📄 জীবন্ত সমাহিত করার নীতি বিলুপ্তকরণ
বিশিষ্ট হিন্দু সাহিত্যিক, লেখক গোসামী লাকশমন প্রাসাদ 'আরব কা চান্দ' গ্রন্থে ইসলাম পূর্ব যুগে নারীর অবস্থা ব্যক্ত করতে গিয়ে লিখেন "মানুষ পাশবিকতার রঙ্গে নিজেকে রঞ্জিত করেছে। নারীর সাথে গোলাম সুলভ আচরণ করা বৈধ ছিল। পাঁচ সাত বছরের পুষ্প সদৃশ শিশুকে পানাহার করিয়ে নবসাজে সজ্জিত করে বাইরে কোন গর্তে ফেলে মাটি চাপা দেয়া অন্যায় অত্যাচারের এক সামান্য রূপ ছিল। '(আরব কা চান্দ- ৩৬, ৩৭)
আইরিনা মেড মক্স লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি জিনিসকে নিজের প্রিয়তম বস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন: নামায-রোজা, খোশবু ও নারী।' নারী তাঁর কাছে সম্মানিত। যে সমাজে পুরুষ মেয়ে সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত, সেখানে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে জীবন-ধারণের অধিকার প্রদান করেছেন। (Women in Islam-1930)
রেভেন্ড জি.এম. রারভিল একজন কট্টরপন্থী খৃষ্টান। তিনিও এ বাস্তবতা স্বীকার না করে পারেন নি যে, 'কুরআনি শিক্ষার প্রভাবে সাদাসিধে যাযাবর, বেদুইন লোকদের অবস্থা এমন পরিবর্তিত হল যেন তারা মন্ত্রমুগ্ধ। মূর্তি পূজাড় মূলোৎপাটন করা, জিন এবং অন্যান্য বস্তুর পূজার স্থলে এক আল্লাহর উপাসনা কায়েম করা, সন্তান হত্যা ও অপবাদ বন্ধ করা, বহু বিবাহের সংখ্যা কমিয়ে নির্দিষ্ট একটা পরিসীমায় সীমাবদ্ধ করা—এ সব বিষয় নিঃসন্দেহে আরবদের জন্য কল্যাণপ্রদ ছিল, যদিও খৃষ্টীয় মানসিকতা এটা মানতে রাজী নয়। (ফোরকান, সেপ্টেম্বর-১৯৭৬ ইং)
📄 নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের কৃতিত্ব
'দি রিলিজিয়াস হিষ্টরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড' এর লেখক জে.এম. রবার্টস লিখেন 'ইসলামের আগমন অনেক দিক বিবেচনায় বিপ্লবাত্মক। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, ইসলাম মালিকানা অর্জনকে আইনগতভাবে নারীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ এ অধিকার খৃষ্টীয় উনিশ শতক পর্যন্ত ইউরোপীয় অধিকাংশ খৃষ্টীয় রাষ্ট্রে বিদ্যমান ছিল না। ইসলামে গোলামেরও অধিকার ছিল। ঈমানদার লোকদের মাঝে কোন শ্রেণীভেদ ছিল না। আর না ছিল কোন জন্মগত বিভেদ। এই বিপ্লবের মূলে ছিল এমন কিছু ধর্মীয় নীতিমালা যাতে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
📄 ইসলাম ইহুদী মতবাদের ন্যায় নয় (Islam is not Yahudi Concept)
মেরি ক্রাবাইটস (সাবেক আমেরিকান জজ) 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের জন্য কি করেছেন' শিরোনামের এক প্রবন্ধে লিখেন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সবচেয়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান হল নারীকে মালিকানা প্রদান। আইনের দৃষ্টিতে স্বামীর যে মর্যাদা, স্ত্রীরও সেই মর্যাদা।
মালিকানা অর্জন সংক্রান্ত বিষয়ে মুসলমান নারীর অধিকার এতদূর বিস্তৃত যে, মালিকানাভুক্ত সম্পদের ব্যবহারে তার স্বাধীনতার তুলনা হল আকাশে মুক্তভাবে বিচরণশীল পাখির স্বাধীনতার অনুরূপ। ইসলামী আইন এ নিশ্চয়তা দিয়েছে, নারী তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীতই নিজস্ব সম্পদ যথেচ্ছভাবে ব্যয় করতে পারবে।— (নুকুশে রাসূল ৩য় খন্ড-১১৫)
দিল্লী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মি. রাজেন্দ্র সজর নয়া দিল্লীর কোন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, 'ইতিহাসের আলোকে নারীকে মালিকানা প্রদান করা নিঃসন্দেহে ইসলামের উদার দৃষ্টিভঙ্গী ও প্রগতিবাদিতার পরিচায়ক।
১৯৫৬ খৃষ্টাব্দে হিন্দু জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নারীদের সহায় সম্পত্তিতে কোন অধিকার ছিল না। অথচ ইসলাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মুসলিম রমনীদেরকে সে অধিকার প্রদান করেছে।' (The Statesman, Delhi, April 26)
এস. টপ লিখেন 'অতীতের এক দীর্ঘ সময়ে পিতৃ-পুরুষের সম্পত্তিতে পশ্চিমা নারীরা কোন অংশ পেত না। তাদেরকে আইনগতভাবেই সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এখনো ইউরোপের অনেক দেশে পিতৃ-বিয়োগের পর পিতৃ-পরিত্যক্ত সম্পদে নারীকে অংশীদার বিবেচনা করা হয় না। তবে পিতা যদি দানপত্র (Will) করে যান, তাহলে সে উত্তরাধিকারিনী বিবেচিত হতে পারে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইনগতভাবেই নারীকে পিতার সম্পদের মালিকানা দান করেছেন।
এস. স্কাট লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন আইন প্রণেতা—যিনি সর্বপ্রথম নারী জাতীর জন্য আইন প্রণয়ন করেন এবং সেই আইনে নারীদের অধিকার সংরক্ষণ করেন। ইতিপূর্বে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নারীকে নিঃসম্বল, অসহায় করে রেখেছিল। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদেরকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হত না। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু বিবাহকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অনুমোদন করে আইন প্রণয়ন করেন এবং নারীকে উত্তরাধিকার প্রদান করেন। (রাহমাতুল্লিল আলামীন, ২য় খন্ড)
মি. পিটার ক্রিপটাস বর্ণনা করেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের অধিকার যেমনভাবে সংরক্ষণ করেছেন, তেমনটি অতীতে অন্য কেউ করে নি। আইনগতভাবে তিনি তাদের মালিকানাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ফলে তারা ধন সম্পদের উত্তরাধিকারিনী হয়েছে। বোরকা পরিহিতা মুসলিম রমনীরা জীবনের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় যে অধিকার পেয়েছে, বিংশ শতাব্দীর উচ্চ শিক্ষিতা, স্বাধীন খৃষ্টান নারীরাও তা পায় নি। (ফারানা, সীরাত সংখ্যা, জানুয়ারী)
জান বেগ (জেনারেল গোলাপ পাশা) দীর্ঘ সময় আরব বিশ্বে অবস্থান করে সীরাতে রাসূল বিষয়ক The Life and Times of Mohammad নামে একটি বই রচনা করেন। এতে তিনি লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থনৈতিক বিষয়ে নারীকে পৈত্রিক সম্পত্তির নির্দিষ্ট এক অংশের মালিকানা দিয়ে সহায়তা করেছেন। নারীকে মাতা-পিতার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইতিপূর্বে শুধু ছেলে সন্তানই পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হত।'
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবজাতিকা মেয়েকে জীবন্ত দাফন করার বিভৎস প্রথা বিলুপ্ত করেছেন। সৎ মায়ের সাথে বিবাহ-বন্ধনকে নিষিদ্ধ করেছেন।
📄 বিবাহ ও তালাকের নীতি মালা
বিখ্যাত ইউরোপীয় মনীষী হ্যামিল্টন লিখেন, 'নারী সম্পর্কিত ইসলামী বিধি-বিধান সুস্পষ্ট। ইসলাম নারীকে সম্ভাব্য সব রকমের কষ্ট থেকে ও তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী বিষয় থেকে মুক্তি দেয়ার প্রয়াস পেয়েছে।'
তিনি আরো লিখেন, 'ইসলামে পর্দার বিধানকে কিছু কিছু লোক যত সংকীর্ণ মনে করে, পর্দা ততটা সংকীর্ণ নয়; বরং তা আত্মমর্যাদা, গাম্ভীর্য ও মান-সম্মানের পরিচায়ক।" (ইসলাম আওর আরবী তামাদ্দুন-৯৮)