📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ক্ষিপ্রতার পার্থক্য

📄 ক্ষিপ্রতার পার্থক্য


খেলোয়াড়দের গতির ক্ষিপ্রতা পরীক্ষার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হল 'সংক্ষিপ্ত দৌড়'। উভয়ের ক্ষিপ্রতার পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য পুরুষ ও নারী উভয়কে দৌড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর আমরা ফলাফল পেলাম, ৫০ মিটার দৌড়ে নারীর ক্ষিপ্রতা পুরুষের তুলনায় ৮১ শতাংশ এবং ১০০ মিটার দৌড়ে ৭০ শতাংশ। ৫০ মিটার দৌড়ে নারী প্রতি সেকেন্ডে ৪/৫ মিটার এবং পুরুষ ৬/৭ মিটার দৌড়ায়। শক্তি পরীক্ষায়ও পুরুষের পাল্লা ভারী ছিল, যদিও মহিলারা পুরুষদের সমপরিমাণ ওজন বহন করতে সক্ষম। কিন্তু পুরুষদের তুলনায় তাদের অধিক সময় লাগে।

সহ্য ক্ষমতা বা শক্তি (ষ্টেমিনা)-এর অর্থ হল, একই ব্যক্তি কতক্ষণ পর্যন্ত একই পরিশ্রমে লিপ্ত থাকতে পারে। এ সহ্য ক্ষমতাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত পূর্ণ শরীরের সহ্য ক্ষমতা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাংসপেশীর সহ্য ক্ষমতা। পুরো শরীরের সহ্য ক্ষমতার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হল ম্যারাথন দৌড়। এতে দৌড়বিদের অধিক পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। এ কাজটি শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্ত সংবহনতন্ত্র সম্পন্ন করে। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা প্রায় ৬৫ শতাংশ অক্সিজেন গ্রহণ করে। এ হিসেবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এক মিনিটে ৩ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে আর একজন প্রাপ্ত বয়স্কা মহিলা ২ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে।

ভারী শরীরের লোকেরা দুর্বল প্রকৃতির লোকদের চেয়ে অধিক অক্সিজেন গ্রহণ করে। এ কারণে সহ্য ক্ষমতাকে শরীরের ওজন ও অক্সিজেন গ্রহণের হার অনুপাতে পরিমাপ করা যায়। একজন সাধারণ মানুষ শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম হিসেবে এক মিনিটে প্রায় ৫০ মিলিলিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং নারী মাত্র ২৫ মিলিলিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সহিষ্ণুতা নিরূপণের পদ্ধতি

📄 সহিষ্ণুতা নিরূপণের পদ্ধতি


সহিষ্ণুতা পরিমাপের একটি পদ্ধতি হল বিভিন্ন ভরের বস্তুর সেট তৈরি করে সেগুলিকে উঠাতে বলা। এভাবে পরীক্ষা করে জানা গেছে, নারীর ভারোত্তলন ক্ষমতা পুরুষের ভারোত্তলন ক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ। মাংস পেশীতে রক্ত চলাচলের গতি ও পরিমাণের সাথে মাংসপেশীর শক্তির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মহিলাদের বাহুর উপরের অংশে মাংসপেশীতে রক্ত চলাচল হার পুরুষের তুলনায় ৮০ শতাংশ। কিন্তু সব অংশের পেশীতে রক্ত চলাচলের হার নির্ণয় করলে ফলাফল পাওয়া যায় ৯৫ শতাংশ।

এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, পুরুষ শক্তি পরীক্ষায় সে সূচক অতিক্রম করে, সে সূচক নারী অতিক্রম করতে সক্ষম নয়। দীর্ঘ দৌড় প্রতিযোগিতায় মহিলাদের রেকর্ড পুরুষের তুলনায় ৯০ শতাংশ। সাঁতারেও প্রায় একই পার্থক্য। যে সব মহিলারা খেলোয়াড় নন, তারা পুরুষের তুলনায় ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়াতে পারে। যদিও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ক্ষিপ্রতার আরো উন্নয়ন সম্ভব, কিন্তু ৯০ শতাংশ অতিক্রম করে না। মহিলাদের শরীরে পুরুষের তুলনায় চর্বি বেশি এবং পেশী কম থাকে। মহিলাদের কর্মশক্তি ও ক্ষিপ্রতা কম থাকে। এ ছাড়াও আরো শারীরিক ও মানসিক পার্থক্য রয়েছে। এ সব পার্থক্যের ভিত্তিতেই মহিলাদের পক্ষে শুধু খেলাধুলাই নয়; বরং জীবনের অন্যান্য বিভাগেও পুরুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়।

এই বিতর্ককে সহজে অবসান করার উপায় হলো পুরুষের উপর নারীর শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা পুরুষ ও নারীর সমতা প্রমাণ করার চলমান প্রবণতাকে ত্যাগ করে ঐ লক্ষ্যপানে দৃষ্টিপাত করতে হবে, যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য উপযুক্ত করে নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পুরুষেরও উচিত হলো তার জন্য নির্ধারিত উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করণে সচেষ্ট ও মনোযোগী থাকা।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারীর সাক্ষ্য অপূর্ণ, পুরুষে সাক্ষ্য পূর্ণ

📄 নারীর সাক্ষ্য অপূর্ণ, পুরুষে সাক্ষ্য পূর্ণ


আমি (আল্লাহ) পুরুষদেরকে নারীর উপর প্রাধান্য দিয়েছি। (আল কুরআন)

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. ফরমান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, "যদি আমার জন্য কাউকে এ নির্দেশ দেওয়া বৈধ হত যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে সেজদা করবে, তবে আমি মহিলাদেরকে নির্দেশ দিতাম যে, তারা যেন নিজেদের স্বামীদেরকে সেজদা করে। কিন্তু যেহেতু আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্যের সম্মুখে সেজদা করা জায়েয নেই। তাই আমি সেজদা করার আদেশ দিতে পারছি না।" পুরুষ ঘরের সদস্যদের তদারককারী। (আল হাদীস)

ইসলামী আইন শাস্ত্রে নারীর সাক্ষ্য পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক। অর্থাৎ দু'জন নারী মিলে একজন সাক্ষী হিসেবে গণ্য হয় আর একজন পুরুষের সাক্ষ্যই একটি পূর্ণ সাক্ষ্য বলে গণ্য হয়। ইসলাম পুরুষকে নারীর উপর ফযীলত ও মর্যাদা দান করেছে। এ বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের মতামত প্রণিধানযোগ্য।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হিউলাক এলিসের বিশ্লেষণ (Analysis of Hewlock Aelis)

📄 হিউলাক এলিসের বিশ্লেষণ (Analysis of Hewlock Aelis)


বর্তমান যুগে হিউলাক এলিসকে নারী-পুরুষের মনোবিজ্ঞানে সবচেয়ে বড় গবেষক মনে করা হয়। তিনি স্বীয় বই 'নারী ও পুরুষ' এ নারীদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীকে খুব গুরুত্ব দিয়ে লিখেন— 'নারীদের স্বভাবে প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি। ছোট ছোট বিষয়েও নারীরা অপরের বর্ণনা ও ধ্যান-ধারণা পুরুষের তুলনায় দ্রুত গ্রহণ করে। নারীর আবেগকে উত্তেজিত করে কোন কথা বললে সে তার জন্য জীবনও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়। নারীরা অন্যের মহানুভবতায় ঈর্ষান্বিত থাকে। পুরুষের যে রূপ স্বেচ্ছাচারিতার মন-মেজাজ থাকে, নারীর ভিতর তেমনটি থাকে না।'

এলিস আরো লিখেন— 'নারীদের বিবেক-বুদ্ধি কম থাকে। এ দিক দিয়েও পুরুষ অগ্রগামী যেমন—পুরুষের ভিতর অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করার যোগ্যতা অধিক থাকে। যে যা শিক্ষা করে অথবা অর্জন করে, তা চর্চা, গবেষণা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে বৃদ্ধি করতে পারে। তাছাড়াও সে স্বীয় জ্ঞানের বিষয় ও বিভাগের বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান রাখে। একজন পুরুষ বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করতে বেশি আনন্দ পায়। তার পর্যবেক্ষণ শক্তিও নারীর তুলনায় অনেক বেশি।

নারীর মন-মেজাজ এর সম্পূর্ণ বিপরীত। নারী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণকে মোটেও পছন্দ করে না। কারণ স্বভাবগতভাবেই তারা মনে করে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ এর ফলে তাদের আবেগ প্রভাবিত হয়ে পড়বে। এর ফলেই নারী অটল আইন ও অনড় নিয়মকে খুবই ভয় পায়। কারণ তাদের জীবন আবেগ প্রবণতায় ভরপুর। মূলত এ গুণাবলীগুলো নারীর জ্ঞানের স্বল্পতার প্রমাণ নয়; বরং এগুলো নারী পুরুষের গড়নের ভিন্নতারই ফলাফল। অতএব এগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, নারীদের মস্তিষ্ক অনুসন্ধান, তদন্ত, বিজ্ঞান ও গভীর জ্ঞানের জন্য অনুপযোগী যদিও নারীরা কোন কোন সময় এ সবক্ষেত্রেও অসাধারণভাবে যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখিয়েছে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00