📄 নৈরাজ্যবাদী দার্শনিক প্রুধো (Nahlist Philosopher Proden)
প্রসিদ্ধ নৈরাজ্যবাদী দার্শনিক প্রুধো স্বীয় কিতাব 'এবতেদারুন্নেযাম'-এ লিখেন, 'নারীর জ্ঞান যেরূপ পুরুষের তুলনায় স্বল্প, তেমনি নারীর মেধাও পুরুষের মেধার তুলনায় অনেক দুর্বল। নারীর চরিত্রও পুরুষের চরিত্রের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। কারণ নারী যে জিনিষকে ভাল অথবা মন্দ বলে মন্তব্য করে, তা পুরুষের মন্তব্যের সাথে মিল খায় না। সুতরাং নারী পুরুষ সমান না হওয়া কোন অস্থায়ী বিষয় নয়, বরং এটি নারীর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য।
যে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কর্ম-দক্ষতার উপর মানুষের জ্ঞান ও মেধার বিকাশ নির্ভর করে, তাতেও বিরাট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ড. নিকোলাস ও ড. হেলী প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, নারীর পঞ্চ ইন্দ্রিয় পুরুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের চেয়ে দুর্বল।
ক. নারীর ঘ্রাণ নেওয়ার শক্তি এতই দুর্বল যে, সে যে দূরত্ব থেকে আতর বা লেবুর ঘ্রাণ অনুভব করতে পারে না, পুরুষ উক্ত দূরত্ব থেকে সহজেই এরূপ ঘ্রাণ অনুভব করতে পারে।
খ. এমনিভাবে পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, নারী পাতলা/লঘু বোরাক্স এসিডের গন্ধ ১/৩০০০ দূরত্ব থেকে অনুভব করতে পারে। আর পুরুষ মাত্র ১/১০০ দূরত্ব থেকে অনুভব করতে সক্ষম। এটা নারীর দুর্বলতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
গ. আস্বাদন ও শ্রবণশক্তিতেও নারী পুরুষের চেয়ে দুর্বল। এর জন্য অন্য কোন দলিল প্রমাণের প্রয়োজন নেই। ইনসাইক্লোপাডিয়া সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে যে, এ দুর্বলতার ফলেই পুরুষ খাদ্যের ভাল মন্দের পরখ যতটা করতে পারে, নারী ততটা করতে পারে না। একমাত্র পুরুষই পিয়ানো বাজাতে পারে। আজ পর্যন্ত কোন নারী পিয়ানো বাজানোর ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়নি।
ঘ. ত্বকের অনুভূতি শক্তি সম্পর্কে লোমব্রুজ, শেরজী এবং আরো অন্যান্য গবেষকের নিজস্ব গবেষণা হলো এ শক্তি পুরুষের তুলনায় নারীর মধ্যে খুবই কম। ফলে নারী যে সব কষ্ট ক্লেশ সহজেই বরদাশত করতে পারে, সে সব কষ্ট ক্লেশ পুরুষ বরদাশত করতে পারে না। এ পার্থক্য দ্বারা বুঝা যায় যে পুরুষের অনুভূতি শক্তির তুলনায় নারীর অনুভূতি শক্তি দুর্বল।
মানুষের অনুভূতি শক্তির কেন্দ্র হল মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের স্বল্পতা ও আধিক্য এবং ক্ষমতার উপরই নির্ভর করে অনুভূতি শক্তির তীব্রতা। কিন্তু যখন আমরা মনোবিজ্ঞানকে সামনে রেখে চিন্তা ভাবনা করি, তখন এক্ষেত্রেও নারী দুর্বল বলে প্রমাণিত হয়। মনোবিজ্ঞান পাঠে প্রমাণিত হয় যে, পুরুষ এবং নারীর মস্তিষ্কের উপাদান ও আকৃতির দিক দিয়ে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। গড়ে পুরুষের মস্তিষ্ক নারীর মস্তিষ্কের চেয়ে ১০০ গ্রাম বেশি। এর জবাবে কেউ কেউ বলতে পারেন যে, এ স্বল্পতা ও বৃদ্ধি নারী-পুরুষের শারীরিক গঠনের ভিন্নতার ফলে হয়ে থাকে, তাহলে এ মন্তব্য ভুল হবে। তাছাড়াও নারীর মস্তিষ্কের গঠনও তেমন একটা জটিল নয় এবং তাদের মস্তিষ্কের পর্দাও অসম্পূর্ণ। মনোবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ এ পার্থক্যকে নারী-পুরুষের পার্থক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে সাব্যস্ত করেছেন। (নারী পুরুষের প্রাণগত ও স্বভাবগত পার্থক্য সম্পর্কে আরও অধিক জ্ঞান লাভ করতে হলে পড়ুন "ইসলাম ও নারী")
এ সব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে এ কথা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট বুঝে আসে যে, কুদরত দুনিয়ার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক পৃথক গন্ডি এবং পৃথক পৃথক দায়িত্ব ও জিম্মাদারি প্রদান করেছে। এ লক্ষ্যেই নারীর যে সব যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল, সে সব যোগ্যতা তার ভিতর ঐশীভাবেই দেওয়া হয়েছে। আর পুরুষের জন্য যে সব যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল, তা তাদের শারীরিক গঠনেই দেয়া হয়েছে। নারী-পুরুষ জিন্দেগির দুটি চাকা স্বরূপ। উভয়ের সহযোগিতা ব্যতীত জিন্দেগির গাড়ী চলতে পারে না। তাই আল্লাহর কুদরত উভয়ের মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন দুর্বার আকর্ষণ। প্রগতি ও উন্নতির চাহিদা হল নারী-পুরুষের এ আকর্ষণ একটি নির্দিষ্ট গন্ডির ভিতর সীমিত থাকুক। নির্দিষ্ট গন্ডি এবং সীমারেখা অতিক্রম করলেই নেমে আসবে সামাজিক অবক্ষয়। সমাজ ব্যবস্থা ভেংগে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। প্রগতির সব পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। অতীতে বহু জাতিও সীমা লঙ্ঘনের ফলে ধ্বংস হয়েছে।
ইসলাম মানব স্বভাবের এ মৌলিক বিষয়গুলিকে লক্ষ্য রেখেই প্রত্যেকের কর্মসীমা নির্ধারণ করেছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন— 'নারী যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন শয়তান তার পিছু নেয়।' অন্য হাদীসে এরশাদ করেন, 'যেখানে গায়রে মুহরাম নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়, সেখানে শয়তান হয় তৃতীয় ব্যক্তি।' মানব স্বভাব ও ইসলামী শিক্ষার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার ফলে আজ পশ্চিমা সমাজ আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সব ধরনের উন্নতি তাদের হাতের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্পর্ক বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তাদের জীবনের তিক্ত ঘটনাগুলো পড়লে মনে হয় এ জীবন মৃত্যু থেকেও ভয়ানক। তাই পশ্চিমা সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলোতে আত্মহত্যার প্রবণতা মাত্রাতিরিক্ত। (জুমহুরিয়াত আওর ইসলাম, মুহাম্মদ মূসা ভুট্টো)
📄 কর্মজীবি নারী, পরিবেশ দূষণ এবং মানসিক অস্থিরতা
ঘরোয়া কাজে ব্যস্ত মহিলাদেরকে ধ্বংসাত্মক কোন রোগ খুব একটা আক্রমণ করতে পারে না। কারণ তারা নিজেদেরকে ঘরের বাইরে কর্মরত মহিলাদের চেয়ে অধিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। খাদ্যের ব্যাপারে তাদের সচেতনতাও অধিক। এ বিষয়ে আমেরিকান উইমেন সানডে এর বর্তমান সংখ্যায় একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে প্রকাশ যে, ঘরোয়া কাজে ব্যস্ত নারীদের উপর পরিবেশ দূষণের প্রভাব খুব কম পড়ে। অথচ পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার হয় কর্মরত নারীরা। ফলে অনেক সময় তাদের শিরা-উপশিরা দুর্বল হয়ে পড়ে। তারা এতটা মারাত্মক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয় যে কর্মক্ষেত্র থেকে তাদেরকে ইস্তফা দিতে হয় অথবা প্রতিষ্ঠান তাদের থেকে সেবা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
📄 কর্মজীবি মহিলা : সমস্যার সূতিকাগার
(Working Women : House of Problems) সন্তান প্রসবের সময় মায়েদের মৃত্যুহার উন্নত বিশ্বেই সবচেয়ে বেশি। তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহে পৃথিবীর পঁচাশি শতাংশ শিশু জন্মগ্রহণ করে থাকে। একটি ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এ বিষয়ে উন্নত বিশ্বে নিজ স্বার্থ সংরক্ষণের কারণে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। সামাজিক অবকাঠামো এবং দারিদ্রতার ফলে সারাবিশ্বে প্রতিদিন অগণিত মা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। শুধু ভারতেই প্রতিদিন গড়ে ৩২১ জন মা সুতিকাগারেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৫০ এর দশকে পরিস্থিতি ছিল খুব নাজুক। তখন প্রতি হাজারে ১৪৬ জন মা প্রসব কালে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করত। ৯০ এর প্রথম দিকে এ সংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রতি হাজারে ৭৪ জনে নেমে এসেছে। গত বছর প্রতি হাজারে আরো চার পাঁচজন কমে গিয়েছে। কিন্তু এখানে আরো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন আছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, যখন কর্মজীবী মহিলার প্রসবের সময় নিকটবর্তী হয়, তখন তাকে বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ক্লান্তি থেকে উদ্ভুত শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতায় গর্ভকালীন সময়ে তাদের জরায়ু সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে সরকারী অফিস আদালতে প্রসবকালীন ছুটি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রাইভেট সেক্টরে কর্মরত নারীরা এমতাবস্থায় বিপাকে পড়ে। কারণ স্বামী-স্ত্রী উভয়েই কর্মব্যস্ত থাকে। তাই ঘরে শিশুকে সামলানোর কেউ থাকে না। যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থায় এ ব্যাপারে কিছুটা সহায়তা পাওয়া যায়। কিন্তু যদি সেরূপ ব্যবস্থা না থাকে, তখন শিশুই মায়ের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মা তাকে নিজের সঙ্গে অফিসেও নিয়ে যেতে পারে না। আবার ঘরে একাকিও রেখে যেতে পারে না। তাই বাধ্য হয়েই তাদের 'চাইল্ড ডে কেয়ার' আয়ার সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু যদি আয়ের স্বল্পতার কারণে এ ব্যয় বহন করতে না পারে, তখন সমস্যা দেখা দেয়। শারীরিক সমস্যা ছাড়াও মানসিক চাপও সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর। ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের স্বল্পতার ফলে মায়েদের রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। মায়ের শরীরে ভিটামিন 'এ' এর স্বল্পতা দেখা দিলে সন্তানের দৃষ্টি শক্তির উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। (দৈনিক প্রতাপ, ভারত)
বৃটেনে পুরুষদের মাঝে কর্মরত হাজারো মহিলার চুল খুব দ্রুত পড়ে যায়। এ বিষয়ে বৃটেনের টাইমস পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। খবরে প্রকাশ যে, পুরুষের সাথে কর্মরত কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মহিলার চুল পড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের সময় বিভিন্ন অফিস ও কারখানায় কর্মরত ২৮ জন মহিলার মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। অভিজ্ঞদের মতামত হল, পুরুষদের সঙ্গে অনবরত কাজ করার ফলে উক্ত মহিলাদের মাঝে পুরুষ হরমোনের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। গ্লিস লাইজ নামের এক বিশেষজ্ঞের মতামত হল, নারীদের পরিবর্তনশীল সামাজিক কর্মকাণ্ডের ফলে এরূপ মহিলাদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে, যাদের মধ্যে পুরুষের অভ্যাস ও চরিত্র সৃষ্টি হতে চলেছে। রিপোর্টে প্রকাশ, নারীরা সংস্কৃতি, সমাজ, সাহিত্য, চিকিৎসা, ওকালতি, ভ্রমণ ও অন্য সব বিভাগে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করছে। এদের মস্তিষ্কে স্থান করে নিয়েছে সফল ক্যারিয়ারের চিন্তা। সাধারণত এ সব মহিলা পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ মেহনত করে। ডা. লাঞ্জ বলেন, আমি চুল পড়ে যাওয়ার অভিযোগকারী মহিলাদের শরীরে বিদ্যমান পুরুষ হরমোনের সংবেদনশীলতা কমিয়ে তাদের চিকিৎসা করি। (ফরেন হিস্ট্রি অফ মেডিক্যাল অবলম্বনে)
📄 ইহুদীদের ষড়যন্ত্র
দুটি বিশ্ব যুদ্ধের পর, বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদীদের ষড়যন্ত্রের কারণে খৃষ্টানরা নারীদেরকে এতো বেশি অধিকার প্রদান করেছিল যে, পুরুষের স্বতন্ত্র মর্যাদা তারা অস্বীকার করে বসে। জনৈক বড় ইহুদী নেতা বহুজাতিক বাহিনীর সম্মুখভাগে অবস্থান করে হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সে জোর দিয়ে প্রচার করে যে যুদ্ধ পরবর্তী ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হলে পুরুষদের সঙ্গে নারীদেরকে কর্মজীবনে সমানভাবে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। সেদিন থেকে ইউরোপে নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুগপৎভাবে কর্ম জীবনের কোলাহলে আত্মনিয়োগ করে। এমনকি ইউরোপে কোন মহিলা তালাকপ্রাপ্তা হলে সেই বাড়িতে ঐ পুরুষের প্রবেশাধিকার পর্যন্ত ঐ স্ত্রীর অনুমতির উপর নির্ভর করতো। পুরুষ যদি প্রবেশের চেষ্টা করতো, তাহলে মহিলা টহল পুলিশকে জানিয়ে দিত। পরবর্তীতে টহল পুলিশ পাহারাদারী করতো যাতে ঐ ব্যক্তি সে এলাকাতেই প্রবেশ করতে না পারে।