📄 দাম্পত্য মিলনের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া
মিলনের প্রস্তুতি পর্বে এন্ড্রোফেন তৈরি হতে শুরু করে। এন্ড্রোফেন তৈরির জন্যে যৌন চাহিদার পূর্ণাঙ্গ পরিতৃপ্তি আবশ্যক নয়। মিলনের সময় যৌন উত্তেজনার অনুভূতি ব্যথা সৃষ্টিকারী অনুভূতি থেকে প্রবল থাকে। পূর্ণ যৌন প্রশান্তি অধিক থেকে অধিকতর এন্ড্রোফেন তৈরিতে সাহায্য করে। এন্ড্রোফেনকে শরীরের ব্যথা নিরাময়কারী রাসায়নিক উপাদান বলে মনে করা হয়। এন্ড্রোফেন নিঃসরণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। মানুষ ক্যান্সার এবং এ জাতীয় অন্যান্য রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।
নিয়মিত মিলনের ফলে মানুষের শরীরের জন্যে প্রয়োজনীয় হরমোনের নিঃসরণ ও সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। যে সকল মহিলার সাথে নিয়মিত মিলন হয়, তাদের রক্তে এস্ট্রোজেন যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে যে সকল মহিলার সাথে মিলন কম হয়, বা মাঝে মাঝে হয়, তাদের শরীরে এ হরমোনের পরিমাণ কম থাকে। এ হরমোন নারীদেরকে দীর্ঘ যৌবনা রাখে। অনেক বয়স পর্যন্ত নিয়মিত মাসিক হয়। তাছাড়া এ সব হরমোনের কারণে মহিলাদের হাড় মজবুত হয় এবং তাদের হার্টের ব্যবস্থাপনা সুস্থ থাকে। এ হরমোন নারীর স্নায়ুবিক অবস্থাকেও ঠিক রাখে। চিন্তাধারাকে উন্নত রাখে এবং মস্তিষ্কের চাপ ও খিঁচুনী দূর করে। কৃত্রিম হরমোন ব্যবহার করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাই কৃত্রিম হরমোন থেকে বিরত থাকা উচিৎ এবং যে সব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় নারীদের শরীরে এ জাতীয় হরমোন উৎপাদন বৃদ্ধি পায় সে সব প্রাকৃতিক মাধ্যমকে কাজে লাগানো উচিত।
📄 গুরুত্ব (Importance)
উপরে উল্লিখিত অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ থেকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, স্বামী-স্ত্রীর মিলন একে অন্যের প্রতি প্রেম-ভালবাসার প্রকাশ এবং নারী-পুরুষকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। যে সব পুরুষ যৌবনে নিয়মিত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, তাদের যৌনশক্তি বৃদ্ধ বয়সেও যথেষ্ট পরিমাণে অক্ষুণ্ণ থাকে। পক্ষান্তরে যারা এরূপ করে না, তারা খুব দ্রুত যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর উদাহরণ হলো লোহার যে যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না, তাতে মরিচা ধরে বেকার হয়ে যায়। কিন্তু যদি লোহার যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করা হয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, তবে তা দীর্ঘ দিন পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী থাকে।
যে স্বামী এবং স্ত্রী যৌবনের যৌন-উত্তেজনা দ্বারা উপকৃত হয়, তারা বৃদ্ধ বয়সেও উক্ত নেয়ামত বহাল রাখতে পারে। মিলন একটি প্রশান্তিদায়ক অভিজ্ঞতা। কারণ প্রাণবন্ত মিলনের পর উভয়েই উত্তম নিদ্রা-সুখ লাভ করে। ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর কোন প্রকারের দুর্বলতা অথবা অলসতার নাম নিশানাও বাকী থাকে না। অথচ কৃত্রিম ঔষধ সেবন করে ঘুমানোর জাগ্রত হলে ক্লান্তি, অলসতা এবং দুর্বলতা চেপে বসে। মস্তিষ্কের চাপের কারণেও অনেক সময় নিদ্রা আসে না। আর মিলনও হয়ে থাকে মস্তিষ্কের চাপের ফলে। মিলন পরিপূর্ণ হওয়ার পর মস্তিষ্ক চাপ থেকে মুক্তি লাভ করে। মিলন স্নায়ু ও পেশীর খিঁচুনী দূর করে গভীর ঘুম উপহার দেয়।
স্বাস্থ্যকর মিলন সেটিই যার মধ্যে উভয়ই শারীরিক এবং মানসিকভাবে তৈরি থাকে; উভয়েই শারীরিকভাবে সক্রিয় ও চঞ্চল এবং মানসিকভাবে নিশ্চিন্ত ও আনন্দিত থাকে। এ ধরনের দম্পতি জীবনের সব পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করে। মিলনের পর জাগ্রত হয়ে গোসল করার পর মন-মানসিকতা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে সজীব হয়ে উঠে।
📄 বৈধ মিলনের গুরুত্ব (Importance of legal married relations)
স্বামী-স্ত্রীর মিলন মস্তিষ্কে চাপ ও খিঁচুনী থেকে মুক্তি দেয়। রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে অধিকতর শক্তিশালী করে। এবং শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। কিন্তু এ মিলন থেকে তখনি সবচেয়ে বেশি উপকারিতা লাভ করা যায়, যখন শুধুমাত্র নিজের স্ত্রীর সাথে মিলন হয়। কারণ পর-নারীর সাথে মিলনকালে মস্তিস্কে পাপের অনুভূতি ক্রিয়াশীল থাকে এবং নৈতিক অপরাধবোধ কাজ করার ফলে মিলন দ্বারা পরিপূর্ণ ফায়দা অর্জিত হয় না।
📄 স্ত্রীর অধিকার (Right of Wives)
হযরত মুয়াবিয়া রাযি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের উপর কি স্ত্রীগণেরও অধিকার আছে?' প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা যখন খাবে, তাদেরকেও খাওয়াবে; যখন পরিধান করবে, তাদেরকেও পরিধান করাবে। তাদের চেহারায় আঘাত করো না। গালি-গালাজ করো না (হাদীসে 'লা-তুকাব্বিহ' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ হল মনোকষ্টের কারণ হয় এমন কথা) এবং তাকে তাঁর জন্য নির্ধারিত বাসস্থান ব্যতীত একাকী রেখ না।
* স্বামীর উপর স্ত্রীর যেমন প্রাপ্য আছে, তেমন স্ত্রীর উপর স্বামীর প্রাপ্য আছে। স্বামীর কর্তব্য হলো স্ত্রীর প্রাপ্যসমূহ প্রদান করা। (বাকারা-২২৮)
* স্বামীর যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, স্বামী কর্তব্য হলো সে তাদের প্রত্যেকের সাথে একই রকম আচরণ করবে। যদি একই রকম আচরণ করার বিষয়ে সন্দিহান হয়, তবে এক স্ত্রীতে সন্তুষ্ট থাকা কর্তব্য। (সুরা নিসা-৪)
* স্বামীর উচিত স্ত্রীর সাথে উত্তমভাবে জীবন যাপন করা, খারাপ আচরণ করা উচিত নয়। (তিরমিযী)
* স্বামীর উচিত হলো সে স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না। যদি তার একটি দিক পছন্দনীয় না হয়, তবে অন্য কোন দিক পছন্দনীয় হবে। (মুসলিম শরীফ)
* স্বামীর কর্তব্য হলো সে স্বেচ্ছায় স্ত্রীর প্রাপ্য মাহর পরিশোধ করবে।
* স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দিতে চায়, তবে স্ত্রীকে দান হিসাবে দেয়া সম্পদ ফেরত নেবে না। (সূরা নিসা-২০)
* স্ত্রী যদি বাধ্য হয়ে যায়, তাহলে তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। (সূরা নিসা-৩৪)
* স্বামীর উচিত স্ত্রীর সবকিছু তত্ত্বাবধান করা। (বোখারী শরীফ)
* নিজে খেলে স্ত্রীকেও খাওয়ানো, পরিধান করলে স্ত্রীকেও পরিধান করানো স্বামীর দায়িত্ব। (আবু দাউদ)
স্ত্রী যদি ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে অথবা এমন পুরুষকে বিছানায় স্থান দেয় যাকে স্থান দেওয়া স্বামীর মনঃকষ্টের কারণ হয়, অথবা যদি অসংলগ্ন কথা-বার্তা বলে, তাহলে স্বামীর উচিত হলো সর্বপ্রথম স্ত্রীকে উত্তম পদ্ধতিতে নসিহত করা। যদি স্ত্রী তা না মানে, তাহলে শয্যা আলাদা করে দিবে। এরপরও যদি না মানে, তবে তাকে প্রহার করবে। কিন্তু চেহারায় হাত তুলবে না এবং এমন প্রহার করবে না যার নিদর্শন শরীরে থেকে যায়। তাকে পৃথক রাখতে হলে ঘরেই রাখবে। ঘর থেকে তাকে বের করবে না। গালি-গালাজ করবে না এবং অনর্থক প্রহার করবে না। (নিসা-৩৪)
কোন বিধবা নারীকে বিবাহ করার পরে কোন কুমারীকে বিবাহ করলে স্বামী এ কুমারী স্ত্রীর নিকট প্রথম সাতদিন অবস্থান করবে। অত:পর উভয়ের নিকট সমান সমান দিন অবস্থান করবে। আর যদি কুমারীকে বিবাহ করার পর বিধবাকে বিবাহ করে, তাহলে তার কাছে প্রথম তিনদিন থাকবে। অতঃপর সমান সমান করে সময় বন্টন করে দিবে। (বোখারী ও মুসলিম)