📄 অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
আমাদের মধ্যে খুব কম লোকই খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারী নিয়ম-কানুনের প্রতি খেয়াল রাখেন। পশ্চিমা দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ খাদ্যবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে সাধারণ লোকদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখা এবং খাদ্যকে বেশি বেশি উপকারী বানানোর জন্য উপদেশ প্রদান করতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে কখনো কেউ ভুলেও এ সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেন নি বা দেন না। আমরা শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর অনুকরণ করি। আর নিঃসন্দেহে যেখানে আমরা চলাফেরা ও পোশাক-পরিচ্ছেদে পশ্চিমা দেশগুলোর অনুকরণ করেছি, সেখানে তামা ও পিতলের পাত্র ব্যবহার ছেড়ে দিয়ে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ব্যবহার আরম্ভ করেছি। তামা ও পিতলের তুলনায় অ্যালুমিনিয়ামকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হল, অ্যালুমিনিয়ামে মরিচা ধরে না, হাল্কা এবং ঝকঝকে হয়। কিন্তু এটা মানবদেহের জন্য কিরূপ ক্ষতিকর, তা কারোই জানা নেই।
আধুনিক গবেষণা দ্বারা জানা যায়, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অধুনা এ বিষয়ে ডাক্তার জর্জ ডোনেলসন ব্যাপক গবেষণার পর প্রমাণ করেছেন, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে খানা রান্না করলে তাতে এর কোনো কোনো পদার্থ বিষাক্ত মিশ্রণে পরিবর্তিত হয়ে খাদ্যে মিশে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গের উপর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। কতগুলোর প্রকৃতি খুবই নগণ্য এবং ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। কিন্তু এর প্রতিকার না হওয়ার কারণে প্রভাবটি বাড়তে থাকে। এমনকি মানুষকে মারাত্মক রোগীতে পরিণত করে দেয়।
আরেক বিজ্ঞানী বলেন, "একবার যখন সোডার পানি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে ঢালা হল, তখন সে পানিতে বুদবুদ উঠতে শুরু করল। তারপর ঐ পানিকেই যখন কাঁচের গ্লাসে রাখা হল, তখন আর বুদ বুদ উঠল না। তাহলে নিশ্চয়ই খাবার রান্না করার সময় অ্যালুমিনিয়াম গলে খাদ্যের সাথে মিশে যায় এবং বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে যায়। অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে আধাঘণ্টা পানি জাল দিতে থাকলে তাতে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রো অক্সাইড (এক প্রকার বিষাক্ত পদার্থ) পানির সঙ্গে মিশে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
যদি আপনি এ ধাতব পাত্র চাকু দ্বারা চেঁছে এর ঝকঝকে স্থানটি জিহ্বা দ্বারা চাটেন, তবে মুখে এর যে স্বাদ অনুভূত হবে, তাকে ইংরেজিতে ইলাম বলে। কেননা এটা অ্যালুমিনিয়ামেরই একটি লবণ। অ্যালুমিনিয়ামের সকল পদার্থই ক্ষতিকর। কোনোটির মধ্যে বিষাক্ত অংশ বেশি থাকে, কোনোটিতে কম। যখন ঐ সকল পদার্থ খাদ্যের সাথে পাকস্থলীতে পৌঁছে, তখন সে তার কাজ আরম্ভ করে দেয়। তার প্রভাব পাকস্থলীতে পৌঁছার পর কি হয় তার বর্ণনা পরে দেওয়া হচ্ছে। এর পূর্বে আমরা কিছু পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা পাঠকের সম্মুখে পেশ করছি।
মনে করুন, চার প্রকারের বিভিন্ন সবজি মিলিয়ে চার ভাগে ভাগ করা হল। এক ভাগা মাটির পাত্রে রান্না করা হলো। বাকি তিন ভাগ অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা হল। মাটির পাত্রে রান্না করা তরকারিতে অ্যালুমিনিয়ামের কোনো অংশ পাওয়া গেল না। কিন্তু বাকি প্রতিটি অংশের তরকারির মধ্যেই অ্যালুমিনিয়ামের কেমিক্যাল যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া গেল। অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে চা তৈরি করে তা ছাঁকনী দ্বারা ছাঁকলে তাতে যথেষ্ট অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যাবে। গাজর, আজওয়াইন (গন্ধযুক্ত লতার বীজ) এবং অন্যান্য কয়েক প্রকার ক্ষারযুক্ত তরকারি কোনো অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে ত্রিশ মিনিট থাকলে এর কেমিক্যাল থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। যদি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে কাঁচা আম রান্না করে খাওয়া হয়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে বমি এবং দাস্ত আরম্ভ হয়ে যাবে। অ্যালুমিনিয়ামের কেমিক্যাল পেটে গিয়ে নাড়ীকে দুর্বল এবং পাকস্থলীর নাজুক পর্দায় ছোট ছোট জখম সৃষ্টি করে।
এ কেমিক্যাল খাদ্যের সাথে মিশে খাদ্যের পুষ্টিমান বিনষ্ট করে দেয় এবং খাদ্যের বিভিন্ন অংশ শরীরের বিভিন্ন অংশে শক্তি যোগানোর উপযোগী থাকে না। খাদ্য হজম হয়ে যাওয়ার পর পাকস্থলীতে অ্যালুমিনিয়ামের অংশ থেকে যায়। যার ফলে রগ এবং পাকস্থলীর নাজুক পর্দাসমূহের উপর প্রভাব পড়ে। মনে রাখবেন, অ্যালুমিনিয়ামের কোনো কোনো পদার্থ মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক ব্যবহৃত হয়।