📄 আমেরিকান জাতির বিপদ (Dangers for American Nation)
পারিবারিক জীবনে অস্থিরতার ফলে আমেরিকান জাতি ও আমেরিকা রাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আলোকপাত করে বলে তিনি বলেন— 'আমেরিকার পারিবারিক জীবন যে পথে অগ্রসর হচ্ছে, যদি তারা সে পথ পরিহার না করে, তবে তারা ধর্মীয় জীবন ছাড়াও দুনিয়াবী জীবনেও ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন না হয়ে পারে না।'
প্রথমত ধীরে ধীরে আমেরিকান জাতি প্রতারক জাতিতে পরিণত হবে। যে জাতির শতকরা পঞ্চাশজন লোক এ কথা ভাববে যে, তারা শুধু নিজের মর্জিমত এবং নিজের সুবিধার্থে বিবাহের পবিত্র অঙ্গীকার বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে ভেঙ্গে ফেলতে পারে, তাহলে বুঝা উচিৎ যে, এ জাতির জীবনে সে মুহূর্তটি এসে পড়েছে যখন কোন নাগরিকের কাছেই রাষ্ট্র ও জাতির কল্যাণ-অকল্যাণের গুরুত্ব থাকবে না। যখন কোন দেশের নাগরিকের পারিবারিক বন্ধন শেষ হয়ে যায়, তখন সেদিন বেশি দূরে থাকে না যেদিন দেশ ও জাতির সঙ্গেও তার কোন সম্পর্ক থাকবে না। যে দেশে 'ক' এর স্ত্রী প্রতিনিয়ত 'খ' এর স্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে, সে দেশের নাগরিকদেরকে অন্যের সঙ্গে সন্ধি-ষড়যন্ত্র করা থেকে কেউ রুখতে পারে না। যে আজ পরিবারের সাথে প্রতারণা করছে, সে আগামীকাল অবশ্যই জাতির সাথে প্রতারণা করবে।
দ্বিতীয়ত মানুষের ধ্যান ধারণাও এরূপ হতে থাকবে যে, কোন ব্যক্তিই রাষ্ট্র ও সমাজের খাতিরে আত্মদান, কষ্ট সহ্য করতে এবং রাষ্ট্র ও জাতির উপকারার্থে বিপদের সম্মুখীন হতে তৈরি হবে না। কারণ ঘরই এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে জাতির প্রতিটি সদস্য আত্মসংবরণ, অন্যের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এবং অন্যদের সঙ্গে মিলে পরিবারের সব সদস্যের জন্য কল্যাণকর জীবন যাপন করার শিক্ষা অর্জন করে। ঘরই এমন একটি বিদ্যাপীঠ যেখানে মানুষ নিজের আনন্দকে অন্যের আনন্দের জন্য, নিজের চাহিদাকে অন্যের চাহিদার জন্য, নিজের আরামকে অন্যের আরামের জন্য, এমনকি নিজের জীবনকে অন্যের জীবনের জন্য কোন প্রতিদান অথবা উদ্দেশ্য ছাড়া বিনা দ্বিধায় উৎসর্গ করার শিক্ষা পায়।
যদি ঘরের ভিতর নেতা সৃষ্টি করার ব্যবস্থা না থাকে, তবে জাতির ভিতর নেতা তৈরি হবে কোথা থেকে? যে সকল লোক নিজেদের সন্তান-সন্তুতির জন্য কষ্ট করতে ভয় পায়, তারা কিভাবে দেশ ও জাতির খাতিরে কষ্ট করবে? অন্যকে প্রধান্য দেওয়া এবং অন্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার প্রশিক্ষণ যখন ঘর থেকে চলে যাবে, তখন জাতির স্বার্থে কাজ করতে আগ্রহী নাগরিকও পাওয়া যাবে না।
📄 লন্ডনের দৈনিক জঙ্গ এর খবর (News of Daily Jang London)
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ৭৬ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী বিবাহ ব্যতীতই যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার স্বপক্ষে। ৩৪ শতাংশ ছাত্রীর স্বীকারোক্তি হল তারা ভার্সিটিতে আসার পর কুমারী থাকে নি। বর্তমানেও তাদের অন্যের সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্ক রয়েছে। মোট মেয়ের ২৫ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করে। ২১ শতাংশ অশ্লীল ও নগ্ন ছবির পত্রিকা ক্রয় করে। ৩৪ শতাংশ আল্লাহ তা'আলার অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। ৪৮ শতাংশ সমকামিতার পক্ষে। ২১ শতাংশ নেশা ব্যবহার করে। ৫৫ শতাংশ ছাত্র মদ্যশালায় গমন করে। (জঙ্গ লন্ডন ৫ মার্চ ১৯৯০ ইং)
বি.বি.সি বিশ হাজার নাগরিকের উপর সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, লন্ডনে শুধু এক-তৃতীয়াংশ পরিবার বৈধ স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতিসহ নিয়মমত পারিবারিক জীবন যাপন করছে। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ দাম্পত্য সম্পর্ক ছাড়াই একত্রে জীবন যাপন করছে অথবা পরীক্ষামূলক পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছে। (জঙ্গ ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ ইং)
বিবাহিত পরিবারগুলোতে রয়েছে তালাকের উচ্চ প্রবণতা। তালাক প্রাপ্তদের পিছনে সরকারের মাসিক খরচ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড। প্রতিবছর তালাকের শিকার হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ শিশু। অনুমান করা হচ্ছে আগামী কয়েক বৎসরে তিন মিলিয়ন নারী পুরুষ তালাকের শিকার হবে। এর প্রভাব প্রায় ১৫ লক্ষ শিশুর উপর পড়বে। (জঙ্গ ৬ জুন, ১৯৯২ ইং)
ব্রিটেনে পারিবারিক জীবন ভেঙ্গে পড়ায় অবৈধ সন্তানের সমস্যাটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ১৯৯১ খৃষ্টাব্দে বিশ হাজার অবৈধ সন্তান জন্ম নিয়েছে। একটি সরকারী রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯১ খৃষ্টাব্দে এক লক্ষ ৫৩ হাজার তালাকের ঘটনা ঘটেছে। এ ক্রমবর্ধমান তালাকের ফলে অবৈধ সন্তানের হার দাঁড়াবে ২৩ শতাংশ।
📄 বার বছরের এক ছেলের আচরণ (Behavior of twelve years old boy)
অস্ট্রিয়ায় ১২ বছরের এক ছেলে মাতা-পিতার বিরুদ্ধে ১ লক্ষ ডলার জরিমানা দাবী জানিয়েছে। তার দাবীর কারণ হল, তাকে কেন বাঁ-হাতি করে জন্ম দেওয়া হয়েছে। বাঁ-হাতি হওয়ার কারণে সে খেলায় হেরে গিয়ে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমেরিকান কংগ্রেসের একজন কর্মকর্তা মিস্টার ক্লার্ড পিপর এক রিপোর্টে বলেছেন, ১৯৮৪ ইং পর্যন্ত আমেরিকার ১০ হাজার ডাক্তারদের কাছে ভুয়া ডিগ্রী ছিল এবং এরা নিয়মিত প্র্যাকটিস করছিল।
আমেরিকার হাই স্কুলসমূহে প্রতি ২ (দুই) জনের একজন ছাত্র মদ্যপ, চারজনে একজন সিগারেট পান করে, দশজনে একজন হাশীশ সেবন করে। এক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আমেরিকায় প্রতি সাত মিনিটে একটি শিশু নেশা করার দায়ে গ্রেপ্তার হয়। প্রতি আট সেকেন্ডে একটি শিশু স্কুল ত্যাগ করে। প্রতি ২৭ সেকেন্ডে একটি অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ে মা হয়। প্রতি ৪৭ সেকেন্ডে একটি শিশু ধর্ষিতা হয়। প্রতি ৩৬ মিনিটে আগ্নেয়াস্ত্র অথবা অন্য কোন অস্ত্রে একজন লোক আহত অথবা নিহত হয়। ব্রিটেনে ১৯৮৬ খৃষ্টাব্দে ১২০০ অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মাঝে যৌন সম্পর্কের ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে পাঁচ বৎসর বয়সের চেয়েও কম বয়সী বালক ছিল। ব্রিটেনের স্কুল সমূহে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুরা বৎসরে সিগারেট পান করার জন্য ব্যয় করে ৯ কোটি পাউন্ড। এ সব ভয়ানক বিষয়সমূহের জন্য সহশিক্ষা এবং যৌন উদ্দীপক দৃশ্যাবলী ও ফিল্মসমূহকে দায়ী করা হয়েছে। (জঙ্গ ২৮ শে এপ্রিল, ১৯৮৭ ইং)
জার্মানীতে পুরুষের সঙ্গে পুরুষের বিবাহ ও নারীদের সাথে নারীদের বিবাহের বৈধতার পক্ষে জোর দাবী জানানো হয়েছে। বার্লিনে এ দাবীর স্বপক্ষে ৫০০ নারী-পুরুষ মিছিল করেছে। ১৯৮৪ খৃষ্টাব্দের এক সমীক্ষা অনুযায়ী শুধু ফ্রান্সিসকোতেই সত্তর হাজার সমকামী ছিল। সমকামীরা কলোরাডোতে একটি নিজস্ব রেডিও ষ্টেশন চালু করেছে।
📄 কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর (After the communist revolution)
১৯১৭ খৃষ্টাব্দের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর কম্যুনিজম মতবাদের ভিত্তিতে বলা হল পরিবার, বংশ ও পুঁজি যেহেতু ব্যক্তি স্বার্থের ফসল, তাই এ বিপজ্জনক ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, মার্কসের প্রধান সহযোগী এঙ্গেলস তার এক বিখ্যাত বইয়ের ভূমিকায় লেখে— পরিবার মূলত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনারই ফলাফল এবং ব্যক্তি মালিকানা সংক্রান্ত মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ ব্যবস্থা এক আত্মীয়কে অপর আত্মীয়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। ফলে স্বামী-স্ত্রীর উপর এ জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করে যে সে তার স্ত্রীর জন্য ব্যয় করে। এঙ্গেলস তার এ ধ্যান-ধারণা থেকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে, উক্ত উত্তরাধিকার নিয়ম এবং পুঁজিবাদকে খতম করে দেওয়া যায়, যদি নারীকে অর্থনীতির দিক দিয়ে পুরুষের সমান অধিকার প্রদান করা হয়। সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের ব্যবস্থা প্রসঙ্গে এঞ্জেলসের মত হলো নারী-পুরুষের মিলনে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, তার লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। এঙ্গেলস তার উক্ত বইয়ে যৌন চাহিদাকেই নারী পুরুষের সম্পর্কের একমাত্র সূত্র সাব্যস্ত করেছে। সে এ থেকে এই নতুন দর্শন আবিষ্কার করেছে যে, নারী-পুরুষের মাঝে সে সম্পর্ককেই বৈধ মনে করা হবে যার ভিত্তি হবে যৌন কামনা এবং এ সম্পর্ককে ততদিন পর্যন্ত বৈধ মনে করা হবে, যতদিন তাদের মাঝে যৌন চাহিদা বিদ্যমান থাকবে। যখন এ চাহিদা প্রশমিত হয়ে যাবে অথবা অন্য কারো প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাবে, তখনি পূর্বোক্ত সঙ্গী থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া উচিৎ।
এ দর্শনের ভিত্তিতেই মার্কসবাদীরা রাশিয়ায় 'সম্মিলিত ও সমবায়ী' জীবনের ভিত্তি স্থাপন করে। রুশ প্রতিনিধি ম্যাডাম কোলেনতাই এ দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্য জাতির সামনে খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে এভাবে; "ভালবাসা ঠান্ডা পানির গ্লাসের ন্যায়— যা মানুষ পিপাসা নিবারণের জন্য পান করে। যেমন আপনি পানি পান করার পর গ্লাসের কথা ভুলে যান, এমনিভাবে নারী পুরুষ পরস্পর মিলনের দ্বারা স্বাদ উপভোগ করে এবং যার থেকে স্বাদ উপভোগ করা হয় তাকে ভুলে যায়।
এ ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী আইনের খসড়া প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে মার্কসবাদী রাশিয়ার ১৯১৮ ও ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে দাম্পত্য আইনে সুস্পষ্টভাবে দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, সব সন্তান সরকারের মালিকানায় থাকবে।
দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় নিয়মে সংঘটিত সব বিবাহ অবৈধ। পূর্বের সব বিবাহ ছিন্ন করার জন্য একপক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে স্বেচ্ছায় শুধু একটি কার্ড পাঠানোই যথেষ্ট।
পারিবারিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের মনকে এত বেশি উত্তেজিত করা হয়েছে যে, মার্কসবাদীদের ১৩তম কংগ্রেস পরিবার (Family) কেই সাবেক পুঁজিবাদি ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় শক্তি এবং তার হীন কর্মকান্ডের ঘাঁটি সাব্যস্ত করেছে।
১. ১৭ থেকে ৩২ বৎসর বয়সের মাঝামাঝি সব নারীকে সরকারী সম্পদ সাব্যস্ত করা হয়েছে। স্ত্রীর উপর থেকে স্বামীর অধিকার রহিত করা হয়েছে।
২. শিশুদের এ মন মেজাজ তৈরি করা হয়েছে যে তারা নিজেদের মাতা-পিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কমিউনিস্ট সরকারের স্বপক্ষে গোয়েন্দাগিরি করবে।
৩. প্রথমে আইন করা হল প্রতিটি পুরুষ ও নারীকে— যাকে যেখানে কাজ দেওয়া হয়, সে সেখানেই কাজ করবে। তারপর স্বামীকে এক শহরে এবং স্ত্রীকে দূরে অন্য কোন শহরে কাজ দেওয়া হত।
৪. এ পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী অসুবিধা অনুভব করল। তখন লেবার বোর্ড তাদের অসুবিধা নিরসনের জন্য সমাধান দিল কর্মস্থলে যে যাকে পছন্দ করবে, তাকেই স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করবে। এ আইনের পাশাপাশি তারা বৈধ, অবৈধ সব শিশুকে মর্যাদায় সমান করে দিল।
৫. নারীদের সুবিধার্থে সরকার দেশের বহু স্থানে গর্ভপাতের জন্য চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করল। সেখানে নির্দ্বিধায় বৈধ-অবৈধ সব ধরনের সন্তানই গর্ভপাত করা যেত। কোন রকম জটিলতার সম্মুখীন হতে হত না।