📄 ২. পুরুষের যৌন কামনার স্বল্পতা
(Lack of sexual preference in Men) প্রতিটি মানুষের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের যৌন শক্তি থাকে। এক্ষেত্রে খাদ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বীর্য এবং শুক্রাণুর পরিমাণ কারো মধ্যে কম, কারো মধ্যে বেশি থাকে। অভিজ্ঞদের মতামত হল, বীর্য এবং শুক্রাণুর স্বল্পতার কারণ হল শরীরে উত্তেজক পদার্থের স্বল্পতা।
টেস্টোস্টেরন হরমোনই মূলত মিলনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। এর স্বল্পতা পুরুষের মধ্যে মিলনের আগ্রহ হ্রাস করে। তাছাড়া খাদ্যের ভারসাম্য না থাকলেও মিলনের আকর্ষণ প্রভাবিত হয়ে থাকে। 'ভিটামিন-এ'ও বীর্য ও শুক্রাণু বর্ধক। তিল খেলে ভিটামিন এ লাভ করা যেতে পারে। তাছাড়া গাজরেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। এগুলো খাদ্য বা ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করলে মিলনের প্রতি আকর্ষণ অক্ষুণ্ণ থাকে। ম্যাগনেশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামও মিলনের প্রতি যথেষ্ট আকর্ষণ সৃষ্টি করে থাকে। এসব উপাদান শরীরের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে। শরীর চঞ্চল হয়। চর্বি হ্রাস পায়। মাংসল ফল-ফলাদি সবচেয়ে বেশি উত্তেজক। তিল এবং স্যারসিপারিল্যা দ্বারা তৈরি ক্যাপসুল সেবনেও মিলনের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
পুরুষের মানসিক অবস্থা, ঘরের পরিবেশ এবং জীবন সঙ্গীনি নিজেকে সুন্দরী হিসেবে স্বামীর সামনে তুলে ধরলে মিলনের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। নারীদের সে পোশাকই পরিধান করা উচিৎ যে পোশাকে স্বামী স্ত্রীকে সুন্দরী মনে করবে। যদি নারী স্বামীর পছন্দ-অপছন্দের প্রতি খেয়াল রাখে, তবে উত্তমরূপে মিলনকার্য সমাধা হয়। এ জিনিষগুলো নারী-পুরুষের মাঝে মিলনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে লক্ষণীয় ভূমিকা পালন করে। (ক্যালরি এন্ড আই)
📄 তালাকের প্রতিক্রিয়া
ইসলামের দৃষ্টিতে তালাক একটি নিকৃষ্ট কাজ। ইসলাম তালাককে (শরয়ী ওযর ব্যতীত) ঘৃণা করে।
বিচ্ছেদ শুধু শিশুদেরকেই নয়; বরং বাড়ির গৃহপালিত পশুদেরকেও প্রভাবিত করে। তারা এতে দুঃখ অনুভব করে। এ তথ্য প্রকাশ করেছেন আমেরিকার পশু চিকিৎসক ডা. ফক্স। ডাক্তার ফক্সের মতে আপনার বাড়ির পশু তালাকের কারণে ভারাক্রান্ত হলে আপনি নিম্নোক্ত কাজ করে তাকে সাহায্য করতে পারেন। এ ধরনের গৃহপালিত পশুকে পূর্বের চেয়ে অধিক ভালবাসুন। তাদের প্রতি বেশি যত্নশীল হোন। অধিকাংশ সময় সঙ্গে নিয়ে ঘোরা-ফেরা করুন। প্রাণীগুলিকে আগের বাসস্থানেই রাখুন। তবে সেখান থেকে তালাক প্রাপ্ত/প্রাপ্তা জীবন সঙ্গী/সঙ্গিনীর সব জিনিষপত্র সরিয়ে ফেলুন। কেননা সেসব জিনিষ থেকে নির্গত সুগন্ধি প্রাণীকে এই বিচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে সে উদাসীন হয়। বাড়ির বাইরে যাবার সময় টি.ভি. অথবা রেডিও চালু করে যান। এতে করে আপনার গৃহপালিত পশু একাকিত্ব থেকে মুক্তি পাবে। পশুর একাকিত্ব দূর করার আরও একটি উপায় হল, তার মত আরেকটি প্রাণী খরিদ করে নিন। এতে আপনার গৃহপালিত পশু পুনরায় জীবনের স্বাদ ফিরে পাবে। (উইকলি সান)
📄 ভালবাসার বিয়ে (Love Marriage)
ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় লাভ ম্যারেজ এর কল্পনাও করা যেতে পারে না। ইসলামী শিক্ষা এর কঠোর বিরোধী। একজন নারীর পক্ষে কোন গায়রে মাহরমের সাথে এক সাথে বসা নিষিদ্ধ। তারা দুজন (একাকিত্বে) বসে থাকলে শয়তান তাদের কুপ্রবৃত্তিকে প্ররোচিত করে এবং চিন্তা-চেতনাকে বিকৃত করার প্রচেষ্টা চালায়। বিবাহের পূর্বেই ভালবাসা আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। একে অন্যের কাছে যা আশা করে তা (বিবাহ পরবর্তীতে) সাধারণত পূর্ণ হয় না। বিবাহের পূর্বে উভয়েই নিজেদের ছোট খাট ভুল-ভ্রান্তিগুলোকে (শুধুমাত্র সম্পর্ক ঠিক রাখার উদ্দেশ্যে) এড়িয়ে যায়। কিন্তু পরে সে সব ভুল-ভ্রান্তি সহ্য করার ক্ষমতা থাকে না। ফলে অধিকাংশ সময় এসব বিবাহ সাফল্য লাভ করে না।
কিন্তু এর বিপরীতে বড়দের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিবাহে যেহেতু এসব সমস্যা থাকে না, তাই সে সব বিবাহ ব্যর্থ হয় না।
আধুনিক বিজ্ঞান ইসলামের আদর্শ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে যে সিন্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা পাঠকের সামনে তুলে ধরা হল: ইসলাম বিবাহ পূর্ব ভালবাসাকে (Love before Marriage) নয়; বরং বিবাহ পরবর্তী ভালবাসাকে (Love after Marriage) স্বীকৃতি দিয়েছে। বিবাহের ভিত্তি যদি বিবাহ পূর্ববর্তী ভালবাসার উপর হয়, তাহলে এই ভিত্তি হবে দুর্বল। এর বিষফল আপনি পশ্চিমা সমাজে দেখতে পাচ্ছেন। বিবাহ পরবর্তী ভালোবাসার মূলকথা হল- যখন মাতা-পিতা নিজ দায়িত্বে ছেলের জন্য একটি উপযুক্ত মেয়ে অথবা মেয়ের জন্য উপযুক্ত ছেলে খুঁজে বের করেন, তখন তারা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে গণ্য হয়। এরপর এদের একে অপরের সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপন করা উচিৎ। যে যে পরিমাণ ভালবাসা এবং আন্তরিকতা নিয়ে জীবন যাপন করবে, সে সে পরিমাণ সওয়াব এবং প্রতিদান পাবে। আমার প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিটি ফরমানে সুশৃঙ্খল জীবনের নিয়ম বলে দিয়েছেন।
হাদীসে এসেছে, যখন কোন স্ত্রী স্বামীর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসে, তখন আল্লাহ্ তা'আলাও তাদের উভয়ের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসেন।
📄 ভালবাসার বিয়ে একটি ব্যর্থ বিয়ে (Love Marriage-Failed Marriages)
স্যোশাল এন্ড অর্গানাইজেশন (সাও) এর মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত জরিপ থেকে বোঝা যায়, ভালবাসা পরবর্তী বিয়ে ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হল একজন অপরজনের আশা আকাঙ্খাকে পরিপূর্ণরূপে বাস্তব রূপ দিতে ব্যর্থ হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আয়োজিত-বিয়ে এবং ভালবাসার-বিয়ের ব্যর্থতার হার নির্ধরণের জন্য চালানো জরিপ অনুযায়ী, আয়োজিত বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার হার মাত্র আটাশ শতাংশ এবং ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ কোন না কোন উপায়ে সমঝোতা করে জীবন যাপন করে। তালাকের হার প্রায় শূন্যের কোঠায়- মাত্র ০.৭ শতাংশ।
অথচ ভালবাসা পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে তালাকের হার ছয় শতাংশ এবং আরো এ পরিমাণ বিয়ে পুরোপুরি সফলতা লাভ করে না। এর কারণ হল, ভালবাসা পরবর্তী বিয়েতে দম্পতিদের মাঝে বিরোধ দেখা দিলে তাদের পরিবার চায় যে, তারা স্বেচ্ছায় বিবাহ করার পরিণতি নিজেরাই ভোগ করুক এবং নিজেদের ভুলের অনুভূতি হোক। যখন তাদের কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন তাদের পরিবার তাদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে না। পরিস্থিতির চাপে পড়ে এ ধরনের দম্পতি একজন অপরজনকে বিপদের কারণ মনে করে। একজন অপরজনের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। ভালবাসা পরবর্তী বিয়েতে একপক্ষ অপরপক্ষের কাছে অনেক কিছু আশা করে। তাদের প্রত্যেকে চায় যে, বিয়ের পূর্বে তার সঙ্গে যেমন আচরণ ছিল তেমনি আচরণ বিয়ের পরেও থাকুক। বিয়ের পূর্বে কসম খেয়ে খেয়ে যে সব প্রতিশ্রুতি দিত, সেগুলির বাস্তবায়ন ঘটুক।
কিন্তু বিয়ের পর পুরুষ উপার্জনের এবং নারী ঘরোয়া কাজে লিপ্ত হলে পূর্বের কৃত প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়। অবমূল্যায়নের অনুভূতিও ঝগড়ার কারণ হয়ে যায়। অথচ আয়োজিত বিয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব থেকেই একজনের অপরজনের কাছে আগাম চাওয়া-পাওয়ার কিছু থাকে না। ফলে পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমে জীবন যাপনের চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু ভালবাসা পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে একজন অপরজনের প্রতি ফ্র্যাঙ্ক (খোলামেলা মনোভাব প্রকাশের অনুভূতি/ অবাধ সম্পর্ক) থাকে। উভয়ে সমান অধিকারের মন-মানসিকতা নিয়ে জীবন যাপন করতে চায়। ফলে সমান অধিকারের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য না থাকায়ও অমিল দেখা দেয়। আয়োজিত বিবাহের ক্ষেত্রে যদি যৌথ পরিবারের সাথে সম্পর্ক থাকে, তখন তার প্রভাবে বৈবাহিক জীবনেও আসে এক অনাবিল প্রশান্তি। অথচ ভালবাসা পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে দম্পতি যৌথ পরিবারে খাপ খাওয়াতে পারে না। বিয়ের পূর্বের বোঝাপড়া (Understanding) বাস্তব জীবনে বিফল হয়ে যায়। আসলে বিবাহ পরবর্তী সমস্যাগুলো ভিন্ন ধরনের। আয়োজিত বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে উভয়ের পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রাখা দরকার। মানসিকভাবে উভয়ের সমমনা হওয়া দরকার। ছেলে এবং মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মর্যাদায় খুব একটা বড় তফাৎ হওয়া ঠিক নয়। তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের উচিত সন্তানের মেজাজ বুঝে বিয়ের সম্বন্ধ স্থির করা। (অ্যারেঞ্জ এন্ড লাভ ম্যারেজ গাইড-নূরী মেরী)