📄 দাম্পত্য আচরণ (Task of the Married State)
সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্ক স্নায়ু চাপ ও খিঁচুনি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। কারণ দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে দৈহিক মিলনে মানুষ পূর্ণ প্রশান্তি লাভ করে। মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। প্রতিকূল অবস্থা ও রোগ-ব্যাধি প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
স্বামী-স্ত্রী আপন কক্ষে হাসি-খুশি এবং একে-অন্যের নৈকট্য লাভ করে পরস্পরে উপকৃত হয়। এ সময় শরীরে এক ধরনের বিশেষ রাসায়নিক কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে শুধু রোধ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই শক্তিশালী হয় না; বরং এতে করে সৃষ্ট রাসায়নিক পদার্থ মানুষের শরীরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এ রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে মানুষের শরীরে 'এন্ড্রোফেন' নামে এক যৌগ তৈরি হয়। দাম্পত্য মিলনের সময় মস্তিষ্ক এ রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটা মানব শরীরের সব ব্যথা দূর করে। এটি রক্তের সঙ্গে মিশে সারা শরীরে পৌছে যায়। ফলে নারী-পুরুষ উভয়কে প্রাণোচ্ছল ও হাসি-খুশি দেখা যায়। এ রাসায়নিক পদার্থের প্রভাব অনেকটা মরফিনের প্রভাবের সমান। মরফিন মানুষকে স্নায়ু চাপ থেকে মুক্ত করে, মাথা ব্যথা দূর করে এবং শরীরের অন্যান্য কষ্টের অবসান ঘটায়।
অনুসন্ধানের পর জানা গিয়াছে, অনেক মহিলার যৌন চাহিদা চূড়ান্ত অবস্থায় থাকলে তাদের গিরার ব্যথা ও জরায়ুর ব্যথা (Cervical Pain) নিরাময় হয়। কেননা এ সময় ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অবশ্য এটা সব মহিলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
সুস্থ দাম্পত্য মিলনের দ্বারা মানব শরীর পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় প্রশান্তি লাভ করে। এটা তখনি সম্ভব যখন স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই আগ্রহ সহকারে এবং আন্তরিকভাবে সাড়া দেয়।
📄 দাম্পত্য মিলনের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া
মিলনের প্রস্তুতি পর্বে এন্ড্রোফেন তৈরি হতে শুরু করে। এন্ড্রোফেন তৈরির জন্যে যৌন চাহিদার পূর্ণাঙ্গ পরিতৃপ্তি আবশ্যক নয়। মিলনের সময় যৌন উত্তেজনার অনুভূতি ব্যথা সৃষ্টিকারী অনুভূতি থেকে প্রবল থাকে। পূর্ণ যৌন প্রশান্তি অধিক থেকে অধিকতর এন্ড্রোফেন তৈরিতে সাহায্য করে। এন্ড্রোফেনকে শরীরের ব্যথা নিরাময়কারী রাসায়নিক উপাদান বলে মনে করা হয়। এন্ড্রোফেন নিঃসরণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। মানুষ ক্যান্সার এবং এ জাতীয় অন্যান্য রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।
নিয়মিত মিলনের ফলে মানুষের শরীরের জন্যে প্রয়োজনীয় হরমোনের নিঃসরণ ও সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। যে সকল মহিলার সাথে নিয়মিত মিলন হয়, তাদের রক্তে এস্ট্রোজেন যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে যে সকল মহিলার সাথে মিলন কম হয়, বা মাঝে মাঝে হয়, তাদের শরীরে এ হরমোনের পরিমাণ কম থাকে। এ হরমোন নারীদেরকে দীর্ঘ যৌবনা রাখে। অনেক বয়স পর্যন্ত নিয়মিত মাসিক হয়। তাছাড়া এ সব হরমোনের কারণে মহিলাদের হাড় মজবুত হয় এবং তাদের হার্টের ব্যবস্থাপনা সুস্থ থাকে। এ হরমোন নারীর স্নায়ুবিক অবস্থাকেও ঠিক রাখে। চিন্তাধারাকে উন্নত রাখে এবং মস্তিষ্কের চাপ ও খিঁচুনী দূর করে। কৃত্রিম হরমোন ব্যবহার করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাই কৃত্রিম হরমোন থেকে বিরত থাকা উচিৎ এবং যে সব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় নারীদের শরীরে এ জাতীয় হরমোন উৎপাদন বৃদ্ধি পায় সে সব প্রাকৃতিক মাধ্যমকে কাজে লাগানো উচিত।
📄 গুরুত্ব (Importance)
উপরে উল্লিখিত অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ থেকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, স্বামী-স্ত্রীর মিলন একে অন্যের প্রতি প্রেম-ভালবাসার প্রকাশ এবং নারী-পুরুষকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। যে সব পুরুষ যৌবনে নিয়মিত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, তাদের যৌনশক্তি বৃদ্ধ বয়সেও যথেষ্ট পরিমাণে অক্ষুণ্ণ থাকে। পক্ষান্তরে যারা এরূপ করে না, তারা খুব দ্রুত যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর উদাহরণ হলো লোহার যে যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না, তাতে মরিচা ধরে বেকার হয়ে যায়। কিন্তু যদি লোহার যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করা হয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, তবে তা দীর্ঘ দিন পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী থাকে।
যে স্বামী এবং স্ত্রী যৌবনের যৌন-উত্তেজনা দ্বারা উপকৃত হয়, তারা বৃদ্ধ বয়সেও উক্ত নেয়ামত বহাল রাখতে পারে। মিলন একটি প্রশান্তিদায়ক অভিজ্ঞতা। কারণ প্রাণবন্ত মিলনের পর উভয়েই উত্তম নিদ্রা-সুখ লাভ করে। ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর কোন প্রকারের দুর্বলতা অথবা অলসতার নাম নিশানাও বাকী থাকে না। অথচ কৃত্রিম ঔষধ সেবন করে ঘুমানোর জাগ্রত হলে ক্লান্তি, অলসতা এবং দুর্বলতা চেপে বসে। মস্তিষ্কের চাপের কারণেও অনেক সময় নিদ্রা আসে না। আর মিলনও হয়ে থাকে মস্তিষ্কের চাপের ফলে। মিলন পরিপূর্ণ হওয়ার পর মস্তিষ্ক চাপ থেকে মুক্তি লাভ করে। মিলন স্নায়ু ও পেশীর খিঁচুনী দূর করে গভীর ঘুম উপহার দেয়।
স্বাস্থ্যকর মিলন সেটিই যার মধ্যে উভয়ই শারীরিক এবং মানসিকভাবে তৈরি থাকে; উভয়েই শারীরিকভাবে সক্রিয় ও চঞ্চল এবং মানসিকভাবে নিশ্চিন্ত ও আনন্দিত থাকে। এ ধরনের দম্পতি জীবনের সব পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করে। মিলনের পর জাগ্রত হয়ে গোসল করার পর মন-মানসিকতা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে সজীব হয়ে উঠে।
📄 বৈধ মিলনের গুরুত্ব (Importance of legal married relations)
স্বামী-স্ত্রীর মিলন মস্তিষ্কে চাপ ও খিঁচুনী থেকে মুক্তি দেয়। রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে অধিকতর শক্তিশালী করে। এবং শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। কিন্তু এ মিলন থেকে তখনি সবচেয়ে বেশি উপকারিতা লাভ করা যায়, যখন শুধুমাত্র নিজের স্ত্রীর সাথে মিলন হয়। কারণ পর-নারীর সাথে মিলনকালে মস্তিস্কে পাপের অনুভূতি ক্রিয়াশীল থাকে এবং নৈতিক অপরাধবোধ কাজ করার ফলে মিলন দ্বারা পরিপূর্ণ ফায়দা অর্জিত হয় না।