📄 হাদীসে রাসূল
• হযরত আনাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পবিত্র মাথা মুবারকে বেশি বেশি করে তৈল লাগাতেন এবং স্বীয় দাড়ি মুবারক আঁচড়াতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তৈল লাগানোর আমল আমাদের সামনেই রয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা করার পর প্রতিভাত হয়েছে, বাস্তবিকই মাথায় তৈল ব্যবহার করা উপকারী।
📄 স্যার জেমস সাগমের পর্যবেক্ষণ
স্যার জেমস সাগম ক্যানাডার একজন বড় ফিজিওথেরাপিস্ট। মাথায় তেল ব্যবহারের ব্যাপারে তাঁর অভিজ্ঞতাগুলো, আমি পাঠকের সম্মুখে তুলে ধরছি। তিনি বলেন, পূর্বে আমি মাথায় তেল লাগানোকে একদিকে সময়ের অপচয় ও ধূলাবালি আটকে থাকার কারণ মনে করতাম। অপরদিকে নিজের আর্থিক দুর্বলতাও ছিল। কিন্তু একটি ঘটনা আমাকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছে। আমি কিউটের একটি গ্রামের রোডে মোটর গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম। এক জায়গায় এক বৃদ্ধকে আরেক বৃদ্ধের মাথার ম্যাসেজ করতে দেখলাম। আমি ভাবলাম, এ কী হতবুদ্ধিতা! আমি গাড়ি থামিয়ে তাদের অবস্থা জানতে চাইলাম। তাদের একজন বলতে লাগল, আমার পিতা পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। ঘর থেকে বেরিয়ে অনেক দূরে চলে যেতেন। অনেক চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু কোন ফল হয় নি। তখন আমাকে একজন বলল, তুমি তোমার পিতার মাথায় আমলা মালিশ কর। আমিও মালিশ করতে আরম্ভ করলাম। এভাবে সাতাশ দিন কেটে গেল। এখন আমার পিতা একেবারে সুস্থ।
আমি তার কথা শুনে একেবারে হয়রান হয়ে গেলাম। আমি রোগীকে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলাম। বাস্তবিকই সে সুস্থ। তার পূর্বের রিপোর্টগুলি পড়ে বুঝলাম, আসলেই সে মানসিক রোগী ছিল। তারপর আমি তার মতো রোগী এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের উপরও এ পদ্ধতি ব্যবহার করলাম। এতে আশাতীত ফল হল। আমি এটাকে মস্তিষ্কের চাপ, শিরা-উপশিরার খিঁচুনি, মাথাব্যথার পুরাতন রোগী, ঘাড়ের রগের ব্যথা, কাঁধের ব্যথা এবং খিঁচুনী, দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা, চেহারার সার্জারীর ক্ষেত্রে যথেষ্ট ফলদায়ক পেয়েছি। (সায়েন্স আওয়ার ইনসান)
আঁচড়ানোর দ্বারা একপ্রকার উষ্ণতা এবং এনার্জী সৃষ্টি হয়, যা পশম বা চুলের মাধ্যমে শরীরে শিরাতন্ত্রীকে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করে। এমনকি নিয়মিত চুল আঁচড়ালে চুল বৃদ্ধি পায় এবং ঘন হয়। আঁচড়ানোর আরেকটি হেকমত হল, চুল আঁচড়ানো না হলে তাতে জীবাণু আটকে থাকে। যা চুলের ভিতর বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসময় তা ভয়াবহ রূপ নেয়। চুল না আঁচড়ালে উকুন বৃদ্ধি পাওয়ারও আশঙ্কা বাড়ে।