📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কোলেস্টিক্যাট ইউনিভার্সিটির গবেষণা

📄 কোলেস্টিক্যাট ইউনিভার্সিটির গবেষণা


কোলেক্টিকাট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান বিভাগের ডাক্তার মাইক ফিলিপ বলেন: এরূপ (প্লাস্টিকের) পাত্রে গরম জিনিস বিশেষত চা, কফি পান করা খুবই ক্ষতিকর। এ ক্ষতিকর প্রভাব তখন আরও বৃদ্ধি পায়, যখন চায়ের সঙ্গে লেবুর রস দেওয়া হয়। কেননা এ জাতীয় প্লাস্টিকের পাত্রে ভিতরের অংশ গরম হয় এবং এসিডের প্রভাবে তা গলে গলে বের হতে থাকে। এমতাবস্থায় ঐ পাত্রে চা পান করলে যে পলিট্রিন শরীরে যাবে, সেটি ক্ষতরোগ বা ক্যান্সার হওয়ার কারণ হতে পারে। বহু গবেষণাগারে ইঁদুরের উপর গবেষণা করা হয়েছে। তাতে প্রমাণিত হয়েছে, পাত্র থেকে নিঃসৃত ও গলিত পদার্থ পেটে গিয়ে ক্যান্সারের কারণ হয়ে যায়। ডাক্তার ফিলিপ লোকদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন প্রচলিত সাধারণ পাত্রেই খাওয়া-দাওয়া করেন। (মাসিক মেডিক্যাল)

একটি সংবাদসূত্রে জানা গেছে, চীনের ইয়াং রাজ্যের লোকেরা স্বীকার করেছে যে, মাটির পাত্র একদিকে সকল মৌসুমের উপযোগী। অপরদিকে জীবাণু চুষে নেয়। যদি ঐ পাত্রে জীবাণু প্রবেশ করে, তবে তা চুষে অপর দিক দিয়ে বের করে দেয়।

এ নিয়ে একটু চিন্তা করলেই তবে বাস্তবেই বুঝতে পারবেন যে, এটা জীবনের প্রশান্তি এবং রোগের স্বল্পতাকেই প্রমাণ করে। মাটির পাত্রে পানি পান করার স্বাদ এবং ধাতব পাত্রে পানি পান করার স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন। অভিজ্ঞতাই তার সাক্ষী। কিন্তু আমরা প্রকৃতিগত স্বভাবের সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছি। তাই প্রকৃতিও আমাদেরকে বিদ্রোহের বিনিময়ে পেরেশান করে রেখেছে। অবশেষে আজকাল আমরা পলিথিনের পাত্র ব্যবহার করে নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছি। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আমরা পুনরায় আসল জীবনের দিকে ফিরে যাচ্ছি।

কারণ, আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারিক পাত্রসমূহে কাঁচ, চিনামাটি এবং পাথরের পাত্র যথেষ্ট পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটও পাথরের একটি পাত্র ছিল।

একজন ইউরোপীয়ান ডাক্তার লিখেন— অনেক সময় পাকস্থলীতে খাদ্যের অন্তর্গত কুদরতী বিষ থেকে যায়। কিন্তু পাকস্থলীর মজবুত পর্দার উপর তার কোনো প্রভাব পড়ে না। এ পূর্ণ শক্তি দিয়ে বিষের প্রভাবের সঙ্গে মোকাবেলা করে এবং কোনো ক্ষতিও হয় না। কিন্তু যখন অ্যালুমিনিয়ামের সংমিশ্রণ ঐ পদার্থগুলিকে দুর্বল করে দেয়, তখন ঐ বিষের প্রভাবগুলিই যেগুলি মাইক্রোস্কোপ দ্বারাও অনুভব করা যেত না, সেগুলি ভেসে ওঠে।

অ্যালুমিনিয়াম পাকস্থলীতে পৌঁছে প্রভাব বিস্তার করার পর নিম্নোক্ত অবস্থাগুলি সৃষ্টি করে। কোনো কোনো সময় আমাশয় এবং বমি আরম্ভ হয়। বমি বমি ভাব থাকে। ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। রক্ত দূষিত হয়ে যায়। পাতলা পায়খানা আরম্ভ হয়।

(১) মিশিগান ইউনিভার্সিটির ডাক্তার ভিক্টোরনের বলেন, অ্যালুমিনিয়ামের সকল লবণই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
(২) শিকাগো ইউনিভার্সিটির ডাক্তার ভেলস লিখেন, অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত কেমিক্যাল পাকস্থলীতে পৌঁছে ধ্বংসাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। ভিতরগত অঙ্গের সকল অংশকে দুর্বল করে। লোমকূপে অ্যালুমিনিয়ামের কেমিক্যাল জমে ক্ষতি সাধন করে।
(৩) ডাক্তার এইচ এ শিগান লিখেন, অ্যালুমিনিয়ামের কেমিক্যাল পাকস্থলীতে পৌঁছে ক্ষুধামন্দা সৃষ্টি করে। অনেক সময় পেটে ব্যথা হয়। যার ফলে আমাশয়, বমি, বমি বমি ভাব সৃষ্টি হয়।
(৪) যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ লীগের প্রধান ডাক্তার হিলডের বলেন, এ কেমিক্যালগুলি পাকস্থলীর শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয়।
(৫) ডাক্তার ডেভিস্ট নাইট এফ.সি.এস, লিখেছেন: অ্যালুমিনিয়াম পাত্রের ব্যবহার ডাক্তারী দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিকর। নিঃসন্দেহে এ চাকচিক্যময় ধাতব পাত্র নারীদেরকে মোহগ্রস্ত করে ফেলে এবং নানা ধরনের খাদ্য এ ধাতব পাত্রে রান্না করা হয়। কিন্তু তাদের এ সকল পাত্র ব্যবহার না করা উচিত এবং তাতে কোনো জিনিস কখনো পাকাবে না, যেগুলিতে এসিড কিংবা লবণাক্ত পদার্থ থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

📄 অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর


আমাদের মধ্যে খুব কম লোকই খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারী নিয়ম-কানুনের প্রতি খেয়াল রাখেন। পশ্চিমা দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ খাদ্যবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে সাধারণ লোকদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখা এবং খাদ্যকে বেশি বেশি উপকারী বানানোর জন্য উপদেশ প্রদান করতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে কখনো কেউ ভুলেও এ সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেন নি বা দেন না। আমরা শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর অনুকরণ করি। আর নিঃসন্দেহে যেখানে আমরা চলাফেরা ও পোশাক-পরিচ্ছেদে পশ্চিমা দেশগুলোর অনুকরণ করেছি, সেখানে তামা ও পিতলের পাত্র ব্যবহার ছেড়ে দিয়ে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ব্যবহার আরম্ভ করেছি। তামা ও পিতলের তুলনায় অ্যালুমিনিয়ামকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হল, অ্যালুমিনিয়ামে মরিচা ধরে না, হাল্কা এবং ঝকঝকে হয়। কিন্তু এটা মানবদেহের জন্য কিরূপ ক্ষতিকর, তা কারোই জানা নেই।

আধুনিক গবেষণা দ্বারা জানা যায়, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অধুনা এ বিষয়ে ডাক্তার জর্জ ডোনেলসন ব্যাপক গবেষণার পর প্রমাণ করেছেন, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে খানা রান্না করলে তাতে এর কোনো কোনো পদার্থ বিষাক্ত মিশ্রণে পরিবর্তিত হয়ে খাদ্যে মিশে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গের উপর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। কতগুলোর প্রকৃতি খুবই নগণ্য এবং ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। কিন্তু এর প্রতিকার না হওয়ার কারণে প্রভাবটি বাড়তে থাকে। এমনকি মানুষকে মারাত্মক রোগীতে পরিণত করে দেয়।

আরেক বিজ্ঞানী বলেন, "একবার যখন সোডার পানি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে ঢালা হল, তখন সে পানিতে বুদবুদ উঠতে শুরু করল। তারপর ঐ পানিকেই যখন কাঁচের গ্লাসে রাখা হল, তখন আর বুদ বুদ উঠল না। তাহলে নিশ্চয়ই খাবার রান্না করার সময় অ্যালুমিনিয়াম গলে খাদ্যের সাথে মিশে যায় এবং বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে যায়। অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে আধাঘণ্টা পানি জাল দিতে থাকলে তাতে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রো অক্সাইড (এক প্রকার বিষাক্ত পদার্থ) পানির সঙ্গে মিশে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

যদি আপনি এ ধাতব পাত্র চাকু দ্বারা চেঁছে এর ঝকঝকে স্থানটি জিহ্বা দ্বারা চাটেন, তবে মুখে এর যে স্বাদ অনুভূত হবে, তাকে ইংরেজিতে ইলাম বলে। কেননা এটা অ্যালুমিনিয়ামেরই একটি লবণ। অ্যালুমিনিয়ামের সকল পদার্থই ক্ষতিকর। কোনোটির মধ্যে বিষাক্ত অংশ বেশি থাকে, কোনোটিতে কম। যখন ঐ সকল পদার্থ খাদ্যের সাথে পাকস্থলীতে পৌঁছে, তখন সে তার কাজ আরম্ভ করে দেয়। তার প্রভাব পাকস্থলীতে পৌঁছার পর কি হয় তার বর্ণনা পরে দেওয়া হচ্ছে। এর পূর্বে আমরা কিছু পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা পাঠকের সম্মুখে পেশ করছি।

মনে করুন, চার প্রকারের বিভিন্ন সবজি মিলিয়ে চার ভাগে ভাগ করা হল। এক ভাগা মাটির পাত্রে রান্না করা হলো। বাকি তিন ভাগ অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা হল। মাটির পাত্রে রান্না করা তরকারিতে অ্যালুমিনিয়ামের কোনো অংশ পাওয়া গেল না। কিন্তু বাকি প্রতিটি অংশের তরকারির মধ্যেই অ্যালুমিনিয়ামের কেমিক্যাল যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া গেল। অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে চা তৈরি করে তা ছাঁকনী দ্বারা ছাঁকলে তাতে যথেষ্ট অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যাবে। গাজর, আজওয়াইন (গন্ধযুক্ত লতার বীজ) এবং অন্যান্য কয়েক প্রকার ক্ষারযুক্ত তরকারি কোনো অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে ত্রিশ মিনিট থাকলে এর কেমিক্যাল থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। যদি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে কাঁচা আম রান্না করে খাওয়া হয়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে বমি এবং দাস্ত আরম্ভ হয়ে যাবে। অ্যালুমিনিয়ামের কেমিক্যাল পেটে গিয়ে নাড়ীকে দুর্বল এবং পাকস্থলীর নাজুক পর্দায় ছোট ছোট জখম সৃষ্টি করে।

এ কেমিক্যাল খাদ্যের সাথে মিশে খাদ্যের পুষ্টিমান বিনষ্ট করে দেয় এবং খাদ্যের বিভিন্ন অংশ শরীরের বিভিন্ন অংশে শক্তি যোগানোর উপযোগী থাকে না। খাদ্য হজম হয়ে যাওয়ার পর পাকস্থলীতে অ্যালুমিনিয়ামের অংশ থেকে যায়। যার ফলে রগ এবং পাকস্থলীর নাজুক পর্দাসমূহের উপর প্রভাব পড়ে। মনে রাখবেন, অ্যালুমিনিয়ামের কোনো কোনো পদার্থ মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক ব্যবহৃত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00