📄 ইয়াতিম ও পিতৃপরিচয়হীন শিশুদের মর্ডান হোম
এসব বাসস্থানকে SOS Villages নামে ডাকা হয়। SOS মূলত একটি ইংরেজী শব্দ সংক্ষেপ। এর পূর্ণরূপ হল 'Save Our Souls'। সংকেতটি চরম অসহায় মুহূর্তে সাহায্য চাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ইয়াতিম ও পিতৃ-পরিচয়হীন শিশুদের জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে শুরু হয়। কারণ ঐ সময় ব্যাপকভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। মেডিক্যাল সাইন্সের এক ছাত্র 'হারমান মেইন' এ সময় পিতৃহারা হয়েছিলেন। ইয়াতিম ও পিতৃ-পরিচয়হীন শিশুদের জন্য তার উৎকণ্ঠার কোন সীমা ছিল না। পরিশেষে তিনি সমগ্র জীবনকে ঐ সমস্ত শিশুদের জন্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে সর্বপ্রথম ১৯৪৯ সালে তিনি SOS Village প্রতিষ্ঠিত করেন।
বর্তমানে SOS চিল্ড্রেন এসোসিয়েশন এর অধীনে সমগ্র ইউরোপ, আমেরিকা, চীন, জাপান, রাশিয়াসহ প্রায় ১২৫ টি রাষ্ট্রে ১৩৪৯ এরও বেশি এস.ও.এস ভিলেজ, ইউথ ভিলেজ, স্কুল এবং আরো অন্যান্য প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে এর কর্মপরিধির ততই বিস্তৃতি ঘটছে। এসব প্রকল্পের মৌলিক কিছু উদ্দেশ্য এখানে উল্লেখ করা হল:
মা : এই আবাসিক নিকেতনগুলো সাধারণ ইয়াতিম খানা থেকে ব্যতিক্রমধর্মী। এখানে পিতৃ-পরিচয়হীন ইয়াতিম শিশুদের স্বাস্থ্য পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য মাতৃসুলভ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
ভাই-বোন: এসব প্রকল্পের এক একটি হল পূর্ণ পরিবার। ১০ থেকে ১২ জন শিশু সেখানে ভাই-বোনের মত বসবাস করে।
ঘর: প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ঘরের সংস্থান করে দেয়া হয়। মায়ের জন্য থাকে আলাদা কামরা এবং তার সংলগ্ন প্রতিটি কামরায় থাকে চার থেকে পাঁচ জন শিশু। প্রতিটি আবাসিক নিকেতনে ১০ থেকে ১৫ টি ঘর থাকে এবং এটা সাধারণত কোন বড় শহর বা গ্রামের মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
শিক্ষা: এই সমস্ত আবাসিক নিকেতনের প্রধান উদ্দেশ্য হল শিক্ষা দান। প্রতিটি সেক্টরে একটি করে স্কুল থাকে। এছাড়াও শিশুদেরকে হাতের কাজ বা বৃত্তিমূলক কাজ শিখানোর জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হয়। ধর্মীয় শিক্ষার জন্য প্রতিটি নিকেতনে একটি করে মসজিদ থাকে। এছাড়া স্টেডিয়াম, বাগান, ডাক্তারখানা, দোকান ইত্যাদি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সুবিধাও সেখানে বিদ্যমান।
ইয়াতিম, পিতৃ-পরিচয়হীন শিশুদের পুনর্বাসনে আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে আছে। আমাদের জাতীয়, ধর্মীয় ও চারিত্রিক দাবী হল তাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া এবং সুন্দরভাবে তাদের প্রতিপালন করা। এতে আমাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে। কুরআনে কারীমে এ কাজের জন্য অনেক সওয়াবের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। সাথে সাথে আল্লাহ্ তা'আলা সতর্ক বানীও উচ্চারণ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, "তুমি চিন্তা করো নি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে, যে দীনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে? মূলত সেই ইয়াতিমকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দেয়।"
অতএব আমাদের উচিত হবে প্রতিবেশী ইয়াতিম ও পিতৃ-পরিচয়হীন শিশুর প্রতি সুনজর দেয়া এবং সমস্ত প্রতিষ্ঠানে তাদের ভর্তির সুযোগ করে দেয়া, যাতে তাদের জীবনের এ গঠনমূলক মুহূর্তগুলো সুন্দরভাবে ব্যয়িত হয়। আমাদের একান্ত কর্তব্য দেশের আনাচে-কানাচে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ করতে অধিক পরিমাণে সহযোগিতা করা।
📄 মা :
এই আবাসিক নিকেতনগুলো সাধারণ ইয়াতিম খানা থেকে ব্যতিক্রমধর্মী। এখানে পিতৃ-পরিচয়হীন ইয়াতিম শিশুদের স্বাস্থ্য পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য মাতৃসুলভ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
📄 ভাই-বোন :
এসব প্রকল্পের এক একটি হল পূর্ণ পরিবার। ১০ থেকে ১২ জন শিশু সেখানে ভাই-বোনের মত বসবাস করে।
📄 ঘর :
প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ঘরের সংস্থান করে দেয়া হয়। মায়ের জন্য থাকে আলাদা কামরা এবং তার সংলগ্ন প্রতিটি কামরায় থাকে চার থেকে পাঁচ জন শিশু। প্রতিটি আবাসিক নিকেতনে ১০ থেকে ১৫ টি ঘর থাকে এবং এটা সাধারণত কোন বড় শহর বা গ্রামের মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়।