📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাতনা ও যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা

📄 খাতনা ও যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা


১৯৯০ খৃষ্টাব্দের ম্যাগাজিন 'নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন (New England Journal of Medicine)'-এ ডাক্তার শেভান লিখেন, 'নিঃসন্দেহে শিশু বেলার খাতনা আজীবন যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা অর্জনকে সহজসাধ্য করে। এতে করে শৈশবে লিঙ্গের অগ্রভাগের বর্ধিত চামড়ার নীচে কোন রোগের জীবাণু আশ্রয় নিতে পারে না।' এ বিশেষজ্ঞকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও অভিজ্ঞ শিশু রোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একজন বলে গণ্য করা হয়। তিনি গুপ্তাঙ্গের ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে গুপ্তাঙ্গের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন 'পূর্ণরূপে গুপ্তাঙ্গের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন সত্যই অসম্ভব এবং কষ্টসাধ্য। আর এ কষ্টসাধ্য ব্যাপারটি শুধু তৃতীয় বিশ্বের লোকদের নয়; বরং আমেরিকার মত বড় এবং ছোট ছোট উন্নত দেশগুলোতেও সন্তুষ্টজনক নয়।

ব্রিটেনের খাতনাহীন স্কুলগামী শিশুদের উপর অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গিয়েছে, তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশের যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতার মান ছিল অত্যন্ত নীচু। ডেনমার্কে পরিচালিত আরেকটি অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ছয় বৎসরের খাতনাহীন শিশুদের ৬৩ শতাংশের লিঙ্গের অগ্রভাগে চামড়ার বর্ধিত অংশে ময়লা জমে আটকে গিয়েছে। এ তথ্য তুলে ধরেছেন খাতনার গূঢ় রহস্য ও তাৎপর্যে অনুসন্ধানকারী বড় একটি কমিটির প্রধান। কিন্তু বাস্তব সত্য হল, ইসলাম এ রোগের চিকিৎসা প্রথম দিনেই প্রকাশ করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমেই এ বিষয়ে আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন—'আপনি একাগ্রচিত্তে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকুন। আল্লাহর তৈরি ফিতরাতকে অবশ্য কর্তব্য মনে করুন যার উপর আল্লাহ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।' (রোম: ৩০)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাতনা ও মূত্রনালীর প্রদাহ

📄 খাতনা ও মূত্রনালীর প্রদাহ


(Circumcision and Infection of the Urinary Track) ১৯৮৯ খৃষ্টাব্দে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় খাতনাকৃত শিশুদের তুলনায় খাতনাহীন শিশুদের মূত্রনালীর প্রদাহের আশংকা ৩৯ গুণ বেশি। চার কোটি শিশুদের উপর জরিপ নেওয়ার পর প্রফেসর ভয়েস ভেইল বলেন—খাতনাহীন শিশুদের মধ্যে মূত্রনালীর প্রদাহ বেশি পাওয়া গিয়েছে। এমনিভাবে বিশেষজ্ঞদের আরেকটি টিমের অনুমান অনুযায়ী 'আমেরিকায় খাতনা প্রচলন না হলে প্লীহা এবং মূত্রথলির প্রদাহে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হত হাজার হাজার।' বৃটেনের ল্যানসেট নামক প্রসিদ্ধ ম্যাগাজিনের ১৯৮৯ সংখ্যায় বলা হয় যে, 'জন্মের পরই শিশুদেরকে খাতনা করানো হলে মূত্রনালীর প্রদাহ ৯০ শতাংশ হ্রাস পাবে।'

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাতনা ও পুরুষাঙ্গের ক্যান্সার (Circumcision and Panis Cancer)

📄 খাতনা ও পুরুষাঙ্গের ক্যান্সার (Circumcision and Panis Cancer)


বৃটেনের বি.এম.জে (BMJ) নামক চিকিৎসা সাময়িকীতে ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়, জননাঙ্গে ক্যান্সার ইহুদীদের খুব কমই হয়। মুসলিম দেশগুলোর (যেখানে শৈশবেই খাতনা করে দেয়া হয় তাদের) অবস্থাও অনুরূপ। বর্তমানে এ ক্যান্সার সারা বিশ্বে একটি মারাত্মক সমস্যা। বিশেষত চীন, উগান্ডার মোট জনসংখ্যার ১২ থেকে ২২ শতাংশ এ রোগে আক্রান্ত। ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট ফর ক্যান্সার কর্তৃক প্রকাশিত ম্যাগাজিনের একটা রিপোর্টে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, জননাঙ্গ ক্যান্সার অবাধ যৌন মিলনের কারণে ছড়ায়। এ রিপোর্টে এ আভাসও দেয়া হয়েছে যে, অবাধ যৌন বিপথগামিতা থেকেও এ ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। শিশু রোগ বিষয়ক আরেকটি আমেরিকান ম্যাগাজিনে বলা হয়েছে যে, "খাতনাবিহীন ব্যক্তি যে কোন সময় জননাঙ্গ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এ ক্যান্সারের পথ রোধ করা যেতে পারে নবজাতককে খাতনা করার প্রথা চালু করে।"

ইসলামের সত্যতার জন্য কি এতটুকুই যথেষ্ট নয় যে, যে বিপজ্জনক পরিণতির কথা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক শ্রমসাধ্য গবেষণার পর প্রকাশ পাচ্ছে, ইসলাম প্রথমেই তার পথ রুদ্ধ করেছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাতনা ও যৌন রোগ (Circumcision and Genital diseases)

📄 খাতনা ও যৌন রোগ (Circumcision and Genital diseases)


নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল ফর মেডিসিন পত্রিকার ১৯৯০ সংখ্যায় বলা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং কোরিয়া-ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈন্যদের লিঙ্গের অগ্রভাগের প্রদাহ এবং যৌন রোগ থেকে রক্ষায় খাতনা বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার একটি সাম্প্রতিক জরিপ থেকে জানা যায়, খাতনাহীন লোকদের মধ্যে চার প্রকারের রোগ সচরাচর বেশি হয়: ১. লিঙ্গে পাঁচড়া (Genital Herpes); ২. Candidiasis; ৩. Gonorrhea (গনেরিয়া) ও ৪. Syphilis (সিফিলিস)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00