📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক অবস্থা

📄 গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক অবস্থা


মানব মস্তিষ্কোর সামর্থ্য শিশুর জন্মের পূর্বেই নির্ধারণ করা হয়। আমেরিকান ডাক্তারদের বর্তমান গবেষণা অনুযায়ী যখন গর্ভের দশ সপ্তাহ অতিবাহিত হয়, তখনই মায়ের গর্ভেই শিশুর মস্তিষ্ক তৈরি হতে আরম্ভ করে। তখন মস্তিষ্কের আকৃতি নির্মাণের জন্য যে নকশা তৈরি হয়, তা জীবনের শেষ দিনগুলি পর্যন্ত শিক্ষা ও যোগ্যতার উপর প্রভাব ফেলে। আগে মনে করা হতো মানব মস্তিষ্ক জন্মের সময় একটি গোল পাথরের ন্যায় থাকে। কুদরত একে অবস্থা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিশেষ কোন আকৃতি দিয়ে থাকেন। সেই গবেষণা থেকে জানা যায় এ মতামতটি ভুল। অভিজ্ঞতা থেকে এমনটি অনুধাবন করা যায় যে, মাতৃগর্ভে শিশুর মস্তিষ্কের আকৃতি নির্মাণের সময় হল গর্ভের দশ সপ্তাহ পর যখন মস্তিষ্ক তৈরির কাজ আরম্ভ হয়। এ সময় মায়ের মানসিক অবস্থা এবং খাদ্য বিরাট প্রভাব ফেলে। তখন লক্ষ্য করা দরকার, মা কি খায়, সে পেরেশান না-কি আনন্দিত। তাই এ সময়ে মায়েদের পেরেশানী থেকে দূরে থাকার সঙ্গে সঙ্গে নিজের খাদ্যের প্রতিও বিশেষ দৃষ্টি রাখা দরকার।

জন্মের পর প্রথম দশ বছরও মস্তিষ্কের বৃদ্ধির দিক দিয়ে বেশ গুরুত্ব বহন করে। জন্মের পর শিশুর মস্তিষ্কে কোটি কোটি নতুন স্নায়ু কোষ সৃষ্টি হয়। তখন প্রয়োজন দেখা দেয় এ সব কোষকে ব্যবহার উপযোগী করা। বিশেষজ্ঞরা বলেন—মানব মস্তিষ্কের উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি ১০ বছর বয়সে পূর্ণতায় পৌঁছে। প্রাথমিক বছরগুলোতে যদি শিশুকে মস্তিষ্ক খাটানোর পরিবেশ সৃষ্টি করে না দেয়া যায়, তখন তার মস্তিষ্কে খারাপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। বিজ্ঞানীদের মতে যে শিশু জন্মের পর প্রাথমিক বছরগুলোতে সরাসরি নিজ মা বাবার লালন পালন থেকে বঞ্চিত থাকে, তাদের মস্তিষ্কের উন্নতি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাষা শেখার সময় হল জন্মের পর থেকে তিন বৎসর বয়স পর্যন্ত। আপনি যদি শিশুকে অন্য কোন ভাষা শেখাতে চান তবে দশ বৎসর বয়সের পূর্বেই তাকে সে ভাষার সাথে পরিচিত করাতে হবে। (আমেরিকান উইমেন হিস্ট্রি রিপোর্ট)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বাজার ও মায়ের তৈরি খাদ্য (Breakfast of Bazar and Mother)

📄 বাজার ও মায়ের তৈরি খাদ্য (Breakfast of Bazar and Mother)


পারিবারিক নিয়মে শিশু যখন মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকে তখন মায়ের ভালবাসা ও স্নেহ সর্বদাই সন্তানের সঙ্গেই থাকে। মা সন্তান প্রসব করার সাথে সাথেই নবজাতকের যাবতীয় দুনিয়াবী প্রয়োজন নিজের দায়িত্বে গ্রহণ করে। কিন্তু বড়ই আফসোসের বিষয়, আজকাল শিশুর খাদ্য সংস্থানের দায়িত্ব মায়ের হাত থেকে মেশিন ও অন্যান্য খাদেমদের হাতে অর্পিত হয়েছে। এতে করে সে ভালবাসা কোথায় পাওয়া যাবে যার ফলে সন্তান মাকে বেহেশত মনে করবে? সে হৃদ্যতা কোথায় পাওয়া যাবে যে সন্তান মায়ের পদতলে জান্নাত মনে করবে? সে অন্তরঙ্গতা কোথায় যে মায়ের চেহারা দর্শনকেও সন্তান ছওয়াব মনে করবে? সে সম্মানের জ্ঞান কোথায় যার দ্বারা সন্তান মা ও স্ত্রীর মর্যাদার পার্থক্য নিরুপণ করতে পারবে? আজ সমাজের অবস্থা এমন যে, শিশুরা নাস্তা না খেয়ে পকেটে টাকা, ডলার, পাউন্ড নিয়ে দৌড়ে চলে যায় স্কুলের দিকে। রাস্তা থেকে বিস্কুট, বার্গার ইত্যাদি কিনে খেতে খেতে দৌড়াতে থাকে স্কুলের দিকে। ফলে মা ও শিশুর মাঝে ভালবাসার যে অনুভূতি রয়েছে তা কোথায় যাবে—এ বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের নিম্নোক্ত রিপোর্ট পড়ে দেখুন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অ্যাস্ট্রোলজিস্ট ড. ইথার এর গবেষণা

📄 অ্যাস্ট্রোলজিস্ট ড. ইথার এর গবেষণা


শিশুর জন্য নাস্তা পাকানোর সময় ভালবাসার অনুভূতি শিশুর দিকে স্থানান্তরিত হয়। যে মা বাজারি নাস্তা দিয়ে শিশু লালন-পালন করে, অথবা শিশু সকালে উঠে বাজার থেকে নাস্তা করে স্কুলে যায় সে শিশুর হৃদয়ে মাতা-পিতার প্রতি আদব ও সম্মান কিভাবে তৈরি হবে?

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মায়ের দুধ সর্বোত্তম খাদ্য (Milk of Mother is the best food)

📄 মায়ের দুধ সর্বোত্তম খাদ্য (Milk of Mother is the best food)


মায়ের দুধ পানকারী শিশু মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়। ইউনিসেফ বিশ্বের ১২টি দেশে দুগ্ধ পোষ্য শিশুর মৃত্যুহার কমানোর জন্য 'মাতৃ দুগ্ধ উত্তম' আন্দোলন শুরু হয়েছে। প্রতি বছর দশ লক্ষ শিশু খোদা প্রদত্ত মায়ের দুধ না পাওয়ায় মৃত্যুবরণ করে। অপরদিকে কয়েক মিলিয়ন শিশু মায়ের দুধ না পাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন, অঙ্গহানি ও নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে যায়। এ আন্দোলন যে ১২ টি দেশের হাসপাতাল এবং অলি-গলির ক্লিনিক সমূহ হতে আরম্ভ হবে, সে দেশগুলি হল পাকিস্তান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, মিশর, ঘানা, আইভরিকোস্ট, কেনিয়া, মেক্সিকো, নাইজার, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড এবং তুরস্ক।

এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য হল নবজাতককে দুধ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশসমূহে প্রচলিত দেশীয় পদ্ধতির রূপকে চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত সহজ সরল পদ্ধতিতে উন্নতীকরণ। জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচীতে সহায়তাকারী এই সংস্থার মন্তব্য হল—অনেক হাসপাতালে মায়ের দুধ শিশুর উপযোগী না হওয়ায়, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুকে খাদ্য খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আধুনিক বিজ্ঞানের অনুসন্ধান অনুযায়ী ইউনিসেফ বলছে, মায়ের স্তন থেকে দুগ্ধপানকারী শিশুকে বোতল থেকে দুগ্ধপানকারী শিশুর তুলনায় ১০ শতাংশ কম হারে হাসপাতালে আনতে হয়। এ বিষয়টি এখন সন্দেহাতীত যে, মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুরা মানসিক দিক থেকে খুবই শক্তিশালী হয়। কারণ স্বভাবজাত নিয়মে মাতৃদুগ্ধ পান করায় শিশু সবল ও সুস্থ থাকে। ইউনিসেফ 'দুগ্ধপোষ্য শিশু ও মাতৃমঙ্গল' সংস্থা সমূহের নিকট আবেদন জানিয়েছে যে, ঐ সংস্থাগুলো যেন অত্যন্ত ব্যাপকভাবে 'মাতৃস্তন থেকে দুগ্ধ পান নবজাতকের পুষ্টি সংস্থানের প্রাকৃতিক পদ্ধতি' এবং 'চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত' এবং 'শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই' এ তথ্য প্রচার করে এবং বিশেষত যে সকল মায়েরা নবজাত শিশুকে দুধ পান করাতে চান, তাদেরকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00