📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারীর উপর ইসলামের অনুগ্রহ

📄 নারীর উপর ইসলামের অনুগ্রহ


নারী মানব সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ও মূলস্তম্ভ, মানব বাগিচার শোভা। তাই ইসলাম অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে নারীর প্রাপ্য যাবতীয় অধিকার প্রদান করেছে। নারীকে ইসলাম গৃহকর্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যান্য সম্প্রদায় ও মতবাদের সম্পূর্ণ বিপরীতে ইসলাম নারীর ব্যক্তিগত মালিকানা অনুমোদন করেছে। স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে স্বামীর সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দ্বিতীয় বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বৈধতা ইসলাম শুধু স্বীকার করে নি; বরং উৎসাহিতও করেছে। ধন-সম্পদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছে এবং সেই সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের সব রকম ব্যবহারের অধিকার দিয়েছে। তাকে সম্মানের আসনে সমাসীন করেছে। তার সামাজিক ও পারিবারিক অধিকার নিশ্চিত করেছে।

হযরত উমর ফারুক রাযি বলেন, "ধর্মহীন অজ্ঞনতার যুগে আমরা নারীকে 'বিবেচনা করার উপযুক্ত' এমন কিছু মনে করতাম না। (অর্থাৎ সমাজ জীবনে তাদেরকে বিশেষত্ব অথবা গুরুত্ব দিতাম না) কিন্তু ইসলামের সাথে আমাদের পরিচিতির পর আল্লাহ তা'আলা নারীদের বিশেষত্ব ও গুরুত্ব তুলে ধরতে স্বতন্ত্র আয়াত অবতীর্ণ করার তাদের দায়িত্বে আমাদের প্রাপ্য থাকার ন্যায় আমাদের দায়িত্বেও তাদের প্রাপ্য থাকার বিষয়টি আমরা উপলব্ধি করলাম। (বুখারী শরীফ, কিতাবুল লিবাস)

কুরআন বর্ণিত উত্তরাধিকারী আইন ও নারীর অধিকারসমূহ ইউরোপীয় উত্তরাধিকার ও নারী অধিকার সংক্রান্ত আইনের তুলনায় অনেক বেশি কল্যাণকর এবং এগুলোর ব্যাপ্তিও বেশি। নারীর প্রকৃতির সাথে এ আইনগুলোও সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে কুরআনুল কারীম এবং হাদীস থেকে দৃষ্টি সরিয়ে অমুসলিম ঐতিহাসিক ও প্রাজ্ঞ মনীষীগণের অভিমত উপস্থিত করছি। এসব অভিমত এটা বলে দেয় যে, ইসলামই মূলত নারীর অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা ও জিম্মাদার, নারী স্বাধীনতার রক্ষক। অতএব নারী স্বাধীনতা ও নারী অধিকার আন্দোলনের তথাকথিত ধজাধারী গোষ্ঠী এবং ইসলামী শিক্ষার-অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিবর্গের আত্ম-জাগরণ হওয়া দরকার। কেননা অসংখ্য অমুসলিম দার্শনিক, ঐতিহাসিক, চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক এমনকি গির্জার পাদ্রি পর্যন্ত ইসলামকে 'নারী স্বাধীনতা ও নারী মুক্তি'-র বার্তা বলে স্বীকার করেছে।

ফ্রান্সের এক বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ 'ডা. গোসতাওলী বান' 'প্রাচ্যের নারীদের উপর ইসলামের প্রভাব' শীর্ষক প্রবন্ধের এক স্থানে লিখেন 'ইসলাম নারীদের কৃষ্টির উপর অত্যন্ত সার্থক ও সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। ইসলাম লাঞ্ছনা-বঞ্চনা থেকে নারীকে মুক্তি দিয়ে তার মাথায় সম্মানের মুকুট পড়িয়েছে। কম-বেশি সর্বক্ষেত্রে তাদের অবস্থাকে উন্নততর করেছে। কুরআন বর্ণিত উত্তরাধিকার আইন ও নারীর অধিকারসমূহ ইউরোপীয় উত্তরাধিকার ও নারী অধিকার সংক্রান্ত আইনের তুলনায় অনেক বেশি কল্যাণকর। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে আইনের সীমায় আনার দিকে থেকে এর ব্যাপকতা বেশি, এবং নারীর প্রকৃতির সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

সম্মানিত লেখক আরো লিখেন— নারীর অবস্থা ও অবস্থানের উপর ইসলামের অবদান কি তা আলোচনা করার উত্তম পদ্ধতি হলো ইসলামী দর্শন ও নারী সংক্রান্ত ইসলামী আইন কানুনের প্রভাবে পরিবর্তিত হওয়ার পূর্বে নারীরা কি অবস্থায় ছিল—তা অবহিত হওয়া। কুরআনুল কারীমের কতক বিধি-নিষেধ থেকে ইসলামের পূর্বে নারীদের সাথে কৃত আচরণ অনুধাবন করা যায়। যেমন আল্লাহ্ তাআলা বলেন "বিবাহ কর না ঐ মেয়েদেরকে—যাদেরকে ইতোপূর্বে তোমাদের পিতা-মাতামহ বিবাহ করেছেন কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল ও সর্বনেশে কাজ ও নিকৃষ্ট প্রথা। তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনী কন্যা, তোমাদের সে মাতা যারা তোমাদেরকে দুধ পান করিয়েছে, দুধ বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা—যা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তাহলে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরষজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দু' বোনকে একত্রিত করা, তবে যা অতীত হয়ে গিয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাকারী দয়ালু।" (সূরা নিসা ২২-২৩)

এ আয়াতের বিধি-বিধান থেকেই বুঝা যায়, যারা এ সমস্ত বিধি-নিষেধ মেনে চলে তাদের কর্মপন্থা কতই না মহৎ, কতই না পবিত্র। তিনি আরো লিখেন, ইসলাম নারী সম্পর্কিত যে সব বিধান প্রস্তাব করেছে তা নারীদেরকে কতটুকু প্রভাবিত করেছে এবং সে প্রভাব কতটুকু ইতিবাচক বা নেতিবাচক তা অনুধাবন করতে হলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আছে এমন সমাজে, এমন যুগে নারীদের অবস্থা কি ছিল তা পর্যালোচনা করতে হবে।

নিম্নে আমরা ঐতিহাসিকদের কিছু তথ্য তুলে ধরব। এ থেকে উপলব্ধি করা যাবে, ইসলামী সংস্কৃতিতে নারীকে ঐ মর্যাদা দেয়া হয়েছে, যে মর্যাদা ইউরোপে অনেক দিন পর নারীরা অর্জন করতে যাচ্ছে। বিশেষত ঐ সময়ের পূর্বে তা অর্জিত হওয়াও শুরু হয়নি, যতক্ষণ না ইউরোপের স্পেনে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেখান থেকে ইসলামের বীরত্বপূর্ণ চেতনা ইউরোপে বিস্তার করেছে। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে, ইউরোপের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, নারীদের প্রতি আচরণও তার শামিল, আরব থেকে এসেছে।

ইউরোপীয়দের এ সব আচার-আচরণ খ্রীষ্টিয় ধর্ম থেকে ইউরোপ অর্জন করেছে একরম ভাবার যে প্রবণতা তা ঠিক নয়। বরং ইউরোপ এটা পেয়েছে আরবদের কাছ থেকে। ইসলাম নারীকে ঐ সময়েই দুর্দশাপূর্ণ অবস্থা থেকে সমৃদ্ধশীল করেছে। (তামুদ্দুনে আরব-২৭৩, ৭৪, ৭৫)

ইসলাম নারীকে জ্ঞান ও শিক্ষায় যে উচ্চতর পর্যায়ে আসীন করেছে সে সম্পর্কে আলোচনার পর গ্রন্থাকার লিখেন—আমি এটাই তুলে ধরলাম যে, "ইসলাম নারীর মর্যাদাকে সংকুচিত করে নি; বরং বৃদ্ধি করেছে, এই অভিমত সম্পূর্ণ বাস্তব ও সঠিক।”

আমিই এই অভিমতের প্রথম প্রবক্তা নই; বরং আমার পূর্বেও মস্যিউ কোসান দি পারসুঁয়াও এই মতই পোষণ করতেন এবং বর্তমানেও মস্যিউ মার্থ্য লেমি সেন্ট হেলারও এ বিষয়ে একমত। ধর্মসমূহের মধ্যে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা নারীদের অবস্থার উন্নতি সাধন করেছে—এ বিষয়টি সহজেই অনুমেয়। কারণ ইসলাম পূর্ব যুগে আরবে অনেক ধর্ম প্রচলিত ছিল। কিন্তু সে সময়ে নারীদের অবস্থা খুব শোচনীয় ছিল।"

ডা. গোসতাওলী বান তার অভিমতের সমর্থনে লিখেন, 'গ্রিসে সাধারণত নারীদেরকে নিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন সৃষ্টি বলে মনে করা হত। গার্হস্থ কাজ-কর্ম ও বংশ বৃদ্ধিই ছিল তার কাজ। কোন নারীর গর্ভে অস্বাভাবিক সন্তান জন্ম নিলে ঐ নারীকে হত্যা করে ফেলা হত।'

তিনি আরো লিখেন 'আগের যুগে নারীদের সাথে কি পরিমাণ কঠোরতা করা হত, তা তাদের তৈরি আইনের ভাষায় পাঠ করুন—তুফান, মৃত্যু, জাহান্নাম, বিষ ও বিষধর সাপ কোন কিছুই এ পরিমাণ ক্ষতিকর নয়, যতটা ক্ষতিকর নারী।' বাইবেলেও ঠিক অনুরূপ লেখা আছে—'নারী মৃত্যুর চেয়েও বেশি তিক্ত।' 'তৌরতের নসিহতনামা' অধ্যায়ে লিখা আছে খোদার প্রিয় ব্যক্তিরা নিজেকে নারী থেকে দূরে রাখবে। আমি হাজারো মানুষের মাঝে শুধু একজনকে (পুরুষ) খোদার প্রিয়তম পেয়েছি। কিন্তু জগতের সমগ্র নারীদের মধ্যে একজনকেও এমন পাইনি—যে খোদার প্রিয়। (তামুদ্দুনে আরব-৩৭৬)

বিশিষ্ট ইউরোপীয় লেখক প্রফেসর ডি.এস. মারগুলিউল ইসলাম ও ইসলাম প্রবর্তক নবীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপোষণ, অপবাদ আরোপ, অভিযোগ উত্থাপন ও নিন্দাবাদের কোন সুযোগকে কাজে লাগাতে ভুল করেন নি। তিনি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী গ্রন্থ Life of Mohammad Pbuh রচনা করেন। এতে মনগড়া অভিযোগের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও এক জায়গায় লিখেন, 'অজ্ঞতার যুগে আরবরা ছাড়াও ইহুদী, খৃষ্টান কেউই কোন দিন এটা কল্পনা করে নি যে, নারীরাও ইজ্জত, সম্মান ও ধন-সম্পদের অধিকারিনী হতে পারে।' এই ধর্মগুলো নারীদেরকে তো এ অনুমতি দেয় নি যে, নারীরা কোন জীবিকা অবলম্বন করে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাবে। ঐ সমস্ত ধর্ম, কৃষ্টি ও সমাজে একেকজন নারী ছিল একেকজন ক্রীতদাসী। ধর্মসমূহের মধ্যে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে নারীকে স্বাধীনতা, স্বকীয়তা ও স্বনির্ভরতা দান করেছেন।'

বিশিষ্ট বিদ্যান মানসিউরিফল এর ভাষ্য, 'ইসলামের নবীর যুগের দিকে মনোনিবেশ করলে মনে হয়, তিনিই নারীর জন্য কল্যাণকর বিধি-বিধান প্রণয়ন করেন, অন্য কেউ করেন নি। নারীর উপর তাঁর অনুগ্রহ অনেক। কুরআনে নারীর অধিকার সম্পর্কিত অনেক উচ্চাঙ্গের আয়াত আছে।'

কিছু আয়াতে নারীদেরকে ভোগ করার অবৈধ দিকগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। আর কিছু আয়াতে তাদের সাথে কিরূপ সম্মানজনক আচরণ করতে হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে। (মাকালাতে শিবলী-১ম খণ্ড)

ইসলাম নারীর অধিকারের আদর্শ মানদণ্ডের ধারক। আইউর-মনঘম লিখেন একথা কে অস্বীকার করতে পারে যে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষা আরবদের জীবন এবং এর প্রথম বিষয় হল ইতিপূর্বে নারীদের যে সম্মান ছিল না তা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষায় তারা পেয়েছে। দেহ ব্যবসা, সাময়িক বিবাহ, অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইতোপূর্বে বাঁদীরা মনিবের শুধু ভোগ্য পণ্য হিসেবে পরিগণিত হত। ইসলাম তাদেরকে অধিকার প্রদান করেছে, মনিবকে তাদের প্রতি সদয় হতে বলেছে। (দি লাইফ অব মোহাম্মদ-১৯৩০)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আই রাইডন এর ভাষ্য

📄 আই রাইডন এর ভাষ্য


মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত সত্য ও মূল ইসলাম নারী সমাজকে যে অধিকার প্রদান করেছে ইতিপূর্বে কোথাও নারীদেরকে এমন অধিকার প্রদানের দৃষ্টান্ত দেখা যায় না। (Christianity, Islam and The Negro Race)

ডব্লিউ কিশ লেখেন 'ইসলামই সর্বপ্রথম নারী সমাজকে মানবাধিকার প্রদান করেছে এবং তাদেরকে তালাকের অধিকার দিয়েছে।' (The Expansion of Islam)

ডব্লিউ লাইটার লিখেন, 'মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে যে সম্মানের আসনে আসীন করেছেন, তা প্রাচাত্য সমাজ ও অন্যান্য ধর্মে ছিল না।" (Mohammadanism in Religious Systems of The World)

প্রফেসর রাম কৃষ্ণ রাও কয়েক বছর পূর্বে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনীর উপর "ইসলামের পয়গাম্বর মোহাম্মদ" (Mohammad, The Prophet of Islam) নামে একটি বই রচনা করেন। এতে ইসলাম ও আধুনিক সভ্যতা পর্যালোচনা করার পর তিনি লিখেন, "ইসলাম নারীকে পুরুষের দাসত্ব করা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ইসলাম শিক্ষা দেয়, মানুষ পূর্ব-পুরুষের পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত। পুরুষ নারী একই মৌল উপাদান থেকে সৃষ্ট। উভয়ের একই রকম আত্মা এবং মানসিক ও চারিত্রিক যোগ্যতা সমান।"

তিনি আরো লিখেন, 'আরবের এক শিকড়-গাড়া রীতি ছিল একমাত্র বর্শা ও তলোয়ার ব্যবহার করতে সক্ষমরাই উত্তরাধিকারী হতে পারবে। কিন্তু ইসলাম দুর্বল-অসহায় লোকদের পক্ষাবলম্বন করেছে। নারীকে পিতা-মাতার উত্তরাধিকারিনী সাব্যস্ত করেছে। কয়েক শত বছর পূর্বে ইসলাম নারীকে সম্পদের মালিকানার অধিকার দিয়েছে। তার ১৩ শত বছর অতীত হওয়ার পর ১৮৮১ ইংরেজিতে গণতন্ত্রের জনক ইংল্যান্ড ইসলামের সে নীতি আকঁড়ে ধরেছে এবং সে নীতিকে 'বিবাহিত নারীর আইন' নামকরণ করে নিজেদের আইনের অন্তর্ভুক্ত করেছে। পয়গম্বরে ইসলাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দিন পূর্বেই ঘোষণা করেছেন 'নারী পুরুষের অর্ধাংশ পাবে, নারীর অধিকার পবিত্র, তা থেকে নারী যেন বঞ্চিত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখবে।' (ইসলামে পয়গম্বর মোহম্মদ)

মিসেস এ্যানী বেসেন্ট 'ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার' সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেন, 'স্মরণ রেখো, ইসলামী বিধান যার কিয়দাংশ ইংল্যান্ডেও চালু হয়েছে, নিশ্চয় সম্পূর্ণ ন্যায়ানুগ ও যুক্তিযুক্ত। সম্পত্তি ও তালাক সম্পর্কিত ইসলামি বিধি পশ্চিমা নীতি থেকে অনেক অগ্রগণ্য। আমরা আজকে যেগুলোকে নারী অধিকারের নীতি মনে করি, তার তুলনায় ইসলামী নীতি নারীদের অধিকারকে আরো অনেক ব্যাপকতর করেছে। (The Life and Teaching of Mohammad)

বিশিষ্ট সীরাত রচয়িতা আর.ভি.সি. বাড়লে ইসলাম, বর্তমান সভ্যতা এবং বিভিন্ন মতবাদে নারীর অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কিত তুলনামূলক আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন, 'এই সমস্ত নীতিমালা পাশ্চাত্য রাষ্ট্রসমূহের তুলনায় আরবদেশে নারীর মান-সম্মান অনেক বৃদ্ধি করেছে। আজকেও মূলত একজন মুসলমান পুরুষের স্ত্রীর সম্পদে এতটুকু অধিকার নেই, স্বামীর সম্পদে স্ত্রীর যে পরিমাণ অধিকার রয়েছে। আজ থেকে তেরশত বছর পূর্বে ইসলাম নারীকে সম্পদের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করেছে।

তিনি আরো লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আনীত এ ধরনের বিধি বিধান কেউ অধ্যায়ন করলে, তাঁর বদনামকারীদের অবিচারসমূহ দেখে অবাক হতে হবে। মনে হবে, তারা যেন ইসলামী নারী শিক্ষার সমালোচনা করে এবং মুসলিম রমনীদেরকে অন্যান্য মহিলাদের দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন করে আত্মতৃপ্তি লাভ করে। (The Messenger-356)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 জীবন্ত সমাহিত করার নীতি বিলুপ্তকরণ

📄 জীবন্ত সমাহিত করার নীতি বিলুপ্তকরণ


বিশিষ্ট হিন্দু সাহিত্যিক, লেখক গোসামী লাকশমন প্রাসাদ 'আরব কা চান্দ' গ্রন্থে ইসলাম পূর্ব যুগে নারীর অবস্থা ব্যক্ত করতে গিয়ে লিখেন "মানুষ পাশবিকতার রঙ্গে নিজেকে রঞ্জিত করেছে। নারীর সাথে গোলাম সুলভ আচরণ করা বৈধ ছিল। পাঁচ সাত বছরের পুষ্প সদৃশ শিশুকে পানাহার করিয়ে নবসাজে সজ্জিত করে বাইরে কোন গর্তে ফেলে মাটি চাপা দেয়া অন্যায় অত্যাচারের এক সামান্য রূপ ছিল। '(আরব কা চান্দ- ৩৬, ৩৭)

আইরিনা মেড মক্স লিখেন, 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি জিনিসকে নিজের প্রিয়তম বস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন: নামায-রোজা, খোশবু ও নারী।' নারী তাঁর কাছে সম্মানিত। যে সমাজে পুরুষ মেয়ে সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত, সেখানে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে জীবন-ধারণের অধিকার প্রদান করেছেন। (Women in Islam-1930)

রেভেন্ড জি.এম. রারভিল একজন কট্টরপন্থী খৃষ্টান। তিনিও এ বাস্তবতা স্বীকার না করে পারেন নি যে, 'কুরআনি শিক্ষার প্রভাবে সাদাসিধে যাযাবর, বেদুইন লোকদের অবস্থা এমন পরিবর্তিত হল যেন তারা মন্ত্রমুগ্ধ। মূর্তি পূজাড় মূলোৎপাটন করা, জিন এবং অন্যান্য বস্তুর পূজার স্থলে এক আল্লাহর উপাসনা কায়েম করা, সন্তান হত্যা ও অপবাদ বন্ধ করা, বহু বিবাহের সংখ্যা কমিয়ে নির্দিষ্ট একটা পরিসীমায় সীমাবদ্ধ করা—এ সব বিষয় নিঃসন্দেহে আরবদের জন্য কল্যাণপ্রদ ছিল, যদিও খৃষ্টীয় মানসিকতা এটা মানতে রাজী নয়। (ফোরকান, সেপ্টেম্বর-১৯৭৬ ইং)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের কৃতিত্ব

📄 নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের কৃতিত্ব


'দি রিলিজিয়াস হিষ্টরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড' এর লেখক জে.এম. রবার্টস লিখেন 'ইসলামের আগমন অনেক দিক বিবেচনায় বিপ্লবাত্মক। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, ইসলাম মালিকানা অর্জনকে আইনগতভাবে নারীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ এ অধিকার খৃষ্টীয় উনিশ শতক পর্যন্ত ইউরোপীয় অধিকাংশ খৃষ্টীয় রাষ্ট্রে বিদ্যমান ছিল না। ইসলামে গোলামেরও অধিকার ছিল। ঈমানদার লোকদের মাঝে কোন শ্রেণীভেদ ছিল না। আর না ছিল কোন জন্মগত বিভেদ। এই বিপ্লবের মূলে ছিল এমন কিছু ধর্মীয় নীতিমালা যাতে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00