📄 শিশুকে ঘুম পাড়ানি গান শোনানো (Lullabbay for Children)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুধবোন হযরত সুমাইয়্যা রাযি. ঘুমপাড়ানি গান গাইতেন।
📄 ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের রিপোর্ট
ওয়াল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনের রিসার্চ অনুযায়ী ঘুমপাড়ানি গান শিশুদের ঘুমই আনে না; বরং শিশুর ভবিষ্যতও সুন্দর করে। মায়ের স্নেহ-ভালবাসা এবং নৈকট্যের ছায়ায় ঘুমাতে অভ্যস্ত শিশু একাকি ঘুমিয়ে পড়া শিশুদের তুলনায় ভদ্র ও মেধাবী হয়। মায়ের সাথে শয়নকারী শিশুরা নিজেকে নিরাপদ মনে করে আর মা থেকে পৃথক হয়ে শয়নকারী শিশুরা হীনম্মন্যতার শিকার হয়। এছাড়া মায়ের সাথে শয়নকারী শিশু আত্মনির্ভরশীল এবং নির্ভীক হয়। (মেডিক্যাল সার্ভে আমেরিকা)
মুসলমান মা শিশুদেরকে বুকের দুধ পান করায়। আপন কোলে তাকে লালন-পালন করে। স্নেহ, ভালবাসায় তার মাথায় হাত বুলায়। ভালবাসার আতিশয্যে চুমু খায়। এমনকি স্বহস্তে তার ময়লা পরিষ্কার করে। তারপর যখন বড় হয়, তখন স্বহস্তে নরম খাদ্য তাকে তৈরি করে খাওয়ায়। এ সকল কর্মের ফলে অনবরত মায়ের হাত শিশুর শরীর স্পর্শ করে থাকে। ইউরোপে এ স্পর্শ নেই। কারণ শিশুরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু মা ছাড়া নয় বরং 'বাড়ী ছাড়া হয়ে' অন্য স্থান তথা ডে কেয়ার সেন্টারে লালিত পালিত হয়। সুতরাং একজন মুসলমান মায়ের শিশু যে স্নেহ ও ভালবাসা পেয়ে থাকে, ইউরোপীয় শিশু তা কখনো পায় না। এ বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের অভিমত পর্যবেক্ষণ করুন।
শিশুদের ক্ষেত্রে স্পর্শ এবং ভালবাসার যে গুরুত্ব রয়েছে তা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। প্রাণী-মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ সাওল শেনবার্গ এর সম্পর্ক ছিল ডিউক ইউনিভার্সিটির সাথে। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করেন, যখন ইঁদুর ছানাকে তাদের মায়েদের থেকে পৃথক করে নেওয়া হয়, তখন তাদের বৃদ্ধি থেমে যায়। এর কারণ ছিল এই যে, তাদের মা তাদেরকে স্পর্শ করত। আর যখন তারা এ স্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তাদের 'প্রবৃদ্ধি হরমোনে' ঘাটতি দেখা দেয়। তারপর মা ইঁদুর তার ছানাকে যেভাবে চাটে, সেভাবে ব্রাশ দ্বারা ইঁদুর ছানা শরীরে মৃদুভাবে মর্দন করা হলে দেখা যায় তাদের হরমোন নিঃসরণ বেড়ে গেছে এবং তাদের প্রবৃদ্ধি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ জাতীয় অভিজ্ঞতা থেকে বুঝা যায় যে, টাচ্ থেরাপি অর্থাৎ স্পর্শ দ্বারা চিকিৎসায়ও শরীরে সুস্থতা আসে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়, হজম ব্যবস্থা সচল ও কার্যকর থাকে ও ইনসুলিনের মত হরমোন তৈরি হয়। ইনসুলিন পর্যাপ্ত নিঃসৃত হলে শরীরে খাদ্য সহজেই শোষিত হয় এবং শারীরিক বন্ধন খুব দ্রুত হতে থাকে। যে সব নবজাতক এবং দুধের শিশুকে ম্যাসাজ করা হয়, তাদের ট্রেস হ্রাস পায়। ট্রেসের ফলে যে হরমোন নিঃসৃত হয় তা রোগ প্রতিরোধের কাজে নিয়োজিত কোষগুলিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নবজাতক এবং কমবয়সী শিশুদের শরীর মালিশ করা ভারত উপমহাদেশে শত শত বছরের প্রথা। মালিশের কাজটি সাধারণত মা, নানী, দাদী প্রমুখগণ করে থাকে। শত শত বছর পর এখন বিজ্ঞান এর উপকারিতার কথা স্বীকার করেছে। 'ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ইনফেন্ট ম্যাসাজ' নামক সংস্থার কর্মকর্তা বলেন—আমি এটি জেনে মোটেও আশ্চর্য হই নি যে, মস্তিষ্কোর উপর পরীক্ষা চালানো হলে স্পর্শের কল্যাণ প্রমাণিত হবে। কারণ, যে সব মা-বাবা আমার কাছে ম্যাসাজের শিক্ষা গ্রহণ করে, তাদের কাছ থেকে তাদের শিশুদের যে প্রবৃদ্ধির কথা শুনতে পাই, প্রমাণ হিসাবে তাই আমার জন্য যথেষ্ট। বর্তমানে বিশ্বের সব হাসপাতালেই চিকিৎসারত শিশুদের উপর টাচ্ থেরাপি পরীক্ষা করা হয়। স্পর্শ শক্তির মাধ্যমেও তাদের চিকিৎসা করা হয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে মা-বাবারা নিয়মিত নিজেদের শিশুদেরকে ম্যাসাজ করে। সামাজিকভাবে প্রচলিত এ বিষয়টিকে বুঝতে সায়েন্সের ৭০০ বৎসর সময় লেগেছে। (চাইল্ড কেয়ার ফর ইউনিভার্সেল অবলম্বনে)
📄 রোগ-ব্যাধি এবং চিকিৎসা (Disease and Medical Treatment)
শিশুরা রোগাক্রান্ত হলে গ্রাম বা অনুন্নত এলাকায় দুর্বল বিশ্বাসী মানুষ ভাল চিকিৎসকের পরিবর্তে নানা রকমের তন্ত্র-মন্ত্র, ঝাড়-ফুঁক ইত্যাদির পেছনে সময় নষ্ট করে থাকে। অথচ ইসলাম আরোগ্য লাভের প্রচেষ্টাকে শুধু এগুলোতে সীমাবদ্ধ করে নি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগের মৌলিক নীতিমালা এভাবে ব্যক্ত করেছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা রোগ-ব্যাধির সাথে সাথে তার প্রতিষেধকেরও ব্যবস্থা করেছেন। প্রত্যেক রোগের ঔষধ সৃষ্টি করেছেন। তাই তোমরা ঔষধ ব্যবহার কর, তবে হারাম বস্তু দ্বারা নয়।'
অসুস্থ হলে নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলেছেন। এ ব্যাপারে অলসতা করা তিনি পছন্দ করতেন না। আর বাস্তব কথা হল কিছু কিছু রোগ এমন যে গোড়াতেই এদেরকে এড়িয়ে চললে এগুলোর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা না করা আল্লাহর নিয়ামতের অবমূল্যায়ন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ—এতে কোন সন্দেহ নেই।
মায়ের দুধ শিশুর আহার্য্য হিসাবে নিরাপদ ও তুলনাহীন। মা শিশুকে স্তন পান করালে ক্যান্সার বা এরকম অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে পারে। শরীয়ত মাকে দুই বছর পর্যন্ত শিশুকে দুধ পান করানোর দায়িত্ব দিয়েছে। নিশ্চয় এটা সন্তানের জন্য মায়ের মনে দয়া-মমতা ও মায়ের জন্য সন্তানের মনে শ্রদ্ধা-ভক্তি সৃষ্টির একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। আজকে বিজ্ঞানও স্তন পান করানোর এ সমস্ত উপকারিতাকে মেনে নিয়েছে। বর্তমানে ফ্যাশন বজায় রাখতে গিয়ে মায়েরা শিশুকে দুধ থেকে বঞ্চিত করছে। আকবর ইলাহাবাদী কতই না সুন্দর বলেছেন (!): সন্তানের মাঝে পিতা-মাতার সুবাস পেতে চাও কেন তারাতো পালিত দুধের ডিব্বায়, শিক্ষিত সরকারি শিক্ষায়।
📄 শিশু এবং পরিবেশ (Children and Environment)
শিশুর মন ও মস্তিষ্ক হচ্ছে পরিষ্কার বোর্ডের মত। সামাজিক এবং ঘরোয়া পরিবেশের চিত্র তাতে অংকিত হয়। শিশুর পরবর্তী জীবনে এ চিত্র এক বিরাট ভূমিকা পালন করে। শারীরিক ও চারিত্রিক অবক্ষয় মুক্ত পরিবেশে প্রতিপালিত হওয়া শিশুর জন্মগত অধিকার। তাকে সুষ্ঠুভাবে লালন-পালন করা পিতা-মাতা ও সমাজের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে সামান্যতম অনীহা, ত্রুটি-বিচ্যুতি সমাজ ও বংশের ভবিষ্যতকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়।
সাম্প্রতিক কালের এক মহামারী হল শিশুকে ভোগ-বিলাস ও আরামের যাবতীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পিতা মাতা সন্তানদেরকে সঙ্গ দেওয়ার মত সময় পান না। একটি শিশুর মৌলিক অধিকার হল—'মাতা-পিতা শিশুকে সঙ্গ দিবে এবং শিশুর সমস্যাগুলো বুঝতে চেষ্টা করবে, যেন শিশুর নবচেতনায় এই অনুভূতি স্থান না পায় যে, তাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে কিংবা তাকে কোন রকম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।' তার আত্মসম্মান বোধ বজায় রাখা, কোন বিষয় বুঝাতে হলে বিনম্রভাবে বুঝানো, অনর্থক তাকে ধমক না দেয়া, অন্যের সম্মুখে তার মানহানী না করা এসব বিষয়ের প্রতি নজর রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
প্রতিটি সন্তানের সাথে একই রকম আচরণ করা উচিত। ইসলাম তো শিশুদের চুম্বনের বেলায়ও সমতা বজায় রাখার শিক্ষা দিয়েছে। একজনকে অন্যদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিলে বাকী সন্তানদের মধ্যে 'তাদেরকে যেন বঞ্চিত করা হচ্ছে' এ রকম অনুভূতির সৃষ্টি হবে এবং তার ও অন্যান্য শিশুর মাঝে ঘৃণা ও বিচ্ছেদের সূত্রপাত হবে।
বড়দের কর্তব্য হল ছোটদের সামনে কোন অশালীন কথা না বলা বা কাজ না করা। তাদেরকে সত্য কথা বলার জন্য উপদেশ দিতে হবে। নিজেদেরকে সত্যের নমুনা হিসেবে পেশ করতে হবে। পিতা-মাতা হল সন্তানের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। শিশুরা তাদেরকেই অনুসরণ করে। পিতা-মাতার কথা ও কাজে মিল না দেখলে সন্তানও এমনটি করা শিখবে। সন্তান ভাল কাজ করলে তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং অভিনন্দন জানানো উচিত। এতে করে সে ভবিষ্যতে ভাল কাজ করতে এবং আপনি তার থেকে যেমনটি আশা করেন তেমনটি করতে সচেষ্ট হবে। সন্তান কোন ভুল করলে মারপিট না করে তার বুদ্ধিগত ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় এনে তাকে সংশোধন করবে। অন্যথায় তাদের অবাধ্যতা ও দুষ্টমি আরও বাড়বে। সন্তান কোন বিষয়ে দুর্বল হলে সে বিষয়টিকে তার সামনে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করবে। কঠোরতা অবলম্বন করলে সে তো তা অর্জন করবেই না; বরং চিরদিনের জন্য ঐ বিষয়কে ঘৃণা করে এড়িয়ে যাবে। সন্তানকে আতঙ্ক ও অন্যমনস্কতার মধ্যে ফেলে দেওয়া অমানবিক কাজ। ইচ্ছে করলেই তাকে নম্রতা, ভদ্রতা দ্বারা সূচারু রূপে গড়ে তোলা যায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যার মধ্যে বিনয় নেই সে যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।'
ঘরোয়া পরিবেশে ধর্মের পরশ না থাকলে সন্তানও ধর্মহীনতার দিকে মন দিবে। কারণ তার শূন্য মস্তিষ্ক পারিপার্শ্বিক অবস্থা দ্বারা সবেচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়। ভিডিও গেমস খেলা এবং অশ্লীল ফিল্ম দেখা থেকে সন্তানকে ফিরিয়ে রাখতে হবে। জীবনে তারাই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে, যাদের চরিত্র হয় সবচেয়ে বেশি উন্নত। ইদানিং ব্যাপকভাবে এই অভিযোগ উঠছে যে সন্তানেরা দিন দিন দুষ্টু ও অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে। মূলত শিশুরা বড়দেরকে এমন কাজ করতে দেখে যেগুলো বড়দের মানানসই নয়। ফলে তাদের মন থেকে বড়দের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা উঠে যায়। সন্তানকে সর্বপ্রথম কালিমায়ে শাহাদাত শিক্ষা দেয়া, সাত বছর বয়সী হলে নামাযের কথা বলা এবং দশ বছরে পৌঁছলে নামাযের জন্য সামান্য কঠোরতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তবে এজন্য পিতা-মাতাকে নমুনা হয়ে উপস্থিত হতে হবে। সন্তানের বয়স দশ বছর হলে তার বিছানা পৃথক করে দিতে হবে।
আমাদের এখানে যুগের তালে চলতে গিয়ে বিভিন্ন মিলনায়তন, সেমিনার ইত্যাদিতে অসহায় শিশুদের নিয়ে অনেক কিছু বলা হয়। কিন্তু কার্যকরভাবে কিছুই করা হয় না। কোটি কোটি টাকা শুধু পরিকল্পনা বিজ্ঞাপন আর বিবৃতির জন্য খরচ হয়। কিন্তু ঐ সমস্ত নিষ্পাপ শিশুদের নির্দোষ মুখের দিকে কেহ ফিরে তাকায় না। যখন এসব সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা 'তাদের সমবয়সীদের'কে বিলাসী পোশাকে, বিলাস বহুল গাড়ীতে বসে থাকতে দেখে, তখন তাদেরকে মনে হয়—তারা যেন দুঃখ ও হতাশার ছায়া।
এক শ্রেণীর শিশুরা আরাম-আয়েশে প্রতিপালিত হচ্ছে, উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলীর তত্ত্বাবধানে জ্ঞানার্জন করছে। অথচ আরেক শ্রেণীর শিশুরা মাটিতে বসে অর্ধ-শিক্ষিত শিক্ষকের কাছে মানবেতর পরিবেশে অসহনীয় শারীরিক ও মানসিক প্রতিকূলতা জয় করে লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মজীবনে যোগ্যতার পাল্লায় এ দুশ্রেণীর শিশুকে সমান সমান বিবেচনা করে তাদের থেকে একই মানের যোগ্যতা আশা করা বিরাট সাজা বৈ কিছু নয়। অতএব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা বিলুপ্ত করতে হবে। অন্যথায় দরবারে ইলাহীতে আমাদেরকে জবাবদিহীতার সম্মুখিন হতে হবে।
ইয়াতিম ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য আমাদের এখানে এ রকম কোন ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে যেখানে সর্বস্তরের শিশুরা সমানভাবে শিক্ষালাভ করতে পারে। কুরআনুল কারীমে এমন নেককার লোককেও ধ্বংসের বাণী শুনানো হয়েছে যে ইয়াতিমকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দেয় এবং সহায় সম্বলহীন মানুষের কদর করে না।
আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে, বৈষম্যমূলক সমাজে প্রতিপালিত সন্তানেরা আমাদের কোন সুফল বয়ে আনবে না। এর বাস্তবতা আমাদের সমাজেই দেখতে পাচ্ছি। স্বাবলম্বী রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়িত হতে পারে যখন সামাজিক সমতা ও ন্যায়নীতিমূলক বিশুদ্ধ পরিবেশে সব নাগরিককে যোগ্য করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জাপান থেকে আয়তনে পাঁচ গুণ ছোট কিন্তু জনসংখ্যায় বেশি এমন দেশের জনগণকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করলে 'গ্রেট সেভেন' বা 'অধিক শক্তিসম্পন্ন সাতটি দেশ'র পর্যায়ে নেওয়া যেতে পারে। পাকিস্তানকে আল্লাহ্ তা'আলা অনেক নেয়ামত, সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। একনিষ্ঠতার সাথে কাজ করে গেলে পাকিস্তান উন্নতির শীর্ষে স্থান পেতে পারে।