📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান 📄 ইসলাম ইহুদী মতবাদের ন্যায় নয় (Islam is not Yahudi Concept)

📄 ইসলাম ইহুদী মতবাদের ন্যায় নয় (Islam is not Yahudi Concept)


মেরি ক্রাবাইটস (সাবেক আমেরিকান জজ) 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের জন্য কি করেছেন' শিরোনামের এক প্রবন্ধে লিখেন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সবচেয়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান হল নারীকে মালিকানা প্রদান। আইনের দৃষ্টিতে স্বামীর যে মর্যাদা, স্ত্রীরও সেই মর্যাদা।

মালিকানা অর্জন সংক্রান্ত বিষয়ে মুসলমান নারীর অধিকার এতদূর বিস্তৃত যে, মালিকানাভুক্ত সম্পদের ব্যবহারে তার স্বাধীনতার তুলনা হল আকাশে মুক্তভাবে বিচরণশীল পাখির স্বাধীনতার অনুরূপ। ইসলামী আইন এ নিশ্চয়তা দিয়েছে, নারী তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীতই নিজস্ব সম্পদ যথেচ্ছভাবে ব্যয় করতে পারবে।— (নুকুশে রাসূল ৩য় খন্ড-১১৫)

দিল্লী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মি. রাজেন্দ্র সজর নয়া দিল্লীর কোন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, 'ইতিহাসের আলোকে নারীকে মালিকানা প্রদান করা নিঃসন্দেহে ইসলামের উদার দৃষ্টিভঙ্গী ও প্রগতিবাদিতার পরিচায়ক।

১৯৫৬ খৃষ্টাব্দে হিন্দু জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নারীদের সহায় সম্পত্তিতে কোন অধিকার ছিল না। অথচ ইসলাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মুসলিম রমনীদেরকে সে অধিকার প্রদান করেছে।' (The Statesman, Delhi, April 26)

এস. টপ লিখেন 'অতীতের এক দীর্ঘ সময়ে পিতৃ-পুরুষের সম্পত্তিতে পশ্চিমা নারীরা কোন অংশ পেত না। তাদেরকে আইনগতভাবেই সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এখনো ইউরোপের অনেক দেশে পিতৃ-বিয়োগের পর পিতৃ-পরিত্যক্ত সম্পদে নারীকে অংশীদার বিবেচনা করা হয় না। তবে পিতা যদি দানপত্র (Will) করে যান, তাহলে সে উত্তরাধিকারিনী বিবেচিত হতে পারে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইনগতভাবেই নারীকে পিতার সম্পদের মালিকানা দান করেছেন।

এস. স্কাট লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন আইন প্রণেতা—যিনি সর্বপ্রথম নারী জাতীর জন্য আইন প্রণয়ন করেন এবং সেই আইনে নারীদের অধিকার সংরক্ষণ করেন। ইতিপূর্বে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নারীকে নিঃসম্বল, অসহায় করে রেখেছিল। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদেরকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হত না। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু বিবাহকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অনুমোদন করে আইন প্রণয়ন করেন এবং নারীকে উত্তরাধিকার প্রদান করেন। (রাহমাতুল্লিল আলামীন, ২য় খন্ড)

মি. পিটার ক্রিপটাস বর্ণনা করেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের অধিকার যেমনভাবে সংরক্ষণ করেছেন, তেমনটি অতীতে অন্য কেউ করে নি। আইনগতভাবে তিনি তাদের মালিকানাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ফলে তারা ধন সম্পদের উত্তরাধিকারিনী হয়েছে। বোরকা পরিহিতা মুসলিম রমনীরা জীবনের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় যে অধিকার পেয়েছে, বিংশ শতাব্দীর উচ্চ শিক্ষিতা, স্বাধীন খৃষ্টান নারীরাও তা পায় নি। (ফারানা, সীরাত সংখ্যা, জানুয়ারী)

জান বেগ (জেনারেল গোলাপ পাশা) দীর্ঘ সময় আরব বিশ্বে অবস্থান করে সীরাতে রাসূল বিষয়ক The Life and Times of Mohammad নামে একটি বই রচনা করেন। এতে তিনি লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থনৈতিক বিষয়ে নারীকে পৈত্রিক সম্পত্তির নির্দিষ্ট এক অংশের মালিকানা দিয়ে সহায়তা করেছেন। নারীকে মাতা-পিতার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইতিপূর্বে শুধু ছেলে সন্তানই পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হত।'

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবজাতিকা মেয়েকে জীবন্ত দাফন করার বিভৎস প্রথা বিলুপ্ত করেছেন। সৎ মায়ের সাথে বিবাহ-বন্ধনকে নিষিদ্ধ করেছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান 📄 বিবাহ ও তালাকের নীতি মালা

📄 বিবাহ ও তালাকের নীতি মালা


বিখ্যাত ইউরোপীয় মনীষী হ্যামিল্টন লিখেন, 'নারী সম্পর্কিত ইসলামী বিধি-বিধান সুস্পষ্ট। ইসলাম নারীকে সম্ভাব্য সব রকমের কষ্ট থেকে ও তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী বিষয় থেকে মুক্তি দেয়ার প্রয়াস পেয়েছে।'

তিনি আরো লিখেন, 'ইসলামে পর্দার বিধানকে কিছু কিছু লোক যত সংকীর্ণ মনে করে, পর্দা ততটা সংকীর্ণ নয়; বরং তা আত্মমর্যাদা, গাম্ভীর্য ও মান-সম্মানের পরিচায়ক।" (ইসলাম আওর আরবী তামাদ্দুন-৯৮)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান 📄 নারী বিষয়ক ইসলামী বিধি নিষেধের স্বরূপ

📄 নারী বিষয়ক ইসলামী বিধি নিষেধের স্বরূপ


সার জান ব্যাগেট ইসলামী সমাজে নারীর উপর আরোপিত বিধি-নিষেধসমূহ পর্যালোচনার এক পর্যায়ে লিখেন "নারীর উপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আরোপিত বিধি-নিষেধ শুধু চারিত্রিক বিষয়াবলীতে সীমিত। এতে নারীকে হেয় করা, নারীর প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কিংবা নির্দয় আচরণের নিদর্শনও নেই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো নারীদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। (মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ-৩৩১-৩৩২)

অন্য এক জায়গায় তিনি লিখেন, 'নারীর উপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আরোপিত বিধি-নিষেধ কঠোর প্রকৃতির নয়; বরং এ বিধি-নিষেধ তাদের জীবন চলাকে সহজসাধ্য ও সুগম করেছে।" তাঁর কলম এতটুকুতেই তৃপ্ত হয় নি। তিনি আরো লিখেছেন, 'ইসলাম জীবন-কাঠামোর অবয়বে স্বতন্ত্র সীমারেখা টেনে নারী পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীকে পৃথক করেছে। জীবনের বিভিন্ন দিক লক্ষ্য করে তাদের মধ্যেকার পার্থক্যকে বিবেচনায় এনেছে। একথা সত্য, নারী তার দৈহিক স্বাভাবিক দুর্বলতার প্রেক্ষিতে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তাও লাভ করে। পশ্চিমা জগত মুসলিম সমাজে নারীর প্রকৃত অবস্থান ভ্রান্তভাবে উপলব্ধ করেছে। এ কারণে তারা মুসলিম সমাজে নারীর অবস্থান সম্পূর্ণ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান 📄 ইসলামী বিধি-নিষেধ আরোপের ইতিবাচক ফল

📄 ইসলামী বিধি-নিষেধ আরোপের ইতিবাচক ফল


হেলেন আমেরিকান মহিলা সাংবাদিক। সেখানকার অধিকাংশ পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তিনি আরবদেশসমূহ ভ্রমণ কালে ইসলামী সমাজে নারীর পর্দাপ্রথা ও পুত-পবিত্র সামাজিক অবস্থান দেখে অত্যন্ত প্রভাবান্বিত হন। জনসাধারণের সম্মুখে তিনি ঐ সময়কার অভিব্যক্তি যে ভাষায় প্রকাশ করেছিলেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

'আরবীয় সমাজ সুষ্ঠু সমাজ। আরবের সামাজিক নীতিমালা এতই মানানসই যে প্রতিটি তরুণীর তা গ্রহণ করা উচিত। আমেরিকা ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোতে এরকম সুশীল সামাজিক অবস্থা অনুপস্থিত। সে দেশগুলোতে নারী-পুরুষকে অবাধ মেলা-মেশার নিঃশর্ত অনুমতি দেয়া হয়েছে। নারীদের উপর কোন বিধি-নিষেধ নেই। এতে করে পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা লোপ পেয়েছে। চারিত্রিক গুণাবলীর কোন সুনাম নেই। সব ধরনের অশ্লীলতা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। সভ্যতা ও সংস্কৃতির অন্তরালে সেখানকার সমাজে দেখা যায় উন্মাদনা ও বিশৃঙ্খলা।

হে আরবীয় মুসলিম জাতি! তোমাদের সমাজে নারীর প্রতি একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিধি-নিষেধ আরোপিত থাকায় পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি রয়েছে। তোমাদের সামাজিক নীতিমালা এতই উৎকৃষ্ট ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, এতে করে চরিত্রগুণের বিকাশ হবে এবং সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। সব শ্রেণীর মানুষ মৌলিক অধিকার এবং উপযুক্ত সম্মান পাবে। এ জন্যই তোমাদের প্রতি আমার পরামর্শ হল ধর্মীয় ও সামাজিক নীতিমালাগুলো আঁকড়ে ধর। সেগুলোকে বাস্তবায়ন কর। পর্দার বর্তমান প্রচলনকে শুধু এতটুকুতেই সীমিত রেখো না; বরং আরো প্রসারিত কর। নারীর সীমাহীন স্বাধীনতার পথে বিধি-নিষেধ আরোপ কর। ইউরোপ, আমেরিকায় নারী-পুরুষের অবাধ সংসর্গের যে প্রচলন দেখা যায় তা থেকে নিজেদের সমাজকে মুক্ত রাখ। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি ইউরোপের অন্ধ অনুকরণে ইসলামী সমাজনীতি বাদ দাও, নারীদেরকে যা ইচ্ছা তাই করার স্বাধীনতা দাও, তাহলে চারিত্রিক গুণ ও আত্মিক শক্তির অবক্ষয় দেখা দিবে এবং পশ্চিমা সমাজের ন্যায় তোমাদের সমাজেও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। (আওরত, মা, বহিন, বিবি, বেটি)

ফন্ট সাইজ
15px
17px