📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মায়ের দুধ পানকারী শিশুরা মেধাবী হয়

📄 মায়ের দুধ পানকারী শিশুরা মেধাবী হয়


সাধারণ শিশুদের মধ্যে মায়ের দুধ পানকারী শিশুরা অধিক মেধাবী হওয়ার সাথে সাথে রোগ-ব্যাধি থেকেও মুক্ত থাকে। বৃটেনে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী যে সকল শিশুরা মায়ের দুধ পান করেনি, বিদ্যালয়ে তাদের বেশির ভাগই বাক-বিমুখ এবং আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। তারা খুব কম সংখ্যক বালকের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে। বিশেষজ্ঞদের গবেষণা অনুযায়ী সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia) নামক মনোরোগে আক্রান্তদের শতকরা ৭০ ভাগ এমন যারা মায়ের দুধ পান করে নি। এছাড়া মায়ের দুধ পানকারী শিশুদের I.Q (Intelligence Quotient) এর গড় সূচক ১১০। পক্ষান্তরে গরুর দুধ পানকারী শিশুর I.Q এর গড় সূচক ১০০। বৃটেনের একজন মনো বিজ্ঞানীর রিপোর্ট অনুযায়ী মায়ের দুধে এমন কিছু উপাদান থাকে যা শিশুর মেধাশক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটা গাভীর দুধে থাকে না। (রিসার্চ রিপোর্ট)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দুধ দানকারী নারীদের স্তন ক্যান্সার কম হয়

📄 দুধ দানকারী নারীদের স্তন ক্যান্সার কম হয়


বর্তমানে যখনি কোন মহিলা স্তনে কোন গোটা বা চাকা অনুভব করে, তখনই সে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যায়। সে মনে করে যে, এ কারণে তার মৃত্যু অবধারিত, চিকিৎসা করিয়েও লাভ নেই। অনেক মহিলা এর ফলে পাথরের ন্যায় হয়ে যায় এবং এ ব্যাপারে পরামর্শ করতে দেরি করে ফেলে। ফলে তিনমাস বা তার চেয়েও দেরি হয়ে যায়। তারপর যদি তা ক্যান্সার হয়, তাহলে তো বিষয়টি মারাত্মকই। তবে স্তনে কোন ফোঁড়া দেখা দিলেই এ ভয়ে অস্থির হওয়ার কোন কারণ নেই যে তা ক্যান্সারই। বরং সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিবে এবং রোগ যত তাড়াতাড়ি চিহ্নিত হবে, চিকিৎসাও তত তাড়াতাড়ি ভাল ফল প্রদান করবে। কিন্তু দেরি করে ফেললে এবং রোগের বয়স বেড়ে গেলে তা অন্য কোন দিকে মোড় নিতে পারে।

স্তন ক্যান্সার শুনতেই যতটা ভয় লাগে, আসলে রোগটা তত ভয়ানক নয়। বৃটেনের দ্রুত রোগ চিহ্নিত হওয়ার ফলে চিকিৎসা দ্রুত হয় এবং পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে। স্মরণ রাখতে হবে যে, স্তনে যে ফোঁড়া হয় তাতে ৯০ শতাংশ রোগী ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। সেগুলিতে কোন ব্যাথা বা যন্ত্রণাও থাকে না। কিন্তু কিছু আছে যেগুলো ক্যান্সার। ক্যান্সারের মধ্যে সবগুলোতে অপারেশনের প্রয়োজন হয় না। যাই হোক এরকম পরিস্থিতি হলে রোগীনির কিছুতেই ভেঙ্গে পড়া উচিৎ হবে না। মন শক্ত করে স্বাভাবিক নিয়মেই চলাফেরা করবে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে থাকবে। বর্তমানে স্তন ক্যান্সারের আলাদা চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তাদের কাছেও পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:

১. স্থূলকায় নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য সতর্কতা অবলম্বন স্বরূপ চর্বি জাতীয় খাবার যথা—তেল, ঘি ইত্যাদি কম খাওয়া উচিত। নিজের ওজন কমান। খাদ্য তালিকায় আঁশযুক্ত খাদ্য, শাক-সব্জী, তরকারি ও ডালের পরিমাণ বৃদ্ধি করুন।
২. যে সমস্ত নারীর প্রথম সন্তান ত্রিশ বছরের বয়সের পূর্বে জন্মায় তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। এ কারণে ইচ্ছাপূর্বক সন্তান নিতে বিলম্ব না করে বরং ত্রিশ বছর বয়স পূর্তির পূর্বেই সন্তান নেওয়া উচিত।
৩. নবজাতককে বুকের দুধ পান করান। বুকের দুধ পানকারিনী মাতার স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

উল্লেখ্য যে, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের পাকস্থলি, ফুসফুস অথবা ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের তুলনায় আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা বেশি। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীরা একবার আরোগ্য লাভের পর ঐ ক্যান্সারের কারণে নয়; বরং বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে। ডাঃ এস.আই এর রিপোর্টে এ রকমই উল্লেখ করা হয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 শিশুকে ঘুম পাড়ানি গান শোনানো (Lullabbay for Children)

📄 শিশুকে ঘুম পাড়ানি গান শোনানো (Lullabbay for Children)


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুধবোন হযরত সুমাইয়্যা রাযি. ঘুমপাড়ানি গান গাইতেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের রিপোর্ট

📄 ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের রিপোর্ট


ওয়াল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনের রিসার্চ অনুযায়ী ঘুমপাড়ানি গান শিশুদের ঘুমই আনে না; বরং শিশুর ভবিষ্যতও সুন্দর করে। মায়ের স্নেহ-ভালবাসা এবং নৈকট্যের ছায়ায় ঘুমাতে অভ্যস্ত শিশু একাকি ঘুমিয়ে পড়া শিশুদের তুলনায় ভদ্র ও মেধাবী হয়। মায়ের সাথে শয়নকারী শিশুরা নিজেকে নিরাপদ মনে করে আর মা থেকে পৃথক হয়ে শয়নকারী শিশুরা হীনম্মন্যতার শিকার হয়। এছাড়া মায়ের সাথে শয়নকারী শিশু আত্মনির্ভরশীল এবং নির্ভীক হয়। (মেডিক্যাল সার্ভে আমেরিকা)

মুসলমান মা শিশুদেরকে বুকের দুধ পান করায়। আপন কোলে তাকে লালন-পালন করে। স্নেহ, ভালবাসায় তার মাথায় হাত বুলায়। ভালবাসার আতিশয্যে চুমু খায়। এমনকি স্বহস্তে তার ময়লা পরিষ্কার করে। তারপর যখন বড় হয়, তখন স্বহস্তে নরম খাদ্য তাকে তৈরি করে খাওয়ায়। এ সকল কর্মের ফলে অনবরত মায়ের হাত শিশুর শরীর স্পর্শ করে থাকে। ইউরোপে এ স্পর্শ নেই। কারণ শিশুরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু মা ছাড়া নয় বরং 'বাড়ী ছাড়া হয়ে' অন্য স্থান তথা ডে কেয়ার সেন্টারে লালিত পালিত হয়। সুতরাং একজন মুসলমান মায়ের শিশু যে স্নেহ ও ভালবাসা পেয়ে থাকে, ইউরোপীয় শিশু তা কখনো পায় না। এ বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের অভিমত পর্যবেক্ষণ করুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে স্পর্শ এবং ভালবাসার যে গুরুত্ব রয়েছে তা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। প্রাণী-মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ সাওল শেনবার্গ এর সম্পর্ক ছিল ডিউক ইউনিভার্সিটির সাথে। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করেন, যখন ইঁদুর ছানাকে তাদের মায়েদের থেকে পৃথক করে নেওয়া হয়, তখন তাদের বৃদ্ধি থেমে যায়। এর কারণ ছিল এই যে, তাদের মা তাদেরকে স্পর্শ করত। আর যখন তারা এ স্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তাদের 'প্রবৃদ্ধি হরমোনে' ঘাটতি দেখা দেয়। তারপর মা ইঁদুর তার ছানাকে যেভাবে চাটে, সেভাবে ব্রাশ দ্বারা ইঁদুর ছানা শরীরে মৃদুভাবে মর্দন করা হলে দেখা যায় তাদের হরমোন নিঃসরণ বেড়ে গেছে এবং তাদের প্রবৃদ্ধি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ জাতীয় অভিজ্ঞতা থেকে বুঝা যায় যে, টাচ্ থেরাপি অর্থাৎ স্পর্শ দ্বারা চিকিৎসায়ও শরীরে সুস্থতা আসে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়, হজম ব্যবস্থা সচল ও কার্যকর থাকে ও ইনসুলিনের মত হরমোন তৈরি হয়। ইনসুলিন পর্যাপ্ত নিঃসৃত হলে শরীরে খাদ্য সহজেই শোষিত হয় এবং শারীরিক বন্ধন খুব দ্রুত হতে থাকে। যে সব নবজাতক এবং দুধের শিশুকে ম্যাসাজ করা হয়, তাদের ট্রেস হ্রাস পায়। ট্রেসের ফলে যে হরমোন নিঃসৃত হয় তা রোগ প্রতিরোধের কাজে নিয়োজিত কোষগুলিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

নবজাতক এবং কমবয়সী শিশুদের শরীর মালিশ করা ভারত উপমহাদেশে শত শত বছরের প্রথা। মালিশের কাজটি সাধারণত মা, নানী, দাদী প্রমুখগণ করে থাকে। শত শত বছর পর এখন বিজ্ঞান এর উপকারিতার কথা স্বীকার করেছে। 'ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ইনফেন্ট ম্যাসাজ' নামক সংস্থার কর্মকর্তা বলেন—আমি এটি জেনে মোটেও আশ্চর্য হই নি যে, মস্তিষ্কোর উপর পরীক্ষা চালানো হলে স্পর্শের কল্যাণ প্রমাণিত হবে। কারণ, যে সব মা-বাবা আমার কাছে ম্যাসাজের শিক্ষা গ্রহণ করে, তাদের কাছ থেকে তাদের শিশুদের যে প্রবৃদ্ধির কথা শুনতে পাই, প্রমাণ হিসাবে তাই আমার জন্য যথেষ্ট। বর্তমানে বিশ্বের সব হাসপাতালেই চিকিৎসারত শিশুদের উপর টাচ্ থেরাপি পরীক্ষা করা হয়। স্পর্শ শক্তির মাধ্যমেও তাদের চিকিৎসা করা হয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে মা-বাবারা নিয়মিত নিজেদের শিশুদেরকে ম্যাসাজ করে। সামাজিকভাবে প্রচলিত এ বিষয়টিকে বুঝতে সায়েন্সের ৭০০ বৎসর সময় লেগেছে। (চাইল্ড কেয়ার ফর ইউনিভার্সেল অবলম্বনে)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00