📄 নারীবাদ ও এর পরিণতি (Faminism and its Effects)
নারী স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সাথে কাজ করার আন্দোলনটি মূলত পশ্চিমাদেরই আন্দোলন। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে যখন পশ্চিমা সমাজে জমিদারী ব্যবস্থাপনার স্থলে পুঁজিবাদীরা আসতে শুরু করল তখন পুঁজিবাদীদের সস্তা শ্রমিক হিসেবে নারীদের প্রয়োজন পড়ল। তারপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ পুরুষ মারা যাওয়ার ফলে নারীদের প্রয়োজন পড়ল আয় রোজগারের। তাছাড়াও পশ্চিমা বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের মানব সৃষ্টি সম্পর্কে ধ্যান ধারণা তাদেরকে ধর্ম ও চরিত্রবিরোধী করে ফেলেছিল। এ সব কারণে সেখানকার নারীরা স্বাধীনতার পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু আমাদের সমাজ তো পশ্চিমাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ইংরেজ শাসনামলে তারা এখানে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল তা আমাদের মস্তিষ্ক ও প্রভাবশালী শ্রেণীকে তাদের অন্ধ ভক্তে পরিণত করেছে। তাছাড়াও পাকিস্তানের সহশিক্ষা ব্যবস্থা, পুঁজিবাদের প্রচেষ্টা এবং আধুনিক সংবাদ মাধ্যমে নির্লজ্জতা ও উলঙ্গপনার প্রচার এবং চীনের ষড়যন্ত্রে আমাদের এখানে নারী স্বাধীনতা ও নারী সৌন্দর্যকে ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করার বড় ধরনের মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে।
পরিণতিতে আমাদের সভ্যতা সংস্কৃতি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌছেছে এবং পশ্চিমা সভ্যতার উত্তরাধিকারের সাথে সাথে আমাদের চিন্তা চেতনা সব কিছুই আধুনিকতার স্রোতে ভেসে চলেছে। ধৈর্য্য, কৃতজ্ঞতা, অল্পে তুষ্টি, আল্লাহর উপর ভরসা করা, সাধাসিধে জীবন যাপন করা, জীবদ্দশায় বিভিন্ন বালা মুসিবতকে ধৈর্য্যের সাথে সহ্য করা এবং নিজে কষ্ট করে অন্যকে সাহায্য করার আদর্শ বর্তমানে কল্পনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আমাদের সভ্যতার ভীত নড়বড়ে হওয়ার কারণেই নারী স্বাধীনতার ইস্যুটি সৃষ্টি হয়েছে। যদি আমরা এখনো নিজেদের সভ্যতাকে রক্ষা করা ও তার ভীতকে মজবুত করার প্রতি মনোযোগী না হই এবং এ জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা না চালাই, তবে অদূর ভবিষ্যতে আমরা ধ্বংসের এমন গহ্বরে পতিত হবো যেখান থেকে বের হওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর হবে। (মুয়াশারা-জাদিদাহ্ আওর ইসলাম)
📄 ফিল্টাস জে. সেনের পরীক্ষা (Experiments of Filtus. J. Shane)
আমেরিকার অবস্থা সম্পর্কে ফিল্টাস জে. শেন Communism and Conscience of the West নামক গ্রন্থে লিখেন— আমেরিকার পারিবারিক জীবনে বর্তমানে যেরূপ অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, এর নজির সম্ভবত সে দেশের পুরো ইতিহাসেও নেই। সেই লেখক বলেছেন (নিজ জাতিকে সম্বোধন করে বলছেন) এ জাতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে হলে তাদের পারিবারিক জীবনের প্রতি লক্ষ্য করুন, কিংবা তাদের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতি লক্ষ্য করুন, এবং মনে করুন যে, এটাই পুরো আমেরিকার অবস্থা।
'যদি আমেরিকার একটি মধ্যবিত্ত পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে কালাতিপাত করে এবং সীমাতিরিক্ত খরচ করে, তাহলে বিশ্বাস করুন যে, সমগ্র আমেরিকাই ঋণের নীচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। এভাবেই তারা একদিন ধ্বংসের গহ্বরে পতিত হবে। যদি কোন মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিশ্বস্ততা না থাকে, তবে মনে করুন, আমেরিকার আটলান্টিক চার্টার ও স্বাধীনতার চার ভিত্তি বহাল থাকবে না। যদি কোন পরিবার জেনে শুনে ইচ্ছাকৃতভাবে জন্মনিরোধ করে, তবে জাতির মাঝে অবশ্যই এ মন মানসিকতা সৃষ্টি হবে যে, তারা মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য ফসল ধ্বংস করে দিবে এবং এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি কোন পরিবারে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই স্বার্থপর হয় এবং একে অন্যের সুযোগ-সুবিধা এবং অনুভূতির প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে এবং একথা ভুলে যায় যে, তাদের প্রত্যেকেরই সুখ-দুঃখ অপরের সুখ-দুঃখের উপরই নির্ভর করে, তাহলে দেশের পুঁজি ও শ্রমেরও একই দশা হবে। এই অবস্থা সমাজকে সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শ্রমের ফলাফল থেকে এমনিভাবে বঞ্চিত করবে যেমনিভাবে স্বামী স্ত্রী পরিবারকে তাদের শ্রমের ফলাফল থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।
বর্তমানে আমাদের দেশের বড় বড় ৩০টি শহরে তালাক দেওয়ার প্রবণতা এত বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যে, প্রতি দুটি বিবাহের একটির পরিণাম হয় তালাক। এ দেশে বৎসরে অনুষ্ঠিত ২২,৮৫,৫০০ বিবাহের মধ্যে ২,০০,০০০ বিবাহের পরিণাম হয় তালাক। সুতরাং সুস্পষ্ট যে আমেরিকার অস্তিত্বে ঘুন ধরেছে।
১৯২০ খৃষ্টাব্দের পর মদপানের কারণে স্নায়ুরোগের হার ৫০% বেড়ে গিয়েছে। এখন এ বিষয়টি পুরোপুরি প্রমাণিত হয়েছে যে, বহু মহিলার মস্তিষ্ক ও স্নায়ু রোগের মৌলিক কারণ হল সে সব দায়িত্ব পালনের দুশ্চিন্তা যা প্রকৃতিই মা হিসেবে তাদেরকে প্রদান করেছে। অনুরূপভাবে পুরুষদের অস্থিরতার কারণও এটাই যে, তাদের উপরও পিতা হওয়ার দায়িত্ব এসে পড়ার ভয় রয়েছে। দুশ্চিন্তা ও ব্যথা-বেদনার সর্বশেষ প্রকাশ ঘটে তালাকের মাধ্যমেই। তালাক প্রদানের পূর্বে উভয় পক্ষ একটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মানসিক অস্থিরতা ও মস্তিষ্কের ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে থাকে। আমেরিকায় ৮৩% তালাক সে সব পরিবারেই সংঘটিত হয়, যে সব পরিবারে কোন সন্তান হয় না। শিক্ষা এই দুঃখজনক অবস্থার কোন চিকিৎসা নয়। কারণ কলেজে পড়ুয়া ৪৫% মেয়েরা এবং স্কুলে পড়ুয়া ২১% মেয়েরা সন্তান জন্ম দানের অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে।
📄 আমেরিকান জাতির বিপদ (Dangers for American Nation)
পারিবারিক জীবনে অস্থিরতার ফলে আমেরিকান জাতি ও আমেরিকা রাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আলোকপাত করে বলে তিনি বলেন— 'আমেরিকার পারিবারিক জীবন যে পথে অগ্রসর হচ্ছে, যদি তারা সে পথ পরিহার না করে, তবে তারা ধর্মীয় জীবন ছাড়াও দুনিয়াবী জীবনেও ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন না হয়ে পারে না।'
প্রথমত ধীরে ধীরে আমেরিকান জাতি প্রতারক জাতিতে পরিণত হবে। যে জাতির শতকরা পঞ্চাশজন লোক এ কথা ভাববে যে, তারা শুধু নিজের মর্জিমত এবং নিজের সুবিধার্থে বিবাহের পবিত্র অঙ্গীকার বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে ভেঙ্গে ফেলতে পারে, তাহলে বুঝা উচিৎ যে, এ জাতির জীবনে সে মুহূর্তটি এসে পড়েছে যখন কোন নাগরিকের কাছেই রাষ্ট্র ও জাতির কল্যাণ-অকল্যাণের গুরুত্ব থাকবে না। যখন কোন দেশের নাগরিকের পারিবারিক বন্ধন শেষ হয়ে যায়, তখন সেদিন বেশি দূরে থাকে না যেদিন দেশ ও জাতির সঙ্গেও তার কোন সম্পর্ক থাকবে না। যে দেশে 'ক' এর স্ত্রী প্রতিনিয়ত 'খ' এর স্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে, সে দেশের নাগরিকদেরকে অন্যের সঙ্গে সন্ধি-ষড়যন্ত্র করা থেকে কেউ রুখতে পারে না। যে আজ পরিবারের সাথে প্রতারণা করছে, সে আগামীকাল অবশ্যই জাতির সাথে প্রতারণা করবে।
দ্বিতীয়ত মানুষের ধ্যান ধারণাও এরূপ হতে থাকবে যে, কোন ব্যক্তিই রাষ্ট্র ও সমাজের খাতিরে আত্মদান, কষ্ট সহ্য করতে এবং রাষ্ট্র ও জাতির উপকারার্থে বিপদের সম্মুখীন হতে তৈরি হবে না। কারণ ঘরই এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে জাতির প্রতিটি সদস্য আত্মসংবরণ, অন্যের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এবং অন্যদের সঙ্গে মিলে পরিবারের সব সদস্যের জন্য কল্যাণকর জীবন যাপন করার শিক্ষা অর্জন করে। ঘরই এমন একটি বিদ্যাপীঠ যেখানে মানুষ নিজের আনন্দকে অন্যের আনন্দের জন্য, নিজের চাহিদাকে অন্যের চাহিদার জন্য, নিজের আরামকে অন্যের আরামের জন্য, এমনকি নিজের জীবনকে অন্যের জীবনের জন্য কোন প্রতিদান অথবা উদ্দেশ্য ছাড়া বিনা দ্বিধায় উৎসর্গ করার শিক্ষা পায়।
যদি ঘরের ভিতর নেতা সৃষ্টি করার ব্যবস্থা না থাকে, তবে জাতির ভিতর নেতা তৈরি হবে কোথা থেকে? যে সকল লোক নিজেদের সন্তান-সন্তুতির জন্য কষ্ট করতে ভয় পায়, তারা কিভাবে দেশ ও জাতির খাতিরে কষ্ট করবে? অন্যকে প্রধান্য দেওয়া এবং অন্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার প্রশিক্ষণ যখন ঘর থেকে চলে যাবে, তখন জাতির স্বার্থে কাজ করতে আগ্রহী নাগরিকও পাওয়া যাবে না।
📄 লন্ডনের দৈনিক জঙ্গ এর খবর (News of Daily Jang London)
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ৭৬ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী বিবাহ ব্যতীতই যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার স্বপক্ষে। ৩৪ শতাংশ ছাত্রীর স্বীকারোক্তি হল তারা ভার্সিটিতে আসার পর কুমারী থাকে নি। বর্তমানেও তাদের অন্যের সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্ক রয়েছে। মোট মেয়ের ২৫ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করে। ২১ শতাংশ অশ্লীল ও নগ্ন ছবির পত্রিকা ক্রয় করে। ৩৪ শতাংশ আল্লাহ তা'আলার অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। ৪৮ শতাংশ সমকামিতার পক্ষে। ২১ শতাংশ নেশা ব্যবহার করে। ৫৫ শতাংশ ছাত্র মদ্যশালায় গমন করে। (জঙ্গ লন্ডন ৫ মার্চ ১৯৯০ ইং)
বি.বি.সি বিশ হাজার নাগরিকের উপর সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, লন্ডনে শুধু এক-তৃতীয়াংশ পরিবার বৈধ স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতিসহ নিয়মমত পারিবারিক জীবন যাপন করছে। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ দাম্পত্য সম্পর্ক ছাড়াই একত্রে জীবন যাপন করছে অথবা পরীক্ষামূলক পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছে। (জঙ্গ ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ ইং)
বিবাহিত পরিবারগুলোতে রয়েছে তালাকের উচ্চ প্রবণতা। তালাক প্রাপ্তদের পিছনে সরকারের মাসিক খরচ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড। প্রতিবছর তালাকের শিকার হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ শিশু। অনুমান করা হচ্ছে আগামী কয়েক বৎসরে তিন মিলিয়ন নারী পুরুষ তালাকের শিকার হবে। এর প্রভাব প্রায় ১৫ লক্ষ শিশুর উপর পড়বে। (জঙ্গ ৬ জুন, ১৯৯২ ইং)
ব্রিটেনে পারিবারিক জীবন ভেঙ্গে পড়ায় অবৈধ সন্তানের সমস্যাটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ১৯৯১ খৃষ্টাব্দে বিশ হাজার অবৈধ সন্তান জন্ম নিয়েছে। একটি সরকারী রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯১ খৃষ্টাব্দে এক লক্ষ ৫৩ হাজার তালাকের ঘটনা ঘটেছে। এ ক্রমবর্ধমান তালাকের ফলে অবৈধ সন্তানের হার দাঁড়াবে ২৩ শতাংশ।