📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাতনার উপকারিতা (Advantages of Circumcision)

📄 খাতনার উপকারিতা (Advantages of Circumcision)


আমেরিকার এক প্রসিদ্ধ চিকিৎসা সাময়িকীর মার্চ এবং মে ১৯৯০ সংখ্যায় খাতনা সম্পর্কে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আমেরিকায় একষট্টি থেকে পঁচাশি শতাংশ শিশুকে জন্মের পর পরই খাতনা করানো হয়। অথচ আমেরিকায় ইহুদীদের সংখ্যা একেবারে নগণ্য এবং মুসলমানদের সংখ্যাও বেশি নয়। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, খৃষ্টানরাও খাতনা করে থাকে।

তারা এ কাজটি কেন করে? ঈসায়ীগণ খাতনা করতো না। ইউরোপীয় খৃষ্টানরা তো খাতনার ঘোর বিরোধী। আমেরিকার প্রসিদ্ধ শিশু-বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা শিশুদেরকে খাতনা করানোর ব্যাপারে খুব গুরুত্ব দেন। এ জন্য আমাদের আল্লাহ তা'আলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করা দরকার যে, তিনি সে খাতনার নিগূঢ় রহস্য মানবজাতির সম্মুখে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। রহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজকে ফিতরাত (অভ্যাসগত জিনিষ) বলে আখ্যা দিয়েছেন। আধুনিক চিকিৎসা সাময়িকীগুলো খাতনা বিষয়ক তথ্যবহুল অনেক গবেষণা প্রকাশ করছে। আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রসিদ্ধ সাময়িকীতে এ বিষয়ে গত কয়েক বছরে বহু সংখ্যা লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অতীত ধর্মগুলোতে খাতনা (Circumcision in Pre-past religions)

📄 অতীত ধর্মগুলোতে খাতনা (Circumcision in Pre-past religions)


বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, "হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আ. আশি বৎসর বয়সে কুড়াল দিয়ে নিজের খাতনা করেছেন।" আল্লামা ইবনে কায়্যিম রহ. বলেন—প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, সর্বপ্রথম খাতনা করেন হযরত ইব্রাহীম আ.। তারপর খাতনার ধারাবাহিকতা নবী রাসূলগণের মাঝে প্রচলিত ছিল। এমনকি হযরত ঈসা আ. এরও খাতনা হয়েছে। খৃষ্টানরা একথা অস্বীকার করে না। বরং তারা শুকরকে যতটা দৃঢ়তার সাথে হারাম মনে করে, ঠিক ততটা গুরুত্বের সাথেই ঈসা আ. এর খাতনা করাকে স্বীকার করে।

ইহুদীরা খাতনাকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সফরে তাকভীনে আছে "স্মরণ রাখবে আমার এবং তোমাদের ও তোমাদের পরবর্তী বংশধরদের মাঝে এ অঙ্গীকার রইল যে, প্রতিটি ছেলের যেন খাতনা করা হয়।"

গোড়ার দিকে খৃষ্ট সমাজেও খাতনা প্রচলন ছিল। কিন্তু খৃষ্টানরা তাদের পয়গম্বরের মূল শিক্ষাকে বিকৃত করে সে শিক্ষার প্রতি চরম অবাধ্যতা প্রদর্শন করছে। ইঞ্জিল বার্নাবাসেও খাতনার উল্লেখ করা হয়েছে। ইসু জবাব দিয়েছেন, আমি সত্য বলছি—"খাতনাহীন ব্যক্তির চেয়ে কুকুর অনেক উত্তম।"

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলামে খাতনা

📄 ইসলামে খাতনা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খাতনা সম্পর্কে অগণিত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। বুখারী এবং মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত আছে, "পাঁচটি জিনিষ ফিতরাতের (অভ্যাসগত জিনিষের) অর্ন্তভুক্ত। খাতনা করা, নাভীর নীচের পশম কাটা, গোঁফ ছোট রাখা, নখ কাটা এবং বগলের পশম পরিষ্কার করা।" ইমাম আহমদ রহ. শাদ্দাদ ইবনে আউস থেকে মারফু রেওয়ায়েত বর্ণনা করেন যে, "খাতনা পুরুষের জন্য সুন্নত।"

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আমেরিকান বিশেষজ্ঞজ্ঞদের অভিমত

📄 আমেরিকান বিশেষজ্ঞজ্ঞদের অভিমত


ওয়াশিংটনের সামরিক হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের প্রধান প্রফেসর ভয়েস ভেইল আমেরিকান ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান (American Family Physician) পত্রিকার মার্চ ১৯৯০ সংখ্যায় লিখেন “১৯৭৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত আমিও খাতনার বিপক্ষে ছিলাম। খাতনার প্রচলন রোধ করার জন্য তখন যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তাতেও অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু আশির দশকের প্রথম দিকে পরিচালিত জরিপে দেখা গেল যে, খাতনা বিহীন শিশুদের মধ্যে প্রস্রাবের নালীতে প্রদাহ রোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এরপরও খাতনা জীবনের স্বাভাবিক করণীয় কাজের অন্তর্ভুক্ত—আমি এটা মেনে নেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। তবে প্রয়োজনের সময় এটা কার্যকর করার পরামর্শ অবশ্যই দিতাম। কিন্তু এ বিষয়ে আরো গভীর অনুসন্ধান এবং দূরদর্শিতার সাথে পর্যবেক্ষণের পর প্রাপ্ত ফলাফল আমার অভিমতের সম্পূর্ণ উল্টো ছিল। খাতনাকে জীবনের স্বভাবসম্মত করণীয় কাজ বলে গণ্য করতে বাধ্য হলাম। শুধু এতটুকুই নয়; বরং আমেরিকান একাডেমি ১৯৮৯ সালে শিশু চিকিৎসা বিষয়ক যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তা ১৯৭০ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত রিপোর্টের সম্পূর্ণ বিপরীত। খাতনা অনুৎসাহিত করার প্রচারণা বন্ধ করা হল। শিশুদের খাতনা করার কল্যাণকর দিকসমূহ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হল। সাম্প্রতিক কালের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতার পর এ বিষয়ে মানুষের মাঝে পূর্বোক্ত মতের পরিবর্তন দেখা দিল। মানুষ নিজেদের মত পরিবর্তন করল। মানুষের কর্ম-কৌশল পাল্টে গেল। যারা খাতনার যত বিরোধী ছিল, তারা ততটাই খাতনার পক্ষে প্রচারকারীতে পরিণত হল। পুনরায় প্রমাণিত হল, কালের পরিবর্তন মানুষের ফিতরাতকে পরিবর্তন করতে অক্ষম।

'আল্লাহর তৈরি অভ্যাসকে মজবুতভাবে ধর, যার উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।'

এই প্রফেসর তার রচনার শেষে লিখেন, ৮ই মার্চ ১৯৮৮ খৃষ্টাব্দে ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক সমিতির সদস্যরা এ সিদ্ধান্তে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, খাতনা শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তারপর আমি খাতনার বিপক্ষীয় অবস্থান থেকে ফিরে এলাম এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক সমিতির সিদ্ধান্তকে সানন্দ চিত্তে মেনে নিলাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00