📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ভালবাসার বিয়ে একটি ব্যর্থ বিয়ে (Love Marriage-Failed Marriages)

📄 ভালবাসার বিয়ে একটি ব্যর্থ বিয়ে (Love Marriage-Failed Marriages)


স্যোশাল এন্ড অর্গানাইজেশন (সাও) এর মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত জরিপ থেকে বোঝা যায়, ভালবাসা পরবর্তী বিয়ে ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হল একজন অপরজনের আশা আকাঙ্খাকে পরিপূর্ণরূপে বাস্তব রূপ দিতে ব্যর্থ হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আয়োজিত-বিয়ে এবং ভালবাসার-বিয়ের ব্যর্থতার হার নির্ধরণের জন্য চালানো জরিপ অনুযায়ী, আয়োজিত বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার হার মাত্র আটাশ শতাংশ এবং ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ কোন না কোন উপায়ে সমঝোতা করে জীবন যাপন করে। তালাকের হার প্রায় শূন্যের কোঠায়- মাত্র ০.৭ শতাংশ।

অথচ ভালবাসা পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে তালাকের হার ছয় শতাংশ এবং আরো এ পরিমাণ বিয়ে পুরোপুরি সফলতা লাভ করে না। এর কারণ হল, ভালবাসা পরবর্তী বিয়েতে দম্পতিদের মাঝে বিরোধ দেখা দিলে তাদের পরিবার চায় যে, তারা স্বেচ্ছায় বিবাহ করার পরিণতি নিজেরাই ভোগ করুক এবং নিজেদের ভুলের অনুভূতি হোক। যখন তাদের কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন তাদের পরিবার তাদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে না। পরিস্থিতির চাপে পড়ে এ ধরনের দম্পতি একজন অপরজনকে বিপদের কারণ মনে করে। একজন অপরজনের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। ভালবাসা পরবর্তী বিয়েতে একপক্ষ অপরপক্ষের কাছে অনেক কিছু আশা করে। তাদের প্রত্যেকে চায় যে, বিয়ের পূর্বে তার সঙ্গে যেমন আচরণ ছিল তেমনি আচরণ বিয়ের পরেও থাকুক। বিয়ের পূর্বে কসম খেয়ে খেয়ে যে সব প্রতিশ্রুতি দিত, সেগুলির বাস্তবায়ন ঘটুক।

কিন্তু বিয়ের পর পুরুষ উপার্জনের এবং নারী ঘরোয়া কাজে লিপ্ত হলে পূর্বের কৃত প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়। অবমূল্যায়নের অনুভূতিও ঝগড়ার কারণ হয়ে যায়। অথচ আয়োজিত বিয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব থেকেই একজনের অপরজনের কাছে আগাম চাওয়া-পাওয়ার কিছু থাকে না। ফলে পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমে জীবন যাপনের চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু ভালবাসা পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে একজন অপরজনের প্রতি ফ্র্যাঙ্ক (খোলামেলা মনোভাব প্রকাশের অনুভূতি/ অবাধ সম্পর্ক) থাকে। উভয়ে সমান অধিকারের মন-মানসিকতা নিয়ে জীবন যাপন করতে চায়। ফলে সমান অধিকারের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য না থাকায়ও অমিল দেখা দেয়। আয়োজিত বিবাহের ক্ষেত্রে যদি যৌথ পরিবারের সাথে সম্পর্ক থাকে, তখন তার প্রভাবে বৈবাহিক জীবনেও আসে এক অনাবিল প্রশান্তি। অথচ ভালবাসা পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে দম্পতি যৌথ পরিবারে খাপ খাওয়াতে পারে না। বিয়ের পূর্বের বোঝাপড়া (Understanding) বাস্তব জীবনে বিফল হয়ে যায়। আসলে বিবাহ পরবর্তী সমস্যাগুলো ভিন্ন ধরনের। আয়োজিত বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে উভয়ের পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রাখা দরকার। মানসিকভাবে উভয়ের সমমনা হওয়া দরকার। ছেলে এবং মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মর্যাদায় খুব একটা বড় তফাৎ হওয়া ঠিক নয়। তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের উচিত সন্তানের মেজাজ বুঝে বিয়ের সম্বন্ধ স্থির করা। (অ্যারেঞ্জ এন্ড লাভ ম্যারেজ গাইড-নূরী মেরী)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অবাধ যৌনাচারের পরিণতি

📄 অবাধ যৌনাচারের পরিণতি


ক্যামব্রীজ ইউনিভার্সিটির ডাক্তারের নিরীক্ষা (Survey of a Doctor of Cambridge University)

এ বিষয়ে আমি এখানে একজন পশ্চিমা পন্ডিতের নিরীক্ষণের সারাংশ পেশ করছি। ক্যামব্রীজ ইউনিভার্সিটির ডক্টর Ideemium পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের এবং পুরাতন গোত্রের লোকদের জীবনী অধ্যয়ন করেছেন। এ অধ্যয়নের পর তিনি সভ্য সমাজের লোকদের জীবনীও পাঠ করেছেন। তারপর তিনি তাঁর অধ্যয়ন-লব্ধ ফলাফল Sex Culture নামক গ্রন্থে খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বইটির ভূমিকায় লিখেন, 'আমি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনুসন্ধানের পর যে ফলাফল লাভ করেছি তার সারকথা হলো : প্রতিটি জাতি দুটি জিনিষের উপর নির্ভর করে, একটি হল তাদের সম্মিলিত জীবন ব্যবস্থা, দ্বিতীয়ত এমন আইন শৃংখলা যা তারা যৌন চাহিদার উপর আরোপ করে। তিনি আরও লিখেন, যদি আপনি কোন জাতির ইতিহাসে দেখেন যে, কোন সময় তাদের সভ্যতা উন্নত হয়েছে অথবা নীচে নেমে গিয়েছে, তাহলে আপনি খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যে তারা যৌন বিষয়ক আইনে রদবদল করেছে। এর ফলাফল সভ্যতার উন্নতি অথবা অবনতির আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ক্যামব্রীজ ইউনিভার্সিটির ডাক্তারের নিরীক্ষা

📄 ক্যামব্রীজ ইউনিভার্সিটির ডাক্তারের নিরীক্ষা


তিনি ৮০টি গোত্রের সভ্যতা-সংস্কৃতি অধ্যয়ন করে যে সিন্ধান্তে উপনীত হন তা হলো -
১. যে সব গোত্রে বিবাহের পূর্বে যৌন চাহিদা মিটানোর অবাধ স্বাধীনতা ছিল, তারা সভ্যতার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল।
২. যে সব গোত্রে বিবাহের পূর্বে যৌন চাহিদা পূরনের ক্ষেত্রে কিছুটা আইন-কানুন ছিল, তারা সভ্যতার মধ্যস্তরে ছিল।
৩. সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে সে জাতিই আরোহন করেছে, যারা বিবাহের পূর্বে যৌনাচার থেকে পুতঃপবিত্র ছিল এবং যারা বিবাহের পূর্বে যৌনাচারকে অবৈধ ও অপরাধ মনে করত।

সেই লেখক আরও মন্তব্য করেন, মনোবিজ্ঞানের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, যৌনাচারের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করলে যে অবশ্যম্ভাবী ফলাফল দাঁড়ায় তা হলো জাতির কর্ম ও চিন্তা চেতনার শক্তি ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যে জাতি নারী পুরুষকে অবাধ যৌনতার সুযোগ দেয়, তাদের কর্মক্ষমতা, চিন্তাশক্তি এবং যোগ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়। রোমীয়দের অবস্থাও তাই হয়েছিল। রোমীয়রা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পশুর ন্যায় যৌনতার লিপ্ত হত। ফলে তারা শারীরিক দিকে থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং কোন কাজ করার মত ক্ষমতা তাদের ছিল না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00