📄 সন্দেহপ্রবণ নারীর সন্তান উদ্দীপনা থেকে বঞ্চিত
ইসলামী জীবনে দাম্পত্য সম্পর্কের বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। নারীদেরকে বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করার কারণে ইসলাম তাদের ব্যাপারে খুব বেশি কঠোরতা অবলম্বন করতে বারণ করেছে। স্ত্রীদেরকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বামীদেরকে এ পরিমাণ আদব ও এহতেরাম করার জন্য যে, যদি সেজদা করার অনুমতি দেওয়া হত, তবে স্ত্রীকে আদেশ দেওয়া হত যেন সে স্বামীকে সেজদা করে। কিন্তু এ মূলনীতি লংঘন ইউরোপীয় জীবনে একটি বিরাট সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করা হল।
ইসলাম সন্দেহপ্রবণ হওয়া নিষিদ্ধ করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরা সন্দেহপ্রবণ হয় এবং তারা যে কোন ধরনের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মান্নতের আশ্রয় নেয়।
📄 “সাও” এর রিপোর্ট
নারীদের সন্দেহপ্রবণতা সন্তানের উপর কুপ্রভাব ফেলে। সন্দেহপ্রবণ মায়ের সন্তান বড় হয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে অথবা কখনো কখনো শারীরিকভাবেও নানা সমস্যায় ভোগে। সোস্যাল এন্ড অর্গানাইজেশন (সাও) এর রিপোর্ট থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। এই সংস্থার নারী শাখার প্রধান গাযালা সাজ্জাদ এর দেয়া তথ্য অনুসারে—সাও হাজার হাজার নারীর উপর সমীক্ষা চালায়। এদের মাঝে ছিল পাঁচজন ডক্টরেট ও আঠারজন স্নাতকোত্তর। অবশিষ্ট নারীরা অন্তত এস.এস.সি পাশ। জরীপের ফলাফল অনুযায়ী শতকরা ৯৮ জন নারীই সন্দেহ প্রবণতায় অভ্যস্ত। অধিকাংশ নারীরাই সন্দেহ প্রকাশ করে যে বৃহস্পতিবারে কোন কাজ সূচনা করতে নেই। কারণ এর পরিণাম শুভ হয় না। টেবিল উল্টো করে রাখতে নেই। হাঁচি আসলে তারা ধরে নেয়, কেউ তাকে স্মরণ করছে। এক খ্যাতনামা মহিলা ডাক্তার বলেছেন 'ঘরে বিড়ালের কান্না করা ঐ পরিবারের কারো মৃত্যুর লক্ষণ।' নিজের ভাষায় তার বক্তব্য হল—'আমার আম্মার মৃত্যুর পনের দিন পূর্ব থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত বিড়াল কান্না করছিল।' সরকারী অফিসে কর্মরত এক মহিলা বলেন, 'কোন কাজে পা বাড়ানোর পর ঘরে ফিরতে নেই। এতে উদ্দিষ্ট কর্ম সম্পন্ন হয় না।' অনেক নারীদের দেখা যায় তারা বিভিন্ন পীর-ফকীরের প্রতারণায় বিশ্বাস করে এবং তাদের ভক্ত। এ সমস্ত নারীরা যে কোন সমস্যা সমাধানে মান্নতের আশ্রয় নেয়। তাদের এই সন্দেহ প্রবণতার ফলে সন্তান-সন্ততিরাও নানা রকমের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে। সব সময়ই অদৃশ্য কোন শক্তির মুখাপেক্ষী হয়। জরিপে এই চিত্তাকর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসে যে, এ কারণেই এ রকম নারীর সন্তানের মাঝেও চেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেখা যায়। গাযালা সাজ্জাদ বলেন 'যারা সন্তানদের পৌরুষদীপ্ত, উদ্যমী ও পরিশ্রমী করে গড়ে তুলতে উদ্যোগী, তারা যেন নিজেরদেকে যাবতীয় সন্দেহ প্রবণতা থেকে মুক্ত রাখে।'
📄 শিশুর স্বাভাবিক লালন-পালন (Natural Patornage of Children)
নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে শিশুরা মাটিতে খেলা-ধুলা করার মধ্য দিয়ে সুস্থ সবলভাবে বেড়ে উঠত। সাহস ও বীরত্ব অর্জন করত। বিবেক-বুদ্ধি, দূরদর্শিতা ও স্বনির্ভরতার অধিকারী হত। বালক মায়াজ ও মুওয়াজ রাযি. বদর যুদ্ধে এমন সাহসিকতা প্রদর্শন করেছেন যা সব যুগের জন্য বিস্ময়। তাদের তলোয়ার না দেহ বেশি দীর্ঘ, তা পরিমাপের জন্য তলোয়ারকে দেহের একপার্শ্বে রাখলে তলোয়ারই দীর্ঘ হত। এমনকি হয়তো চলার পথে মনে হত তারা যেন পা হেঁচড়িয়ে চলছে। আজকেও যদি শিশুরা মাটিতে প্রতিপালিত হয়, তাহলে সুস্থ-সবল ও সাহসিকতার অধিকারী হবে। দেখুন, আধুনিক বিজ্ঞান এ ব্যাপারে কি বলে।
📄 ডা. হ্যানিমুন এর অভিজ্ঞতা
"মাটিতে এন্টিসেপ্টিক (পচন-নিবারক) গুণ বিশিষ্ট উপাদান থাকে। নিশাদল, ফ্লোরাইড, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি দেহের ক্রমবিকাশ ও সুস্থতার জন্য অতীব জরুরী। এদের প্রত্যেকটি মাটিতে পাওয়া যায়। এজন্য শিশুদেরকে মাটিতে খেলাধূলার সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে শিশুর দৈহিক সুস্থতা বজায় থাকবে এবং তার বৃদ্ধিও তরান্বিত হবে।