📄 বিচার বিভাগের অর্জন (Achievment of Law Department)
বিচার বিভাগের সরকারী পত্রিকা বিবাহ বন্ধন স্থায়ী হওয়ার স্বপক্ষে অভিমত প্রকাশ করে লিখে বিবাহের গুরুত্ব ও মর্যাদা তখনই রক্ষিত হবে, যখন বিবাহের মাধ্যমে আজীবন পরস্পর ভালবাসা ও সহানুভূতির ইচ্ছা প্রকাশ পাবে। অবাধ যৌনতা ধ্বংসাত্মক। সোভিয়েত নাগরিকদের জন্য এটা পরিহার করা জরুরি।
১৯৩৬ খৃষ্টাব্দে আইন ও সমাজ বিশেষজ্ঞ কমিশনের প্রধান ষ্টোলজ (Stolz) নিম্নোক্ত সুপারিশগুলি পেশ করেন—
১. বিবাহ একটি সম্মিলিত কর্তব্য। এতদিন পর্যন্ত তালাক একটি সহজ ব্যাপার ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে তালাক প্রদানকে কঠোর করে দেওয়া হোক।
২. সোশ্যালিষ্ট দেশে গর্ভাপাতের বৈধতার কোন সুযোগ নেই।
৩. একজন মার্কসবাদী নারী অবশ্যই পুরুষের সমান অধিকার রাখে। কিন্তু কুদরত তাকে যে দায়িত্ব প্রদান করেছে অর্থাৎ মা হওয়ার দায়িত্ব, সে এ দায়িত্ব থেকে কোনভাবেই মুক্তি পাবে না। তার জীবনের দ্বিগুণ গুরুত্ব রয়েছে— একটি তার ব্যক্তিগত গুরুত্ব, অপরটি তার মা হওয়ার গুরুত্ব।
এরপর দাম্পত্য জীবন ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনার জন্য যে সব আইন ও সংশোধনী জারী সম্পর্কে সেগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল:
১. পোষ্ট কার্ডের দ্বারা তালাক দেওয়ার আইন রহিত করে দেওয়া হল।
২. তালাকের উপর ফি জারী করা হল। যেমন— প্রথমবার তালাক দিলে ৫০ রুবল, দ্বিতীয়বার তালাক দিলে ১৫০ রুবল এবং তৃতীয়বার তালাক দিলে ৩০০ রুবল ফি প্রদান করতে হবে। কোন কোন অবস্থায় ৩০০০ রুবল পর্যন্ত তালাকের ফি ধার্য করা হল।
৩. তালাককে একটি ঘৃণ্য বিষয়ে পরিণত করার উদ্দেশ্য তালাক দাতার পাসপোর্টেও তাদের এ অভ্যাস ও তালাকের সংখ্যা উল্লেখ করার আইন প্রণয়ন করা হল।
৪. গর্ভপাতকে হত্যার সমান অপরাধ সাব্যস্ত করা হল। এমন কি গর্ভপাতের পরামর্শ দাতার জন্যও দু'বৎসর জেলের শাস্তি নির্ধারণ করা হল।
৫. অবিবাহিত নারী-পুরুষ এবং তিন সন্তানের কম জনক ও জননীর উপর ট্যাক্স বসিয়ে দেওয়া হল।
৬. সন্তান গ্রহণের প্রতি উৎসাহ দানের লক্ষ্যে গর্ভকালীন সময়ে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও শিশুদের জন্য ভাতা-দানের আইন চালু করা হয়।
৭. যে শিশুদেরকে প্রথমে মাতা-পিতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে উদ্বুদ্ধ করা হত, তাদেরকে এ শিক্ষা দেওয়া হতে লাগল যে, তাদের উচিত মাতা-পিতার সাথে মুহাব্বত রাখা এবং সম্মান করা যদিও তারা পুরাতন নিয়মের উপরই চলে। তৎসঙ্গে তাদেরকে এমন শিক্ষা প্রদান করা হয় যাতে তারা মার্কসলীগকে ঘৃণা করে।
৮. ষ্ট্যালিন নিজেই শিশুদের সঙ্গ মেলামেশা শুরু করল। তাদের সঙ্গে ছবি উঠাল। এভাবে মাত্র বিশ বৎসরেই ঘর, পরিবার, বংশ ও স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কীয় নিজেদের সব দর্শন নিজেরাই শিকড় উপড়ে ফেলে। অভিজ্ঞতার আলোকে তারা বুঝতে পারে, তারা ভুল পথেই পরিচালিত হচ্ছিল। বর্তমানে তারা ছেলে-মেয়েদের স্কুল, কলেজ আলাদা আলাদ করার এবং সহশিক্ষাকে বাতিল করার চিন্তাভাবনা করছে। তাদের অভিজ্ঞতা হল, সহশিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে উদ্ভূত মানসিক অস্থিরতা কেবল চারিত্রিক অবনতিই নয়; বরং সমগ্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতার উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
মার্কসবাদীরা সবকিছুই করেছে। কিন্তু আসল ভুলটি স্বীয় স্থানেই রয়ে গেছে। নারীদেরকে পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি পুরুষদের মত কাজ করার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ কারণে তাদের সবরকম সংস্কার সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয় নি।
📄 গর্বাচেভের বই “পেরেস্তাইকা” (Book of Gorba Choof “Perstrika”)
রাশিয়ার নাযুক পরিস্থিতি দেখে সোভিয়েট ইউনিয়নের সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি গর্বাচেভ তার বিশ্বনন্দিত বই 'পেরেস্তাইকা' তে লিখেন—
'পশ্চিমা সমাজে নারীকে ঘর থেকে বের করা হয়েছে। তাদেরকে আযাদি দানের ফলে আমাদের অর্থনীতি অবশ্য কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করেছে। কিন্তু নারী স্বাধীনতার ফলে আমাদের পারিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লাভের চেয়ে পরিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার ক্ষতিটা অনেক গুণ বেশি। তাই আমি আমার রাষ্ট্রে 'পেরেস্তাইকা' নামে একটি আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছি। আমার মূল উদ্দেশ্য হল যে নারী ঘর থেকে বের হয়েছে, তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনা। এর পদ্ধতি সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করব যাতে পরিবার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে আমাদের পুরো জাতিই ধ্বংস না হয়।
নারী পুরুষের অবাধ মিলনে শারীরিক ও মানসিক শক্তি শেষ হয়ে যায়। অতীত ইতিহাসে নারী স্বাধীনতার ফলাফল এরূপই পরিলক্ষিত হয়েছে। এ সব জাতি জ্ঞানগত ব্যাপারেও চিন্তা ভাবনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে শক্তিশালী ও সৃজনশীল জাতির মোকাবিলা করতে গিয়ে পিছপা হয়।
📄 তালারেক পর প্রাপ্ত চামচ ও গ্লাস
ইউরোপীয়রা নারীদেরকে মাত্রাতিরিক্ত অধিকার প্রদান করে নিজেদের জন্য সীমাহীন অশান্তি ও দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। পক্ষান্তরে ইসলাম নারী ও পুরুষকে এমন ভারসাম্য পূর্ণ অধিকার দিয়েছে যা মেনে চলে স্বামী-স্ত্রী অত্যন্ত সুখের সাথে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে। ইউরোপীয়দের প্রথা হলো বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যদি সুসম্পর্ক স্থাপিত না হয়, তাহলে স্ত্রীকে তালাক দিবে। তালাকের পর স্ত্রী স্বামীর ঘরের সমস্ত জিনিসপত্রের মালিক হবে। আর পুরুষ শুধুমাত্র চামচ, গ্লাস, কাপ ও চেয়ার টেবিলের মালিক হবে। বলা বাহুল্য তাদের এই অসম নীতির ফলে সেখানকার পুরুষরা বিবাহের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক পারিবারিক জীবন গঠনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। অপরদিকে মহিলাদের মাঝে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামীর সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক পারিবারিক জীবন কাটানোর প্রবণতা এখনও বিদ্যমান। কারণ, ওখানে এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, কোন পুরুষের সাথে কয়েক মাস বসবাস করে তাঁর স্বভাব-প্রকৃতি ও আচার-আচরণ পরখ করে। যদি পছন্দ হয় তবে তার সাথেই দাম্পত্য জীবনের ভাগ্যকে জুড়ে দিবে। আর যদি তাঁর সঙ্গে বনিবনা না হয়, তাহলে অন্য স্বামী বেছে নিবে। এভাবে মহিলারা বিভিন্ন স্বামীর স্বভাব প্রকৃতি যাচাই করে এবং বিভিন্ন পুরুষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন অবৈধ সন্তানও জন্ম দেয়।
📄 দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়ন (Misunderstanding of Married life)
দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়ন দেখা দিলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় শিশু ও নারীরা। এ ব্যাপারে এন.আই. এইচ.আর এর একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে প্রকাশ যখন মাতা-পিতা বিবাদে লিপ্ত হয় তখন সর্বপ্রথম তাদের শিশুরা স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক খিঁচুনীতে আক্রান্ত হয়। তারপর স্ত্রীর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। সর্বপ্রথম আর্থিক কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। তারপর পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া দেখা দেয়। দক্ষিণ এশিয়ার আশেপাশের দেশগুলোতে যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থা থাকায় এ এরূপ ঝগড়া বেশি সংঘটিত হয়। ফলে নারী ও শিশুরা মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়।
ইসলাম নারীকে ঘরের জ্যোতি করেছে এবং তাদের স্থান নির্ধারণ করেছে পর্দার আড়ালে। যখন এ নারী-সভা সমিতি এবং অফিস-আদালতের বাতি হবে, তখন পরিণতিও বিপরীত হবে এটাই স্বাভাবিক।