📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বিবাহ আনন্দঘন হলে বয়স দীর্ঘ হবে

📄 বিবাহ আনন্দঘন হলে বয়স দীর্ঘ হবে


(If Marriage is merriment then life will be long) বৃটিশ ম্যারেজ প্লাস ওয়ান ইউরোপ এবং আমেরিকায় রিসার্চ করার পর এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, বিবাহিত লোকেরা দীর্ঘ জীবন লাভ করে। তাদের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। মানসিক এবং শারীরিক রোগ-ব্যাধি তাদের শরীরে খুব কমই প্রভাব ফেলতে পারে। তারা খুব কমই দুর্দশার শিকার হয়। আর্থিক দিক থেকে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে। কিন্তু যারা অবিবাহিত জীবন যাপন করে অথবা বিধবা হয় বা তালাকপ্রাপ্তা হয়, তাদের অবস্থা এদের সম্পূর্ণ বিপরীত। এ বিষয়ে ইউরোপ এবং আমেরিকায় চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে দাম্পত্য জীবনের পরাজয় অনেক মানসিক ও শারীরিক রোগের জন্ম দেয়।

এ প্রসঙ্গে ফায়না এম.সি আলাষ্টারের বক্তব্য হল, শুধু বৃটেনেই প্রতি বছর ৩,৪৬,০০০ দম্পতি তালাকপ্রাপ্ত হয়। প্রায় ১,৫০,০০০ শিশু অবৈধ সম্পর্কের কারণে জন্মগ্রহণ করে। এই ধরনের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া নারী পুরুষ ও অবৈধ শিশুরা দাম্পত্য সম্পর্কের ঘাটতির কারণে বাস্তবজীবনে সফল হয় না।

বিবাহের দ্বারা নিম্নলিখিত উপকারিতাসমূহ পাওয়া যায়:
১. আনন্দঘন দাম্পত্য জীবন দৈনন্দিন পেরেশানী এবং দুশ্চিন্তায় ঢালের মত সুরক্ষা দেয়;
২. বিবাহিত লোকদের স্বাস্থ্য অবিবাহিতদের চেয়ে ভাল থাকে;
৩. বিবাহ অনেক খারাপ কাজ যেমন-মদপান, অবৈধ সম্পর্ক এবং সিগারেট পান থেকেও রক্ষা করে।

এম.সি আলাষ্টার বলেন দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থতা শারীরিক রোগ-ব্যাধি ছাড়াও অনেক মানসিক রোগ সৃষ্টির কারণ হতে পারে। গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৭৩ সালে বৃটেনের মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মাঝে বিবাহিতদের সংখ্যা ছিল এক লাখে মাত্র ২৫৭ জন। অথচ এর বিপরীতে অবিবাহিতদের সংখ্যা লাখে ৬৬৫ জন, বিপত্নীকের সংখ্যা লাখে ৭৫২ জন এবং তালাক প্রাপ্তের সংখ্যা লাখে ১৫৯৬ জন। আর নারীদের মধ্যে ৪৩৩ জন বিবাহিতা, ৬২৩ জন অবিবাহিতা, ৬২০ জন বিধবা এবং ১৫৯৬ জন তালাকপ্রাপ্তা নারী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিল। এ গবেষণা থেকে আরো জানা যায়, অবিবাহিতদের মধ্যে হার্টের রোগের মৃত্যুহার বিবাহিতদের চেয়ে অনেক বেশি। তাছাড়াও অবিবাহিতরা ক্যান্সার, আত্মহত্যা এবং আরও অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগে বিবাহিত লোকদের তুলনায় অধিক পরিমাণে আক্রান্ত হয়। রিপোর্টে আরো বলা হয়, তালাকের ফলে শিশুদের উপর মারাত্মক মানসিক প্রভাব পড়ে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তি জীবনের শৃংখলা সম্পূর্ণরূপে এলোমেলো হয়ে যায়। রির্পোটের শেষে ফায়না এম.সি.আলাষ্টার বলেন দাম্পত্য জীবনের ব্যর্থতার কারণসমূহের প্রতি আমাদের বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার। দৈনন্দিন জীবনে দাম্পত্য সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানই সফল দাম্পত্য জীবনের লক্ষণ। (বৃটিশ ম্যারেজ ওয়ান প্লাস)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আনন্দঘন জীবনের শর্ত

📄 আনন্দঘন জীবনের শর্ত


আনন্দঘন এবং সফল দাম্পত্য জীবনের জন্য নিজের চাইতে জীবন সাথীর উপর বেশি নজর দেওয়া আবশ্যক। একটা গ্রন্থে পামেলা, চার্চিল, হ্যানরি ম্যানের দৃষ্টান্ত দিয়ে এ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, যদি স্ত্রী স্বামীর মনে এ অনুভূতি জাগ্রত করতে সমর্থ হয় যে, সে এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারিণী, তখন দাম্পত্য এবং পারিবারিক জীবনের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পামেলা বলেন কারো সুদৃষ্টি অর্জন করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হল তার প্রতি পরিপূর্ণ নজর প্রদান করতে হবে। এ উদ্ধৃতি দিয়ে পামেলা বলেন ভালবাসার ময়দানে সম্পদশালী লোকেরা সফলতা লাভ করে খুব বেশি। (পিওর হিষ্ট্রী অফ ভি পামেলা চার্চিল)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রাণবন্ত দাম্পত্য মিলনের প্রতিবন্ধকতা

📄 প্রাণবন্ত দাম্পত্য মিলনের প্রতিবন্ধকতা


(Obstacles of healthy married task)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ১. নারীদের যৌন চাহিদার স্বল্পতা

📄 ১. নারীদের যৌন চাহিদার স্বল্পতা


(Lack of Sexual Attitude in Woman) কুদরতীভাবেই নারীদের মধ্যে দুটি হরমোন- এস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন পাওয়া যায়। এ হরমোন নারীদের মাসিক স্বাভাবিক রাখে। নারীদের শরীরে এস্ট্রোজেনের ভূমিকা বেশি। কিন্তু প্রজেস্টেরনই মিলনের ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহ সৃষ্টি করে। আমাদের দেশে নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি ততটা খেয়াল করে না। ফলে তারা লৌহ, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের স্বল্পতায় আক্রান্ত হয়। এতে করে তাদের মাঝে ক্লান্তি, বিষাদ, অবসন্নতা, দুর্বলতা এবং পেশী ও রগের খিঁচুনি বেশি লক্ষ্য করা যায়। গর্ভকালীন সময়ে এবং শিশুকে দুধ পান করানোর সময় মহিলাদের প্রচুর পরিমাণে লৌহ ও ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

মানসিক পরিস্থিতি এবং ঘরোয়া পরিবেশও মিলনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মোট কথা সুস্থ মিলন সম্পাদিত হওয়ার জন্য নারীদেরকে একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হয়। বিতৃষ্ণভাব স্বামীকে ভুলপথে পরিচালিত করতে পারে। এর ফলে সমগ্র পারিবারই বোঝা হয়ে দেখা দিতে পারে এবং পারিবারিক জীবনই বরবাদ হয়ে যেতে পারে।

পুরুষরা ঘরের বাইরে কাজ করার সময় বিভিন্ন অবস্থার সম্মুখীন হয়। বিভিন্নজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনার ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতে খিঁচুনীর শিকার হয়। যখন সে ঘরে প্রবেশ করে, তখন সে সুস্থ পরিবেশ কামনা করে। যদি পরিবেশ তার পছন্দ অনুযায়ী হয়, স্ত্রী, সন্তানরা তারা আশানুরূপ আচরণ করে, তার প্রতি দয়ার্দ্র থাকে, তাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে, তাহলে সুস্থ মিলন সম্পাদিত না হওয়ার কোন কারণ থাকে না।

সুস্থ ও সুখকর মিলনের ক্ষেত্রে সুগন্ধিও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনুসন্ধানে জানা যায় যে, দারুচিনি পৌরুষ শক্তিকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00