📄 বকরীর দুধ দ্রুত হজম হওয়ার কয়েকটি বিশেষ
১। চর্বির থলির দেয়ালগুলি খুবই পাতলা হয়।
২। দুধের চর্বি খুব সূক্ষ্ম এবং পাকস্থলীর আর্দ্রতা সহজেই দুধের উপর তার প্রভাব ফেলতে পারে।
৩। তার ক্যারিনের দানাগুলি খুব ছোট ছোট হয়।
বকরির দুধে তৈলাক্ত ও লবণাক্ত পদার্থের অংশ বেশি থাকে। লবণাক্ত পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের লবণ (চুনা) ও থাকে। এ ক্যালসিয়ামের লবণ বকরির দুধের বড় অংশ। ক্যালসিয়াম শরীর বর্ধনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস। তার স্বল্পতায় শরীরে জ্বর ও ক্ষয়জ্বরের আশঙ্কা থাকে।
যদি বকরি ও গাভীর দুধের পার্থক্য খুঁটিয়ে দেখা হয়, তাহলে খুবই চিত্তাকর্ষক পার্থক্য দেখা যাবে। গাভীর দুধ এসিডযুক্ত মনে হয়। হজমশক্তি দুর্বল রোগীদের জন্য এ পার্থক্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। গাভীর দুধ হজম করার জন্য দু-ঘণ্টা সময় লাগে। আর বকরির দুধ মাত্র আধ ঘণ্টায় হজম হয়ে যায়। গাভী, বকরি ও মানুষের দুধে যে লবণ পাওয়া যায় তা বার ধরনের। তন্মধ্যে নয় প্রকার বকরির দুধে পাওয়া যায়, ছয় প্রকার গাভীর দুধে আর পাঁচ প্রকার মানুষের দুধে পাওয়া যায়।
গাভীর দুধে আয়রণ নাই বললেই চলে। বকরির দুধে এটা সাত থেকে দশগুণ পর্যন্ত থাকে। এমনিভাবে বকরির দুধে পটাশিয়ামের পরিমাণও অনেক বেশি থাকে এবং অক্সিজেনকে পটাশিয়ামই সবচেয়ে বেশি চুষে নেয়। অক্সিজেন যেখানেই থাকুক, পটাশিয়াম তা চুষে নিবে। এখন এর সাথে আয়রণ মিলিয়ে দেখুন। তা হলে বুঝতে পারবেন, দুধ ছাড়া অন্য কোনো জিনিসের মধ্যে অক্সিজেন চুষে নেওয়ার মতো এ পরিমাণ ক্ষমতা থাকে না।
বকরির দুধে ফ্লোরিন খুব বেশি থাকে যা হাড্ডিবর্ধক, দাঁত মজবুতকারক এবং চোখের যত্নে খুবই জরুরি। আমাদের ভালোভাবে সুস্থ থাকা মেরুদণ্ড মজবুত থাকার উপর নির্ভর করে। ম্যাগনেশিয়াম মেরুদণ্ডকে মজবুত করে। এ ম্যাগনেশিয়ামও বকরির দুধে বেশি থাকে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থকে নিংরিয়ে কিডনী এবং মূত্রথলির পথে বের করার জন্য সোডিয়াম লবণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সোডিয়াম যদি এ কাজ না করে বটে। তবে লাইম এবং ম্যাগনেশিয়াম শক্ত হয়ে মূত্রাশয়ে পাথর সৃষ্টি হয়। বকরির দুধে সোডিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি। এ ছাড়া তার মধ্যে অনেক ভিটামিন আছে।
বকরির দুধ খুব ঠাণ্ডা এবং সুস্বাদু হয় মাঠে প্রান্তরে বিচরণকারী বকরির দুধকে বেশি উপকারী মনে করা হয়। এটা কাশি, দাস্ত, আমাশয়, ক্ষয়জ্বর, হৃদরোগ, পুরাতন জ্বর, জণ্ডিস, অর্শ্বরোগ, মস্তিষ্ক ও ব্লাডের রোগে যথেষ্ট উপকারী। বকরির দুধে বানরের কাঠি এবং খয়ের মিলিয়ে গড়গড়া করলে মুখের ঘা ভালো হয়ে যায়। বকরির দুধে তুলা ভিজিয়ে রাত্রিবেলা চোখের উপর রেখে পট্টি বেধে ঘুমালে চোখের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।
📄 গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আয়রণ ক্যাপসুল
• হযরত আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার মতে নেফাসওয়ালী মহিলাদের জন্য খেজুরের সমান কোন শেফা (রোগমুক্তি) নেই এবং রোগীর জন্য মধুতুল্য কোনো জিনিস নেই।
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, নেফাস অবস্থায় নিজ স্ত্রীদেরকে খেজুর খাওয়াও। কেননা যখন হযরত মরিয়ম আ. থেকে হযরত ঈসা আ. জন্মগ্রহণ করলেন, তখন হযরত মরিয়ম আ.-এর খাদ্য ছিল এটাই। যদি আল্লাহ তা'আলার ইলমে এর চেয়েও কোনো উত্তম খাদ্য থাকত, তবে তিনি তার ব্যবস্থাই করতেন।
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নেফাসের মধ্যে নারীদের খাদ্য তালিকায় যদি তাজা খেজুর অথবা শুকনা খেজুর থাকে তাহলে তার সন্তান অত্যন্ত সহনশীল হয়। (নুযাহাতুল মাজালিস)
গর্ভবতী মহিলাদেরকে গর্ভাবস্থায় লৌহের স্বল্পতা পূর্ণ করার জন্য আয়রণ ক্যাপসুল সেবন করানো হয়। বার্লিন ইউনিভার্সিটির ফার্মাকোলোজী বিভাগের ডাক্তার নিক্স ক্লোর খেজুরের উপর ব্যাপক গবেষণা চালানোর পর এ সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, গর্ভবতী মহিলাদেরকে প্রতিদিন একটি করে খেজুর খাওয়ানো উচিত। তাহলে গর্ভবতীর সকল অঙ্গের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বাচ্চার শরীরেও শক্তি বৃদ্ধি পাবে। যে সকল গর্ভবতী মায়েরা খেজুর খাবেন, তাদের গর্ভজনিত সকল জটিলতা দূর হয়ে যাবে এবং গর্ভপাতের আশঙ্কা কমে যাবে। (সায়েন্স আওয়ার ওয়ার্ল্ড)
খেজুর যেহেতু আয়রণে পরিপূর্ণ এবং শরীরে এর প্রয়োজনীয়তাও অনেক তাই তাদেরকে খেজুর খাওয়ানো জরুরি। সন্তান প্রসবের সময়েও বিশেষজ্ঞগণ খেজুর ব্যবহারকে জরুরি মনে করেন। কারণ, এর দ্বারা ডেলিভারী কেসের জটিলতা এবং তৎপরবর্তী বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি থেকে মায়েরা নিষ্কৃতি পেয়ে যায়।
এক মহিলার প্রসব সমস্যা খুব জটিল এবং অস্বস্তিকর হতো। অনেক চিকিৎসা করিয়েছে। কিন্তু কোন ফল হয় নি। অবশেষে আমার কাছে এল। আমি পরামর্শ দিলাম, তাকে ডেলিভারীর আগ পর্যন্ত প্রতিদিন এক দুটি করে খেজুর খাওয়াবেন। এতে আশ্চর্যজনকভাবে তার সকল জটিলতা দূর হয়ে গেল।
📄 এফ. আর. সি. এস ডাক্তারদের প্রতি একটি বিশেষ অনুরোধ
একজন প্রফেসর সার্জন বলছিলেন যখন আমরা উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশে গেলাম তখন অপারেশনের পূর্বে আমাদেরকে "ওয়াশ আপ" হওয়ার জন্য একটি নিয়ম বলে দেওয়া হল। এটা প্রায় ওযুর মতোই ছিল।
সেখানে এ উপদেশ দেওয়া হয়, রোগীকে অপারেশনের জন্য অস্ত্রোপচারের পূর্বে নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নিবেন। সার্জন যদি জীবাণুযুক্ত হাতে অপারেশন করেন, তবে এ জীবাণুই রোগীর গায়ে লেগে যাবে।
তাতে আরো বলা হয়েছে, অপারেশনের পূর্বে হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করুন এবং বাহুর দিকে পানি প্রবাহিত করুন। তখন হাতটি উপরে এবং কনুই নিচে থাকবে। অন্যথায় কনুই থেকে পানি প্রবাহিত হয়ে যদি হাতের তালুর দিকে আসে, তাহলে জীবাণুসমূহ ধুয়ে হাত পর্যন্ত এসে আটকে যাবে। আর যদি প্রবাহিত পানি হাত থেকে কনুইয়ের দিকে যায়, তখন যদি কোনো জীবাণু কনুইতে আটকে যায়, তবুও অপারেশনে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। অযুতে কনুই পর্যন্ত ধোয়ারও একই নিয়ম। বাস্তবিকই ইসলামী আমলের এক একটি অংশ স্বাস্থ্য ও সুস্থতার নিশ্চয়তা বিধায়ক।