📄 হাদীসে রাসূল
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্রোধের ঢোক পান করার চেয়ে উত্তম কোনো ঢোক নেই। (উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম)
সে ব্যক্তি শক্তিশালী নয়, যে লোকদেরকে দাবিয়ে পরাজিত করে বরং শক্তিশালী ঐ ব্যক্তি, যে নিজের নফস (প্রবৃত্তি) কে দাবিয়ে পরাজিত করতে পারে। (মা'আরেফুল হাদীস)
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হে মুসলমানেরা! যদি তোমাদের মধ্যে কারও ক্রোধ আসে, তা হলে তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে চুপ হয়ে যাওয়া জরুরি। (মা'আরেফুল হাদীস)
📄 ফ্রাইড এবং ক্রোধ (FRIAD AND ANGER)
মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণ ক্রোধের ব্যাপারে যে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন, তা পাঠকের খেদমতে পেশ করছি। ক্রোধ সমাজের সে সকল মারাত্মক অন্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। যা মানুষের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠিত জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। এতে মানুষ সর্বদা এমন সব অবস্থার সম্মুখীন হয়, যার ফলে তার শিরাতন্ত্র এবং ইন্দ্রিয়সমূহ কুঁকড়ে যায়। এতে তার স্মরণশক্তিও প্রভাবিত না হয়ে পারে না। মূলত ক্রোধ ইন্দ্রিয় ও শিরাতন্ত্রের প্রভাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে সহনশীলতা এবং তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলেই প্রমাণ করে। এমনকি এ ধরনের লোকেরা সর্বদা লজ্জা ও অপমানকর অবস্থার সম্মুখীন হয়।
📄 ক্রোধ জীবন ধ্বংসকারী
ক্রোধ একটি প্রাণনাশক ব্যাধি, মুসলমানদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ক্রোধ আসা অবস্থায় দাঁড়ানো থাকলে বসে যাও। বসা থাকলে শুয়ে পড়। যদি এতে ক্রোধ ঠাণ্ডা না হয়, তবে পানি পান করো। ধর্মাচার বিশেষজ্ঞদের মতে ক্রোধ এবং লোভের কারণে জীবনী-শক্তি ভস্ম হয়ে যায়। প্রবীণ মহিলাগণ স্তন্যদায়িনী মায়েদেরকে ক্রোধের অবস্থায় শিশুদের দুধপান করাতে নিষেধ করেন। কেননা এর ফলে শিশু জীবনে বিপদাশঙ্কায় থাকে। আমেরিকার ডিউক ইউনিভার্সিটির একজন বিজ্ঞানী ভাবার ব্লেড ফোর্ড বি ভিলমজের মতে ক্রোধ, শত্রুতা এবং হিংসাকারী ব্যক্তিরা তাড়াতাড়ি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তাদের মতে এগুলোর দ্বারা মানুষ ঐ পরিমাণই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ধূমপান এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিকদের সেমিনারে বক্তৃতা দানকালে তিনি বলেন, অনেক লোক শুধু হিংসা-বিদ্বেষে কঠিনভাবে আবেগতাড়িত হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যায়। ক্রোধ এবং হিংসা হৃদয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। এমনিভাবে লোভ-লালসায় লিপ্ত ব্যক্তি এবং অস্থির-অধৈর্য লোক আশা আকাঙ্ক্ষার হাতে নিজের জীবন-বাতি নিভিয়ে দেয়।
পক্ষান্তরে যে সকল লোক নিজেদের শিরাতন্ত্রকে আয়ত্তে রাখে, যাদের মেজাজের মধ্যে সহনশীলতা, হাসিমুখ, অল্পেতুষ্টি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যোগ্যতা থাকে, তারা সুন্দরভাবে জীবনের প্রতিকূল অবস্থাগুলো মোকাবেলা করতে পারে। বিশেষজ্ঞগণ ক্রোধান্ধ, শিরাতন্ত্রের রোগী, অস্থির এবং অতি আশাবাদী ব্যক্তিকে “ক” শ্রেণীতে আর সহনশীল ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ লোকদেরকে “খ” শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। এরপর তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, “ক” বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সাধারণত হৃদরোগে আক্রান্ত থাকে। তাদের কোলেস্টেরলের আধিক্য ব্যক্তি, ধূমপান এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীর মতোই হৃদক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডাক্তার ভিলমজের বর্ণনায় আমেরিকার বাসিন্দাদের অর্ধেকের সম্পর্ক "ক" বিভাগের সঙ্গে। এ প্রকারের লোকদের বিপজ্জনক অবস্থা সামলানো মনোরোগ কৌশল দ্বারা সহজ ও সম্ভব।
দক্ষিণ ক্যারোলিনার ডিউক ইউনিভার্সিটির তিনশত পনের জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পঁচিশ বৎসর পূর্বে মেডিক্যাল ছাত্র হিসেবে যে মেডিক্যাল টেস্ট গ্রহণ করেছে, তার তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। তারা বলেন, হিংসা-বিদ্বেষের শিকার শতকরা তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব লোকের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ অন্যদের তুলনায় ৫০ ভাগ কম ছিল। অথচ হিংসা-বিদ্বেষকারীদের মৃত্যুর হার রেকর্ড অনুসারে, পনের শতাংশ এমন যাদের অন্য কোনো রোগও ছিল না।
এইডানভাসিটির মেডিকেল সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য সভায় ৭ বৎসরের রিপোর্ট অনুযায়ী বিদ্বেষী ও হিংসুকদের রক্তবাহী ধমনীর জটিলতার কারণে মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃত্যুর অন্য কোনো কারণ লক্ষ করা যায় নি।
যদিও ডাক্তার ভিলমস বিদ্বেষপ্রবণ ও হিংসাকারীদের সঠিক মৃত্যুহার নির্ণয় করতে সক্ষম হন নি, তবুও তার রিপোর্ট অনুযায়ী এ সকল লোকদের মধ্যে নিম্নোক্ত কতগুলি অভ্যাস বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে। যথা- অন্যের প্রতি অনাস্থা, ক্রোধ, সাধারণ কথায়ও উত্তেজিত হয়ে যাওয়া এবং কথায় কথায় নাক সিঁটকানো ইত্যাদি। এ জাতীয় লোক যখনি এরূপ ক্রিয়া কর্মে আক্রান্ত হয়, তাদের রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তাদের মধ্যে হরমোন এর ভারসাম্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু "খ" গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকদের অবস্থা এরূপ হয় না।
আরও অধিক গবেষণা এবং নিশ্চিত ফলাফল লাভ করা পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সমীচীন এটাই যে, হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেকে হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা, ক্রোধ ইত্যাদি ক্ষতিকর অভ্যাসসমূহ থেকে দূরে রাখবে। (সাইকোলজি ইন মেডিক্যাল)