটা ভিটামিনও নয়, খনিজ পদার্থও নয়, জোড়াও নয়, সেটি হল আশা (Hope)। বেঁচে থাকার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলে সুস্থতা হাত নেড়ে বিদায় জানায়।
এ ঘটনাটি আমার উপর বিরাট প্রভাব ফেলে। আমার ভিতর এ কঠিন অনুভূতি জাগ্রত হয় যে, এ বৃদ্ধা মহিলা কখনো এ মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হত না, যদি সে আল্লাহর উপর আশান্বিত হত (God of Hope), একজন খৃষ্টান হিসেবে আমি যেরূপ আশা রাখি।' (The Evidence of God P.P. 212-14)
এ ঘটনা থেকে সহজেই অনুমেয় যে, আধুনিক উন্নত বিশ্ব কিরূপ আত্মবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নিজেদেরকে নাজেহাল করেছে। একদিকে শিক্ষা-দীক্ষাকে উন্নততর করা হচ্ছে। অপরদিকে শিক্ষা-দীক্ষাকে এমন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হচ্ছে যাতে খোদা ও ধর্মের অনুভূতি মানুষের হৃদয় থেকে মুছে যায়। এভাবে মানুষের প্রকৃত মানবতা ও আত্মাকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিয়ে তার শরীর ও বস্তু জগতের উন্নতি সাধনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কি এর পরিণাম, তার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত উপরোক্ত ঘটনা। অভিজ্ঞ ডাক্তারগণ ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে সক্ষম হলেন, ঠিক তখনি বিশ্বাসের অভাব ও হতাশা তার মন ভেঙ্গে দিল এবং শারীরিক সুস্থতা তার মৃত্যুকে রোধ করতে ব্যর্থ হল।
এটি হল সেই দ্বন্দ্ব যা আজ সমগ্র মানবতাকে কুঁড়ে কুঁড়ে নিঃশেষ করছে। তাদের বিলাসী শরীর প্রকৃত প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত। উঁচু উঁচু ইমারতসমূহে শূন্য হৃদয়ের বসবাস। আলোকোজ্জ্বল শহর অপরাধ ও নান সমস্যার প্রাণকেন্দ্র। পরাশক্তি ও উন্নত রাষ্ট্রসমূহ আন্তঃষড়যন্ত্র এবং অবিশ্বস্ততার বিষবাষ্পে নীল। বড় বড় পরিকল্পনা উপযুক্ত কর্ম তৎপরতার অভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। মোট কথা, বস্তু জগতের উন্নতি সত্ত্বেও জীবন আজ বিরান। আর এ সবই হল একটি ভুলের মাশুল। আর সে ভুলটি হল, মানুষ তার সৃষ্টিকর্তাকে ত্যাগ করেছে। মানুষ নিজেকে জীবনের ঐ উৎসমূল থেকে বঞ্চিত করেছে, মানুষের মালিক ও স্রষ্টার পক্ষ হতে মানুষের কল্যাণেই যে স্রোতধারা প্রবাহিত। (ফিল্ড ইন প্যারা সাইকোলজি)
📄 বিধবা নারীর জীবন : ইসলাম বনাম ইউরোপীয় অবস্থা
হযরত আওযা ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 'ঐ বিষন্ন চিত্ত নারী, যার স্বামী মারা গিয়েছে এবং সে নিজ সন্তানদের দিকে চেয়ে ধৈর্য ধারণ করেছে, সে এভাবে জান্নাতে থাকবে (অর্থাৎ এই স্থানে)।'
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধবা নারীদের বিবাহ করে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আজকে তাদেরকেই আমরা উম্মত-জননী বলে মান্য করি।
নারী— বিধবা হোক বা সধবা হোক, ইসলাম তাকে অনেক অধিকার দিয়েছে। বিধবা নারীর প্রতি আরো বেশি সদয় দৃষ্টি প্রদর্শন করেছে। তাদের মর্যাদা বাড়ানোর জন্যে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিবাহ করেছেন। ইসলাম তাদের বিবাহ করাকে পছন্দনীয় কাজ বলে স্বীকৃতি করেছে।
📄 কিছু ইউরোপীয় চিত্র
ইউরোপে নারীর যে সামাজিক অবস্থান তা সম্মানজনক, না-কি হেয় প্রতিপন্নমূলক? এর উত্তর হল বর্তমানে ইউরোপ নারীকে ড্রাইভার, সুইপার, শ্রমিক এমনকি ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করেছে। এ ধরনের পেশায় তারা স্বাধীনতা পেয়েছে, না-কি গোলামী? পক্ষান্তরে ইসলাম নারীকে গৃহকর্ত্রী এবং জান্নাতী হুরের সর্দারিনী হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে।
ইউরোপীয় এক মহিলা 'লেষ্টার' (ইংল্যান্ডের একটি শহর) শহরে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বলেছে, 'আমি বিধবা থাকাবস্থায় (আমার বর্তমান স্বামী) আমাকে বিবাহ করেছে। ইতিপূর্বে সে আমার পূর্ব স্বামীর কথা জানত না। পরবর্তীতে অবগত হলে সে আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। এখন আমি আমার প্রকৃত অধিকার ফিরে পেতে চাই।' (হিউম্যান এন্ড ইসলাম)
এ রকম একটি নয়; বরং অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যা বিধবা নারীর জীবনকে হেয় প্রতিপন্ন করে তুলেছে।