📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারী বিষয়ক ইসলামী বিধি নিষেধের স্বরূপ

📄 নারী বিষয়ক ইসলামী বিধি নিষেধের স্বরূপ


সার জান ব্যাগেট ইসলামী সমাজে নারীর উপর আরোপিত বিধি-নিষেধসমূহ পর্যালোচনার এক পর্যায়ে লিখেন "নারীর উপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আরোপিত বিধি-নিষেধ শুধু চারিত্রিক বিষয়াবলীতে সীমিত। এতে নারীকে হেয় করা, নারীর প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কিংবা নির্দয় আচরণের নিদর্শনও নেই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো নারীদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। (মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ-৩৩১-৩৩২)

অন্য এক জায়গায় তিনি লিখেন, 'নারীর উপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আরোপিত বিধি-নিষেধ কঠোর প্রকৃতির নয়; বরং এ বিধি-নিষেধ তাদের জীবন চলাকে সহজসাধ্য ও সুগম করেছে।" তাঁর কলম এতটুকুতেই তৃপ্ত হয় নি। তিনি আরো লিখেছেন, 'ইসলাম জীবন-কাঠামোর অবয়বে স্বতন্ত্র সীমারেখা টেনে নারী পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীকে পৃথক করেছে। জীবনের বিভিন্ন দিক লক্ষ্য করে তাদের মধ্যেকার পার্থক্যকে বিবেচনায় এনেছে। একথা সত্য, নারী তার দৈহিক স্বাভাবিক দুর্বলতার প্রেক্ষিতে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তাও লাভ করে। পশ্চিমা জগত মুসলিম সমাজে নারীর প্রকৃত অবস্থান ভ্রান্তভাবে উপলব্ধ করেছে। এ কারণে তারা মুসলিম সমাজে নারীর অবস্থান সম্পূর্ণ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলামী বিধি-নিষেধ আরোপের ইতিবাচক ফল

📄 ইসলামী বিধি-নিষেধ আরোপের ইতিবাচক ফল


হেলেন আমেরিকান মহিলা সাংবাদিক। সেখানকার অধিকাংশ পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তিনি আরবদেশসমূহ ভ্রমণ কালে ইসলামী সমাজে নারীর পর্দাপ্রথা ও পুত-পবিত্র সামাজিক অবস্থান দেখে অত্যন্ত প্রভাবান্বিত হন। জনসাধারণের সম্মুখে তিনি ঐ সময়কার অভিব্যক্তি যে ভাষায় প্রকাশ করেছিলেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

'আরবীয় সমাজ সুষ্ঠু সমাজ। আরবের সামাজিক নীতিমালা এতই মানানসই যে প্রতিটি তরুণীর তা গ্রহণ করা উচিত। আমেরিকা ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোতে এরকম সুশীল সামাজিক অবস্থা অনুপস্থিত। সে দেশগুলোতে নারী-পুরুষকে অবাধ মেলা-মেশার নিঃশর্ত অনুমতি দেয়া হয়েছে। নারীদের উপর কোন বিধি-নিষেধ নেই। এতে করে পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা লোপ পেয়েছে। চারিত্রিক গুণাবলীর কোন সুনাম নেই। সব ধরনের অশ্লীলতা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। সভ্যতা ও সংস্কৃতির অন্তরালে সেখানকার সমাজে দেখা যায় উন্মাদনা ও বিশৃঙ্খলা।

হে আরবীয় মুসলিম জাতি! তোমাদের সমাজে নারীর প্রতি একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিধি-নিষেধ আরোপিত থাকায় পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি রয়েছে। তোমাদের সামাজিক নীতিমালা এতই উৎকৃষ্ট ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, এতে করে চরিত্রগুণের বিকাশ হবে এবং সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। সব শ্রেণীর মানুষ মৌলিক অধিকার এবং উপযুক্ত সম্মান পাবে। এ জন্যই তোমাদের প্রতি আমার পরামর্শ হল ধর্মীয় ও সামাজিক নীতিমালাগুলো আঁকড়ে ধর। সেগুলোকে বাস্তবায়ন কর। পর্দার বর্তমান প্রচলনকে শুধু এতটুকুতেই সীমিত রেখো না; বরং আরো প্রসারিত কর। নারীর সীমাহীন স্বাধীনতার পথে বিধি-নিষেধ আরোপ কর। ইউরোপ, আমেরিকায় নারী-পুরুষের অবাধ সংসর্গের যে প্রচলন দেখা যায় তা থেকে নিজেদের সমাজকে মুক্ত রাখ। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি ইউরোপের অন্ধ অনুকরণে ইসলামী সমাজনীতি বাদ দাও, নারীদেরকে যা ইচ্ছা তাই করার স্বাধীনতা দাও, তাহলে চারিত্রিক গুণ ও আত্মিক শক্তির অবক্ষয় দেখা দিবে এবং পশ্চিমা সমাজের ন্যায় তোমাদের সমাজেও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। (আওরত, মা, বহিন, বিবি, বেটি)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পরিশিষ্ট (End of Discussion)

📄 পরিশিষ্ট (End of Discussion)


ইসলাম নারীকে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং অন্য সব মানবীয় অধিকার প্রদান করেছে। মানবেতর অবস্থা থেকে মুক্ত করে মানবীয় মর্যাদায় আসীন করেছে। তার যাবতীয় ন্যায্য অধিকারের 'নিশ্চিত ও স্পষ্ট' নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। আল-কুরআন ঘোষণা দিয়েছে 'নারীর সাথে সদ্ব্যবহার কর।' মানবতার মুক্তিদূত প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'নারীকে সর্বোত্তম ঐশ্বর্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন। নারীর ভাগ্যাকাশের ভয়ংকর মেঘমালাকে অপসরণ করে, নারীর সন্ধালোকের বিষন্নতাকে প্রত্যুষের আনন্দ ও উৎফুল্লতায় রূপান্তরিত করেছেন। স্বামীকে স্ত্রীর সাথে প্রেম-ভালবাসা, বন্ধুত্ব ও প্রীতিপূর্ণ আচরণ করতে শিখিয়েছেন। 'নর-নারীর উপর শিক্ষা অর্জন অপরিহার্য'—এ ঘোষণা দিয়ে তিনি নারী জাতিকে অজ্ঞনতার অন্ধকার থেকে মুক্তি দিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোতে দীপ্তিমান করেছেন।

ইসলামের সুউচ্চ ও সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষার ফলে নিকষ অন্ধকারে আবর্তিত নারী সমাজ উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছে। 'মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত' এই ঘোষণা এবং 'মাকে মান্য করা সন্তানের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম'—এসব ঘোষণা দিয়ে ইসলাম মূর্খ নারীর জন্য চিরমুক্তির বার্তা সহ উদিত হয়েছে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মানব সমাজকে এ বার্তা দিয়েছেন যে, নারীর দায়িত্বে পুরুষের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষের দায়িত্বে নারীরও অধিকার রয়েছে। ইসলামের এতসব সুস্পষ্ট ও সুন্দরতম বিধি-ব্যবস্থা পাশ কাটিয়ে যদি মুসলিম সমাজে কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ে বাধা প্রদান করে, শরীয়ত প্রদত্ত স্বাধীনতা সংকুচিত করে তাদেরকে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বংশের স্বেচ্ছাচারিতা এবং তাদের সাথেই সংশ্লিষ্ট। তাদের এই সব অপকর্মের কথা বিবেচনা করলে বলা যায় ইসলামী শরীয়তকে সমালোচনার বস্তুতে পরিণত করা শুধু ভুলই নয়; বরং অবিশ্বস্ততা ও সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নামান্তর।

কল্পনাপ্রসূত বংশীয় অথবা আঞ্চলিক প্রথাকে, শরীয়াত অননুমোদিত প্রথাকে ইসলামী শিক্ষা বলে অভিহিত করলে তা হবে ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ ও প্রতারণা।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারী পুরুষের তুলনামূলক পর্যালোচনা

📄 নারী পুরুষের তুলনামূলক পর্যালোচনা


নারী ও পুরুষের তুলনামূলক বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষণ পাঠকের সম্মুখে তুলে ধরা হচ্ছে:

মানব শরীর হাড়, গোস্ত ও চর্বির সমন্বয় গঠিত। এ সব উপাদানের পরিমিত সমন্বয়কেই শারীরিক গঠন (Body Composition) বলা হয়। এসবের সমন্বয়ের ফলেই শরীর নড়াচড়া ও ব্যায়ামের উপযুক্ত হয়। বিশেষত খেলাধুলার ক্ষেত্রে চর্বির আধিক্য বা স্বল্পতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নারীদের ওজনের প্রায় ২২ শতাংশই চর্বি। অথচ পুরুষের শরীরে এর পরিমাণ মাত্র ১৩ শতাংশ। যদিও দশ বছর বয়স এবং ১০ কিলোগ্রাম ওজন না হওয়া পর্যন্ত উভয়ের মাঝে তেমন কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না, কিন্তু এর পরই মহিলাদের শরীরে চর্বির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। একই বয়স ও ওজনের নারী ও পুরুষের তুলনা করলে দেখা যাবে, পুরুষের তুলনায় নারীর শরীরে চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।

মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ মাংসপেশী, হাড় এবং ত্বকের নীচের চর্বির সমন্বয়ে গঠিত। পুরুষের সমগ্র বাহুতে ৭৬ শতাংশ মাংসপেশী থাকে এবং ত্বকের নীচে ১৭ শতাংশ চর্বি থাকে। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ যথাক্রমে ৬১ ও ৩৩ শতাংশ।

মানুষের পেশী আঁশের সমষ্টি। পেশীর শক্তি আঁশ (ফাইবার) এর সম্প্রসারণ ও সংকোচনের যোগ্যতার উপর নির্ভর করে। দ্রুত সম্প্রসারণশীল আঁশ দ্রুত নড়াচড়া এবং শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না। অবশ্য এ আঁশগুলো দীর্ঘদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। যেহেতু শরীরে উভয় রকমের (দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও দ্রুত সংকোচনশীল) পেশী থাকে, তাই এ সব পেশীর হার নির্ণয় করে শরীরের যোগ্যতা অনুমান করা যায়। নারী পুরুষের পেশীতে তেমন একটা পার্থক্য বুঝা যায় না। কিন্তু শক্তিতে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের উপর পরীক্ষা চালানোর পর জানা গিয়েছে, পুরুষের অনুপাতে নারীর পেশীতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শক্তি পাওয়া যায়। খেলোয়াড় নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হার দেখা যায়। ১৯৮৪ খৃষ্টাব্দে জাপানের গরমাই অলিম্পিকে পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী মহিলাদের বাহুর মাংসপেশীর শক্তি পুরুষদের বাহুর মাংসপেশীর শক্তির তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

এমনিভাবে মহিলাদের পায়ের মাংসপেশীর ক্ষমতা পুরুষের পায়ের মাংসপেশীর ক্ষমতার তুলনায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। ক্ষমতাকে (Power) কর্ম সম্পাদনের গতি ও স্থৈতিক শক্তির ফল বলা হয়। গতিশীলতা ব্যতীত শক্তি ক্ষমতায় পরিণত হতে পারে না। এটি একটি সাধারণ বিষয় যে, কোন বস্তুর ভর কম হলে তাকে দ্রুত উঠানো যায় আর ওজন যার বেশি হবে, তাকে উত্তোলন করতে তত বেশি সময় প্রয়োজন হবে। একটি ছোট্ট পরীক্ষায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে। দেখা গেছে, একই ওজনের জিনিষ পুরুষের চেয়ে নারীর উত্তোলনে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00