📄 নারী পুরুষের তুলনামূলক পর্যালোচনা
নারী ও পুরুষের তুলনামূলক বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষণ পাঠকের সম্মুখে তুলে ধরা হচ্ছে:
মানব শরীর হাড়, গোস্ত ও চর্বির সমন্বয় গঠিত। এ সব উপাদানের পরিমিত সমন্বয়কেই শারীরিক গঠন (Body Composition) বলা হয়। এসবের সমন্বয়ের ফলেই শরীর নড়াচড়া ও ব্যায়ামের উপযুক্ত হয়। বিশেষত খেলাধুলার ক্ষেত্রে চর্বির আধিক্য বা স্বল্পতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নারীদের ওজনের প্রায় ২২ শতাংশই চর্বি। অথচ পুরুষের শরীরে এর পরিমাণ মাত্র ১৩ শতাংশ। যদিও দশ বছর বয়স এবং ১০ কিলোগ্রাম ওজন না হওয়া পর্যন্ত উভয়ের মাঝে তেমন কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না, কিন্তু এর পরই মহিলাদের শরীরে চর্বির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। একই বয়স ও ওজনের নারী ও পুরুষের তুলনা করলে দেখা যাবে, পুরুষের তুলনায় নারীর শরীরে চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।
মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ মাংসপেশী, হাড় এবং ত্বকের নীচের চর্বির সমন্বয়ে গঠিত। পুরুষের সমগ্র বাহুতে ৭৬ শতাংশ মাংসপেশী থাকে এবং ত্বকের নীচে ১৭ শতাংশ চর্বি থাকে। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ যথাক্রমে ৬১ ও ৩৩ শতাংশ।
মানুষের পেশী আঁশের সমষ্টি। পেশীর শক্তি আঁশ (ফাইবার) এর সম্প্রসারণ ও সংকোচনের যোগ্যতার উপর নির্ভর করে। দ্রুত সম্প্রসারণশীল আঁশ দ্রুত নড়াচড়া এবং শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না। অবশ্য এ আঁশগুলো দীর্ঘদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। যেহেতু শরীরে উভয় রকমের (দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও দ্রুত সংকোচনশীল) পেশী থাকে, তাই এ সব পেশীর হার নির্ণয় করে শরীরের যোগ্যতা অনুমান করা যায়। নারী পুরুষের পেশীতে তেমন একটা পার্থক্য বুঝা যায় না। কিন্তু শক্তিতে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের উপর পরীক্ষা চালানোর পর জানা গিয়েছে, পুরুষের অনুপাতে নারীর পেশীতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শক্তি পাওয়া যায়। খেলোয়াড় নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হার দেখা যায়। ১৯৮৪ খৃষ্টাব্দে জাপানের গরমাই অলিম্পিকে পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী মহিলাদের বাহুর মাংসপেশীর শক্তি পুরুষদের বাহুর মাংসপেশীর শক্তির তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।
এমনিভাবে মহিলাদের পায়ের মাংসপেশীর ক্ষমতা পুরুষের পায়ের মাংসপেশীর ক্ষমতার তুলনায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। ক্ষমতাকে (Power) কর্ম সম্পাদনের গতি ও স্থৈতিক শক্তির ফল বলা হয়। গতিশীলতা ব্যতীত শক্তি ক্ষমতায় পরিণত হতে পারে না। এটি একটি সাধারণ বিষয় যে, কোন বস্তুর ভর কম হলে তাকে দ্রুত উঠানো যায় আর ওজন যার বেশি হবে, তাকে উত্তোলন করতে তত বেশি সময় প্রয়োজন হবে। একটি ছোট্ট পরীক্ষায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে। দেখা গেছে, একই ওজনের জিনিষ পুরুষের চেয়ে নারীর উত্তোলনে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।
📄 ক্ষিপ্রতার পার্থক্য
খেলোয়াড়দের গতির ক্ষিপ্রতা পরীক্ষার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হল 'সংক্ষিপ্ত দৌড়'। উভয়ের ক্ষিপ্রতার পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য পুরুষ ও নারী উভয়কে দৌড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর আমরা ফলাফল পেলাম, ৫০ মিটার দৌড়ে নারীর ক্ষিপ্রতা পুরুষের তুলনায় ৮১ শতাংশ এবং ১০০ মিটার দৌড়ে ৭০ শতাংশ। ৫০ মিটার দৌড়ে নারী প্রতি সেকেন্ডে ৪/৫ মিটার এবং পুরুষ ৬/৭ মিটার দৌড়ায়। শক্তি পরীক্ষায়ও পুরুষের পাল্লা ভারী ছিল, যদিও মহিলারা পুরুষদের সমপরিমাণ ওজন বহন করতে সক্ষম। কিন্তু পুরুষদের তুলনায় তাদের অধিক সময় লাগে।
সহ্য ক্ষমতা বা শক্তি (ষ্টেমিনা)-এর অর্থ হল, একই ব্যক্তি কতক্ষণ পর্যন্ত একই পরিশ্রমে লিপ্ত থাকতে পারে। এ সহ্য ক্ষমতাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত পূর্ণ শরীরের সহ্য ক্ষমতা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাংসপেশীর সহ্য ক্ষমতা। পুরো শরীরের সহ্য ক্ষমতার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হল ম্যারাথন দৌড়। এতে দৌড়বিদের অধিক পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। এ কাজটি শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্ত সংবহনতন্ত্র সম্পন্ন করে। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা প্রায় ৬৫ শতাংশ অক্সিজেন গ্রহণ করে। এ হিসেবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এক মিনিটে ৩ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে আর একজন প্রাপ্ত বয়স্কা মহিলা ২ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে।
ভারী শরীরের লোকেরা দুর্বল প্রকৃতির লোকদের চেয়ে অধিক অক্সিজেন গ্রহণ করে। এ কারণে সহ্য ক্ষমতাকে শরীরের ওজন ও অক্সিজেন গ্রহণের হার অনুপাতে পরিমাপ করা যায়। একজন সাধারণ মানুষ শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম হিসেবে এক মিনিটে প্রায় ৫০ মিলিলিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং নারী মাত্র ২৫ মিলিলিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে।
📄 সহিষ্ণুতা নিরূপণের পদ্ধতি
সহিষ্ণুতা পরিমাপের একটি পদ্ধতি হল বিভিন্ন ভরের বস্তুর সেট তৈরি করে সেগুলিকে উঠাতে বলা। এভাবে পরীক্ষা করে জানা গেছে, নারীর ভারোত্তলন ক্ষমতা পুরুষের ভারোত্তলন ক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ। মাংস পেশীতে রক্ত চলাচলের গতি ও পরিমাণের সাথে মাংসপেশীর শক্তির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মহিলাদের বাহুর উপরের অংশে মাংসপেশীতে রক্ত চলাচল হার পুরুষের তুলনায় ৮০ শতাংশ। কিন্তু সব অংশের পেশীতে রক্ত চলাচলের হার নির্ণয় করলে ফলাফল পাওয়া যায় ৯৫ শতাংশ।
এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, পুরুষ শক্তি পরীক্ষায় সে সূচক অতিক্রম করে, সে সূচক নারী অতিক্রম করতে সক্ষম নয়। দীর্ঘ দৌড় প্রতিযোগিতায় মহিলাদের রেকর্ড পুরুষের তুলনায় ৯০ শতাংশ। সাঁতারেও প্রায় একই পার্থক্য। যে সব মহিলারা খেলোয়াড় নন, তারা পুরুষের তুলনায় ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়াতে পারে। যদিও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ক্ষিপ্রতার আরো উন্নয়ন সম্ভব, কিন্তু ৯০ শতাংশ অতিক্রম করে না। মহিলাদের শরীরে পুরুষের তুলনায় চর্বি বেশি এবং পেশী কম থাকে। মহিলাদের কর্মশক্তি ও ক্ষিপ্রতা কম থাকে। এ ছাড়াও আরো শারীরিক ও মানসিক পার্থক্য রয়েছে। এ সব পার্থক্যের ভিত্তিতেই মহিলাদের পক্ষে শুধু খেলাধুলাই নয়; বরং জীবনের অন্যান্য বিভাগেও পুরুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়।
এই বিতর্ককে সহজে অবসান করার উপায় হলো পুরুষের উপর নারীর শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা পুরুষ ও নারীর সমতা প্রমাণ করার চলমান প্রবণতাকে ত্যাগ করে ঐ লক্ষ্যপানে দৃষ্টিপাত করতে হবে, যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য উপযুক্ত করে নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পুরুষেরও উচিত হলো তার জন্য নির্ধারিত উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করণে সচেষ্ট ও মনোযোগী থাকা।
📄 নারীর সাক্ষ্য অপূর্ণ, পুরুষে সাক্ষ্য পূর্ণ
আমি (আল্লাহ) পুরুষদেরকে নারীর উপর প্রাধান্য দিয়েছি। (আল কুরআন)
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. ফরমান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, "যদি আমার জন্য কাউকে এ নির্দেশ দেওয়া বৈধ হত যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে সেজদা করবে, তবে আমি মহিলাদেরকে নির্দেশ দিতাম যে, তারা যেন নিজেদের স্বামীদেরকে সেজদা করে। কিন্তু যেহেতু আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্যের সম্মুখে সেজদা করা জায়েয নেই। তাই আমি সেজদা করার আদেশ দিতে পারছি না।" পুরুষ ঘরের সদস্যদের তদারককারী। (আল হাদীস)
ইসলামী আইন শাস্ত্রে নারীর সাক্ষ্য পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক। অর্থাৎ দু'জন নারী মিলে একজন সাক্ষী হিসেবে গণ্য হয় আর একজন পুরুষের সাক্ষ্যই একটি পূর্ণ সাক্ষ্য বলে গণ্য হয়। ইসলাম পুরুষকে নারীর উপর ফযীলত ও মর্যাদা দান করেছে। এ বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের মতামত প্রণিধানযোগ্য।