📄 সুন্নাতে রাসূল
সোহায়েল ইবনে সা'আদ রাযি. কে কেউ জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কখনো সাদা ময়দার রুটি খেয়েছেন? তিনি জবাব দিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মুখে শেষ বয়স পর্যন্ত কখনো ময়দাই আসে নি। তারপর প্রশ্নকারী জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে তোমাদের কাছে কি চালনী ছিল? তিনি বললেন— আটায় ফুঁ দিতেন। ফলে মোট ভূষিগুলো উড়ে যেত আর অবশিষ্ট দ্বারা আটার খামিরা তৈরি করে নিতেন। (শামায়েলে তিরমিযী)
বর্তমান বিজ্ঞান খাদ্যের উপর বিশেষ জোর দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের ঔষধ তখনই বিফলে যায়, যখনই আমাদের রোগীরা অসম্পূর্ণ খাদ্য খেয়ে শরীর সুস্থ রাখার নিরর্থক চেষ্টা চালায়। খাদ্যে সবচেয়ে প্রথম ব্যাপারটি হল আটা। কারণ, বাজারী আটা একেবারে ময়দার মতো, আর যারা ঘরে আটা পিষায়, তারাও চিকন করে পিষে। যাতে ভূষি মোটেই থাকে না। আটার মধ্যে ভূষিই হল সবচেয়ে শক্তিশালী জিনিস।
📄 হৃদরোগ থেকে আত্মরক্ষা
কার্ডিওলজিষ্টগণ হৃদরোগীদেরকে চাল ব্যতীত আটার রুটি খাওয়ান। রোগীদের প্রতি বিশেষ উপদেশ থাকে, যেন তারা এরূপ আটার রুটি খান, যা মোটা এবং ভূষিযুক্ত আটা থেকে তৈরি। কেননা ভূষি রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এর দ্বারা রক্ত গাঢ় হয় না। ভূষিতে এরূপ পদার্থও রয়েছে, যা হার্টের রগ সঙ্কোচনকে হ্রাস করে। এমনকি হার্টের রগগুলি অধিক পরিমাণে ব্যবহারের ফলে অধিক পরিমাণে রক্ত নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।
📄 স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে আত্মরক্ষা
ভূষি এবং মোটা আটার স্বল্পতার ফলে বর্তমানে প্রায় প্রত্যেকেই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত। গ্যাস, বাষ্প, স্থায়ী কোষ্ঠ-কাঠিন্য, পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া ইত্যাদি রোগগুলো মূলত আমাদের খাদ্য থেকেই জন্ম নেয়। এর মৌলিক কারণ হল আটা। কেননা মোটা আটা এবং ভূষি নাড়ীর চলাচলকে শরীর অনুপাতে বৃদ্ধি করে। যার ফলে নাড়ীর শুষ্কতা এবং তার চলাচলের স্বল্পতা নিঃশেষ হয়ে স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়।
সার্বক্ষণিক শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তদেরকে যখন ভূষিযুক্ত রুটি খাওয়ানো হল, তখন তারা আশ্চর্যজনকভাবে সুস্থতার দিকে অগ্রসর হতে লাগল। যদি ভূষি সিদ্ধ করে তার পানি, চা এবং কফির মতো পান করা যায়, তবে তা কাশি, স্থায়ী সর্দি, কফ, হাঁপানী এবং পাকস্থলীর গ্যাস ইত্যাদির জন্য খুবই উপকারী হয়। এটা পরীক্ষিত।
📄 নখ কাটা ঔষধও বটে
নবীজীর নখ কাটার রীতি কোনো কোনো রেওয়ায়েত অনুযায়ী জুমার দিন এবং কোনো কোনো রেওয়ায়েত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ছিল। (উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম)
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পঞ্চদশ দিবসে নখ কাটতেন। (উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম)
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে পেটের পোকার ডিম মানুষের নখে আটকে থাকে। খানা খাওয়ার সময় এগুলো খাদ্যের সঙ্গে পেটে চলে যায় এবং পেটেই বড় হয় ও বংশ বিস্তার করে।
মেডিক্যাল নিয়ম অনুযায়ী পেটের পোকার ঔষধ হাতে ধরা ঠিক নয় বরং কোনো কাগজ দ্বারা উঠিয়ে মুখে দিব। ট্যাবলেট খাওয়ার পূর্বে গোসল করে নিবে। রৌদ্রে শুকানো কাপড় পরিধান করবে। বিছানা ধুয়ে নিবে। বিছানার চাদর ধুয়ে নিবে। তারপর ইস্ত্রি করে বিছাবে। রাত্রে ট্যাবলেট খাবে। এরপর সকালে উঠে একই নিয়মে গোসল করে নিবে। বিছানা পরিবর্তন করবে। পোশাক পরিবর্তন করবে এবং কুসুম গরম পানিতে গোসল করবে। কেননা কোনো কোনো সময় পোকার ডিম হাতে শরীরে এবং কাপড়ে লেগে শরীরের ভিতর প্রবেশ করে। আর যদি ঐ পোশাককে পরিষ্কার করে এবং নখ কেটে ফেলে, তবে তা স্বাস্থ্য ও সুস্থতার কারণ হবে। গবেষণা অনুযায়ী যে সমস্ত মহিলা নখ বড় করে রাখে, তারা রক্তস্বল্পতার রোগে আক্রান্ত হয়। এরূপ মহিলারা মনোরোগে অধিক আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এমনকি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, নখ বড় করা খুব মারাত্মক। তা মানুষকে এরূপ মনোরোগে আক্রান্ত করে, এর দরুন তার ভিতর আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায়।