📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর (After the communist revolution)

📄 কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর (After the communist revolution)


১৯১৭ খৃষ্টাব্দের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর কম্যুনিজম মতবাদের ভিত্তিতে বলা হল পরিবার, বংশ ও পুঁজি যেহেতু ব্যক্তি স্বার্থের ফসল, তাই এ বিপজ্জনক ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, মার্কসের প্রধান সহযোগী এঙ্গেলস তার এক বিখ্যাত বইয়ের ভূমিকায় লেখে— পরিবার মূলত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনারই ফলাফল এবং ব্যক্তি মালিকানা সংক্রান্ত মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ ব্যবস্থা এক আত্মীয়কে অপর আত্মীয়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। ফলে স্বামী-স্ত্রীর উপর এ জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করে যে সে তার স্ত্রীর জন্য ব্যয় করে। এঙ্গেলস তার এ ধ্যান-ধারণা থেকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে, উক্ত উত্তরাধিকার নিয়ম এবং পুঁজিবাদকে খতম করে দেওয়া যায়, যদি নারীকে অর্থনীতির দিক দিয়ে পুরুষের সমান অধিকার প্রদান করা হয়। সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের ব্যবস্থা প্রসঙ্গে এঞ্জেলসের মত হলো নারী-পুরুষের মিলনে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, তার লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। এঙ্গেলস তার উক্ত বইয়ে যৌন চাহিদাকেই নারী পুরুষের সম্পর্কের একমাত্র সূত্র সাব্যস্ত করেছে। সে এ থেকে এই নতুন দর্শন আবিষ্কার করেছে যে, নারী-পুরুষের মাঝে সে সম্পর্ককেই বৈধ মনে করা হবে যার ভিত্তি হবে যৌন কামনা এবং এ সম্পর্ককে ততদিন পর্যন্ত বৈধ মনে করা হবে, যতদিন তাদের মাঝে যৌন চাহিদা বিদ্যমান থাকবে। যখন এ চাহিদা প্রশমিত হয়ে যাবে অথবা অন্য কারো প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাবে, তখনি পূর্বোক্ত সঙ্গী থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া উচিৎ।

এ দর্শনের ভিত্তিতেই মার্কসবাদীরা রাশিয়ায় 'সম্মিলিত ও সমবায়ী' জীবনের ভিত্তি স্থাপন করে। রুশ প্রতিনিধি ম্যাডাম কোলেনতাই এ দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্য জাতির সামনে খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে এভাবে; "ভালবাসা ঠান্ডা পানির গ্লাসের ন্যায়— যা মানুষ পিপাসা নিবারণের জন্য পান করে। যেমন আপনি পানি পান করার পর গ্লাসের কথা ভুলে যান, এমনিভাবে নারী পুরুষ পরস্পর মিলনের দ্বারা স্বাদ উপভোগ করে এবং যার থেকে স্বাদ উপভোগ করা হয় তাকে ভুলে যায়।

এ ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী আইনের খসড়া প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে মার্কসবাদী রাশিয়ার ১৯১৮ ও ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে দাম্পত্য আইনে সুস্পষ্টভাবে দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, সব সন্তান সরকারের মালিকানায় থাকবে।
দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় নিয়মে সংঘটিত সব বিবাহ অবৈধ। পূর্বের সব বিবাহ ছিন্ন করার জন্য একপক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে স্বেচ্ছায় শুধু একটি কার্ড পাঠানোই যথেষ্ট।

পারিবারিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের মনকে এত বেশি উত্তেজিত করা হয়েছে যে, মার্কসবাদীদের ১৩তম কংগ্রেস পরিবার (Family) কেই সাবেক পুঁজিবাদি ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় শক্তি এবং তার হীন কর্মকান্ডের ঘাঁটি সাব্যস্ত করেছে।

১. ১৭ থেকে ৩২ বৎসর বয়সের মাঝামাঝি সব নারীকে সরকারী সম্পদ সাব্যস্ত করা হয়েছে। স্ত্রীর উপর থেকে স্বামীর অধিকার রহিত করা হয়েছে।
২. শিশুদের এ মন মেজাজ তৈরি করা হয়েছে যে তারা নিজেদের মাতা-পিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কমিউনিস্ট সরকারের স্বপক্ষে গোয়েন্দাগিরি করবে।
৩. প্রথমে আইন করা হল প্রতিটি পুরুষ ও নারীকে— যাকে যেখানে কাজ দেওয়া হয়, সে সেখানেই কাজ করবে। তারপর স্বামীকে এক শহরে এবং স্ত্রীকে দূরে অন্য কোন শহরে কাজ দেওয়া হত।
৪. এ পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী অসুবিধা অনুভব করল। তখন লেবার বোর্ড তাদের অসুবিধা নিরসনের জন্য সমাধান দিল কর্মস্থলে যে যাকে পছন্দ করবে, তাকেই স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করবে। এ আইনের পাশাপাশি তারা বৈধ, অবৈধ সব শিশুকে মর্যাদায় সমান করে দিল।
৫. নারীদের সুবিধার্থে সরকার দেশের বহু স্থানে গর্ভপাতের জন্য চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করল। সেখানে নির্দ্বিধায় বৈধ-অবৈধ সব ধরনের সন্তানই গর্ভপাত করা যেত। কোন রকম জটিলতার সম্মুখীন হতে হত না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আইনের ফলাফল (Results of Laws)

📄 আইনের ফলাফল (Results of Laws)


তৎকালীন এক কলম সৈনিক নিম্নোক্ত ভাষায় এ সব আইনে ফলাফল তুলে ধরেছেন, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত 'অবৈধ শিশু লালন-পালন সংস্থা'র বাইরেও ৫০ লক্ষ শিশু দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যাদের না আছে কোন খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা, না আছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। এগার বারো বছরের লক্ষ লক্ষ মেয়েরা রুশ নওজোয়ানদের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকত। রুশ সরকার ব্যক্তিগত ব্যবসা হিসেবে এর অবাধ অনুমতি দিয়ে তাদের থেকে কর আদায় করা শুরু করে। লেনিনের স্ত্রীর অনুমান অনুযায়ী এরূপ শিশুদের সংখ্যা সত্তর লক্ষ পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিল। শিশু অপরাধ এত অধিক হারে বেড়ে গিয়েছিল যে, ৭ই এপ্রিল ১৯৩৫ খৃষ্টাব্দে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সরকারী পদস্থ কর্মকর্তাদের কাউন্সিল ঐক্য মতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, অপরাধের জন্যে ১২ বছরের শিশুদেরকেও একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সমান শাস্তি দেওয়া হোক।

১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের এক গণনা অনুযায়ী শুধু মস্কোতেই ৫৭,০০০ সন্তানের প্রসবের বিপরীতে ১,৫৪,০০০ গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে এবং গ্রামাঞ্চলে ২,৫৪,০০০ হাজার সন্তানের প্রসবের বিপরীতে ৩,২৪,১৯৪ গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। অর্থাৎ শহরে প্রতি ৪টি শিশুর তিনটিকে মায়ের গর্ভেই হত্যা করা হয়েছে।

তালাক এত অধিক হারে বেড়ে গিয়েছিল যে, ১৯৩৫ খৃষ্টাব্দের প্রথম পাঁচ মাসে রেজিস্ট্রিকৃত বিয়ের অনুপাতে তালাকের হার ৩৮ শতাংশ বেশি ছিল।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দৃষ্টি এখন খুলে গিয়েছে (Now becomes aware)

📄 দৃষ্টি এখন খুলে গিয়েছে (Now becomes aware)


নারী স্বাধীনতার এই চিরাচরিত ফলাফল সামনে আসলে মার্কসবাদীদের চোখ খুলতে আরম্ভ করল। প্রসিদ্ধ পত্রিকা ইজভিষ্টিয়া (IZVESTIA) ১৪ জুলাই ১৯৩৫ খৃ. সংখ্যায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে লেখে— 'দাম্পত্য জীবনে অবিশ্বস্ততা আইনগত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসে পড়েছে। মানুষকে জানিয়ে দেওয়া জরুরি যে, দাম্পত্য সম্পর্কে খেয়ানত মার্কসবাদী আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।'

এতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সব প্রচার মাধ্যম গর্ভপাত, তালাক এবং যৌন স্বাধীনতার স্বপক্ষে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিল। এখন আগের চেয়ে আরো বেশি গুরুত্ব সহকারে এগুলোর ক্ষতিকর দিক বর্ণনায় লিপ্ত হয়। তারা পিতা-মাতার অধিকার ও মর্যাদা স্বীকার করা শুরু করে। শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার দায়িত্ব পিতা-মাতার উপর অর্পিত হয়। তালাক এবং গর্ভপাত বিরোধী সাহিত্য অধিক পরিমাণে প্রকাশিত হয়। এ সব সাহিত্যে তালাক এবং গর্ভপাতের ক্ষতি সম্পর্কে জোর প্রচারণা চালানো হয়। পিতার স্নেহ ও মায়ের ভালবাসার গুণ গাওয়া শুরু হয়। পারিবারিক জীবনের মাহাত্ম, গুণাগুণ ও বরকত মানুষের অন্তরে বসানোর চেষ্টা চলে। হুকুমতের পক্ষ থেকেই নির্দেশ জারী করা হয়— বিভিন্ন জায়গায় কনফারেন্স, সভা ইত্যাদি আয়োজন করে মানুষের মনে পারিবারিক জীবনের মাহাত্ম সুদৃঢ় করা হোক। এক বৎসর পূর্বে যে সব কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও কলামিষ্ট পারিবারিক জীবনের ক্ষতিকারক ও ধ্বংসাত্মক দিকগুলি লিখত, তারা পুরোদমে লেখালেখি করে মানুষকে বুঝাতে লাগল যে, পারিবারিক ব্যবস্থাপনাকে মজবুত করা মার্কসবাদের প্রাথমিক শিক্ষা ও মতবাদ। যারা অন্যায়ভাবে তালাককে ব্যবহার করবে, তারা শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বিচার বিভাগের অর্জন (Achievment of Law Department)

📄 বিচার বিভাগের অর্জন (Achievment of Law Department)


বিচার বিভাগের সরকারী পত্রিকা বিবাহ বন্ধন স্থায়ী হওয়ার স্বপক্ষে অভিমত প্রকাশ করে লিখে বিবাহের গুরুত্ব ও মর্যাদা তখনই রক্ষিত হবে, যখন বিবাহের মাধ্যমে আজীবন পরস্পর ভালবাসা ও সহানুভূতির ইচ্ছা প্রকাশ পাবে। অবাধ যৌনতা ধ্বংসাত্মক। সোভিয়েত নাগরিকদের জন্য এটা পরিহার করা জরুরি।

১৯৩৬ খৃষ্টাব্দে আইন ও সমাজ বিশেষজ্ঞ কমিশনের প্রধান ষ্টোলজ (Stolz) নিম্নোক্ত সুপারিশগুলি পেশ করেন—

১. বিবাহ একটি সম্মিলিত কর্তব্য। এতদিন পর্যন্ত তালাক একটি সহজ ব্যাপার ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে তালাক প্রদানকে কঠোর করে দেওয়া হোক।
২. সোশ্যালিষ্ট দেশে গর্ভাপাতের বৈধতার কোন সুযোগ নেই।
৩. একজন মার্কসবাদী নারী অবশ্যই পুরুষের সমান অধিকার রাখে। কিন্তু কুদরত তাকে যে দায়িত্ব প্রদান করেছে অর্থাৎ মা হওয়ার দায়িত্ব, সে এ দায়িত্ব থেকে কোনভাবেই মুক্তি পাবে না। তার জীবনের দ্বিগুণ গুরুত্ব রয়েছে— একটি তার ব্যক্তিগত গুরুত্ব, অপরটি তার মা হওয়ার গুরুত্ব।

এরপর দাম্পত্য জীবন ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনার জন্য যে সব আইন ও সংশোধনী জারী সম্পর্কে সেগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল:

১. পোষ্ট কার্ডের দ্বারা তালাক দেওয়ার আইন রহিত করে দেওয়া হল।
২. তালাকের উপর ফি জারী করা হল। যেমন— প্রথমবার তালাক দিলে ৫০ রুবল, দ্বিতীয়বার তালাক দিলে ১৫০ রুবল এবং তৃতীয়বার তালাক দিলে ৩০০ রুবল ফি প্রদান করতে হবে। কোন কোন অবস্থায় ৩০০০ রুবল পর্যন্ত তালাকের ফি ধার্য করা হল।
৩. তালাককে একটি ঘৃণ্য বিষয়ে পরিণত করার উদ্দেশ্য তালাক দাতার পাসপোর্টেও তাদের এ অভ্যাস ও তালাকের সংখ্যা উল্লেখ করার আইন প্রণয়ন করা হল।
৪. গর্ভপাতকে হত্যার সমান অপরাধ সাব্যস্ত করা হল। এমন কি গর্ভপাতের পরামর্শ দাতার জন্যও দু'বৎসর জেলের শাস্তি নির্ধারণ করা হল।
৫. অবিবাহিত নারী-পুরুষ এবং তিন সন্তানের কম জনক ও জননীর উপর ট্যাক্স বসিয়ে দেওয়া হল।
৬. সন্তান গ্রহণের প্রতি উৎসাহ দানের লক্ষ্যে গর্ভকালীন সময়ে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও শিশুদের জন্য ভাতা-দানের আইন চালু করা হয়।
৭. যে শিশুদেরকে প্রথমে মাতা-পিতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে উদ্বুদ্ধ করা হত, তাদেরকে এ শিক্ষা দেওয়া হতে লাগল যে, তাদের উচিত মাতা-পিতার সাথে মুহাব্বত রাখা এবং সম্মান করা যদিও তারা পুরাতন নিয়মের উপরই চলে। তৎসঙ্গে তাদেরকে এমন শিক্ষা প্রদান করা হয় যাতে তারা মার্কসলীগকে ঘৃণা করে।
৮. ষ্ট্যালিন নিজেই শিশুদের সঙ্গ মেলামেশা শুরু করল। তাদের সঙ্গে ছবি উঠাল। এভাবে মাত্র বিশ বৎসরেই ঘর, পরিবার, বংশ ও স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কীয় নিজেদের সব দর্শন নিজেরাই শিকড় উপড়ে ফেলে। অভিজ্ঞতার আলোকে তারা বুঝতে পারে, তারা ভুল পথেই পরিচালিত হচ্ছিল। বর্তমানে তারা ছেলে-মেয়েদের স্কুল, কলেজ আলাদা আলাদ করার এবং সহশিক্ষাকে বাতিল করার চিন্তাভাবনা করছে। তাদের অভিজ্ঞতা হল, সহশিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে উদ্ভূত মানসিক অস্থিরতা কেবল চারিত্রিক অবনতিই নয়; বরং সমগ্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতার উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

মার্কসবাদীরা সবকিছুই করেছে। কিন্তু আসল ভুলটি স্বীয় স্থানেই রয়ে গেছে। নারীদেরকে পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি পুরুষদের মত কাজ করার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ কারণে তাদের সবরকম সংস্কার সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয় নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00