📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 স্ত্রীর অধিকার (Right of Wives)

📄 স্ত্রীর অধিকার (Right of Wives)


হযরত মুয়াবিয়া রাযি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের উপর কি স্ত্রীগণেরও অধিকার আছে?' প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা যখন খাবে, তাদেরকেও খাওয়াবে; যখন পরিধান করবে, তাদেরকেও পরিধান করাবে। তাদের চেহারায় আঘাত করো না। গালি-গালাজ করো না (হাদীসে 'লা-তুকাব্বিহ' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ হল মনোকষ্টের কারণ হয় এমন কথা) এবং তাকে তাঁর জন্য নির্ধারিত বাসস্থান ব্যতীত একাকী রেখ না।

* স্বামীর উপর স্ত্রীর যেমন প্রাপ্য আছে, তেমন স্ত্রীর উপর স্বামীর প্রাপ্য আছে। স্বামীর কর্তব্য হলো স্ত্রীর প্রাপ্যসমূহ প্রদান করা। (বাকারা-২২৮)
* স্বামীর যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, স্বামী কর্তব্য হলো সে তাদের প্রত্যেকের সাথে একই রকম আচরণ করবে। যদি একই রকম আচরণ করার বিষয়ে সন্দিহান হয়, তবে এক স্ত্রীতে সন্তুষ্ট থাকা কর্তব্য। (সুরা নিসা-৪)
* স্বামীর উচিত স্ত্রীর সাথে উত্তমভাবে জীবন যাপন করা, খারাপ আচরণ করা উচিত নয়। (তিরমিযী)
* স্বামীর উচিত হলো সে স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না। যদি তার একটি দিক পছন্দনীয় না হয়, তবে অন্য কোন দিক পছন্দনীয় হবে। (মুসলিম শরীফ)
* স্বামীর কর্তব্য হলো সে স্বেচ্ছায় স্ত্রীর প্রাপ্য মাহর পরিশোধ করবে।
* স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দিতে চায়, তবে স্ত্রীকে দান হিসাবে দেয়া সম্পদ ফেরত নেবে না। (সূরা নিসা-২০)
* স্ত্রী যদি বাধ্য হয়ে যায়, তাহলে তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। (সূরা নিসা-৩৪)
* স্বামীর উচিত স্ত্রীর সবকিছু তত্ত্বাবধান করা। (বোখারী শরীফ)
* নিজে খেলে স্ত্রীকেও খাওয়ানো, পরিধান করলে স্ত্রীকেও পরিধান করানো স্বামীর দায়িত্ব। (আবু দাউদ)

স্ত্রী যদি ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে অথবা এমন পুরুষকে বিছানায় স্থান দেয় যাকে স্থান দেওয়া স্বামীর মনঃকষ্টের কারণ হয়, অথবা যদি অসংলগ্ন কথা-বার্তা বলে, তাহলে স্বামীর উচিত হলো সর্বপ্রথম স্ত্রীকে উত্তম পদ্ধতিতে নসিহত করা। যদি স্ত্রী তা না মানে, তাহলে শয্যা আলাদা করে দিবে। এরপরও যদি না মানে, তবে তাকে প্রহার করবে। কিন্তু চেহারায় হাত তুলবে না এবং এমন প্রহার করবে না যার নিদর্শন শরীরে থেকে যায়। তাকে পৃথক রাখতে হলে ঘরেই রাখবে। ঘর থেকে তাকে বের করবে না। গালি-গালাজ করবে না এবং অনর্থক প্রহার করবে না। (নিসা-৩৪)

কোন বিধবা নারীকে বিবাহ করার পরে কোন কুমারীকে বিবাহ করলে স্বামী এ কুমারী স্ত্রীর নিকট প্রথম সাতদিন অবস্থান করবে। অত:পর উভয়ের নিকট সমান সমান দিন অবস্থান করবে। আর যদি কুমারীকে বিবাহ করার পর বিধবাকে বিবাহ করে, তাহলে তার কাছে প্রথম তিনদিন থাকবে। অতঃপর সমান সমান করে সময় বন্টন করে দিবে। (বোখারী ও মুসলিম)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00