📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পরিশিষ্ট (End of Discussion)

📄 পরিশিষ্ট (End of Discussion)


ইসলাম নারীকে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং অন্য সব মানবীয় অধিকার প্রদান করেছে। মানবেতর অবস্থা থেকে মুক্ত করে মানবীয় মর্যাদায় আসীন করেছে। তার যাবতীয় ন্যায্য অধিকারের 'নিশ্চিত ও স্পষ্ট' নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। আল-কুরআন ঘোষণা দিয়েছে 'নারীর সাথে সদ্ব্যবহার কর।' মানবতার মুক্তিদূত প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'নারীকে সর্বোত্তম ঐশ্বর্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন। নারীর ভাগ্যাকাশের ভয়ংকর মেঘমালাকে অপসরণ করে, নারীর সন্ধালোকের বিষন্নতাকে প্রত্যুষের আনন্দ ও উৎফুল্লতায় রূপান্তরিত করেছেন। স্বামীকে স্ত্রীর সাথে প্রেম-ভালবাসা, বন্ধুত্ব ও প্রীতিপূর্ণ আচরণ করতে শিখিয়েছেন। 'নর-নারীর উপর শিক্ষা অর্জন অপরিহার্য'—এ ঘোষণা দিয়ে তিনি নারী জাতিকে অজ্ঞনতার অন্ধকার থেকে মুক্তি দিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোতে দীপ্তিমান করেছেন।

ইসলামের সুউচ্চ ও সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষার ফলে নিকষ অন্ধকারে আবর্তিত নারী সমাজ উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছে। 'মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত' এই ঘোষণা এবং 'মাকে মান্য করা সন্তানের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম'—এসব ঘোষণা দিয়ে ইসলাম মূর্খ নারীর জন্য চিরমুক্তির বার্তা সহ উদিত হয়েছে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মানব সমাজকে এ বার্তা দিয়েছেন যে, নারীর দায়িত্বে পুরুষের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষের দায়িত্বে নারীরও অধিকার রয়েছে। ইসলামের এতসব সুস্পষ্ট ও সুন্দরতম বিধি-ব্যবস্থা পাশ কাটিয়ে যদি মুসলিম সমাজে কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ে বাধা প্রদান করে, শরীয়ত প্রদত্ত স্বাধীনতা সংকুচিত করে তাদেরকে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বংশের স্বেচ্ছাচারিতা এবং তাদের সাথেই সংশ্লিষ্ট। তাদের এই সব অপকর্মের কথা বিবেচনা করলে বলা যায় ইসলামী শরীয়তকে সমালোচনার বস্তুতে পরিণত করা শুধু ভুলই নয়; বরং অবিশ্বস্ততা ও সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নামান্তর।

কল্পনাপ্রসূত বংশীয় অথবা আঞ্চলিক প্রথাকে, শরীয়াত অননুমোদিত প্রথাকে ইসলামী শিক্ষা বলে অভিহিত করলে তা হবে ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ ও প্রতারণা।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারী পুরুষের তুলনামূলক পর্যালোচনা

📄 নারী পুরুষের তুলনামূলক পর্যালোচনা


নারী ও পুরুষের তুলনামূলক বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষণ পাঠকের সম্মুখে তুলে ধরা হচ্ছে:

মানব শরীর হাড়, গোস্ত ও চর্বির সমন্বয় গঠিত। এ সব উপাদানের পরিমিত সমন্বয়কেই শারীরিক গঠন (Body Composition) বলা হয়। এসবের সমন্বয়ের ফলেই শরীর নড়াচড়া ও ব্যায়ামের উপযুক্ত হয়। বিশেষত খেলাধুলার ক্ষেত্রে চর্বির আধিক্য বা স্বল্পতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নারীদের ওজনের প্রায় ২২ শতাংশই চর্বি। অথচ পুরুষের শরীরে এর পরিমাণ মাত্র ১৩ শতাংশ। যদিও দশ বছর বয়স এবং ১০ কিলোগ্রাম ওজন না হওয়া পর্যন্ত উভয়ের মাঝে তেমন কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না, কিন্তু এর পরই মহিলাদের শরীরে চর্বির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। একই বয়স ও ওজনের নারী ও পুরুষের তুলনা করলে দেখা যাবে, পুরুষের তুলনায় নারীর শরীরে চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।

মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ মাংসপেশী, হাড় এবং ত্বকের নীচের চর্বির সমন্বয়ে গঠিত। পুরুষের সমগ্র বাহুতে ৭৬ শতাংশ মাংসপেশী থাকে এবং ত্বকের নীচে ১৭ শতাংশ চর্বি থাকে। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ যথাক্রমে ৬১ ও ৩৩ শতাংশ।

মানুষের পেশী আঁশের সমষ্টি। পেশীর শক্তি আঁশ (ফাইবার) এর সম্প্রসারণ ও সংকোচনের যোগ্যতার উপর নির্ভর করে। দ্রুত সম্প্রসারণশীল আঁশ দ্রুত নড়াচড়া এবং শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না। অবশ্য এ আঁশগুলো দীর্ঘদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। যেহেতু শরীরে উভয় রকমের (দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও দ্রুত সংকোচনশীল) পেশী থাকে, তাই এ সব পেশীর হার নির্ণয় করে শরীরের যোগ্যতা অনুমান করা যায়। নারী পুরুষের পেশীতে তেমন একটা পার্থক্য বুঝা যায় না। কিন্তু শক্তিতে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের উপর পরীক্ষা চালানোর পর জানা গিয়েছে, পুরুষের অনুপাতে নারীর পেশীতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শক্তি পাওয়া যায়। খেলোয়াড় নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হার দেখা যায়। ১৯৮৪ খৃষ্টাব্দে জাপানের গরমাই অলিম্পিকে পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী মহিলাদের বাহুর মাংসপেশীর শক্তি পুরুষদের বাহুর মাংসপেশীর শক্তির তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

এমনিভাবে মহিলাদের পায়ের মাংসপেশীর ক্ষমতা পুরুষের পায়ের মাংসপেশীর ক্ষমতার তুলনায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। ক্ষমতাকে (Power) কর্ম সম্পাদনের গতি ও স্থৈতিক শক্তির ফল বলা হয়। গতিশীলতা ব্যতীত শক্তি ক্ষমতায় পরিণত হতে পারে না। এটি একটি সাধারণ বিষয় যে, কোন বস্তুর ভর কম হলে তাকে দ্রুত উঠানো যায় আর ওজন যার বেশি হবে, তাকে উত্তোলন করতে তত বেশি সময় প্রয়োজন হবে। একটি ছোট্ট পরীক্ষায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে। দেখা গেছে, একই ওজনের জিনিষ পুরুষের চেয়ে নারীর উত্তোলনে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ক্ষিপ্রতার পার্থক্য

📄 ক্ষিপ্রতার পার্থক্য


খেলোয়াড়দের গতির ক্ষিপ্রতা পরীক্ষার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হল 'সংক্ষিপ্ত দৌড়'। উভয়ের ক্ষিপ্রতার পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য পুরুষ ও নারী উভয়কে দৌড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর আমরা ফলাফল পেলাম, ৫০ মিটার দৌড়ে নারীর ক্ষিপ্রতা পুরুষের তুলনায় ৮১ শতাংশ এবং ১০০ মিটার দৌড়ে ৭০ শতাংশ। ৫০ মিটার দৌড়ে নারী প্রতি সেকেন্ডে ৪/৫ মিটার এবং পুরুষ ৬/৭ মিটার দৌড়ায়। শক্তি পরীক্ষায়ও পুরুষের পাল্লা ভারী ছিল, যদিও মহিলারা পুরুষদের সমপরিমাণ ওজন বহন করতে সক্ষম। কিন্তু পুরুষদের তুলনায় তাদের অধিক সময় লাগে।

সহ্য ক্ষমতা বা শক্তি (ষ্টেমিনা)-এর অর্থ হল, একই ব্যক্তি কতক্ষণ পর্যন্ত একই পরিশ্রমে লিপ্ত থাকতে পারে। এ সহ্য ক্ষমতাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত পূর্ণ শরীরের সহ্য ক্ষমতা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাংসপেশীর সহ্য ক্ষমতা। পুরো শরীরের সহ্য ক্ষমতার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হল ম্যারাথন দৌড়। এতে দৌড়বিদের অধিক পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। এ কাজটি শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্ত সংবহনতন্ত্র সম্পন্ন করে। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা প্রায় ৬৫ শতাংশ অক্সিজেন গ্রহণ করে। এ হিসেবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এক মিনিটে ৩ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে আর একজন প্রাপ্ত বয়স্কা মহিলা ২ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে।

ভারী শরীরের লোকেরা দুর্বল প্রকৃতির লোকদের চেয়ে অধিক অক্সিজেন গ্রহণ করে। এ কারণে সহ্য ক্ষমতাকে শরীরের ওজন ও অক্সিজেন গ্রহণের হার অনুপাতে পরিমাপ করা যায়। একজন সাধারণ মানুষ শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম হিসেবে এক মিনিটে প্রায় ৫০ মিলিলিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং নারী মাত্র ২৫ মিলিলিটার অক্সিজেন গ্রহণ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সহিষ্ণুতা নিরূপণের পদ্ধতি

📄 সহিষ্ণুতা নিরূপণের পদ্ধতি


সহিষ্ণুতা পরিমাপের একটি পদ্ধতি হল বিভিন্ন ভরের বস্তুর সেট তৈরি করে সেগুলিকে উঠাতে বলা। এভাবে পরীক্ষা করে জানা গেছে, নারীর ভারোত্তলন ক্ষমতা পুরুষের ভারোত্তলন ক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ। মাংস পেশীতে রক্ত চলাচলের গতি ও পরিমাণের সাথে মাংসপেশীর শক্তির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মহিলাদের বাহুর উপরের অংশে মাংসপেশীতে রক্ত চলাচল হার পুরুষের তুলনায় ৮০ শতাংশ। কিন্তু সব অংশের পেশীতে রক্ত চলাচলের হার নির্ণয় করলে ফলাফল পাওয়া যায় ৯৫ শতাংশ।

এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, পুরুষ শক্তি পরীক্ষায় সে সূচক অতিক্রম করে, সে সূচক নারী অতিক্রম করতে সক্ষম নয়। দীর্ঘ দৌড় প্রতিযোগিতায় মহিলাদের রেকর্ড পুরুষের তুলনায় ৯০ শতাংশ। সাঁতারেও প্রায় একই পার্থক্য। যে সব মহিলারা খেলোয়াড় নন, তারা পুরুষের তুলনায় ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়াতে পারে। যদিও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ক্ষিপ্রতার আরো উন্নয়ন সম্ভব, কিন্তু ৯০ শতাংশ অতিক্রম করে না। মহিলাদের শরীরে পুরুষের তুলনায় চর্বি বেশি এবং পেশী কম থাকে। মহিলাদের কর্মশক্তি ও ক্ষিপ্রতা কম থাকে। এ ছাড়াও আরো শারীরিক ও মানসিক পার্থক্য রয়েছে। এ সব পার্থক্যের ভিত্তিতেই মহিলাদের পক্ষে শুধু খেলাধুলাই নয়; বরং জীবনের অন্যান্য বিভাগেও পুরুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়।

এই বিতর্ককে সহজে অবসান করার উপায় হলো পুরুষের উপর নারীর শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা পুরুষ ও নারীর সমতা প্রমাণ করার চলমান প্রবণতাকে ত্যাগ করে ঐ লক্ষ্যপানে দৃষ্টিপাত করতে হবে, যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য উপযুক্ত করে নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পুরুষেরও উচিত হলো তার জন্য নির্ধারিত উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করণে সচেষ্ট ও মনোযোগী থাকা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00