📄 আই রাইডন এর ভাষ্য
মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত সত্য ও মূল ইসলাম নারী সমাজকে যে অধিকার প্রদান করেছে ইতিপূর্বে কোথাও নারীদেরকে এমন অধিকার প্রদানের দৃষ্টান্ত দেখা যায় না। (Christianity, Islam and The Negro Race)
ডব্লিউ কিশ লেখেন 'ইসলামই সর্বপ্রথম নারী সমাজকে মানবাধিকার প্রদান করেছে এবং তাদেরকে তালাকের অধিকার দিয়েছে।' (The Expansion of Islam)
ডব্লিউ লাইটার লিখেন, 'মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে যে সম্মানের আসনে আসীন করেছেন, তা প্রাচাত্য সমাজ ও অন্যান্য ধর্মে ছিল না।" (Mohammadanism in Religious Systems of The World)
প্রফেসর রাম কৃষ্ণ রাও কয়েক বছর পূর্বে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনীর উপর "ইসলামের পয়গাম্বর মোহাম্মদ" (Mohammad, The Prophet of Islam) নামে একটি বই রচনা করেন। এতে ইসলাম ও আধুনিক সভ্যতা পর্যালোচনা করার পর তিনি লিখেন, "ইসলাম নারীকে পুরুষের দাসত্ব করা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ইসলাম শিক্ষা দেয়, মানুষ পূর্ব-পুরুষের পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত। পুরুষ নারী একই মৌল উপাদান থেকে সৃষ্ট। উভয়ের একই রকম আত্মা এবং মানসিক ও চারিত্রিক যোগ্যতা সমান।"
তিনি আরো লিখেন, 'আরবের এক শিকড়-গাড়া রীতি ছিল একমাত্র বর্শা ও তলোয়ার ব্যবহার করতে সক্ষমরাই উত্তরাধিকারী হতে পারবে। কিন্তু ইসলাম দুর্বল-অসহায় লোকদের পক্ষাবলম্বন করেছে। নারীকে পিতা-মাতার উত্তরাধিকারিনী সাব্যস্ত করেছে। কয়েক শত বছর পূর্বে ইসলাম নারীকে সম্পদের মালিকানার অধিকার দিয়েছে। তার ১৩ শত বছর অতীত হওয়ার পর ১৮৮১ ইংরেজিতে গণতন্ত্রের জনক ইংল্যান্ড ইসলামের সে নীতি আকঁড়ে ধরেছে এবং সে নীতিকে 'বিবাহিত নারীর আইন' নামকরণ করে নিজেদের আইনের অন্তর্ভুক্ত করেছে। পয়গম্বরে ইসলাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দিন পূর্বেই ঘোষণা করেছেন 'নারী পুরুষের অর্ধাংশ পাবে, নারীর অধিকার পবিত্র, তা থেকে নারী যেন বঞ্চিত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখবে।' (ইসলামে পয়গম্বর মোহম্মদ)
মিসেস এ্যানী বেসেন্ট 'ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার' সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেন, 'স্মরণ রেখো, ইসলামী বিধান যার কিয়দাংশ ইংল্যান্ডেও চালু হয়েছে, নিশ্চয় সম্পূর্ণ ন্যায়ানুগ ও যুক্তিযুক্ত। সম্পত্তি ও তালাক সম্পর্কিত ইসলামি বিধি পশ্চিমা নীতি থেকে অনেক অগ্রগণ্য। আমরা আজকে যেগুলোকে নারী অধিকারের নীতি মনে করি, তার তুলনায় ইসলামী নীতি নারীদের অধিকারকে আরো অনেক ব্যাপকতর করেছে। (The Life and Teaching of Mohammad)
বিশিষ্ট সীরাত রচয়িতা আর.ভি.সি. বাড়লে ইসলাম, বর্তমান সভ্যতা এবং বিভিন্ন মতবাদে নারীর অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কিত তুলনামূলক আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন, 'এই সমস্ত নীতিমালা পাশ্চাত্য রাষ্ট্রসমূহের তুলনায় আরবদেশে নারীর মান-সম্মান অনেক বৃদ্ধি করেছে। আজকেও মূলত একজন মুসলমান পুরুষের স্ত্রীর সম্পদে এতটুকু অধিকার নেই, স্বামীর সম্পদে স্ত্রীর যে পরিমাণ অধিকার রয়েছে। আজ থেকে তেরশত বছর পূর্বে ইসলাম নারীকে সম্পদের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করেছে।
তিনি আরো লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আনীত এ ধরনের বিধি বিধান কেউ অধ্যায়ন করলে, তাঁর বদনামকারীদের অবিচারসমূহ দেখে অবাক হতে হবে। মনে হবে, তারা যেন ইসলামী নারী শিক্ষার সমালোচনা করে এবং মুসলিম রমনীদেরকে অন্যান্য মহিলাদের দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন করে আত্মতৃপ্তি লাভ করে। (The Messenger-356)
📄 জীবন্ত সমাহিত করার নীতি বিলুপ্তকরণ
বিশিষ্ট হিন্দু সাহিত্যিক, লেখক গোসামী লাকশমন প্রাসাদ 'আরব কা চান্দ' গ্রন্থে ইসলাম পূর্ব যুগে নারীর অবস্থা ব্যক্ত করতে গিয়ে লিখেন "মানুষ পাশবিকতার রঙ্গে নিজেকে রঞ্জিত করেছে। নারীর সাথে গোলাম সুলভ আচরণ করা বৈধ ছিল। পাঁচ সাত বছরের পুষ্প সদৃশ শিশুকে পানাহার করিয়ে নবসাজে সজ্জিত করে বাইরে কোন গর্তে ফেলে মাটি চাপা দেয়া অন্যায় অত্যাচারের এক সামান্য রূপ ছিল। '(আরব কা চান্দ- ৩৬, ৩৭)
আইরিনা মেড মক্স লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি জিনিসকে নিজের প্রিয়তম বস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন: নামায-রোজা, খোশবু ও নারী।' নারী তাঁর কাছে সম্মানিত। যে সমাজে পুরুষ মেয়ে সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত, সেখানে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে জীবন-ধারণের অধিকার প্রদান করেছেন। (Women in Islam-1930)
রেভেন্ড জি.এম. রারভিল একজন কট্টরপন্থী খৃষ্টান। তিনিও এ বাস্তবতা স্বীকার না করে পারেন নি যে, 'কুরআনি শিক্ষার প্রভাবে সাদাসিধে যাযাবর, বেদুইন লোকদের অবস্থা এমন পরিবর্তিত হল যেন তারা মন্ত্রমুগ্ধ। মূর্তি পূজাড় মূলোৎপাটন করা, জিন এবং অন্যান্য বস্তুর পূজার স্থলে এক আল্লাহর উপাসনা কায়েম করা, সন্তান হত্যা ও অপবাদ বন্ধ করা, বহু বিবাহের সংখ্যা কমিয়ে নির্দিষ্ট একটা পরিসীমায় সীমাবদ্ধ করা—এ সব বিষয় নিঃসন্দেহে আরবদের জন্য কল্যাণপ্রদ ছিল, যদিও খৃষ্টীয় মানসিকতা এটা মানতে রাজী নয়। (ফোরকান, সেপ্টেম্বর-১৯৭৬ ইং)
📄 নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের কৃতিত্ব
'দি রিলিজিয়াস হিষ্টরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড' এর লেখক জে.এম. রবার্টস লিখেন 'ইসলামের আগমন অনেক দিক বিবেচনায় বিপ্লবাত্মক। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, ইসলাম মালিকানা অর্জনকে আইনগতভাবে নারীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ এ অধিকার খৃষ্টীয় উনিশ শতক পর্যন্ত ইউরোপীয় অধিকাংশ খৃষ্টীয় রাষ্ট্রে বিদ্যমান ছিল না। ইসলামে গোলামেরও অধিকার ছিল। ঈমানদার লোকদের মাঝে কোন শ্রেণীভেদ ছিল না। আর না ছিল কোন জন্মগত বিভেদ। এই বিপ্লবের মূলে ছিল এমন কিছু ধর্মীয় নীতিমালা যাতে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
📄 ইসলাম ইহুদী মতবাদের ন্যায় নয় (Islam is not Yahudi Concept)
মেরি ক্রাবাইটস (সাবেক আমেরিকান জজ) 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের জন্য কি করেছেন' শিরোনামের এক প্রবন্ধে লিখেন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সবচেয়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান হল নারীকে মালিকানা প্রদান। আইনের দৃষ্টিতে স্বামীর যে মর্যাদা, স্ত্রীরও সেই মর্যাদা।
মালিকানা অর্জন সংক্রান্ত বিষয়ে মুসলমান নারীর অধিকার এতদূর বিস্তৃত যে, মালিকানাভুক্ত সম্পদের ব্যবহারে তার স্বাধীনতার তুলনা হল আকাশে মুক্তভাবে বিচরণশীল পাখির স্বাধীনতার অনুরূপ। ইসলামী আইন এ নিশ্চয়তা দিয়েছে, নারী তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীতই নিজস্ব সম্পদ যথেচ্ছভাবে ব্যয় করতে পারবে।— (নুকুশে রাসূল ৩য় খন্ড-১১৫)
দিল্লী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মি. রাজেন্দ্র সজর নয়া দিল্লীর কোন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, 'ইতিহাসের আলোকে নারীকে মালিকানা প্রদান করা নিঃসন্দেহে ইসলামের উদার দৃষ্টিভঙ্গী ও প্রগতিবাদিতার পরিচায়ক।
১৯৫৬ খৃষ্টাব্দে হিন্দু জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নারীদের সহায় সম্পত্তিতে কোন অধিকার ছিল না। অথচ ইসলাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মুসলিম রমনীদেরকে সে অধিকার প্রদান করেছে।' (The Statesman, Delhi, April 26)
এস. টপ লিখেন 'অতীতের এক দীর্ঘ সময়ে পিতৃ-পুরুষের সম্পত্তিতে পশ্চিমা নারীরা কোন অংশ পেত না। তাদেরকে আইনগতভাবেই সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এখনো ইউরোপের অনেক দেশে পিতৃ-বিয়োগের পর পিতৃ-পরিত্যক্ত সম্পদে নারীকে অংশীদার বিবেচনা করা হয় না। তবে পিতা যদি দানপত্র (Will) করে যান, তাহলে সে উত্তরাধিকারিনী বিবেচিত হতে পারে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইনগতভাবেই নারীকে পিতার সম্পদের মালিকানা দান করেছেন।
এস. স্কাট লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন আইন প্রণেতা—যিনি সর্বপ্রথম নারী জাতীর জন্য আইন প্রণয়ন করেন এবং সেই আইনে নারীদের অধিকার সংরক্ষণ করেন। ইতিপূর্বে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নারীকে নিঃসম্বল, অসহায় করে রেখেছিল। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদেরকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হত না। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু বিবাহকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অনুমোদন করে আইন প্রণয়ন করেন এবং নারীকে উত্তরাধিকার প্রদান করেন। (রাহমাতুল্লিল আলামীন, ২য় খন্ড)
মি. পিটার ক্রিপটাস বর্ণনা করেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের অধিকার যেমনভাবে সংরক্ষণ করেছেন, তেমনটি অতীতে অন্য কেউ করে নি। আইনগতভাবে তিনি তাদের মালিকানাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ফলে তারা ধন সম্পদের উত্তরাধিকারিনী হয়েছে। বোরকা পরিহিতা মুসলিম রমনীরা জীবনের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় যে অধিকার পেয়েছে, বিংশ শতাব্দীর উচ্চ শিক্ষিতা, স্বাধীন খৃষ্টান নারীরাও তা পায় নি। (ফারানা, সীরাত সংখ্যা, জানুয়ারী)
জান বেগ (জেনারেল গোলাপ পাশা) দীর্ঘ সময় আরব বিশ্বে অবস্থান করে সীরাতে রাসূল বিষয়ক The Life and Times of Mohammad নামে একটি বই রচনা করেন। এতে তিনি লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থনৈতিক বিষয়ে নারীকে পৈত্রিক সম্পত্তির নির্দিষ্ট এক অংশের মালিকানা দিয়ে সহায়তা করেছেন। নারীকে মাতা-পিতার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইতিপূর্বে শুধু ছেলে সন্তানই পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হত।'
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবজাতিকা মেয়েকে জীবন্ত দাফন করার বিভৎস প্রথা বিলুপ্ত করেছেন। সৎ মায়ের সাথে বিবাহ-বন্ধনকে নিষিদ্ধ করেছেন।