📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সুন্নাতে রাসূল

📄 সুন্নাতে রাসূল


সাহাবায়ে কিরামের শক্তি-সামর্থ্য এবং বীরত্বের বর্ণনা শুনে আসছি শত শত বছর ধরে এবং এ বর্ণনা ধারা থাকবেও চিরকাল। সারা পৃথিবী এ অনুসন্ধানে মত্ত যে, তাদের শক্তির রহস্য কি ছিল? অনেক বিজ্ঞজন এ অনুসন্ধানকে অগ্রসর করেছেন। সার্জারীর একজন ডাক্তারের অনুসন্ধান এবং অধমের ব্যাখ্যা পাঠকের সম্মুখে তুলে ধরছি। স্মরণে রাখবেন! সাহাবায়ে কিরাম খুব কমই অসুস্থ হতেন। তাঁদের স্ত্রী ছিল অনেক এবং সন্তানও ছিল অনেক। এর রহস্য কি? নিম্নের কয়েকটি লাইন মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

(১) দাড়ি রাখা। (২) গোঁফ কাটা। (৩) মাথার চুল সমান রাখা। (৪) নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করা। (৫) ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা। (৬) ঘোড়ার উপর সওয়ার দিগদিগন্ত আল্লাহর দীন প্রচার করা।

১। দাড়ি রাখা: দাড়ি সম্পর্কে ইতোপূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে।

২। গোঁফ কাটা: গোঁফের ব্যাপারেও আলোচনা করা হয়েছে।

৩। মাথার চুল সমান রাখা: মাথার চুল সমান রাখা সম্পর্কে শুনুন! একদল অভিজ্ঞ ডাক্তারের বক্তব্য হল, চুল যেহেতু কালো, তাই সূর্যের উত্তপ্ত কিরণ যখন মাথার উপর পড়ে, তখন একপ্রকার রাসায়নিক কাজ আরম্ভ হয়। যদি চুল অসমান এবং কোনো স্থান দিয়ে উপরের দিক উঠে থাকে, তখন ঐ কিরণ সেখানে অধিক পরিমাণে আবর্তিত হয়। ফলে ঐ জায়গায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এজন্য মাথার চুল সমান থাকা উচিত। তাই ইসলাম চুলকে আঁচড়ানো এবং চুল গুছিয়ে রাখার উপদেশ দিয়েছে।

৪। নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করা: কোনো কোনো ধর্মে এ কাজটি নিষিদ্ধ। কিন্তু এর ক্ষতি যে কি পরিমাণ, তা অনুমান করা যায় না। নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার না করলে অগণিত রোগের জীবাণু সেখানে আটকে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আরও বেশি প্রভাব পড়ে সেখানের চর্ম ও গ্রন্থির উপর এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি এ পশম বড়ই থাকে, তাহলে প্রোস্টেট গ্রন্থি ফুলে যায়। যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে যৌনশক্তির ওপর। পক্ষান্তরে ইসলামি নিয়ম মাফিক উক্ত পশম পরিষ্কার করলে অগণিত উপকারিতা বয়ে আনে।

৫। ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা: এর বিশদ আলোচনা পূর্বোক্ত পোশাকের অনুচ্ছেদে করা হয়েছে।

৬। দীনের দাওয়াত এবং মেহনত: এটা বুঝার জন্য একটি ঘটনাই যথেষ্ট। ডাক্তার কোস্টো একজন খ্রিষ্টান বিজ্ঞানী। সমুদ্রের উপর রিসার্চ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, সৎকাজের প্রচার করা এবং দাওয়াত দেওয়া শরীর সুস্থ থাকার ব্যাপারে কোনো শক্তিশালী পরামর্শ এবং ঔষধ থেকে কম নয়। কেননা শব্দের শক্তি শরীরে স্থানান্তরিত হয় আর নির্দোষ শব্দ যত বেশি বলবে, শরীরে শক্তি তত বেশি বৃদ্ধি পাবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সাহাবায়ে কিরামের ছয়টি খাদ্য

📄 সাহাবায়ে কিরামের ছয়টি খাদ্য


(১) উটের গোশত: উটের গোশতে চর্বি জাতীয় পদার্থ কম হয়, যার ফলে ব্লাডে কোলেস্টেরল তৈরি হয় না এবং তা ভক্ষণে শরীর ফুলে না বরং শরীরের দৃঢ়তা এবং শক্তি বহাল থাকে।

(২) উটনীর দুধ: এ কলিজার সকল প্রকার রোগে উপকারী। এ দুধ সেবনকারী কখনো জণ্ডিসে আক্রান্ত হয় না। এর সেবনকারীর ব্লাডে কখনো চর্বি বা চর্বিজাতীয় পদার্থ তৈরি হয় না। খাদ্য উত্তমরূপে হজম হয়। শরীরে মেদ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

(৩) যবের রুটি: পূর্বোক্ত যবের বর্ণনায় এর আলোচনা গত হয়েছে।

(৪) খেজুর: এব্যাপারেও বিস্তারিত দ্রষ্টব্য এ কিতাবেই রয়েছে।

(৫) মধু: মধুর শক্তি ও এর কার্যকারিতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। পাঠকের খেদমতে এতটুকু আরজ যে, এটি একটি উচ্চ পর্যায়ের শিরাতন্ত্রের শক্তিবর্ধক উপাদেয়। মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধিতেও এর যথেষ্ট উপকারিতা রয়েছে। এর কিছু ব্যবহার বিধিও পেশ করছি, যা যুগ যুগ ধরে পরীক্ষিত। দৈনিক তিনবার খাওয়ার পূর্বে এক কাপ গোলাপ জল, দু চামচ মধু মিলিয়ে পান করে নিন। এভাবে নিয়মিত কিছুদিন পান করুন।

হৃদপিণ্ডের সকল রোগ যেমন হাই ব্লাড প্রেসার, হৃদকম্পন, ঘনঘন হুঁশ হারিয়ে ফেলা, পেট গরম হওয়া, কলিজার উত্তাপ বেড়ে যাওয়া এবং শরীরের সাধারণ দুর্বলতায় বিশেষ ফলপ্রদ। কিন্তু এটা গ্রীষ্মকালে ব্যবহার করবে। কোনো কোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডার মৌসুমেও উপকারী। মধু, গরম দুধ অথবা গরম পানির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে শিরা রোগ এবং দুর্বলতা জনিত যে কোনো রোগে বিশেষ ফল পাওয়া যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00